চুয়াডাঙ্গা
‘মদ্যপ অবস্থায় ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর-লুটপাট’, চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা ব্রাইটসহ আটক ২
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়। পরে গতকাল রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আটককৃতরা হলেন: দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিন।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, সম্প্রতি আমদানিকৃত পাথরের চালানের পণ্য খালাসের একটি কাজ নিয়ে আরেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের সুযোগে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে টাকা না দিলে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।
রফিকুলের অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পর শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় তার অফিসে লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। হামলাকারীদের অনেকে মদ্যপ ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
৩ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর ও দামুড়হুদা উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন ইজিবাইক চার্জ দিতে গিয়ে, স্বামী-স্ত্রী বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় এবং অপর একজন বৈদ্যুতিক মোটর চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের চকপাড়ায় নিজ বাড়িতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় ইজিবাইকচালক।
নিহতের প্রতিবেশী নয়ন জানান, অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর নাসিরকে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আল বেলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন জানান, নাসিরকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, দুপুর ৩টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্ত্রী লিপা খাতুনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা দুজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাদের শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’
এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরে একটি বাড়ির বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শফিকুল ইসলাম ওরফে বরু (৪৮) নামের আরেক ব্যক্তি নিহত হন।
সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় লোকনাথপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শফিকুল দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটর চুরির উদ্দেশ্যে কেরামত আলীর বাড়িতে প্রবেশ করেন শফিকুল। একপর্যায়ে বাড়ির কলপাড়ে থাকা মোটরের বৈদ্যুতিক সংযোগ কাটার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তার শরীরের কয়েকটি অংশ পুড়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলেই শফিকুলের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ভোরে বাড়ির এক নারী তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ
ইজিবাইক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাস ও মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস আটকে রাখার অভিযোগের জেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের চালক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এবং বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালান এবং তাদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি থাকা চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়ক আড়াআড়িভাবে বাস রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (শুক্রবার) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেককে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজে গন্তব্যে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।
এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের যে দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’
এদিকে, মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল করবে না।
১০ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সব সরকারি আইনজীবীর নিয়োগ বাতিল, নতুন জিপি-পিপি নিয়োগ
চুয়াডাঙ্গা জেলার বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন আদালতে আগে নিয়োগ পাওয়া সব সরকারি আইনজীবীর নিয়োগের আদেশ বাতিল করে নতুন করে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারা এবং ১৯৬০ সালের ‘লিগ্যাল রিমেমব্রান্সার্স ম্যানুয়াল’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল খালেক এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. মারুফ সারোয়ার বাবুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে অ্যাডভোকেট মুন্সি মো. শাহাজাহান মুকুল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে আ স ম আবদুর রউফকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে পারিবারিক আপিল আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান বদি এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলা জজ আদালতে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি পদে অ্যাডভোকেট এস এম আসাদুজ্জামান গনি সালাম ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম-১, অ্যাডভোকেট এস এন এ হাসেমী, অ্যাডভোকেট মো. আহসান আলী, অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ এবং অ্যাডভোকেট মোছা. আফরোজা আক্তার।
এছাড়া, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. আলী হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এরশাদ, অ্যাডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট এস এম হুমায়ুন কবীর ও অ্যাডভোকেট মোছা. সেলিনা খাতুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদে ১৮ জন আইনজীবী নিয়োগ পেয়েছেন। তারা হলেন: মো. মঈন উদ্দীন (মঈনুল), মো. মানজার আলী জোয়ার্দ্দার (হেলাল), এস এম সাইদুজ্জামান গনি টোটন, মো. জিলুর রহমান জালাল, মো. আসাদুজ্জামান মিল্টন, মো. মাসুদুর রহমান, মো. ফারজ আলী, মো. মশিউর রহমান পারভেজ, মোছা. রুবিনা পারভীন রুমা, মো. শাহাজামাল জামাল, মো. জহুরুল ইসলাম, মো. হাসানুজ্জামান, মো. আশরাফুল হক উজ্জ্বল, মো. শাহরিয়ার নেওয়াজ অতি, মো. আবদুস সালাম মুক্তা, মো. আতিয়ার রহমান-২, মো. ওহিদুজ্জামান মুকুল এবং মেহেদী হাসান নয়ন।
আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নতুন নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ পুনর্বিবেচনা বা নতুন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে চুয়াডাঙ্গার বিচার বিভাগীয় আদালতগুলোতে সরকারি পক্ষের আইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নতুন আইন কর্মকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
২০ দিন আগে
ঘাস মারতে জমিতে বিষ প্রয়োগ, দর্শনায় মারা গেল শতাধিক দেশীয় পাখি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় ঘাসের জমিতে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় প্রায় শতাধিক দেশীয় পাখি মারা গেছে। এ ঘটনায় গতরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত জমির মালিকের ছেলেকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণপাড়ার আতিয়ার রহমান তার ঘাসের জমিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে বিষ প্রয়োগ করেন। পরে বিষমিশ্রিত ধান ও বিষাক্ত পোকামাকড় খেয়ে সেদিন রাত থেকে পরদিন রবিবার দিনভর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি মারা যেতে থাকে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গতরাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাহীন আলম। এ সময় জমির মালিকের ছেলে রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানাসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করতে সতর্ক করেন তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কীটনাশকের কারণে পাখিসহ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে বিষ প্রয়োগ করা যাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তিনজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান। গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, মাধবখালী সীমান্তের ৭০/২-এস সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন গেট দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরি ক্যাম্পের সদস্যরা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই মাধবখালী বিওপির টহল দলের নজরে পড়েন তারা।
পরে বিজিবি সদস্যরা শূন্যলাইন থেকে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় ওই তিনজন সীমান্তের শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৪০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেন। সে সময় বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা ভারতের কাঁটাতারের কাছে ফিরে যান। পরে সকাল ৮টার দিকে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরি ক্যাম্পের সদস্যরা ৬৮/৫-এস সীমান্ত গেট খুলে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নকে জানানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
৩০ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ঢাকাগামী বাস উল্টে আহত ২৩, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
চুয়াডাঙ্গা সদরের সরোজগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী বাসটি দ্রুতগতিতে ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিল। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার তীব্রতায় কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে বুলবুলী নামে এক নারীর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন—চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলী গ্রামের ছামিউল (৪০), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মো. রুবেল (৪০), চুয়াডাঙ্গার বালিয়াকান্দি গ্রামের মোছা. খাদিজা (১৩), কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চকহাদী গ্রামের সুমন (৩২), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. রাজিব (৩০), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের আসাদুল হক (৫০), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মোছা. পঞ্চমী বেগম (৬০), মাদারীপুর জেলার চরকাতলা গ্রামের সালাম (৬৫), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুর (৫০) ও একই গ্রামের শাহিন (২০), চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ফজর আলী (৫০), চুয়াডাঙ্গার পাচলিয়া গ্রামের ফারজানা (১৮), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের রাশিদা (৫০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের হাফিজুর (৫৭), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের সালাম (২০), গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান (৪০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৫৫), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের আরিফ খান (৬০), চুয়াডাঙ্গা সদরের পিটিআইয়ে কর্মরত আরিফুল আজম (৪৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মো. জনি (৪০) আলমডাঙ্গা উপজেলার আনন্দধাম এলাকার মোছা. বুলবুলী (৩৫), শরীয়াতপুর জেলার মোছা. জাহানারা (৬০)। এছাড়া আহত আরও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, দুর্ঘটনায় আহত মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা রাজশাহীতে স্থানান্তরের করার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সদর হাসপাতালে যান। সেখানে তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় আমরা পাশে রয়েছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
৪৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম, ঝুঁকিতে মানুষ, ফসল ও গবাদিপশু
দেখতে অনেকটা ধনিয়াগাছের মতো। দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতার সবুজ গাছে ছোট ছোট সাদা ফুলও ফোটে। তবে আকর্ষণীয় এই আগাছার আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ঙ্কর বিপদ। এর নাম পার্থেনিয়াম। চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মাঠ-ঘাট, রাস্তার ধারে, ফসলি জমি ও পতিত ভূমিতে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে বিষাক্ত এই উদ্ভিদ, যা জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও গবাদিপশুর জন্য ক্রমেই বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
কৃষিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পার্থেনিয়াম (Parthenium hysterophorus) মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ। ধারণা করা হয়, বিভিন্ন উপায়ে এটি প্রতিবেশী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পরে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে পার্থেনিয়ামের উপস্থিতি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল, রাস্তার দুই ধারে, রেললাইনের পাশ, খালি জমি এবং ফসলের মাঠসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে জন্মাতে দেখা যাচ্ছে গাছটি। তবে অধিকাংশ মানুষই এর নাম কিংবা ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত নন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি আক্রমণাত্মক ও বিষাক্ত আগাছা। জীবনকাল মাত্র তিন থেকে চার মাস হলেও এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার ফুল ও বীজ উৎপাদন করে। একটি গাছ থেকেই হাজার হাজার বীজ ছড়িয়ে পড়ে, যা বাতাস, পানি, যানবাহন ও পশুপাখির মাধ্যমে নতুন এলাকায় বিস্তার লাভ করে।
দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক লুৎফর হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এ আগাছা তেমন দেখা যেত না। এখন অনেক কৃষিজমির আশপাশে জন্মাচ্ছে। এতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।’
৬৬ দিন আগে
দখল-দূষণে মৃতপ্রায় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদী
একসময় খরস্রোতা রূপে পরিচিত ছিল মাথাভাঙ্গা নদী। যে নদীর বুক চিরে চলত নৌযান, যেখানে সাঁতার কেটে বেড়াত স্থানীয়রা, সেই নদী আজ দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরকে দ্বিখণ্ডিত করে প্রবাহিত ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তঃসীমান্ত এই নদী এখন মৃতপ্রায়। জেলার ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক মাথাভাঙ্গা বর্তমানে যেন আবর্জনা ও দূষণের খালে পরিণত হয়েছে। দখল ও দূষণের কারণে নদীটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর অধিকাংশ অংশই দখলদারদের কবলে চলে গেছে। বর্ষা মৌসুমে কখনও কখনও পানি দেখা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীটি পরিণত হয় মৃতপ্রায় খালে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অধিকাংশ প্রধান ড্রেন সরাসরি গিয়ে পড়েছে মাথাভাঙ্গা নদীতে। দিন-রাত শহরের নোংরা পানি, হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্য, প্লাস্টিক ও বাজারের পচা আবর্জনা মিশছে নদীর পানিতে। ফলে নদীর স্বচ্ছ পানি কালচে হয়ে গেছে। নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটলেই ভেসে আসে উৎকট দুর্গন্ধ।
এছাড়া নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অবকাঠামো। বিভিন্ন স্থানে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পলি জমে ও যথাযথ খননের অভাবে নদী ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা রিমন আলী বলেন, আগে বন্ধুদের সঙ্গে এই নদীতে সাঁতার কাটতাম। তখন নদীতে প্রচুর পানি আর স্রোত ছিল। এখন নদীর পাশে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে দুর্গন্ধের কারণে। আগের সেই মাথাভাঙ্গা আর নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মিয়া বলেন, ছোটবেলায় নদীর স্রোত দেখে ভয় পেতাম। তখন জাহাজ চলত। এখন নদী ভরাট হয়ে নালার মতো হয়ে গেছে। নদীটির এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়।
‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নদীর জায়গা দখল করে রেখেছে। অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নদীর সীমানা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। এতে নদী তার স্বাভাবিক রূপ হারাচ্ছে।
সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি বলেন, মাথাভাঙ্গা নদীর সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। নদীকে কার্যত ড্রেনে পরিণত করা হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, মাথাভাঙ্গা নদী দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধারে সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, পৌরসভার কিছু ড্রেন নদীতে গিয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাভাঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি চিত্রা, নবগঙ্গা ও ভৈরবসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর উৎস। ফলে মাথাভাঙ্গা নদী পুরোপুরি মৃত হয়ে গেলে এ অঞ্চলের নদীনির্ভর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
৬৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ফুট আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে সমর্থকদের শোভাযাত্রা
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক অংশ নেন। এ সময় আকাশি-সাদা রঙে ছেয়ে যায় শহরের প্রধান সড়কগুলো।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন ফুটবল মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহিদ হাসান চত্বর (চৌরাস্তা মোড়), কোর্ট মোড়, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন ফুটবল মাঠে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা সারিবদ্ধভাবে ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা বহন করেন। এ সময় প্রিয় দলের জার্সি, বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে স্লোগান দেন তারা। বিশ্বকাপের গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এ আয়োজনের নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কণ্ঠশিল্পী শান্ত আহমেদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক শামসুজ্জোহা রানা, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জিসান আহমেদ এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আদিব জোয়ার্দ্দার।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থক শেখ লিটন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংখ্যা অনেক। বিশ্বকাপ এলেই আমরা সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। এবারও আমরা আশা করছি, আর্জেন্টিনা ভালো খেলবে এবং শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে থাকবে।
৮৪ দিন আগে