চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় ঢাকাগামী বাস উল্টে আহত ২৩, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
চুয়াডাঙ্গা সদরের সরোজগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী বাসটি দ্রুতগতিতে ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিল। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার তীব্রতায় কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে বুলবুলী নামে এক নারীর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন—চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলী গ্রামের ছামিউল (৪০), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মো. রুবেল (৪০), চুয়াডাঙ্গার বালিয়াকান্দি গ্রামের মোছা. খাদিজা (১৩), কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চকহাদী গ্রামের সুমন (৩২), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. রাজিব (৩০), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের আসাদুল হক (৫০), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মোছা. পঞ্চমী বেগম (৬০), মাদারীপুর জেলার চরকাতলা গ্রামের সালাম (৬৫), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুর (৫০) ও একই গ্রামের শাহিন (২০), চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ফজর আলী (৫০), চুয়াডাঙ্গার পাচলিয়া গ্রামের ফারজানা (১৮), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের রাশিদা (৫০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের হাফিজুর (৫৭), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের সালাম (২০), গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান (৪০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৫৫), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের আরিফ খান (৬০), চুয়াডাঙ্গা সদরের পিটিআইয়ে কর্মরত আরিফুল আজম (৪৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মো. জনি (৪০) আলমডাঙ্গা উপজেলার আনন্দধাম এলাকার মোছা. বুলবুলী (৩৫), শরীয়াতপুর জেলার মোছা. জাহানারা (৬০)। এছাড়া আহত আরও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, দুর্ঘটনায় আহত মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা রাজশাহীতে স্থানান্তরের করার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সদর হাসপাতালে যান। সেখানে তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় আমরা পাশে রয়েছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম, ঝুঁকিতে মানুষ, ফসল ও গবাদিপশু
দেখতে অনেকটা ধনিয়াগাছের মতো। দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতার সবুজ গাছে ছোট ছোট সাদা ফুলও ফোটে। তবে আকর্ষণীয় এই আগাছার আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ঙ্কর বিপদ। এর নাম পার্থেনিয়াম। চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মাঠ-ঘাট, রাস্তার ধারে, ফসলি জমি ও পতিত ভূমিতে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে বিষাক্ত এই উদ্ভিদ, যা জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও গবাদিপশুর জন্য ক্রমেই বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
কৃষিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পার্থেনিয়াম (Parthenium hysterophorus) মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ। ধারণা করা হয়, বিভিন্ন উপায়ে এটি প্রতিবেশী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পরে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে পার্থেনিয়ামের উপস্থিতি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল, রাস্তার দুই ধারে, রেললাইনের পাশ, খালি জমি এবং ফসলের মাঠসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে জন্মাতে দেখা যাচ্ছে গাছটি। তবে অধিকাংশ মানুষই এর নাম কিংবা ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত নন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি আক্রমণাত্মক ও বিষাক্ত আগাছা। জীবনকাল মাত্র তিন থেকে চার মাস হলেও এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার ফুল ও বীজ উৎপাদন করে। একটি গাছ থেকেই হাজার হাজার বীজ ছড়িয়ে পড়ে, যা বাতাস, পানি, যানবাহন ও পশুপাখির মাধ্যমে নতুন এলাকায় বিস্তার লাভ করে।
দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক লুৎফর হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এ আগাছা তেমন দেখা যেত না। এখন অনেক কৃষিজমির আশপাশে জন্মাচ্ছে। এতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।’
২৫ দিন আগে
দখল-দূষণে মৃতপ্রায় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদী
একসময় খরস্রোতা রূপে পরিচিত ছিল মাথাভাঙ্গা নদী। যে নদীর বুক চিরে চলত নৌযান, যেখানে সাঁতার কেটে বেড়াত স্থানীয়রা, সেই নদী আজ দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরকে দ্বিখণ্ডিত করে প্রবাহিত ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তঃসীমান্ত এই নদী এখন মৃতপ্রায়। জেলার ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক মাথাভাঙ্গা বর্তমানে যেন আবর্জনা ও দূষণের খালে পরিণত হয়েছে। দখল ও দূষণের কারণে নদীটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর অধিকাংশ অংশই দখলদারদের কবলে চলে গেছে। বর্ষা মৌসুমে কখনও কখনও পানি দেখা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীটি পরিণত হয় মৃতপ্রায় খালে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অধিকাংশ প্রধান ড্রেন সরাসরি গিয়ে পড়েছে মাথাভাঙ্গা নদীতে। দিন-রাত শহরের নোংরা পানি, হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্য, প্লাস্টিক ও বাজারের পচা আবর্জনা মিশছে নদীর পানিতে। ফলে নদীর স্বচ্ছ পানি কালচে হয়ে গেছে। নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটলেই ভেসে আসে উৎকট দুর্গন্ধ।
এছাড়া নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অবকাঠামো। বিভিন্ন স্থানে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পলি জমে ও যথাযথ খননের অভাবে নদী ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা রিমন আলী বলেন, আগে বন্ধুদের সঙ্গে এই নদীতে সাঁতার কাটতাম। তখন নদীতে প্রচুর পানি আর স্রোত ছিল। এখন নদীর পাশে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে দুর্গন্ধের কারণে। আগের সেই মাথাভাঙ্গা আর নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মিয়া বলেন, ছোটবেলায় নদীর স্রোত দেখে ভয় পেতাম। তখন জাহাজ চলত। এখন নদী ভরাট হয়ে নালার মতো হয়ে গেছে। নদীটির এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়।
‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নদীর জায়গা দখল করে রেখেছে। অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নদীর সীমানা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। এতে নদী তার স্বাভাবিক রূপ হারাচ্ছে।
সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি বলেন, মাথাভাঙ্গা নদীর সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। নদীকে কার্যত ড্রেনে পরিণত করা হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, মাথাভাঙ্গা নদী দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধারে সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, পৌরসভার কিছু ড্রেন নদীতে গিয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাভাঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি চিত্রা, নবগঙ্গা ও ভৈরবসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর উৎস। ফলে মাথাভাঙ্গা নদী পুরোপুরি মৃত হয়ে গেলে এ অঞ্চলের নদীনির্ভর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
২৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ফুট আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে সমর্থকদের শোভাযাত্রা
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক অংশ নেন। এ সময় আকাশি-সাদা রঙে ছেয়ে যায় শহরের প্রধান সড়কগুলো।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন ফুটবল মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহিদ হাসান চত্বর (চৌরাস্তা মোড়), কোর্ট মোড়, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন ফুটবল মাঠে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা সারিবদ্ধভাবে ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা বহন করেন। এ সময় প্রিয় দলের জার্সি, বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে স্লোগান দেন তারা। বিশ্বকাপের গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এ আয়োজনের নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কণ্ঠশিল্পী শান্ত আহমেদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক শামসুজ্জোহা রানা, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জিসান আহমেদ এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আদিব জোয়ার্দ্দার।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থক শেখ লিটন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংখ্যা অনেক। বিশ্বকাপ এলেই আমরা সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। এবারও আমরা আশা করছি, আর্জেন্টিনা ভালো খেলবে এবং শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে থাকবে।
৪৩ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন বিএনপি নেতা শরীফ
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩ দ্বারা জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক (১) অনুযায়ী মো. শরীফুজ্জামানকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতদিন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন নিয়োগের ফলে প্রশাসক হিসেবে শরীফুজ্জামান শরীফ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮২ক (৩) অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।
একই প্রজ্ঞাপনে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগাদেশ জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৫৫ দিন আগে
দর্শনা সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ আটক ১০
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোর ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৫ জন শিশু রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান কর্নেল নাজমুল হাসান।
৫৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সালিশের আগেই প্রতিপক্ষের হামলা, নিহত ১
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিস বৈঠকের আগেই সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় আলিম উদ্দিন (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের মানিকডিহী গ্রামে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজনের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করেছে।
নিহত আলিম উদ্দিন শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে।
নিহতের ভাই কালু মণ্ডল জানান, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায়িক কাজে গোলাম রসুলের ছেলে জিয়ার কাছ থেকে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও তা পরিশোধ করা হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক হয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল (শুক্রবার) রাতে নতুন করে সালিসের আয়োজন করা হয়। জিয়া, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে বসে ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন ও আরিফের ছেলে আরাফাত। তারা হঠাৎ করেই আলিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালান।
কালু মণ্ডলের অভিযোগ, তারা আমার ভাইকে তলপেটে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজ হেফাজতে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শংকরচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন বলেন, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ আমার বাসভবনে এসেছিল। সালিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কিলঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা যান বলে জেনেছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলিম উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৮১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একই উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে আরও ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত হুমাইরা খাতুন সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের মেয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলায় এটিই হামে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। হাম শনাক্তের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হুমাইরাকে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী হাম আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
৯৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামি মো. সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভাগ করতে হবে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামি ইতোপূর্বে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন আসামি মো. সালাম। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মেডিকেল প্রতিবেদনে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামি—বজলুর রশীদ মজু, মোছা. মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম শাহজাহান মুকুল। এই রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারও এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
১০০ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
চুয়াডাঙ্গায় গরম এবার যেন শুরুই হলো আগুনঝরা রূপে। মৌসুমের শুরুতেই জেলায় রেকর্ড হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বইছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি আর ক্লান্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ দুপুর গড়াতেই শহরের রাস্তাঘাট যেন আগুন ছড়াতে থাকে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানো দায় হয়ে যায়। বাতাসও যেন গরম চুল্লির আঁচের মতো মুখে এসে লাগছিল। কয়েকদিন আগেও যেখানে হালকা শীতের আমেজ ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ছন্দ হারিয়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার সামনে সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিচ গলে উঠে গেছে; কোথাও কোথাও তা জমে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেই পিচ টায়ারে লেপ্টে গিয়ে তৈরি করছে বাড়তি ভোগান্তি।
শহরের এক পথচারী বলেন, এ জেলায় আবহাওয়া সবসময়ই চরম। কিন্তু গরম শুরু হওয়ার আগেই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে কী হবে—ভাবতেই ভয় লাগছে!
চৌরাস্তা মোড়ে বসে তরমুজ বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ শাজাহান। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল তার।
তিনি বলেন, রোদে বসে থাকতে থাকতে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। তরমুজও ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে না। একটু পরপর পানি না ঢাললে টিকেই থাকা যায় না।
১১৮ দিন আগে