গ্রেপ্তার
এএসপি ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর রামপুরা থানার আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. শফিকুল ইসলাম বাদশা ওরফে গুজা বাদশাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে র্যাব-৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা থানার মাতুয়াইল এলাকার নিউ টাউন আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘ড্রিম হাউজ-১৮’ ভবনের আটতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাদশা রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা এবং তিনি ‘গুজা বাদশা’ নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার বাবা মৃত ওয়াজেদ আলী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডের নিজ বাসার তৃতীয় তলায় সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন গুজা বাদশা।
র্যাব আরও জানায়, হাতিরঝিল ও রামপুরা এলাকায় গুজা বাদশার নাম শুনলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় র্যাব-৩-এর গোয়েন্দা টিম তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৪ দিন আগে
খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফয়সাল গ্রেপ্তার
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিম বাহিনীর অন্যতম প্রধান সহযোগী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খুলনা মহানগর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈমুর ইসলাম জানান, ফয়সালের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী নুর আজিমের অবর্তমানে ফয়সাল ওই বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন।
তাকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে খুঁজছিলাম। আজ (শুক্রবার) তার সঠিক সন্ধান জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেল গায়েব, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপর প্রশাসনের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে তেল মজুদ, তথ্য গোপন ও কালোবাজারির অভিযোগ। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মজুদ ও বিক্রির হিসাব চাইলে ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।
তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।
তার বক্তব্যের সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে করা প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুদ এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুদ ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক হাফেজ আজিজুল হক বলেন, ‘আমি যে পেট্রোল এনেছি তা প্রতিদিন বিক্রি করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে অযথা হয়রানি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
১১ দিন আগে
জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো শিরীন শারমিনকে
রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে আজ মঙ্গলবার ভোরে আটক হওয়া সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জুলাই আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-উত্তর) রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।
তিনি আরও জানান, আজই তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হবে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আব্দুল হামিদ স্পিকার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল শিরীন শারমিন স্পিকার হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
১২ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধারের পর যুবক গ্রেপ্তার
মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। এ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে জীবিত উদ্ধার করার পর পুলিশে দিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর রাতে ওই যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
তিনি লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন জেলে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে লৌহজং উপজেলার উত্তর মেদিনীমণ্ডলের আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে জলিল ব্যাপারী (৪০) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে গলায় রশি দিয়ে শ্বশুরবাড়ির গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলে পড়ার চেষ্টা করেন।
পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে নামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
পরে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা কৌশলে তাকে বুঝিয়ে গলার ফাঁস খুলে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধারের পর জলিল ব্যাপারীকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ তাকে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান সফিকুল ইসলাম।
১৫ দিন আগে
রংপুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে খুন: গ্রেপ্তার ২
রংপুরের মিঠাপুকুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে নিহতের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী। ঢাকার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মিঠাপুকুর উপজেলার শালমারা লফিতপুর এলাকার মহুবার রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং ইকবালপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে মোহন মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মিঠাপুকুরের আবুল কাশেমর সঙ্গে প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আসামিরা গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লাঠি, লোহার রড ও ছুরি নিয়ে আবুল কাশেমের স্ত্রীর পথরোধ করে তাকে শ্লীলতাহানি করেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর চুল ধরে মুখমণ্ডলে চড়-থাপ্পড় দেন তারা। ওই সময় তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়।
খবর পেয়ে মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছেলে নুরুজ্জামান। এরপর জাহাঙ্গীর আলমের লোকজন তাকেও এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তারা নুরুজ্জামানের অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারেন, সেইসঙ্গে তাকে গুরুতর জখম করে তারা চলে যান। পরে এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মিঠাপুকুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। কয়েক ঘণ্টা পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে (৩১) মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে মিঠাপকুর থানায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে গত ৩১ মার্চ রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম ও অপর আসামী মোহন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৮ দিন আগে
ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
রবিবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় হয় বলে সোমবার নিশ্চিত করেছেন ডিবি যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি জানান, মিরপুর থানায় জুলাই আন্দোলনের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্ব পালনকালে হেফাজতে থাকাকালীন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন।
২০ দিন আগে
হবিগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার আরও ১
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে আসা এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ ও সিপিসি-১-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে আখাউড়া থানার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম মো. শাহিন মিয়া (৩০)। তিনি মাধবপুর উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গত ২৩ মার্চ বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে মাধবপুর বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে সুরমা চা বাগানে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে তারা বাগানের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় দুই ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘ডাকাত’ বলে ধাওয়া করলে তরুণীর সঙ্গে থাকা ওই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর অভিযুক্তরা তরুণীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক চা বাগানের ভেতরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে মারধর করে তার স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে, ভুক্তভোগীর সঙ্গী পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের মো. জসিম মিয়াকে (৩৪) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর কানের দুল উদ্ধার করা হয়। তবে মো. শাহীন মিয়া সে সময় পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২১ দিন আগে
মানিকগঞ্জে রিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা করল তার বন্ধু
মানিকগঞ্জে ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক চালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়ীতা শিল্পী।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদী থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত ব্যক্তির নাম রফিক মিয়া (২৮)। তিনি ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোচালক ছিলেন। তিনি ২৪ মার্চ অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত রফিক মিয়া ও গ্রেপ্তাররা একে অপরের পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে তারা রফিককে কালীগঙ্গা নদীর তীরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আরিফ মিয়া ঘিওর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে আওয়ামীপন্থি ২৭ আইনজীবীর নামে মামলা, গ্রেপ্তার ২
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে মিছিল, স্লোগানসহ ফুল দেওয়ার ঘটনায় সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামীপন্থি ২৭ জন আইনজীবীর নামে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জন আসামি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মণীষ কান্তি দে (মিন্টু) ও অ্যাডভোকেট এম জিয়াউর রহমান শামীম। মণীষ কান্তি দে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি)। জিয়াউর রহমান শামীম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য।
মামলার এজহার থেকে জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের করা মামলার বাদী সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনুরুল হক। এজহারে আসামি হিসেবে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই আইনজীবী এবং বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে শহরের স্মৃতিসৌধে মিছিল, স্লোগানসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে ফুল দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা। তারা মিছিল নিয়ে জেলা কালেক্টরেট এলাকায় স্মৃতিফলকে যান। সেখানে স্লোগান দিয়ে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মিছিলে ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী ছিলেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘স্বাধীনতার এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে ওই স্লোগানের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ওসি রতন শেখ বলেন, যারা স্মৃতিফলকে মিছিল করেছেন ও স্লোগান দিয়েছেন, মামলায় তাদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, এই সংগঠনের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তারা মিছিল করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন; মিছিলের ছবি, ভিডিও নিজেদের ফেসবুকে প্রচারও করেছেন। এটি তারা করতে পারেন না।
২২ দিন আগে