নড়াইল
নড়াইলে ‘জুলাই যোদ্ধাদের মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ
নড়াইলে জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মারার জন্য ফেসবুকে দেড় লাখ করে টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১১ জনকে উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম রানা এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাস আসায় বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পারলে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতাকর্মী।
অভিযুক্তরা হলেন— বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮), সহ-সভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), চাচই গ্রামের ইমন শিকদার (২৪), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন জমাদ্দার (২৯), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), কামেশ্বরপুর গ্রামের মো. সজীব চৌধুরী (২৬), কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) ও সদর উপজেলার সিবানন্দপুর গ্রামের জুবায়ের শেখ (২০)।
আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আসায় আওয়ামী লীগ পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থেকে তারা এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে আমরা প্রস্তুত আছি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।’
অভিযুক্ত নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের কাউকে আমি চিনি না। তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদেরও কাউকে আমি চিনি না। তাদের মারতে কেন টাকা খরচ করতে যাব।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
নড়াইলে ঘরের ওপর পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে পড়ে শিক্ষার্থী নিহত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গভীর রাতে সড়কের পাশের একটি টিনের ঘরের ওপর একটি পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে শামীমা আক্তার সেতু (১৪) নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট বোন মিতু আহত হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সেতু নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আহত মিতু স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার জানায়, নলদী গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজার মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতু রাতের খাবার খেয়ে প্রতিদিনের মতো বিছানায় শুয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক পথ ভুল করে সরু রাস্তায় চলে যায়। ট্রাকটি হাফিজার মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা তাদের টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় সেতু ও মিতু ট্রাকের পাথরের নিচে চাপা পড়ে।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পাথর সরিয়ে তাদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সেতুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিতু প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নলদী পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএসআই) আনিচুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পরপর ট্রাক ফেলে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩ দিন আগে
‘উপকারভোগীদের তালিকা চেয়ে না পেয়ে’ নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ
নড়াইল সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে সরকারি কর্মকর্তার নিকট উপকারভোগীদের তালিকা দাবি এবং তালিকা না পেয়ে কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাঁধা ও কার্যালয়ের জিনিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৮ জুন) রাতে সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বাদী হয়ে এক যুবকের নাম উল্লেখসহ ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামি মো.জিসানুর রহমান (৩০) নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে যুবদল নেতা দাবি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মো. জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গালিগালাজ করে চলে যেতেন।
সর্বশেষ, গতকাল (রবিবার) বিকেলে জিসানুর রহমান অজ্ঞাতনামা আরও চার পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি জেলার সব সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন। এ সময় মৎস্য কর্মকর্তা তাকে জানান, এর আগে তাকে একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে কিলঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে কার্যালয়ের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টেবিলের ওপর থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর ভেঙে ফেলে জিসানুর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন তিনি। পরে অভিযুক্ত জিসানুর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জিসানুর রহমান বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রদর্শনীর উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে তথ্য না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় কার্যালয়ে থাকা এক কর্মচারী হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘স্যার, সবকিছু মোবাইলে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছেন।’ একপর্যায়ে কর্মচারীরা আমাকে মেঝেতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারপিটের সময় যে কারও হাতে লেগে তাদের কম্পিউটার ভেঙে গেছে। তারা আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা যখন আমাকে মেঝেতে ফেলে দেন, তখন আমি সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরিহিত গেঞ্জি ধরে টান দিলে গেঞ্জি ছিড়ে যায়। আমি একা কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব? কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাকে মারধর করে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
১০ দিন আগে
নড়াইলে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর বিল থেকে হুসাইন শেখ (১৩) নামে স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এক সাংবাদিক।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কালিয়া উপজেলার নওয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থী স্থানীয় নওয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা শাবু শেখের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) বিকেলে হুসাইন শেখ তার দুই বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি বিলে ঘুড়ি ওড়াতে যায়। একপর্যায়ে ঘুড়ির সুতা কেটে গেলে সেটির পেছনে একাই দৌড়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ফিরে না আসায় তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু তাকে খুঁজতে শুরু করে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলের একটি নির্জন স্থানে মাটির মধ্যে মাথা দেবে থাকা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায় তারা। পরে কাছে গিয়ে পা ধরে টেনে তুললে সেটি তাদের নিখোঁজ বন্ধুর মরদেহ বলে শনাক্ত হয়।
এদিকে, আজ (রবিবার) সকালে নিহতের বাড়িতে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে নিহতের স্বজনদের বাধার সম্মুখীন হন একজন সাংবাদিক। এছাড়া নিউজের জন্য নেওয়া ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করা হয় তাকে।
স্থানীয়দের দাবি, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার বলেন, নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ দিন আগে
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ব্যক্তির
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় আলোকসজ্জার তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নকুল মল্লিক ওই গ্রামের মৃত সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানায়, গতকাল (শুক্রবার) নকুল মল্লিকের ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের বাড়িতে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছিল। রাত ৮টার দিকে বরযাত্রী এসে পৌঁছালে গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য যান নকুল মল্লিক। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
১৯ দিন আগে
নড়াইলে টিকটকে আসক্তির জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। সুমনা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে ঢাকাতেই লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে তীব্র কলহ শুরু হয়। এর জেরে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমনা ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না বলে ওয়াদাও করেছিলেন।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট এবং পরপুরুষের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয় নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর লিমন গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান। সারা দিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজেই ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ‘আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। মূলত হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতেই মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
২৩ দিন আগে
নড়াইলে পুকুরে ডুবে দুই ভাই নিহত
নড়াইলে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে আবু বক্কর (৫) ও ওমর ফারুক (২) নামে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ভাটিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত দুই শিশু ভাটিয়া গ্রামের মাজেদুল শেখের ছেলে ছিল।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, সকালে নিজ বাড়ির পাশে দুই ভাই খেলাধুলা করছিল। এ সময় পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরপর বেশ কিছু সময় ধরে শিশুদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে দুই শিশুকে পানিতে ভাসতে দেখা যায়। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
২৯ দিন আগে
স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীসহ নিহত ২
ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল থেকে স্বামী ইসমাইল হোসেনের মরদেহ আনতে গিয়ে কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের সংঘর্ষে স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫) ও অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেন (৩২) নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও ৪ জন আহত হন।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের বাদশার গ্যারেজ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের সদর হাসপাতালে আনা হলে তাদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত জাহানারা বেগমের বাড়ি যশোরের মাহিদিয়া গ্রামে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেন লক্ষ্মীপুরের পূর্বচককলাপোতা গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) সকালে ঢাকা থেকে নুরজাহান বেগম তার স্বামী ইসমাইল হোসেনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের বাদশার গ্যারেজ নামক স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পৌঁছালে বিপরীতদিক থেকে আসা কালনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই নুরজাহান বেগম নিহত হন।
আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
৩৬ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মক্তবের ইমাম গ্রেপ্তার
নড়াইলে মক্তবপড়ুয়া এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার চাকই বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে জামিল (৫৭)। উপজেলার রুখালী গ্রামের এই বাসিন্দা চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমামতি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে রাতে মসজিদেই থাকেন আমিনুল ইসলাম। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজের পরে তিনি এলাকার ছেলেমেয়েদের মসজিদের বারান্দায় মক্তবে আরবি পড়ান। ভুক্তভোগী শিশুটিসহ স্থানীয় আরও দুই মেয়ে শিশু প্রতিদিন সকালে মক্তবে তার কাছে আরবি পড়তে যায়। পড়ানোর মাঝে কোনো এক সময় তাদের যৌন নিপীড়ন করেন আমিনুল।
গত ৫ জুন আমিনুল ভুক্তভোগী শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের ভেতর ডেকে নেন। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তারা অন্য শিশুদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও এমন করা হয়েছে বলে জানায়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বিষয়টি আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে গেলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, আমিনুল রাতে শিশুদের যৌন হয়রানি করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছেন। আজ (শনিবার) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
৬১ দিন আগে
নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
নড়াইল সদর উপজেলায় আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনী আক্তার খাদিজা (২০) নামে এক গৃহবধুকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাকিব শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাকিব শেখকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রাম এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত খাদিজা খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ফুলতলা থেকে সোমবার (৪ মে) নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে সপরিবারে বেড়াতে আসেন সাকিব শেখ ও তার স্ত্রী। সাকিব মাদকাসক্ত ও কর্মবিমুখ হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তার স্বামী সাকিব। পরে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি 'দুর্ঘটনা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, হাসপাতালে নিহতের পরিবার দাবি করে, অসাবধানতাবশত বটির ওপর পড়ে গিয়ে চাঁদনী আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত এবং সাকিবের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৬৪ দিন আগে