গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আইনুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মো. গোলাম মুক্তাদীর রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি গোলাম মুক্তাদীর। গতকাল (রবিবার) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারের আটচালায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে চান্দাইকোনা ফিরছিলেন এমপি আইনুল হক। এ সময় ধানগড়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা এমপির গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠিসোঁটা নিয়ে আঘাত করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ওই গাড়িটির পেছনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা এমপি আইনুল হকসহ একাধিক নেতা আহত হন।
সে সময় ওই গাড়িতে থাকা ফয়সাল বিশ্বাস নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে ওই হামলার ঘটনা সরাসরি প্রচার করেন।
এদিকে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে এমপিকে উদ্ধার করে গ্রামের বাড়ি চান্দাইকোনায় নিয়ে আসা হয়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। এ নিয়ে রায়গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধানগড়া ও চান্দাইকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ওই দিন রাতেই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান ও অনান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গভীর রাতে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শামিমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে থানায় উল্লেখিত মামলা করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, চান্দাইকোনায় রায়গঞ্জ ট্রেকনিকাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি আসার বিষয়টা জানতে পেরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে পৌরসভা ও চান্দাইকোনাবাসী পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য গত শনিবার পৌর বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয় এবং ওই সভায় এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র সমন্বয়ক ফয়সাল বিশ্বাস ও ছাত্র সমন্বয়ক তমালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কমিটি গঠন করার কথা বলে ফয়সাল বিশ্বাসকে এমপির গাড়িতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ধানগড়ার উত্তেজিত জনগণ এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনগণ দুই-চারটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
১ দিন আগে
সিলেটে তিনজনকে গলাকেটে হত্যা: ৪ দিনের রিমান্ডে আটক বাবুল
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় ৩ জনকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপলু চৌধুরী।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন।
এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কথাকাটাকাটির জেরে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে হত্যা করেন।
তবে, পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহতদের পরিবার। তাদের দাবি, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেছেন তারা।
মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা বলেন, একজনের পক্ষে একসঙ্গে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তার অভিযোগ, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। গৃহকর্মী তাহমিনার পিতাও একই দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ঘটনার পর ১৩ আগস্ট সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে হত্যা করেছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খালি প্লট থেকে রক্তমাখা ব্যাগ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে বেসিনে হাত ও ছুরি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল দাবি করেছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তাহমিনার খারাপ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। প্রথমে তাহমিনার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বাধা দিতে আসলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও শেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া ওই বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান জিনিস বা গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে পুরো নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
২ দিন আগে
ঝিনাইদহে সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারসহ গ্রেপ্তার ৫
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা ও সাম্প্রতিক সময়ে শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের অভিযোগে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ শহর ও শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শৈলকুপার দুধসর গ্রামের নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার (৭২) ও বাদশা আলমগীর (৫৬), বালাপাড়া গ্রামের মাজিবুল ইসলাম (৫৭), গোসাইডাঙ্গা গ্রামের আল নাহিয়ান সাকিব (১৯) এবং মহিষাখোলা গ্রামের মো. হাসিবুল ইসলাম (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা এবং সারুটিয়া ইউনিয়নে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার
জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বাংলা চলচ্চিত্রের খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার আজ দুপুরে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়।
আজ সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ডনের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সালমান শাহ হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ওরফে ইমন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত। তার মৃত্যুর ঘটনায় ২৯ বছর আগের অপমৃত্যুর মামলা গত বছর হত্যা মামলায় রূপ নেয়। আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর হোসেন কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
হত্যা মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, বিতর্কিত ব্যবসায়ী অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, বাংলা চলচ্চিত্রের খলনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল হক ওরফে ডন।
এর আগে, গত বছর তার মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন। আদালতের ওই আদেশের পর মামলাটির তদন্ত পুনরায় শুরু হয়।
পুরোনো নথি থেকে দেখা যায়, একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি প্রতিবেদন দেয়, সালমান শাহের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত। তবে তার পরিবার ও ভক্তরা তা মানতে পারেননি।
৯ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে শিবলী হোসেন রুবেল (৪৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহদুজ্জামান মিয়া।
গ্রেপ্তার রুবেল রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ৪ আগস্ট ভোর পৌনে ৪টার দিকে নগরীর দোলখোলা মোতলেবের মোড়ে আব্দুল হক হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনার সূত্র ধরে নগর গোয়েন্দা পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযু্ক্তির সহায়তায় রুবেলকে নিরালা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় তার শয়নকক্ষ থেকে শপিং ব্যাগের মধ্যে প্যাচানো অবস্থায় একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার রুবেল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও আশিক গ্রুপের সদস্য। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘খুলনায় কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। গ্রেপ্তার রুবেল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও অপর সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপের সদস্য। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
১২ দিন আগে
নড়াইলে ছদ্মবেশে পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার গ্রেপ্তার
নড়াইলের কালিয়ায় অভিনব কৌশলে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার আরোজ আলী শেখকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করতে কালিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা দিনভর কৃষক, ভ্যানচালক, হকার ও মুদি দোকানির ছদ্মবেশে এলাকায় অবস্থান করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গতকাল (বুধবার) দিনভর সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থেকে সন্দেহভাজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে রাত ৮টার দিকে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামে পরিকল্পিত অভিযান চালায়। এ সময় নিজ বাড়ি থেকে আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আরোজ আলীর বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় ৫টি, নড়াইল সদর থানায় ২টি, খুলনার দিঘলিয়া থানায় ১টি এবং গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১টি মামলাসহ ডাকাতি, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চুরির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ওসি মো. ইদ্রিস আলী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১২ দিন আগে
ঝিনাইদহে উদ্ধার ১০৬ মোবাইল ও ৬৭ হাজার টাকা ফেরত দিল পুলিশ
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১০৬টি মোবাইল ফোন ও প্রতারণামূলকভাবে হাতিয়ে নেওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মোবাইল ফোন ও টাকা প্রকৃত প্রাপকদের হাতে তুলে দেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,, গত ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদর থানার দুটি হত্যা মামলার ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কোটচাঁদপুর থানার একটি ডাকাতি মামলার ৩ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সদর থানার একটি দস্যুতা মামলার ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করে লুণ্ঠিত একটি ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। কালীগঞ্জ থানার একটি দস্যুতা মামলার ১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সদর থানার দুটি অপহরণ মামলার দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১০৬টি হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভুলবশত চলে যাওয়া ৬৭ হাজার ৪৫৭ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ২৮ জন ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভরতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সাইবার বুলিং একটি গুরুতর সামাজিক ও আইনি অপরাধ। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মোসফেকুর রহমান ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘মানহানিকর’ পোস্ট, অব্যহতিপ্রাপ্ত এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য অব্যহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকার পূর্ব মনিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বিকেলে বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থানকালে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল দেখতে পান গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি পোস্টটি মুছে ফেলেন। এই ঘটনায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বগুড়া ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে আসামি সালাউদ্দিন তানভীরকে বগুড়া সদর আমলী আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবমাননা করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিষয়টি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবগতির পর সিদ্ধান্ত নিয়ে গত রবিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তা এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে ঢাকার পূর্ব মনিপুর থেকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
যশোর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯-এর অভিযানে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে (২০) সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩ আগস্ট) র্যাব-৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ ইফাদ (২০) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, অপহৃত ছাত্রী যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন চণ্ডীপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইফাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, স্কুলে যাওয়ার পথে চণ্ডীপুর মাদরাসা মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল্লাহ ইফাদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গত ২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল মাজার গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি এবং উদ্ধার ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
যশোরে বিজিবির পোশাক-সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩
যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০) নামে এক চিহ্নিত দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার আরও দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। গতকাল (শনিবার) শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবিপুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শার্শা উপজেলার গোগা গাজীপাড়া এলাকার মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০), হরিশচন্দনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো. আনারুল ইসলাম (৩২) এবং একই এলাকার মো. তোফাজ্জেল হোসেন (৩০)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ষষ্ঠীতলা এলাকার রবীন্দ্রনাথ রাহার বাড়ির তৃতীয় তলার পূর্ব পার্শ্বের ভাড়াটিয়ার বাসায় কয়েকজন দুস্কৃতিকারী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পৌঁছায়। পরে বাড়ির মালিক, নিচতলার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের দরজায় কড়া নাড়া হয়। তখন ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি দরজা খোলেন এবং নিজেকে বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন।
পরে বাড়ির মালিকসহ ওই ঘরে প্রবেশ করে আরও দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকে নিজেদের বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন। কিন্তু তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। সে সময় তারা তর্কাতর্কি করে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন।
তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে তারা বিজিবির সদস্য নন। তারা বিজিবির সরকারি পোশাক পরে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে থাকেন।
পরে তাদের ঘর তল্লাশি করে উজ্জ্বল হোসেনের শোবার ঘরের খাটের নিচে একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এক সেট বিজিবির সরকারি পোশাক, দুটি স্টিলের হ্যান্ডকাফ, দুটি ওয়াকিটকি, একটি স্টিলের চাইনিজ কুড়াল, দুটি স্টিলের কাটারি, একটি লোহা কাটার (গেন্ডার) মেশিন, একটি তালা কাটার মেশিন, একটি হ্যাকসো ব্লেড ও একটি নোস প্লাস জব্দ করা হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তাররা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে ৫টি ও তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। জব্দ করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৬ দিন আগে