গ্রেপ্তার
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার
খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬ খুলনার এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ । এর আগে গতকাল (রবিবার) রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আরমান দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, একাধিক হত্যা মামলার আসামি আরমান গত কয়েকদিনের পুলিশের তৎপরতার কারণে খুলনা ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবস্থান করছিলেন। রবিবার রাতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভৈরব নদ থেকে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ঘাউরা রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মামলার এজাহারনামায় আরমান দুই নম্বর আসামি।
এদিকে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরমান একসময় দৌলতপুর থানা এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী হুমার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই বাহিনী গঠন করে প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দৌলতপুর থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
১ দিন আগে
নওগাঁয় স্টুডিও থেকে জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার
নওগাঁয় কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরির অভিযোগে তারিকুল ইসলাম মল্লিক (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার পয়না বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তারিকুল ইসলাম মল্লিক নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের পয়না বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই বাজারে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম ’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, সদর থানা এলাকার পয়না বাজারের একটি দোকানে কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল টাকা তৈরি করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘মল্লিক ডিজিটাল স্টুডিও ল্যাব প্রিন্ট অ্যান্ড ফটোকপি টেলিকম’ নামের ওই দোকানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ । এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তারিকুল ইসলাম মল্লিকের দেহ তল্লাশি করে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৭টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার মনিটর, দুটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার ও একটি স্ক্যানার জব্দ করে পুলিশ।
তারিকুলের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এছাড়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, জাল নোট তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১ দিন আগে
এসআই আলতাফ পিটিয়ে হত্যা মামলার আরও ৮ আসামি গ্রেপ্তার
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
তাদের মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে চারজনকে এবং র্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
গত ৫ আগস্ট আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীরা মারধর করছিলেন। আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
র্যাব জানায়, গ্যারেজে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে আলতাফ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরকারীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আলতাফ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
জীবন বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে সেখানে যায় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, আপন কিশোর গ্যাংয়ের একজন দলনেতা এবং মাদক সরবরাহকারী। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
তিনি জানান, হামলার সময় আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফের মাথায় আঘাত করে। আর জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন। ঘটনার সময় সব আসামিই মাদকাসক্ত ছিল।
তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
১ দিন আগে
নড়াইলে মাদরাসার ৬ ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
নড়াইলে ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় ৬ শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাহাবুবুর রহমান (২৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মাহাবুবুর রহমান সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে নড়াইল পৌর এলাকার ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান এক ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। পরের দিন ভুক্তভোগী ছাত্রের মা ওই মাদরাসায় গেলে ভুক্তভোগী শিশু তার মাকে ঘটনা জানায়। পরে শিশুটি ও তার মা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান। এ সময় মাদরাসায় থাকা আরও ৫ শিশুকে ওই শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান পালিয়ে যান।
এরপর গতকাল (শনিবার) নড়াইল সদর থানায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর ওই দিন দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে শনিবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে
রাজধানী থেকে সিলেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সিলেট, বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন থানায় পল্লবের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে পল্লবের বিরুদ্ধে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশ আয়োজন এবং আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
৯ দিন আগে
নওগাাঁয় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর মান্দায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাপড়া গ্রামের মো. মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মো. এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মো. মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গতকাল (শনিবার) বিকেলে কয়কেজন নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বিপুলের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও কাকা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ঘর তল্লাশির নামে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় প্রতারকদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়ার মুখে আসামিরা পাশের জেলা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সিমলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে ধোলাই দেয়।
তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। আজ সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
৯ দিন আগে
ঝিনাইদহে শিক্ষিকাকে অচেতন করে সোনার গহনা লুট, গ্রেপ্তার ২
চলন্ত বাসে সুকৌশলে চেতনানাশক ডাবের পানি খাইয়ে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির দুই দুর্ধর্ষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর ও মাগুরায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের দুলাল হাওলাদার ওরফে ‘মলম দুলাল’ (৪০) এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের মো. তিলক খান (৪৪)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ২৯ জুন যশোর থেকে ‘শাপলা পরিবহনে’ চড়ে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন এক মাধ্যমিক শিক্ষিকা। বাসটি কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্য তাকে চেতনানাশক মেশানো ডাবের পানি পান করতে দেন। পানি পানের কিছুক্ষণ পরই ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরবর্তী সময়ে বাস গন্তব্যে পৌঁছালে তার স্বামী গাড়ির ভেতরে স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চক্রটি শিক্ষিকার পরিহিত সোনার গহনা (চেইন, আংটি ও খাড়ু) খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন গত ৩০ জুন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করেন।
এরপর লুটপাটের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনার পর তদন্তকারী দল ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গাজীপুরের টঙ্গী এবং মাগুরা সদরে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা ‘মলম দুলাল’ ও তার সহযোগী তিলক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইখলাচুর রহমান মিঠু জানান, প্রযুক্তির নিখুঁত বিশ্লেষণে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মাগুরা ও গাজীপুরে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চলন্ত বাস ও যাত্রীবাহী যানবাহনে বিষাক্ত দ্রব্য প্রয়োগ করে মালামাল লুটের একাধিক মামলা রয়েছে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান জানান, ‘সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অজ্ঞান পার্টিসহ যেকোনো সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
১৪ দিন আগে
গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা, ছেলের শোকে মায়ের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালক আতাউর রহমান ওরফে আতা মিয়াকে (৬০) হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় ছিনতাই করা অটোরিকশা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি এবং অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, ছেলের হত্যার খবর শুনে মানসিক আঘাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নিহত আতাউরের মা জহুরা খাতুন (৭৫)।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন: কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালার বাজার এলাকার রাজীব খান (২৯) ও মির্জানগর এলাকার নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, গত ২০ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার মির্জানগর এলাকার কৃষক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান জীবিকার জন্য প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে তাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হামলা করে হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন ২১ আগস্ট কাপাসিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও হত্যা মামলা করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্তের জন্য গ্রহণ করে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডভান্সড আইসিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাপাসিয়ার চালার বাজার ও নরোত্তমপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই আসামি রাজীব ও নকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ডের আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চোরাই মালামাল জেনেও অটোরিকশাটি কেনা ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকানের মালিক মো. কিবরিয়াকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আসামিদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশাটি ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে আসামিরা টাকা ভাগ করে নেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই আরও জানায়, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে রাজীব খান ও নকিবুল হাসান হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। নকিবুলের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় আতাউর রহমানকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেন তারা।
পিবিআইয়ের ভাষ্যে, ঘটনার দিন ফোন করে আতাউরকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর দড়ি দিয়ে গলা চেপে ধরে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে নরসিংদীর হাতিরদিয়া এলাকায় গিয়ে বিক্রি করেন আসামিরা।
আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
১৫ দিন আগে
রাজধানীতে গাড়ি আটকে ঢামেক চিকিৎসকের ওপর হামলা: গ্রেপ্তার ২
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ (ডিবি)। ডিবির দাবি, সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই চিকিৎসককে টার্গেট করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন: সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)। গতকাল শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া ও খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে নিজ বাসায় ফেরার জন্য বের হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তায় তিনি একটি সিএনজিতে ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তার সিএনজির গতিরোধ করে।
গতিরোধের কারণ জানতে চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে সিএনজি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল চিকিৎসকের ডান চোখে গুরুতর জখম করে। অন্য আসামিরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তারা চিকিৎসককে ভয়ভীতি ও হুমকিও দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি পল্টন মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবন ওরফে আদিলকে আটক করে। অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আহত চিকিৎসক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
এ ঘটনায় অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে চিকিৎসকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
১৬ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে পার্কে ইয়াবা, শক মেশিন ও যৌন উপকরণ জব্দ, বিএনপি নেতার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৩
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি বিনোদনকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি, ইয়াবা, বৈদ্যুতিক শক মেশিন, রড ও যৌন উপকরণসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় এক নারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতার ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠাকুরগাঁও এলাকার ‘স্বপ্ন জগত’ পার্কে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্বপ্ন জগত পার্কের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরীর বড় ছেলে সাঈদ চৌধুরী (৩২), পৌর শহরের বাসিন্দা রিয়া আক্তার (২৮) এবং একই এলাকার ফরহাদ হোসেন জিকো (৩০)।
ডিবি পুলিশ জানায়, অভিযান শেষে গ্রেপ্তার তিনজনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর তাদের আবার স্বপ্ন জগত পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পার্কে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনজনের প্রত্যেককে দেড় হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে পার্কের ভেতর থেকে একটি খেলনা পিস্তল, চারটি ওয়াকিটকি, দুটি রড, তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি বৈদ্যুতিক শক মেশিন এবং যৌন উপকরণ জব্দ করা হয়।
১৯ দিন আগে