ধর্মঘট
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
দাবি আদায়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট পালনের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা এ ধর্মঘট শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সোনামসজিদসহ অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো হিলি স্থলবন্দরেও পণ্য তালিকা অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানির পণ্য তালিকা দীর্ঘ হলেও হিলি স্থলবন্দরে তালিকা অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক পণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমতি থাকায় ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে পড়াসহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অন্যান্য স্থল বন্দরের মতো হিলিতেও সমান সুযোগ-সুবিধা চান তারা।
ধর্মঘটের বিষয়ে বাংলাদেশের হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন ভারতীয় এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এর ফলে হিলি দিয়ে তাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব বৈষম্য দূর করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, ধর্মঘটের বিষয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠন একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
এলসিতে আসা গম, ভুট্টা, ভুষি, ডাল, ছোট সাইজের পাথরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবোঝাই ট্রাক ভারতীয় এলাকায় আটকা পড়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা।
৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ
ইজিবাইক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাস ও মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস আটকে রাখার অভিযোগের জেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের চালক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এবং বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালান এবং তাদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি থাকা চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়ক আড়াআড়িভাবে বাস রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (শুক্রবার) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেককে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজে গন্তব্যে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।
এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের যে দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’
এদিকে, মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল করবে না।
৭ দিন আগে
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল চালু, যথাযথ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে করে বর্তমানে কলেজটিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আজ (রবিবার) সকালে কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা। পরে তারা হাসপাতাল ভবনের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হন। এতে কলেজের প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ, রাফাত রেজা আকাশ ও সুরাইয়া আক্তার স্মৃতি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজের প্রাণ হলো তার হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস (চর্চা)। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ সময় পার হলেও আমাদের হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়নি। এর ফলে আমরা ব্যবহারিক জ্ঞান ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছি। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল শিক্ষা অন্ধের মতো। আমরা এভাবে অসম্পূর্ণ শিক্ষা নিয়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত হতে পারি না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত বছরের ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে আন্দোলনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। উল্টো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বারবার আশ্বাসের বেড়াজালে বন্দি হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে এবং অবিলম্বে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী পৃথ্বীরাজ চৌধুরী, সাইদুল ইসলাম, প্রিয়াস চন্দ্র, ফারজানা আহমেদ মিম, সামচিয়া তাবাসসুম মাঈশা ও কেয়া গোস্বামী। এছাড়া চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহপরান, তামিমা রহমান ও জারিন তাসনিম অথৈ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল এবং মোহাম্মদ তানভীর হোসেন প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।
শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেন, যতক্ষণ না হাসপাতাল চালুর দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অ্যাকাডেমিক অব্যবস্থাপনা দূর করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান অক্ষুণ্ন রাখতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
৭৬ দিন আগে
ভিসির অপসারণ দাবিতে পবিপ্রবিতে টানা অষ্টম দিন চলছে অবস্থান কর্মসূচি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।
সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়।
পবিপ্রবি ভিসি ডক্টর কাজী রফিকুল ইসলামের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে গত ১১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য জোট নানাভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এ সময় ভিসির পক্ষে বহিরাগতরা ঢুকে আন্দোলন কর্মসূচীতে হামলা করে। হামলায় শিক্ষক কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এর প্রতিবাদে ভিসি-বিরোধী শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ করেন। তারা দুমকি-বাউফল-বরিশাল মহাসড়কও অবরোধ করেন।
এ ঘটনার পর পবিপ্রবি ডিন কাউন্সিল, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা করেন।
প্রক্টর আতিকুর রহমান ও প্রক্টর আবুল বাশার খান জানান, বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করে শিক্ষকরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে শামিল হন।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, পবিপ্রবিতে শিক্ষক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার পর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তবে তার অনুপস্থিতে এমন অযৌক্তিক আন্দোলন দুঃখজনক বলেও জানান তিনি।
অভিভাবককহীন পবিপ্রবিতে আন্দোলনের সূত্র ধরে অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশন জটের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
১১০ দিন আগে
পবিপ্রবিতে উপাচার্যের অপসারণ ও বহিরাগত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি, ধর্মঘট অব্যাহত
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ এবং ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনার বিচার দাবিতে সপ্তম দিনের মতো কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১১টা থেকে ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। আজকের সমাবেশে উপাচার্যের অপসারণ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হাবিবুর রহমান।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশিওলজি সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন ড. বদিউজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলাম টিটো, ছাত্র প্রতিনিধি নাহিদ হোসেন, নেছার আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস বর্জন এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
বর্তমান উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে গত ১১ মে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। সে সময় বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও কর্মচারীসহ ১০ জন আহত হন।
হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে এ ঘটনায় ২৬ জনকে আসামি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া মামলা করেন।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা সবাই স্থানীয় দুমকি উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
১১১ দিন আগে
দিনাজপুরে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের ডাক
দিনাজপুরে টোলের নামে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ১২ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাকসহ সংগঠনের সদস্যচালিত সব ধরনের যানবাহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন দিনাজপুর জেলা ট্রাক মালিক-শ্রমিক যৌথ পরিষদের নেতারা। অন্যদিকে, ট্রাক টার্মিনালে টোল আদায়ে ব্যর্থ হয়ে সড়কে টোল আদায়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক।
দিনাজপুর জেলা ট্রাক-মালিক শ্রমিক যৌথ পরিষদের সভাপতি ও দিনাজপুর জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি সৈয়দ সপু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক দিনাজপুর জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী কাভার্ডভ্যান পিকআপ ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সাদাকাতুল বারীর সই করা চিঠির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনালের পরিবর্তে সড়ক-মহাসড়কে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার ২ জন কর্মচারী এবং আরও ২ জন বহিরাগতকে দেওয়া হয়েছে চাঁদা আদায়ের দ্বায়িত্ব।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে আপত্তি জানিয়েও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি। চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়া হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে পৌর প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে গত ৫ মে ট্রাক মালিক শ্রমিক যৌথ পরিষদের সভায় মিলিত হয়েছিলেন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে আগামী ১২ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উভয় সংগঠনের সদস্যচালিত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, গতমাসে ১২ তারিখে দিনাজপুর পৌরসভার দ্বায়িত্বে থাকা প্রশাসক রিয়াজউদ্দিনের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রাক টার্মিনালে টোল আদায়ে ইজারাদার নিয়োগে স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু কেউ দরপত্র দাখিল করেননি।
গত ৩০ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত মাসিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ এপ্রিল ইস্যু করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, টার্মিলালের খাস টোল আদায় করার জন্য পৌরসভার বাজার পরিদর্শক কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, আদায়কারী শামিম আহমেদ এবং ২ জন ট্রাক শ্রমিক রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও শহিদ জামিলকে নিয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে টোল আদায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধকতার কারণে ১৪৩২ বঙ্গাব্দে টোল আদায় করা যায়নি। এতে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গঠিত কমিটিকে খাস টোল আদায়ে বাধা দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি টোল আদায়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
১২১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ৩২ ঘণ্টা পর শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার
কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কুষ্টিয়া জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠক শেষে দুপুর ১টার দিকে এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়।
কুষ্টিয়া জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সব রুটে বাস চলাচলে বাধা নেই। এর আগে দুই দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এর ফলে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে কুষ্টিয়ার মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-প্রাগপুর রুটে বাস চলাচল একেবারেই বন্ধ ছিল। এছাড়া কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া-বরিশাল, কুষ্টিয়া-রাজশাহী, কুষ্টিয়া-পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য রুটে মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির কোনো বাসও ছেড়ে যায়নি। তবে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসগুলো চলছিল। ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েন সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীরা।
পরিবহন শ্রমিকেরা বলছেন, দুটি দাবিতে এক সপ্তাহ আগে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এর একটি হলো পরিবহনসংশ্লিষ্ট মালিক যেসব সুযোগ-সুবিধা নেন, শ্রমিকদেরও একই সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত শ্রমিক সংগঠনের নামে একটি বাস কুষ্টিয়া থেকে খুলনা রুটে চলাচল করার অনুমোদন দিতে হবে।
তারা বলেন, গত ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দাবি না মানায় শুক্রবার সকাল থেকে মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির বাস মিনিবাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
এ পরিস্থিতিতে শনিবার সকাল ১১টায় বাস মালিক-শ্রমিকরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জসীম উদ্দিন বৈঠকে বসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চলা বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক থাকায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় আমি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আমাদের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪০ দিন আগে
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আকস্মিক ধর্মঘটে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি ও চিকসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হৈচৈ ও চিকিৎসককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভর্তি বা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল রাতে শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউতে নেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনদের জানানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে ওই রোগী মারা যান।
এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লা আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। তাদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও হৈচৈয়ের কারণে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীর চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য তারা তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এরপর আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গেটের তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলী নামে রোগীর এক স্বজনকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, বারবার হামলা এবং চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদে কাজে যোগ দেয়নি ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। অচলাবস্থা অবসানে দুপুর ১২টার দিকে বিভাগীয় প্রধানসহ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলোচনায় ডেকেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান।
১৪৫ দিন আগে
সিলেটে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ধর্মঘট স্থগিত
সিলেটে সিএনজি, এলপিজি ও পেট্রোল পাম্পে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। হঠাৎ করে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের ঘোষণায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে পাম্পগুলো।
বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পাম্প মালিকদের দাবিদাওয়া পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে, বুধবার রাত ১১টার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সিলেটের পাম্প মালিকরা হঠাৎ করে তেল ও গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। এতে সিলেটজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয় এবং পরিবহন খাতে অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়। অনেক চালক ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই উদ্যোগ নেয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা। রাত দেড়টার দিকে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী ও সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সঙ্গে পাম্প মালিক নেতাদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার এলাকায় অবস্থিত মেঘনা অয়েল ডিপোতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে।
বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বৈঠক শেষে ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
১৫৬ দিন আগে
বিসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধর্মঘটে আবর্জনার নগরীতে পরিণত বরিশাল
ঈদের আগে উৎসব ভাতা (বোনাস) ও ৩০ দিনের বেতনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাদের কর্মবিরতির কারণে নগরজুড়ে ময়লা জমে আছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে কর্মবিরতি চলাকালে নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সমাবেশ করেছেন কর্মীরা।
বোনাসের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এদিকে বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকায় দুর্গন্ধ সয়ে তবেই নগরবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তারা বর্তমান পরিবেশ থেকে দ্রুত রেহাই পেতে চান।
কর্মচারীরা বলেন, বিগত দিনে বেতন ও বোনাস দেওয়া হলেও সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের শ্রমিক বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বোনাস দেওয়া হবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়। এছাড়া আমরা পূর্ণ মাস অর্থাৎ ৩০ দিন কাজ করলেও বেতন দেওয়া হচ্ছে ২২ দিনের। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললেও তারা কোনো সুরাহা না করে সময় পার করতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা গত মঙ্গলবার রাতে কর্মবিরতির ডাক দেন।
শ্রমিক নেতা সোহাগ জানান, গত ৮ মার্চ থেকে তারা আন্দোলন করছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান আসেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মজুরি বাড়ায় দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই আন্দোলন করলেও বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি করপোরেশনে ৩৯৪ জন পরিচ্ছন্নতা এবং ৩১৪ জন ঝাড়ুদার রয়েছেন।
১৭৭ দিন আগে