চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
চুয়াডাঙ্গায় গরম এবার যেন শুরুই হলো আগুনঝরা রূপে। মৌসুমের শুরুতেই জেলায় রেকর্ড হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বইছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি আর ক্লান্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ দুপুর গড়াতেই শহরের রাস্তাঘাট যেন আগুন ছড়াতে থাকে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানো দায় হয়ে যায়। বাতাসও যেন গরম চুল্লির আঁচের মতো মুখে এসে লাগছিল। কয়েকদিন আগেও যেখানে হালকা শীতের আমেজ ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ছন্দ হারিয়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার সামনে সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিচ গলে উঠে গেছে; কোথাও কোথাও তা জমে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেই পিচ টায়ারে লেপ্টে গিয়ে তৈরি করছে বাড়তি ভোগান্তি।
শহরের এক পথচারী বলেন, এ জেলায় আবহাওয়া সবসময়ই চরম। কিন্তু গরম শুরু হওয়ার আগেই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে কী হবে—ভাবতেই ভয় লাগছে!
চৌরাস্তা মোড়ে বসে তরমুজ বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ শাজাহান। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল তার।
তিনি বলেন, রোদে বসে থাকতে থাকতে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। তরমুজও ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে না। একটু পরপর পানি না ঢাললে টিকেই থাকা যায় না।
১৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণে দ্বিতীয় দিনে চালকদের দীর্ঘ লাইন
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ করছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলা পরিষদে এ কার্ড বিতরণের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে আজ (মঙ্গলবার) ভোর থেকেই নিজ নিজ উপজেলা পরিষদের সামনে লাইনে দাঁড়ান অনেকে। ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয় তাদের।
এর আগে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। পহেলা এপ্রিল থেকে শুধু ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে।
তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (বিএম) তারিক উজ জামান বলেন, ‘ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু হলে, তেলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে। এমনকি তেল নিয়ে যারা কালোবাজারির চেষ্টা যারা করছেন, তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
১৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেলসহ আটক ৪
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাতের অন্ধকারে তেল খালাসের সময় প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে উপজেলার কয়রাডাঙ্গা-খাদিমপুর সড়কে একটি তেলবাহী ট্যাংকলরি থেকে ড্রামে তেল ভরার সময় অভিযান চালায় থানা পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তেলগুলো দেশের অন্য কোনো জেলা থেকে আনা হয়েছিল। তবে এ তেলের মালিক কে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল জানান, অভিযানের সময় ৮ ব্যারেল পেট্রোলসহ একটি ট্রাক্টরের ট্রলি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ট্যাংকলরিটিও হেফজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা ট্যাংকলরি ও ব্যারেলগুলোতে প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে।
২০ দিন আগে
জ্বালানি সংকট সহজ করতে চুয়াডাঙ্গায় ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে ফুয়েল কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে জ্বালানি তেলের মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। কার্ড পেতে হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুধু ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। জেলার ২২টি পাম্পে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একযোগে তেল বিক্রি চলবে। তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যাবে।
অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের দায় নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান জানান, ৩০ মার্চ থেকে জেলায় রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা এবং পাম্প মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট
চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টার জমিতে সেচ নালা তৈরির সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসা শক্তিশালী ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছেন সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। কম্পন আর বিকট শব্দে ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে সেনাবাহিনীর ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর ইউনিটের সদস্যরা এ ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
স্থানীয়রা জানান, ল্যান্ডমাইনগুলো বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় আকাশ। ল্যান্ডমাইন খুঁজে পাওয়ার ২৯ দিনের মাথায় এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই কদিন পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছিল ওই এলাকা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে চাষের জমি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে নালা তৈরির জন্য কোদাল দিয়ে খুড়ছিলেন। এ সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসে ৩টি শক্তিশালি ল্যান্ডমাইন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। এরপর আজ (শনিবার) সকালে ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। দুপুরে সেখান থেকে একে একে ৭টি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেন। এরপর তারা প্রথমে ৪টি এবং পরে বাকি ৩টি ল্যান্ডমাইনও নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় বিকট শব্দ এবং কম্পন অনুভূত হয়। বোমা নিষ্ক্রিয় করা স্থানগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, খবরে ‘স্ট্রোকে’ দাদার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিমুল হোসেন কাজি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে শিমুলের দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০) স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সংঘর্ষের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিমুল হোসেন কাজি ওই গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে। নাজিম উদ্দিন কাজি তার দাদা এবং মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকায় অবস্থানকালে কয়েক দিন আগে ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঈদের দুই দিন আগে তিনি বাড়িতে ফিরলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ঈদের দিন (শনিবার) দুপুরে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে সাহাবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হৃদয় ও তার চাচা বজলু আহত হন। পরে পাল্টা হামলায় আব্দুল্লাহর মা আলিয়া বেগম, তরিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে পূর্বশত্রুতার জেরে হান্নান-কুবির গ্রুপ ও লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুবির কাজি ও শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিমুলের মৃত্যু হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে নাজিম উদ্দিন কাজি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
২৮ দিন আগে
ঈদের দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চুয়াডাঙ্গায় যুবক নিহত
ঈদের দিনে ঘুরতে বের হয়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সুরুজ (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হৃদয় নামে আরও এক আরোহী আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরুজ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার বাসিন্দা স্বপনের ছেলে। আহত হৃদয় একই পৌর এলাকার শ্মশানপাড়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ঘুরতে বের হয়ে দুই যুবক মোটরসাইকেলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরুজকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত হৃদয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুরুজের মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত জানার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।
২৯ দিন আগে
কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড আলমডাঙ্গার দুই গ্রাম, নিহত ১
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে দুইটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় দেওয়াল চাপা পড়ে আকমান আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন, তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হারদি ইউনিয়নের হারদি ও উদয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে অন্তত ২০টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির কারণে গৃহহীন হয়ে পড়া অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এবং হারদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে নিরূপণ করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৩১ দিন আগে
বাবার হাতেই অপহরণের শিকার ৮ বছরের শিশু, উদ্ধার করল পুলিশ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক ব্যক্তি তারই সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন। তবে পুলিশি অভিযানে সিয়াম (৮) নামের ওই শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিয়ামের বাবা তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাকে একটি নির্জন বাগানে বেঁধে গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম মাঠে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানার পাকা দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মো. আজিজুল (২৮) এবং তার সহযোগী মো. আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে ভুক্তভোগীর জীবন রক্ষার্থে বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুটির মা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিয়ামকে অপহরণ করেন তার বাবা। শিশুটিকে জিম্মি করে গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ছবি তুলে তার মায়ের মুঠোফোনে ছবি পাঠান তারা। ওই নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে নিয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৩২ দিন আগে
ঐতিহ্যের সাক্ষী চুয়াডাঙ্গার কুসুম বিবির তিন গম্বুজবিশিষ্ট বড় মসজিদ
ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গার বড় মসজিদ। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে এটি গর্বের প্রতীক। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এ মসজিদটি স্থাপিত হয় আনুমানিক ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে (১২০৮ হিজরি)। দীর্ঘ সময় ধরে এটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
মসজিদের মুসল্লিদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মসজিদটি এলাকায় ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও মসজিদটি তার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে দাঁড়িয়ে আছে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৮৬ সালে কুসুম বিবি নামের এক মহীয়সী নারী ৭৩ শতক জমির ওপর নিজ অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রথম মসজিদ হিসেবে এখান থেকেই প্রথম আজানের ধ্বনি শোনা যায়।
চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র একাডেমি মোড়-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদের নাম অনুসারেই আশপাশের মহল্লার নাম হয়েছে ‘মসজিদপাড়া’। বর্তমানে আধুনিক সুবিধা যুক্ত হলেও মসজিদের কিছু অংশে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুরুর দিকে মসজিদের ভেতরে দুইটি ও বারান্দায় একটি কাতারে নামাজ আদায় করা যেত। সেই সময় প্রায় ৭০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটিও সম্প্রসারণ করা হয়।
২০১৪ সালে মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদটির সংস্কার করা হয়। সংস্কারের মাধ্যমে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের জায়গা সম্প্রসারণ এবং নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বর্তমানে এটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জামে মসজিদ হিসেবে মুসল্লিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
বড় মসজিদ বা মিনার মসজিদ নামেও পরিচিত মসজিদটি। এর সুউচ্চ মিনার অনেক দূর থেকেই দেখা যায়। তবে বর্তমানে মসজিদের মিনারের তৃতীয় তলার বেলকুনির অংশ ভেঙে গেছে। মসজিদের মিনারটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি কবরস্থান। এই বড় মসজিদে রেলপাড়া, মসজিদপাড়া, একাডেমি মোড়, জোয়ার্দ্দারপাড়া, বাগানপাড়া, মাঝেরপাড়া, মল্লিকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। এছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াতের আসরেও মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদের ইতিহাসে কুসুম বিবির নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এই মসজিদের জমির মূল মালিক ছিলেন পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী কুসুম বিবি। তিনি ৭৩ শতক জমি আল্লাহর ঘর নির্মাণের জন্য দান করেন।
৩৩ দিন আগে