দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত সমঝোতা সভায় তারা অংশ নেননি। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান জানান, কর্মবিরতি অবসানের আশায় সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বৈঠকের আহ্বান করেন তিনি। বৈঠকে প্রশাসনের প্রতিনিধি, কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কর্মবিরতিতে থাকা প্রায় ২০০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের কেউ আলোচনায় অংশ নেননি। আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছেন তারা।
কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় চিকিৎসকরা অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হট্টগোল ও চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে আকস্মিক কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আগত রোগীরা জরুরি বিভাগে ভর্তি বা চিকিৎসাসেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসা চলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। স্বজনদের গালাগালি ও হট্টগোলে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাও ব্যাহত হয়েছে।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এর আগেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলীকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নুর নবী জানান, আটক ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে কেউ মামলা করেননি। তার শ্যালক আব্দুস সামাদের জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে তাকে স্বজনদের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে হাজির করা হবে বলে সম্মতি দিয়েছেন স্বজনরা।