গ্রেপ্তার
কুমারখালীতে শ্রমিকদল নেতার খননযন্ত্রে আগুন, বালু ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক শ্রমিক দল নেতার এক্সক্যাভেটরে (খননযন্ত্র) আগুন দেওয়ার মামলার প্রধান আসামি শরিফুল খানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (বুধবার) দুপুরে তাকে আদালতের কাছে সোপার্দ করা হয়। তিনি ওই গ্রামের একজন বালু ব্যবসায়ী।
এর আগে, গত রবিবার গভীর রাতে মহেন্দ্রপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় খননযন্ত্রে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মন্ডলের (৪৯) প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে তিনি পরদিন সোমবার দুপুরে কুমারখালী থানায় দুইজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়। পরে গভীর রাতে মামলার প্রধান আসামি শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার আরেক আসামি মাসুদ শেখ (৩০) পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রমিকদল নেতা আইয়ুব আলী জানান, গত রবিবার মহেন্দ্রপুর চরে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট। শরিফুল ও মাসুদের ধারণা, প্রশাসনের কাছে তিনিই (আইয়ুব) তথ্য দিয়েছেন। সেই সন্দেহ থেকে গভীর রাতে শরিফুল, মাসুদ ও তাদের লোকজন এক্সক্যাভেটরে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে তার মেশিনের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়েছে। এরপর বিচারের আশায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। যন্ত্রটি তার আয়ের অংশ ছিল। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
অভিযুক্ত শরিফুল পুলিশ হেফাজতে আর মাসুদ পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এক্সক্যাভেটর পোড়ানোর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করে আজ (বুধবার) দুপুরে আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
কুমারখালীতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধ কারাগারে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দশ বছর বয়সী একটি ছেলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তারাপুর এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই এলাকার একটি আমবাগানের কেয়ারটেকার (পরিচর্যাকারী)।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে তারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র মাঠে ছাগল চরাতে যায়। এরপর সে মাঠের একটি আমবাগানে আম কুড়াতে গেলে বাগানের কেয়ারটেকার তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে প্যান্ট খুলে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিস্তারিত বললে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে বিষয়টি মিটমাট করার প্রস্তুতি নেন।
এরপর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসলে শিশুটির বাবা গতকাল (সোমবার) রাতে কুমারখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০৯-এর (১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর ওইদিন রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
মামলার বাদী বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে। সেজন্য আসামির উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে থানায় মামলা করেছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ১০ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ বসানোর কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন হয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
৩ দিন আগে
নওগাঁয় রায়ের নথি চুরি করে চাঁদা দাবি, কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৪
নওগাঁয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কমর্চারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া নথিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩মে) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২১মে) নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার ওই নথিগুলো হারিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার (২২মে) দিনব্যাপী রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা গ্রামের এস এম আকাশ (২৬), যুগ্ম জেলা ও দায়রা আদালতে-২-এর পিয়ন পলাশ হোসেন। পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং শহরের বকুল তলা এলাকার সবুজ (৪০)। তিনি কোর্টের মুহুরী হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবের নেতৃত্বে একটি চৌকষ দল দিনব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন।
তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর ৯০৪/২০২২ নম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা হবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ওই মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া নথিটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে আদালতের এক কর্মচারীর নিকট ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ নওগাঁ হতে রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে জানার পর ডিবি পুলিশকে দ্রুত চোর শনাক্তসহ মামলার নথি উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল চোরকে শনাক্ত করে প্রথমে রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার থেকে এস এম আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আকাশ তার বাড়ির আঙিনায় একটি খড়ের পালা থেকে নথিটা বের করে দেন।
এসপি বলেন, পরবর্তীতে আকাশের দেওয়া তথ্যমতে নওগাঁ সদর ও বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে যুগ্ম জেলা ও দায়রা আদালতে-২-এর পিয়ন পলাশকে ও তার ভাই পিয়ন আরিফ এবং সর্বশেষ কোর্টের মুহুরী সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি আকাশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জড়িত থাকা আসামির কথা উল্লেখ করেন। এর পেছনে কী উদ্দেশ্যে আছে, তা উদঘাটন করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
৬ দিন আগে
সাভারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানদার গ্রেপ্তার
সাভারে ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগী শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রামের স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রী টিফিনের সময় মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানদার শাহজাহান বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরেন।
ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা তার চাচাকে জানায়। ওই রাতেই সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করে শিশুটির পরিবার। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহজাহানকে আটক করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) ইমরান হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে সাভারের পাছ বনগ্রাম এলাকায় রাশিদা মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান ঘরে বসবাস করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বলেন, ‘আমার ভাতিজি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে মুদি দোকানদার শাহজাহানের দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। সেখানে তাকে দোকানের ভেতর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে শাহজাহান।
৭ দিন আগে
নেত্রকোনায় চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলার আসামি যুবদল নেতা মেহেদী হাসান ওরফে সাহসসহ (৩০) তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান দুর্গাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌরসভার পশ্চিম মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল হকের ছেলে। অন্য দুজন হলেন বাগিচাপাড়া এলাকার হাসু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৩০) এবং সাধুপাড়া এলাকার মো. মেহেদী (২৮)।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নাজিরপুর মোড়ে ‘ভাই ভাই এন্ড জনতা হোটেলে’ তার সহযোগীদের নিয়ে বাকিতে খাবার খেতেন। গত ৪ এপ্রিল রাতে খাবার খেতে এসে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা চলে যান। এরপরও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাকিতে খাবার খেতে থাকেন। গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি তার প্রায় ১৫ জন সহযোগী নিয়ে ওই হোটেলে গিয়ে খাবার খান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ বকেয়া মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা বিল চান। এতে মেহেদী হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে মামলা বা পুলিশকে জানানোর ব্যাপারে নিষেধ করা হয়। ভয়ে হোটেলমালিক তিন দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। পরে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামি করে তার ৮ জন সহযোগীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আটজনের নামে মামলা করেন। গতকাল রাতে পুলিশ মেহেদী হাসানসহ তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
হোটেলমালিক খোকন মিয়া বলেন, মেহেদী হাসান বিভিন্ন সময় তার সহযোগীদের নিয়ে আমার হোটেলে খেয়ে এক লাখ টাকা বকেয়া করেন। টাকা চাইতে গেলেই তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেন। ওই দিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার পর আমার ম্যানেজার টাকা চাইলে তিনি উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসা করতে হলে তাকে চাঁদা দিয়ে করতে হবে বলে জানান। তাই খুন-জখমের ভয়ে তিন দিন হোটেল বন্ধ রাখা হয়। তার ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল গভীর রাতে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মেহেদী হাসান সাহসসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
৮ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গার কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হুমকির মামলায় গ্রেপ্তার ৩
চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুর গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ভুট্টাখেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। এরপর ৩ আসামি গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহারে যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ছাগল আনতে মাঠে যায় ওই কিশোরী। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা মিরাজ তাকে জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় পলাশ আলী (২০) মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে এবং জনি হোসেন (২১) বাইরে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের পর তারা তিনজন মিলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলে, মুখ খুললে ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেবেন তারা। এ কারণে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারকেও জানাতে পারেনি।
ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর, ২০ মে হঠাৎ করেই ধর্ষণের সেই ভিডিও এলাকায় বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার আবারও হুমকির শিকার হয়।
এজাহারে ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেছেন, পলাশ আলী ভিডিও মুছে ফেলার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া ওই গ্রামের আব্দুল আলী (৪৫) সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে ভিডিও মুছে ফেলার জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার খবর এবং মামলা হওয়ার পর তৎপর হয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। এরই ধারাবহিকতায় গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আব্দুল আলী (৪৫), জনি হোসেন (২১), ও পলাশ আলী (২০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাই। এ ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধান আসামি মিরাজকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
৮ দিন আগে
পবিপ্রবিতে উপাচার্যের অপসারণ ও বহিরাগত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি, ধর্মঘট অব্যাহত
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ এবং ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনার বিচার দাবিতে সপ্তম দিনের মতো কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১১টা থেকে ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। আজকের সমাবেশে উপাচার্যের অপসারণ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাবিবুর রহমান।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশিওলজি সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন ড. বদিউজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলাম টিটো, ছাত্র প্রতিনিধি নাহিদ হোসেন, নেছার আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস বর্জন এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
বর্তমান উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে গত ১১ মে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। সে সময় বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও কর্মচারীসহ ১০ জন আহত হন।
হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে এ ঘটনায় ২৬ জনকে আসামি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া মামলা করেন।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা সবাই স্থানীয় দুমকি উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
১২ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়ায় জড়িত ৩২১ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একটি অনলাইন জুয়া পরিচালনা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি দেশটির অবৈধ ডিজিটাল জুয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যতম বৃহত্তম অভিযান। গ্রেপ্তারকৃত ৩২১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে অধিকাংশই ভিয়েতনামের। জাকার্তার ‘চায়নাটাউন’এলাকার নিকটবর্তী একটি বাণিজ্যিক ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা এই ভবনটিকে ৭০টিরও বেশি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযানে সংগৃহীত বিপণন রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার বাইরের খেলোয়াড়দের টার্গেট করত।
ইন্দোনেশীয়া পুলিশের জেনারেল ক্রাইম ডিরেক্টর উইরা সত্য ত্রিপুত্র জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২২৮ জন ভিয়েতনামি, ৫৭ জন চীনা এবং বাকিরা লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার নাগরিক। তিনি বলেন, এই নেটওয়ার্কের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রিপুত্র বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আমরা আসামিদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি।’
তিনি জানান, এই কার্যক্রম অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো, যেখানে কর্মীদের কাস্টমার সার্ভিস, টেলি-মার্কেটিং এবং আর্থিক প্রশাসনের মতো বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এই কেন্দ্রটি প্রায় দুই মাস ধরে চালু ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে অনেক জুয়া সিন্ডিকেট ঘনঘন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ওয়েবসাইট ও কাস্টমার সার্ভিস পরিচালনার জন্য প্রায়ই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে থাকে।
ত্রিপুত্র জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই স্বল্পমেয়াদি ভিজিটর ভিসা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুয়া এবং অর্থ পাচারের মতো অপরাধের পাশাপাশি এখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও উন্মোচিত হয়েছে।’
পুলিশ বিভিন্ন দেশের নগদ অর্থ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট এবং জুয়ার সাইট পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই গোষ্ঠীটি অন্তত ৭৫টি বেটিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করত।
ত্রিপুত্র জানান, শনিবার পর্যন্ত আটককৃতদের মধ্যে ২৭৫ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিরা জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ইন্দোনেশিয়ার ফৌজদারি ও অভিবাসন আইনের অধীনে তাদের সর্বোচ্চ ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ বিলিয়ন রুপিয়াহ (১ লাখ ১৬ হাজার ০০০ ডলার) জরিমানা হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ইন্টারপোল ব্যুরোর সচিব উনতুং উইদিয়াতমোকো বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুরাবায়া, বালি এবং বাতামে একই ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এটি অনলাইন জুয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতারণা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কঠোর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ এমন কিছু লক্ষণ শনাক্ত করেছে যা থেকে বোঝা যায় যে, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ায় কড়াকড়ি শুরু হওয়ার পর সেখানে থাকা অনলাইন জুয়া অপারেটররা ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে।
উইদিয়াতমোকো বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় আইন প্রয়োগের পর আমরা ইন্দোনেশিয়ার দিকে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করি এবং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।’
গত বুধবার সিঙ্গাপুরের পাশের ইন্দোনেশীয় দ্বীপ বাতামের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিবাসন নজরদারি অভিযানে ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারের ৪৭ জন নারীসহ ২১০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অনলাইন বিনিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়ার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, তারা একটি আন্তঃসীমান্ত টেলিফোন এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জাপান ও চীনের ৪৪ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত।
এর আগে গত মার্চ মাসে পশ্চিম জাভার বোগোর শহর থেকে একই মামলায় ১৩ জন জাপানি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত মাসে পশ্চিম জাভার সুকাবুমী রিজেন্সি থেকে চীন, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানের ১৬ জন সন্দেহভাজন আন্তর্জাতিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও কেনিয়াসহ ২৬ জন কথিত অনলাইন প্রতারককে বালি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়া অবৈধ। সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় সাইবার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশটি বর্তমানে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হয়েছে।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
২০ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মক্তবের ইমাম গ্রেপ্তার
নড়াইলে মক্তবপড়ুয়া এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার চাকই বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে জামিল (৫৭)। উপজেলার রুখালী গ্রামের এই বাসিন্দা চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমামতি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে রাতে মসজিদেই থাকেন আমিনুল ইসলাম। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজের পরে তিনি এলাকার ছেলেমেয়েদের মসজিদের বারান্দায় মক্তবে আরবি পড়ান। ভুক্তভোগী শিশুটিসহ স্থানীয় আরও দুই মেয়ে শিশু প্রতিদিন সকালে মক্তবে তার কাছে আরবি পড়তে যায়। পড়ানোর মাঝে কোনো এক সময় তাদের যৌন নিপীড়ন করেন আমিনুল।
গত ৫ জুন আমিনুল ভুক্তভোগী শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের ভেতর ডেকে নেন। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তারা অন্য শিশুদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও এমন করা হয়েছে বলে জানায়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বিষয়টি আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে গেলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, আমিনুল রাতে শিশুদের যৌন হয়রানি করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছেন। আজ (শনিবার) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
২০ দিন আগে
ধর্ষণে মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা: নেত্রকোনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার
নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত হযরত ফাতেমা তুজ-জোহরা মহিলা কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
নয়মুল হাসান বলেন, শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিশু শিক্ষার্থী এখন সাত মাসের অন্ত্বঃসত্ত্বা। সম্প্রতি ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটির শারিরীক গঠন দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয়। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির পরিবার তাকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বাড়িতে আসার পর শিশুটি জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক তাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে নিয়ে যান। এ সময় নির্জন স্থান পেয়ে ওই শিক্ষক তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখান ওই শিক্ষক।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেন। এরপর প্রযুক্তির সহযোগিতায় র্যাব-১৪-এর সদস্যরা তাকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তার এড়াতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি এটিকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।
অপরদিকে, পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত করায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক নারী চিকিৎসককে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমকি দিয়েছেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই চিকিৎসক।
র্যাব জানায়, শিশুটি পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির বাবা তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। নানির সঙ্গে থেকে শিশুটি ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
২৩ দিন আগে