গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে অপহৃত সেই শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫
চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণ হওয়া শিশু জায়ানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহজনক পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্ব পাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। গ্রেপ্তারদের বসতঘরের পেছনে ময়লার ভাগাড় থেকে জায়ানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনার বিচার দাবি করে দুপুরের দিকে পটিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় ৫ বছরের শিশু জায়ান। পরে শিশুটির শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ্ করা হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুপুরের দিকে পটিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে নিহত শিশুর স্বজনসহ স্থানীয়রা।
এ ঘটনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
১ দিন আগে
নড়াইলে টিকটকে আসক্তির জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। সুমনা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে ঢাকাতেই লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে তীব্র কলহ শুরু হয়। এর জেরে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমনা ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না বলে ওয়াদাও করেছিলেন।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট এবং পরপুরুষের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয় নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর লিমন গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান। সারা দিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজেই ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ‘আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। মূলত হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতেই মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
২ দিন আগে
পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আতাইকুলা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল সারা রাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (রবিবার) অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রবিবার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবুল কাশেমকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৩ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
সোমবার (১৫ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার মুন্সিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তাররা হলেন: রায়েরমহল মুন্সিপাড়ার বিল্লাল সিপাই ওরফে বিল্লু (২৬) এবং তার সহযোগী একই এলাকার রবিউল ইসলাম রনি ওরফে হৃদয় (২১)।
র্যাব-৬-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল রায়েরমহল মুন্সিপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া বিল্লাল সিপাইয়ের শয়নকক্ষের কার্নিশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র্যাব। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, বিল্লাল সিপাই ওরফে বিল্লুর বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা ও হরিণটানা থানায় অস্ত্র আইন এবং হত্যাচেষ্টা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
৩ দিন আগে
যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯) এবং ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২০) ও মেহেদী হাসান তুতুল (২১)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৩ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাইরে বের হন ওই নারী। এ সময় একদল যুবক তাকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। সে সময় ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। ভুক্তভোগীর পরিবার এ ব্যাপারে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আজ (সোমবার) ভোরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন মাঠে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সোমবার বিকেলে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’
৩ দিন আগে
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’-এ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।
এ বিষয়ে জেরাশ গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস, জর্ডানের মাধ্যমে অভিযোগ জানায়। পরে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিদেশগমন-সংক্রান্ত ১৬টি চুক্তিপত্র, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই অভিযুক্তরা বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিলেন, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৫ ও ২০ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
৩ দিন আগে
খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামে একটি গরু উপহার দিয়ে আলোচনায় আসা মো. সোহাগ মৃধাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মারামারি, হত্যাচেষ্টা, নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন) গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধা উপজেলার ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সারমিন সুলতানা, তার স্বামী শাহরিয়ার আহম্মেদ এবং ননদ মাহিনুর বেগম তাদের বাড়ির বৈঠকখানায় বসে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জেরে সোহাগ মৃধাসহ কয়েকজন অভিযুক্ত সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা শাহরিয়ার আহম্মেদকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে সোহাগ মৃধা হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সরে যাওয়ায় কোপটি তার বাঁ চোখের ভ্রুর ওপর লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ সময় শাহরিয়ার আহম্মেদকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সারমিন সুলতানা ও মাহিনুর বেগমও হামলার শিকার হন। হামলার সময় মাহিনুর বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সে সময় দুই নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। সে সময় অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদশর্ক (এসআই) অনুপ দাস।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সোহাগ মৃধার পিসিপিআর যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মারামারি, পর্নোগ্রাফি, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মির্জাগঞ্জ থানার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোহিদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধাকে আজ (রবিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২০২৫ সালে প্রয়াত সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কালা মানিক নামের একটি গরু ঈদে উপহার দিয়েছিলেন সোহাগ মৃধা। ট্রাকে করে সাজিয়ে ঢাকা নেওয়ার পর খালেদা জিয়া গরুটি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদ করার জন্য গরুটি সোহাগকে ফেরত দেওয়া হয়। তবে এ বছর পরে কালা মানিক গরুটি ঢাকায় নিয়ে ২১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন সোহাগ।
৪ দিন আগে
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
রবিবার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই সিটি পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি তাদের হেফাজতেই রয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। এরপর তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার একটি আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের এপ্রিলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল।
তার আগেই অবশ্য ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা আছে দুদকের।
বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা জমি-ফ্ল্যাটসহ অনেক স্থাপনা আদালতের আদেশে ক্রোক (জব্দ) আছে। এছাড়া তাদের বিপুল অংকের সঞ্চয়পত্র, অনেক ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
৫ দিন আগে
কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১৯
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও পুলিশের টহল গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বুড়িচং থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে উল্টো পথে চলাচলের দায়ে একটি অটোরিকশা আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়।
তিনি জানান, একপর্যায়ে অটোরিকশা চালকের চিৎকারে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবল ইউসুফ আলী ও রাব্বি ইসলাম আহত হন। সে সময় পুলিশের একটি টহল গাড়ি ভাঙচুর করে তারা।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা কিংবা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় অপহৃত তিন শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন থেকে অপহরণের শিকার তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হচ্ছে মিরপুর উপজেলার উত্তর কাটদহ এলাকার সুমনের ছেলে সিফাত (১০) হাসেমের ছেলে রাজ (১০) এবং একই এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে মোমিন (৯)।
ওসি নাসির খান জানান, গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সিফাত, মোমিন ও রাজ নামের তিন শিশুকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা মহানন্দা লোকাল ট্রেনে করে ওই তিন শিশুকে প্রথমে যশোরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিফাতের মা মোছা. শেফালী আক্তার গত ৬ জুন রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্য কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার টুটুলের স্ত্রী ফতে আক্তার (৩৫) ও হৃদয়ের স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা তিন শিশুকে অপহরণ করার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) রাতে ঢাকায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত শিশুদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তাররে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১০ দিন আগে