ইজিবাইক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাস ও মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস আটকে রাখার অভিযোগের জেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের চালক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এবং বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালান এবং তাদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি থাকা চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়ক আড়াআড়িভাবে বাস রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (শুক্রবার) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেককে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজে গন্তব্যে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।
এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের যে দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’
এদিকে, মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল করবে না।