চুয়াডাঙ্গা
সুবাস ছড়াচ্ছে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী সরোজগঞ্জ গুড়ের হাট
শীতের হালকা কুয়াশা ভেদ করে ভোরের আলো ফুটতেই চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে এক আলাদা ঘ্রাণ—খাঁটি খেজুর গুড়ের সুবাস। কয়েক শতাব্দীর ঐতিহ্য বুকে ধারণ করা এই হাটে শীত এলেই ফেরে প্রাণচাঞ্চল্য।
মাটির ভাঁড়ে সাজানো ঝোলা গুড়, নলেন পাটালি আর ধামা-কাঠায় রাখা টাটকা গুড়ে ভরে ওঠে পুরো হাট এলাকা। গুড়ের মৌ মৌ ঘ্রাণে সুবাসিত হয়ে থাকে চারদিক। এরই মাঝে হাঁকডাক, দরকষাকষি আর ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততায় সরোজগঞ্জ হয়ে ওঠে চুয়াডাঙ্গার শীতকালীন অর্থনীতির এক জীবন্ত কেন্দ্র।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিনশ বছর ধরে চলমান সরোজগঞ্জ খেজুর গুড়ের হাট প্রতি সপ্তাহে বসে দুই দিন—সোমবার ও শুক্রবার। প্রতিটি হাটে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার বেশি গুড় কেনাবেচা হয়। চলতি মৌসুম শেষে এখানকার মোট লেনদেন ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা বাজার-সংশ্লিষ্টদের।
৮ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানের সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সেইসঙ্গে ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইএসপিআর জানিয়েছে, গতকাল (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি একটি ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ উল্লেখ করে আইএসপিআর বলেছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
১৩ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫০) মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
তবে সেনা ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে, ডাবলুকে নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এই সময়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার (কর্নেল) ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
১৪ দিন আগে
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমেছে পারদ
হাড় কাঁপানো শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ।
চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাস স্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
শ্রমজীবী মানুষেরা জানান, ভোরে কাজে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এক কৃষক বলেন, শীতের কারণে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। তারপরও জীবিকার তাগিদে বের হতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
শীতের প্রভাবে জেলার জনস্বাস্থ্যেও চাপ বেড়েছে। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও সর্দিকাশিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া একদল শিক্ষার্থী জানায়, প্রচণ্ড শীত ও হিমেল বাতাসে যাতায়াত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বেলা বাড়ার আগে ক্রেতারা তেমন আসছেন না।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
২১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও শীতজনিত দুর্ভোগ বাড়ছে
চুয়াডাঙ্গায় টানা চারদিন পর শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও শীতের তীব্রতা এখনও কাটেনি। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা জনজীবনে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরের পর সকাল হলেও ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
গতকাল (শনিবার) এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, তার আগের দিন শুক্রবার ৯ ডিগ্রি এবং বৃহস্পতিবার ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অর্থাৎ গত কয়েকদিন ধরেই জেলাজুড়ে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, টানা চার দিন মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও চলতি সপ্তাহে আবার নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ কর্মকর্তা।
এদিকে, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার মাঝে কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। ঝুঁকি এড়াতে তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষেরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীত উপেক্ষা করেই দিনমজুর ও শ্রমিকদের কাজে যেতে হচ্ছে।
এক কৃষিশ্রমিক বলেন, ভোরে মাঠে নামতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত ঠিকমতো চলে না। বাতাস থাকায় শীত আরও বেশি লাগছে। তারপরও কাজ না করলে চলবে না।
আরেক দিনমজুর বলেন, সকালবেলা কুয়াশা এত ঘন থাকে যে কিছুই দেখা যায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে।
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সাময়িকভাবে কমলেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনে শীতজনিত দুর্ভোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
২২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ, ৮ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে হঠাৎ করেই তীব্র শীতের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিরও বেশি কমে গিয়ে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় হঠাৎ করেই বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
আজ ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল বাতাসে সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে খড়কুটা, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেককে।
ভ্রাম্যমাণ মুরগি বিক্রেতা ইয়ারুল আলি বলেন, ভোরে শহরে বের হই, কিন্তু তীব্র শীতে মানুষ কম বের হওয়ায় মুরগির বিক্রি কমে গেছে।
দিনমজুর ও ভ্যানচালকেরা জানান, ঠান্ডায় কাজ করতে কষ্ট হলেও উপার্জনের জন্য বাইরে বের হতে হচ্ছে। সকালে যাত্রী ও কাজের চাপ কম থাকায় উপার্জনও কমে গেছে।
অন্যদিকে, শীতের প্রভাব পড়েছে জেলার জনস্বাস্থ্যেও। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আরও দু-একদিন থাকতে পারে। এ সময় রাত ও ভোরে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৭ দিন আগে
শীতে বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা, শীতজনিত রোগে বেড়েছে ভোগান্তি
দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা কমেই চলেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকালবেলায় সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। চলতি মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
শীতের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন বৃদ্ধ মানুষ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুও চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন।
গ্রাম থেকে জেলা শহরে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকরা জানান, ভোর থেকে দুপুর ২টা–৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হলেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। হিমেল বাতাসে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।
স্থানীয় কৃষক আজিম উদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির রোগী। কৃষিকাজ করেই তার জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সকালে মাঠে কাজ করতে পারেন না। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে ফিরতে হচ্ছে। তবুও পেটের দায়ে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভবনা রয়েছে। মাসের শেষের দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুতে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
৩৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় রোটা ভাইরাসের তাণ্ডব, ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬৬
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত ১৬ দিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই শিশুসহ ১ হাজার ৩৬৬ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালের আউটডোরে গড়ে আরও ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।
শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যবিধি অবহেলা করাকেই রোগ বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা। তবে আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে ঠান্ডা মেঝেতেই শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
৩৮ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ফায়ারিং অনুশীলনে পথচারী গুলিবিদ্ধ
চুয়াডাঙ্গায় জেলা পুলিশের বার্ষিক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় বাবু (৩১) নামের এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলার হায়দারপুরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহত বাবু পেশায় একজন পারটেক্স মিস্ত্রি এবং চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাতগাড়ির আব্দুল হামিদের ছেলে।
জেলা পুলিশ জানায়, বার্ষিক মার্কসম্যানশিপ (ফায়ারিং) অনুশীলন ৯ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্ন্ত প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা–৬ বিজিবির ডিঙ্গেদাহ ক্যাম্পের ফায়ারিং বাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রেঞ্জের তিন কিলোমিটার এলাকায় বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের জন্য আগেই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল।
তবে বাবুর ভাই রাশেদের অভিযোগ, আজ কোনো ধরনের মাইকিং বা সতর্কতা ছাড়াই ফায়ারিং চলছিল। পাঁচ বছর আগে এখানে এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আজ আমার ভাই মোটরসাইকেলে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হলো।
চুয়াডাঙ্গা–৬ বিজিবির নায়েক সুবেদার কামরুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের জন্য ৬ বিজিবির ফায়ারিং বাট তিন দিন বরাদ্দ ছিল। আজ সকাল থেকে ফায়ার চলছে। এ সময় একজন বেসামরিক ব্যক্তির বুকে গুলি লাগে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, এক্স–রে করে দেখা গেছে, বাবুর বুকের বাঁ পাশে গুলি রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রামেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ৬ বিজিবির ফায়ারিং রেঞ্জে জেলা পুলিশের বার্ষিক ফায়ারিং চলছিল। শুনেছি একজন মোটরসাইকেল আরোহী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে জেনেছি তিনি আশঙ্কামুক্ত।
৪৬ দিন আগে
১১ ডিগ্রিতে নামল চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা, লেপ-তোশকের দোকানে ভিড়
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। আর শীত বাড়তেই জেলার লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে বেড়েছে ভিড়। রাত-দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।
হঠাৎ করে শুরু হওয়া হিমেল হাওয়া, কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জেলার জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এ জেলার সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮১ শতাংশ।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েকদিনের মধ্যেই জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়লেও কাজ থেমে নেই দিনমজুর ও শ্রমিকদের। ভোর থেকেই ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে কাজে ছুটছেন তারা।
৫২ দিন আগে