ডাকাতি
নরসিংদীতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপভ্যান ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত পিকআপভ্যান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপভ্যান, ডিমের খালি ক্যারেট, ডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকা, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনোহরদী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) রায়হান সরকার। এর আগে শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বড়নগর গ্রামের ইমন ও মো. রিফাত হৃদয়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মুন্না (রুমান), কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ভূঁইয়ারপাড় গ্রামের রহমত আলী (জিল্লুর) ও নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার জসিম উদ্দিন।
সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক সড়কের মনোহরদীর একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকার ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে কয়েকজন ডাকাত মিলে তাদের পিকআপভ্যান দিয়ে ডিমবোঝাই আরেকটি পিকআপভ্যান আটকায়।
এ সময় তারা ডিমের গাড়ির চালক ও তার সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত গাড়িতে উঠিয়ে নেন। পরে তাদের হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে ফেলে যান।
এ ঘটনায় ডিমের গাড়ির মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর মহাসড়ক থেকে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার নোয়াখালী জেলার সেনবাগ দক্ষিণ বাজার থেকে লুণ্ঠিত ডিমের ক্রেতা ও ডাকাতদের পূর্বপরিচিত জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়। তার হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত পিকআপভ্যান, ডিমের খালি ক্যারেট ও ডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করেন।
২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রেখে ‘ডাকাতি’
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে রেখে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ আরও কয়েকটি দোকানে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি ডাকাতি নয়, শতভাগ চুরির ঘটনা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার একতারপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীদের অভিযোগ, রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রানোতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শোরুম ও কারখানা, মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, পাখি ভ্যানের মিস্ত্রী হান্নান শেখ ও চায়ের দোকানি ওবায়দুলের দোকান থেকে রুপা, সোনার পুরনো গহনা, মুঠোফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা।
নৈশপ্রহরীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের সশস্ত্র দলটির প্রত্যেকের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের কাছে রাইফেল ও ধারালো অস্ত্র ছিল। প্রথমে দুই ব্যবসায়ীকে ও নৈশপ্রহরীদের গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর কয়েকজন মিলে তাদের পাহারা দিতে থাকে এবং অন্যরা দোকানগুলোর তালা ভেঙে মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী প্রানোতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধের সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে রেখে যান। তারপরও ডাকাতরা তার দোকানের সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। এছাড়া তার দুই শোরুম ও কারখানার লকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরনো গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রুপা ও ড্রয়ারে থাকা ২৫ হাজার টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন তাকে ফোন দিয়ে তার দোকানে ডাকাতির ঘটনা জানান। তিনি বাজারে এসে দোকানের শাটার বন্ধ পান। পরে ভেতরে ঢুকে ডাকাতির ঘটনা টের পান।
প্রত্যক্ষদর্শী পাখি ভ্যানের মিস্ত্রী আব্দুল হান্নান শেখ জানান, ডাকাতরা তাকে নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল। এ সময় ডাকাতরা তার কাছে থাকা ধার করে আনা পাঁচ হাজার টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যায়।
বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের পাঁচজন পাহারাদারের চারজনকে আটকে রেখে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি চলেছে। রাতেই পুলিশ এসেছিল। মামলা এখনও হয়নি।’
এদিকে এ ঘটনাকে শতভাগ চুরি বলে উল্লেখ করে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, একতারপুর বাজারের তিনটি দোকানে চুরি হয়েছে।
৭ দিন আগে
রংপুরে এক পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার, ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যা সন্দেহ পুলিশের
চারজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ। বাড়িতে সাড়া নেই, ভেতর থেকে আসছিল পচা দুর্গন্ধ। স্বজনেরা খুঁজতে এসে প্রাচীর টপকে বাড়িতে ঢুকে দেখেন, ঘরে, চিলেকোঠা ও ছাদে পড়ে আছে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ। পুলিশের ধারণা, তিন-চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মন্দির এলাকায় একটি বাড়ি থেকে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন: রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
পুলিশ বলছে, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজ বাড়িতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের কাউকে মোবাইল ফোনে কল করে না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। তারা বাড়িতে এসে প্রধান দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকেন। পরে ঘরের জানালা খুলে ভেতরে সবকিছু এলোমেলো ও দুর্গন্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
পরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখার সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনাস্থলে গণপতি চক্রবর্তীর ভাবি শেফালী রানী বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে তারা খবর পান, বাড়ির কেউ ফোন ধরছেন না। পরে মেয়ে ও জামাইকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে সেখানে আসেন তিনি।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা রানী বলেন, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রথমে তিনি বোনকে ফোন করেন। ফোন বন্ধ পান। পরে ভাগ্নি, দুলাভাই ও ছোট ভাগ্নেকে ফোন করেও সবার ফোন বন্ধ পান। এতে তার সন্দেহ হয়। এরপর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান তিনি।
মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমূল কাদের বলেন, পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাদে একজন, চিলেকোঠায় দুইজন ও ঘরে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে লাশ দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, তিন-চার দিন আগে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, বাড়ির যেসব স্থানে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণ রাখা হয়, সেগুলো ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো পাওয়া গেছে। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। ডাকাতির ঘটনা হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তদন্ত না করে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
২৩ দিন আগে
চাঁদপুরে ডাকাতির সময় গৃহবধূকে হত্যা, আরেক নারী আহত
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে জানালা ভেঙে বসতঘরে ঢুকে রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে ডাকাতদল। এ সময় তাদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)। এ সময় ঘরে থাকা কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাওলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। নিহতের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে ও চার মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।
আহত গৃহবধূ সুমাইয়া জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে ছুরি দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলেন। তিনি ভয়ে আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা হঠাৎ তার ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যান ডাকাতরা। এরপর তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করেন।
তিনি আরও জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও হাত বাঁধা থাকায় তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেননি।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালার কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও তিনি কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে তিনি চিৎকার করেন। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী ছুটে আসেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা বাড়িটির বসতঘরের পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এ সময় পুত্রবধূদের দাদা-শ্বশুর নুরুল ইসলাম গেট খুলে দিলে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করেন। তারা ছোট গৃহবধূকে হাত বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অন্য ঘরে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। স্বজনরা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমাইয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন, গেটটি বাইরে থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ইউএনবিকে বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
৬২ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে লাশবাহী নৌকায় ডাকাতি
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ হাওরে ১৫ দিন বয়সী এক শিশুর লাশবাহী নৌকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রীদের ৩টি মোবাইল ফোন, নৌকার সোলার প্যানেলের ব্যাটারি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নৌকায় থাকা শিশুটির দাদা আবদুল হক জানান, মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের বাবু মিয়ার ১৫ দিন বয়সী কন্যাশিশু জন্মের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে শিশুটি মারা যায়। পরে মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি বলেন, করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট থেকে নৌকা ছাড়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর একটি ছোট নৌকায় করে ৬ সদস্যের ডাকাতদল তাদের গতিরোধ করে। তারা অনেক অনুরোধ করে জানান, নৌকায় একটি শিশুর মরদেহ রয়েছে। কিন্তু ডাকাতরা তা উপেক্ষা করে যার কাছে যা ছিল, তা ছিনিয়ে নেয়। মারধরের ভয়ে তারা তিনটি মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা কিছু নগদ টাকা ডাকাতদের দিয়ে দেন।
নৌকার মাঝি রতন মিয়া জানান, নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতরা নৌকায় উঠে সোলার প্যানেলের ব্যাটারি ও প্রায় ৪ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নৌ পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
চামড়াঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দার বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬৯ দিন আগে
রাজশাহীতে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি
রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির একটি দোকানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, এ দোকানে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার ছিল।
আজ (শনিবার) সকালে দোকান খোলার সময় প্রথম ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরে দেখা যায়, আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন দেয়াল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে বলে স্থানীয়রা দাবি করে।
পুলিশের ধারণা, প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে চক্রটি। পরে সেখান থেকে দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে এবং সিন্ধুক ভেঙে স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বের হওয়ার সময় তারা আবার আফিয়া জুয়েলার্সে তালা লাগিয়ে যায়।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার সকালে দোকান খুলতে এসে ভেতরের এলোমেলো অবস্থা দেখে ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের সব দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান।
পুলিশ জানায়, ঠিক কত পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে, তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। দোকান কর্তৃপক্ষ হিসাব-নিকাশ শেষে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাবে। তবে প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতি। দোকানের বিন্যাস ও ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই চক্রটি জানত বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে বিভিন্ন ধরনের সন্দেহও তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আশপাশের স্থাপনা থেকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে ডাকাতচক্র পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বোয়ালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, ঘটনার পর স্বর্ণপট্টি এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে জুয়েলার্স সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলও করা হয়। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় জুয়েলার্স সমিতি।
৮৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে লেডি কান্তা চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩
সুনামগঞ্জ জেলা শহরে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে চুরি ও ডাকাতির অভিযোগে কান্তা বেগম ওরফে লেডি কান্তা এবং তার দুই নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে একটি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—শহরের হোসেনপুর (টুকেরঘাট) এলাকার কান্তা বেগম (লেডি কান্তা), হাছননগর এলাকার সুবর্ণা আক্তার আঁখি এবং জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জান্নাত আক্তার।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কান্তা বেগমের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শহর ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
পুলিশ জানায়, অভিনব কৌশলে চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাহায্য চাওয়ার অজুহাতে কিংবা গৃহকর্মী হিসেবে প্রবেশের চেষ্টা করত। বাসাবাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলে তারা আলমারি বা ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মুঠোফোন চুরি করে পালিয়ে যেত।
তবে চুরির সময় গৃহকর্তা বা পরিবারের কারো কাছে ধরা পড়লে বা কেউ তাদের বাধা দিলে তারা চরম উগ্র রূপ ধারণ করত। তখন তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যেত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। গতকাল (রবিবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর পুলিশি হেফাজতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কান্তা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের লুকিয়ে রাখা ধারালো রামদাটি উদ্ধার করে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কান্তা ওরফে লেডি কান্তা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে শহরের মানুষের ঘরে ঢুকে চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। কান্তাসহ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, জেলা শহরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
১০৬ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২
ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জগামী একটি বিআরটিসি বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে ব্যর্থ হয়েছে একটি চক্র । এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (৯ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আক্তারুজ্জামান (৪৭) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমিরুল ইসলাম (৩০)।
যাত্রীরা জানান, মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী শেখ মাসুম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে বিআরটিসি বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটি নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় পৌঁছালে পথে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসটির গতিরোধ করেন।
এ সময় তারা ব্যবসায়ী শেখ মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে দাবি করে তাকে বাস থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে শেখ মাসুম বাসের ভেতরেই চিৎকার করে যাত্রীদের উদ্দেশে জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়া পরিচয়ে এসব ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসেছেন।
তার চিৎকারে বাসের অন্য যাত্রীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন। সে সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে ‘র্যাব’ পরিচয়দানকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে যাত্রীদের সহায়তায় চক্রটির আক্তারুজ্জামান ও আমিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর বাসের যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
১২৮ দিন আগে
ডাকাতি করতে না পেরে দুই লাখ টাকা ‘চাঁদা দাবি’
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। ওই বাড়িতে ডাকাত দল ঢোকার ৫ মিনিটের মধ্যেই রুখে দাঁড়ায় গ্রামবাসী। এরপর ফিরে যাওয়ার সময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জীমুত বিশ্বাস স্থানীয় কলিমহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাড়ির অসুস্থ কর্তা জীমুত বাহন নিজের ঘরে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় মুখ বাঁধা ৮ জন ডাকাতের একটি দল তার ঘরে ঢুকে পড়ে। তাদের কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, আবার কারো হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। এই দৃশ্য দেখে জীমুতের স্ত্রী সূচিত্রা বিশ্বাস আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে উঠলে ডাকাতরা তৎক্ষণাৎ তাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতরা বাড়ির পেছনের মাঠ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে যাবার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঘটনার পরপরই গৃহকর্তার ফোন পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জীমুত বিশ্বাস জানান, ৮ জন ডাকাত তার ঘরে ঢুকেছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা পরিবারের লোকদের এক ঘরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তবে তাদের চিৎকারে পাশের কালীমন্দির এলাকার দোকানে বসা কয়েকজন এগিয়ে এলে ৫ মিনিটের মধ্যেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে যায়। কোথায় টাকা পাঠাতে হবে, তা ফোনে জানাবে বলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীসহ আশপাশের গ্রামগুলো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। আগে এসব গ্রামে সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে তার বাড়িতে এমন একটি ঘটনা ঘটায় তিনি আতঙ্কিত হয়েছেন। অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য তিনি থানায় অভিযোগ করবেন। এ সময় দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন তিনি।
জানিপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তাদের এলাকায় ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের প্রতিহত করা খুবই জরুরি।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, তেমন কিছু হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় কিছু লোক ওই বাড়িতে ঢুকে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বলে বাড়ির মালিক দাবি করছেন। কিন্তু ওই বাড়ির পাশে কিছু লোক তাস খেলছিল। তারাও জানে না ডাকাতির এই ঘটনা। তবে ওই বাড়িওয়ালারা যা বলছে, বিষয়টি ওরকম নাও হতে পারে।
১৮৪ দিন আগে
গাজীপুরে সাবেক সিভিল সার্জনের বাড়িতে ডাকাতি, আহত ৩
গাজীপুরে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. হাফিজুর রহমান খানের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ড বাজার এলাকার কলমেশ্বরে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় তিনজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানান, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা, প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, ছয়টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ঘরোয়া সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের হামলায় তিনজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কলমেশ্বর এলাকার ডা. হাফিজুর রহমান খানের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর টপকে ১০ থেকে ১২ জন ডাকাতের একটি দল ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা বাড়ির মূল দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কেয়ারটেকার হিজবুল্লাহকে মারধর করে। পরে তাকে বেঁধে রেখে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করেন। এরপর হাফিজুর রহমানের স্ত্রীর গলায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ ২ লাখ টাকা, ১২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৬টি মোবাইল ও তৈজসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরের কচুয়ায় দুটি বাড়িতে ডাকাতি, ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট
তারা জানান, ডাকাতদের হামলায় কেয়ার টেকারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। ডাকাতি শেষে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি দা ও একটি ককটেল জব্দ করেছে পুলিশ।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
৪০১ দিন আগে