গ্রেপ্তার
২৭ বছর আত্মগোপনের পর এরশাদ শিকদারের সহযোগী গ্রেপ্তার
খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এরশাদ শিকদারের অন্যতম সহযোগী জয়নাল সরদারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এ আসামি ২৭ বছর আত্মগোপনে ছিলেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল (শনিবার) রাত পৌনে ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জয়নাল সরদার বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার বংকুরা গ্রামের বাসিন্দা।
অধিনায়ক নিস্তার জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে খুলনার রূপসা থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত জয়নাল সরদারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে খুলনার রূপসা থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় জয়নালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অপরাধে পৃথকভাবে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। কিন্তু রায় ঘোষণার পর থেকে জয়নাল দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য গ্রেপ্তার জয়নালকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
১ দিন আগে
খুলনা নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার দুই
খুলনা নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাদের দুইজনকে খুলনা সদর ও হরিণটানা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামির হলেন লবণচরা থানার হরিণটানা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওলিয়ারের ছেলে আবিদ হাসান রানা এবং দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডের সাব্বিরের বাড়ির ভাড়াটিয়া সৈয়দ চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন আহমেদ।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি রিভলবর, একটি রিভলবারের কার্তুজ, ১৬টি পিস্তলের কার্তুজ এবং ২৪টি শর্টগানের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে সদর থানা এলাকায় বিশেষ ডিউটি করছিলাম। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টুটপাড়া সার্কুলার রোড হতে সালাউদ্দিনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে লবণচরা থানার হরিণটানা হতে রানার শয়ন কক্ষের বিছানার নিচ হতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা শীর্ষ সন্ত্রাসী রফিক বাহিনীর সহযোগী বলে জানায়। এ ছাড়াও তারা খুলনা মহানগরীতে তাদের সহযোগীদের বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র প্রদান করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহায়তা করত বলে তারা জানায়।
এ ঘটনায় লবণচরা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে গোপন বৈঠক থেকে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটে গোপন বৈঠক ও অনলাইন মিটিংয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করার সময় পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মজিবর রহমান টুলুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের চাঁদনী বাজার এলাকার একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার মজিবর রহমান টুলু পৌরসভার নামাটারী এলাকার বাসিন্দা।
ওসি সাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ওই এলাকায় একটি চক্র গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মজিবর রহমান টুলুর মোবাইল ফোন তল্লাশি করে অনলাইনে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া তার মোবাইল ফোনে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট ও স্ট্যাটাস পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওসি সাদ আরও জানান, গ্রেপ্তার মজিবর রহমান টুলুর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
৪ দিন আগে
১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম হত্যার রহস্য উদঘাটন
১৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা নিঝুম খাতুনকে (১৭) অপহরণ ও শ্বাসরোধে হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেল স্টেশনের নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যান। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নিঝুমের মরদেহ অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম সংস্থা। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জিম। তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, গত বছরের ১৩ মার্চ মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন নিঝুম খাতুন। ওই দিনই ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলস্টেশনের নির্জন এলাকায় নিয়ে যান প্রেমিক জিম। সেখানে বিয়ের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
আসামি জিমের উদ্বৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারলে তিনি জ্ঞান হারান। ওই সময় নিঝুম রোজা ছিল। তাকে মৃত ভেবে জিম নির্জন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যান এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে একটি গর্তে ফেলে রাখেন। এরপর ট্রেনে করে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার চার দিন পর, অর্থাৎ ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী রেলস্টেশনের ওই নির্জন জায়গা থেকে এক অজ্ঞাতনামা কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা করে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় জিডি এবং পরবর্তীতে পাঁচজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন নিঝুমের মা তাসলিমা খাতুন। দীর্ঘদিন নিঝুমের খোঁজ না মেলায় ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল যৌথভাবে মাঠে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে জিমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের নির্মম বিবরণ দেন।
এরপর আসামি জিমকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী এলাকায় ঘটনাস্থল শনাক্ত করে সাইবার সেল। সিআইডির ক্রাইম সিন বিশেষজ্ঞদের আর্কাইভে সংরক্ষিত সেই অজ্ঞাত মরদেহের কাপড়ের ছবি দেখে জিম নিশ্চিত করেন, উদ্ধার করা সেই মরদেহটি নিঝুমেরই ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হিমানিশ জানান, আসামি জিম আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইকলাচুর রহমান জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল (মঙ্গলবার) আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের দক্ষ টিম সমন্বিতভাবে কাজ করে এই জটিল ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। জেলায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
৫ দিন আগে
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
খুলনার চাঞ্চল্যকর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবির খুলনা ও বরিশাল ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিফাত সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ষোড়শ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
এসআরবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিফাত ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা এসআরবির সদস্যরা তার অবস্থান নিশ্চিত করেন। পরে সোমবার রাতে খুলনা ও বরিশাল এসআরবির যৌথ অভিযানে কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আজমুল হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে এসআরবির সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিফাতকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাতে সন্তান বিক্রি, বাবাসহ গ্রেপ্তার ৪
গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে ১১ মাস বয়সী মেয়েসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগে বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই সঙ্গে প্রায় দুই মাস পর শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শিশুর বাবা হামিদুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, মোরশেদা খাতুন ও জেসমিন আকতার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘরা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গত ২২ জুলাই শিশুসন্তান জান্নাতিকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে স্ত্রী রোমানা আকতার গাইবান্ধায় আদালতের কাছে তার শিশু সন্তান উদ্ধারের আবেদন করেন। এরপর গত ১৪ আগস্ট বিচারক নিশাত তাজনীন বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই শিশুকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন।
আদালতের আদেশের সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে নামে। পরে তারা গতকাল (রবিবার) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় শিশু বিক্রির সঙ্গে জড়িত শিশুটির বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ আজ (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনের পর সকালে শিশুটিকে তার মা রোমানার কোলে তুলে দেয়।
মা তার মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে বলেন, ‘আমি এমন বর্বর স্বামীকে চাই না। তার শাস্তি চাই। যে স্বামী তার নিজের কোলের শিশুকে বিক্রি করতে পারে সে অনেক কিছু করতে পারে। সে এখন আমাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক।’
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফ আল রাজিব জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে শিশু জান্নাতিকে উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
৭ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ধর্ষণের চার মামলায় গ্রেপ্তার ৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধর্ষণের পৃথক চার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আজিজুল হক, ওবায়দুল হক ও খোতেজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় শাহজালাল মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল।
এছাড়া উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন জানান, প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ অভিযুক্ত তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসেন আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ‘ঘটনাগুলোতে থানায় পৃথক চারটি মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
৮ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ: ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় মূল অপরাধীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এছাড়া গ্রেপ্তার এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ থানা এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) ও আব্দুল্লাহ (২৮)।
নিয়াজ মেহেদী জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পাকা সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক পথচারী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ওয়ারী বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ সেপ্টেম্বর বংশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।
পরে রায়হান উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পার্কিংয়ের মাঝের একটি পিলারের পাশে ইটের সুরকির বস্তার মধ্যে লাল স্কচটেপে মোড়ানো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
পরে ডেমরা থানাধীন ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্রের বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী জানান, রায়হান উদ্দিন এর আগে মতিঝিল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৮ দিন আগে
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫৫টি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৫২ জন, লালবাগে ৪৩, ওয়ারীতে ৫৭, মতিঝিলে ৬৩, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মিরপুরে ১৪৬, গুলশানে ৪১, উত্তরা বিভাগে ৪৫ এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজন রয়েছেন।
অভিযানকালে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৫০০ গ্রাম গানপাউডার, ৫০০ গ্রাম ঝুট কাপড়, ২৫০ গ্রাম পেট্রোল, বিস্ফোরিত ককটেলের ৩৫ গ্রাম পেরেক, সাতটি টিনের টুকরা, ১০ টুকরা কসটেপ, ১০৪টি পেরেক এবং একটি বিস্ফোরিত ককটেলের টিনের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ৫৪ কেজি ২৪৫ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ১১৫টি ইয়াবা, ২১ গ্রাম হেরোইন ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
নিয়াজ মেহেদী জানান, অভিযানে একটি প্রাইভেটকার, তিনটি চাকু, একটি চাপাতি, একটি ছোট কাঁচি, একটি কাটার, ফয়েল পেপার, গ্যাস লাইট, একটি নাইলনের রশি, ১৪টি মোবাইল ফোন, দুটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ২ হাজার ৬০০ গ্রাম বিভিন্ন রাসায়নিক, ৪৫৪ গ্রাম বেনেলিয়া পাউডার, ১৩ বোতল রং ও ৩৫০টি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ইয়াবা তৈরির মিশ্রিত উপাদান ১ হাজার ৫০০ গ্রাম এবং দুইজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৮ দিন আগে
৩ মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তিনটি চোরাই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ।
এর আগে গতকাল (বুধবার) রাতে সদর উপজেলার রানীহাটি-বৈলতলা এলাকা থেকে তিনজন এবং শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার হাউসনগরের আব্দুস সালাম, দাদনচক এলাকার সোহেল রানা, আসিফ, তারাপুর-মুন্নাপাড়ার মোহাম্মদ আলী, শ্যামপুর সাহাপাড়ার ইমন রেজা ও কয়লাদিয়াড় গ্রামের আশিক।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল বুধবার রাতে রানীহাটি-বৈলতলা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে আব্দুস সালাম, সোহেল রানা ও আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদ আলী, ইমন রেজা ও আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি ও ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা মোটরসাইকেল চুরির পর জেলার বাইরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল বিক্রি করতে না পারলে এর পার্টস খুলে বিক্রি করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও মোটরসাইকেল চুরির মামলা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
১১ দিন আগে