কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। ওই বাড়িতে ডাকাত দল ঢোকার ৫ মিনিটের মধ্যেই রুখে দাঁড়ায় গ্রামবাসী। এরপর ফিরে যাওয়ার সময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জীমুত বিশ্বাস স্থানীয় কলিমহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাড়ির অসুস্থ কর্তা জীমুত বাহন নিজের ঘরে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় মুখ বাঁধা ৮ জন ডাকাতের একটি দল তার ঘরে ঢুকে পড়ে। তাদের কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, আবার কারো হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। এই দৃশ্য দেখে জীমুতের স্ত্রী সূচিত্রা বিশ্বাস আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে উঠলে ডাকাতরা তৎক্ষণাৎ তাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতরা বাড়ির পেছনের মাঠ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে যাবার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঘটনার পরপরই গৃহকর্তার ফোন পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জীমুত বিশ্বাস জানান, ৮ জন ডাকাত তার ঘরে ঢুকেছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা পরিবারের লোকদের এক ঘরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তবে তাদের চিৎকারে পাশের কালীমন্দির এলাকার দোকানে বসা কয়েকজন এগিয়ে এলে ৫ মিনিটের মধ্যেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে যায়। কোথায় টাকা পাঠাতে হবে, তা ফোনে জানাবে বলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীসহ আশপাশের গ্রামগুলো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। আগে এসব গ্রামে সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে তার বাড়িতে এমন একটি ঘটনা ঘটায় তিনি আতঙ্কিত হয়েছেন। অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য তিনি থানায় অভিযোগ করবেন। এ সময় দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন তিনি।
জানিপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তাদের এলাকায় ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের প্রতিহত করা খুবই জরুরি।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, তেমন কিছু হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় কিছু লোক ওই বাড়িতে ঢুকে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বলে বাড়ির মালিক দাবি করছেন। কিন্তু ওই বাড়ির পাশে কিছু লোক তাস খেলছিল। তারাও জানে না ডাকাতির এই ঘটনা। তবে ওই বাড়িওয়ালারা যা বলছে, বিষয়টি ওরকম নাও হতে পারে।