নড়াইল
নড়াইলে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমাইয়া বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মেয়েটির বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বামী ইয়ামিন শেখের দাবি, তার স্ত্রী শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুলটিয়া গ্রামের ফসিয়ার শেখের ছেলে ইয়ামিন শেখের সঙ্গে ওই উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই ধানাইড় গ্রামের মো. ফরিদ ভূঁইয়ার মেয়ে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই মাসের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (শনিবার) রাতে আমার মেয়ে সুমাইয়াকে তার স্বামী ও স্বামীর পরিবার পিটিয়ে হত্যা করে। তারা আমাদের কোনো খবর দেয়নি। অন্য মানুষের কাছ থেকে আমরা খবর পেয়ে সেখানে গেলে তারা আমাকে বলে—শ্বাসকষ্টের সময় ওষুধ খাওয়াতে গেলে ওষুধ গলায় আটকে সে মারা যায়।
তিনি বলেন, সুমাইয়ার কখনও শ্বাসকষ্ট ছিল না। আমার মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে। তার পা এবং গলায় দাগ রয়েছে। ওকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
অন্যদিকে, হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন স্বামী ইয়ামিন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। গতকাল রাতে তার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে প্রাথমিকভাবে ওষুধ খাওয়াইছিলাম। পরে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার সময় পথেই সে মারা যায়।’
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি মেম্বারসহ আহত ১৫
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লক্ষীপাশা ইউপি মেম্বার জিরু কাজীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাঁকা গ্রামে জিরু কাজী ও আক্তার মোল্যা গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— জিরু কাজী, লুৎফুন্নাহার, রেখা বেগম, সেলিম বিশ্বাস, হেমায়েত হোসেন, আনোয়ার, আক্তার মোল্যা, লিটন, ফিরোজ, শরিফুল, হাসান মোল্যা, কাদের, মিরাজ মোল্যা। এর মধ্যে জিরু কাজীর লোকজন বেশি আহত হয়েছেন।
এছাড়া বাঁকা গ্রামের রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় আমাদা গ্রামের তবিবর মৃধাকে আক্তার মোল্যার লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে আক্তার মোল্যার লোকজন মসজিদের ভেতরে গিয়ে জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন।
আহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাঁকা গ্রামের জিরু কাজী গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের আক্তার হোসেন গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিরোধ চলে আসছিল। এরপর গতকাল দুপুরে একটি স্যালোমেশিনের পাম্প চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে মসজিদের ভেতরে গিয়ে আক্তারের গ্রুপের লোকেরা জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই আজ (শনিবার) সকালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
২ দিন আগে
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চাচা-ভাতিজাকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চাচা মেছের মোল্যা ও ভাইপো ইয়ামিন মোল্যা নামে দুজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ আলাউদ্দিন মোল্যার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে কলাগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অজিত কুমার রায়।
আহত মেছের মোল্যা (৩৫) উপজেলার নওয়াগ্রাম ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের আহম্মেদ মোল্যার ছেলে এবং ইয়ামিন মোল্যা (১৬) কাদের মোল্যার ছেলে। তারা নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মেছের মোল্যা বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে কলাগাছি বাজার থেকে আমি আর আমার ভাইপো ইয়ামিন মোটরসাইকেলে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে কলাগাছির আলাউদ্দিন মোল্যার ছেলে শাকিল মোল্যা (২২), সালাম মোল্যার ছেলে ইনামুল মোল্যা (৩৮), জিল্লু মোল্যার ছেলে তুহিন মোল্যা (৩২) ও হাসিফ মোল্যা (২৭), আব্দুল্লাহ মোল্যার ছেলে আরমান মোল্যা (১৯), আতিয়ার মোল্যার ছেলে রমিন মোল্যা (৩৬), মৃত ইসরাফিল শেখের ছেলে কোবাদ শেখসহ (৩৫) আরও ৩/৪ জন আমাকে ও আমার ভাইপোকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ইয়ামিনের বাবা কাদের মোল্যা বলেন, আলাউদ্দিন মোল্যার নেতৃত্বে সপ্তাহখানেক আগে ওরা আমাদের ৪/৫ বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছে। পরে স্থানীয় মাতুব্বররা শালিস করে মিটিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কালকে রাতে আবার আমার ছেলে ও ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়েছে ও কুপিয়েছে। আমি এ ঘটনায় মামলা করব। এর যথাযথ বিচার চাই।
মেছের মোল্যার ভাই উদার মোল্যা বলেন, ‘আমার ভাই বাজারে ব্যবসা করে। কাল রাতে বাড়ি আসার সময় আমার ভাই-ভাইপোকে মারপিট করেছে। আমার ভাইয়ের কাছে থাকা কিছু টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। তার মোটরসাইকেলটি ভেঙে তছনছ করে ফেলছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মোল্যার মুঠোফোনে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
৮ দিন আগে
নড়াইলে আধিপত্যের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ৪
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আজ (সোমবার) ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত খায়ের গ্রুপের ওসিবুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৪ দিন আগে
নড়াইলে আ.লীগ কার্যালয়ে টাঙানো হলো মুজিব-হাসিনার ছবি ও জাতীয় পতাকা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের লোহাগড়া উপজেলা শাখা কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটি ছবি টাঙানো ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শহরের জয়পুর এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কার্যালয়টিতে আগুন ধরিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা। সেই থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) অজিত রায় বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১৯ দিন আগে
নড়াইলে বিএনপি সভাপতির বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন মোল্যার বাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে প্রতিপক্ষের লোকজন অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হুমায়ুন মোল্যা হবখালী ইউনিয়নের বিলডুমুরতলা এলাকার বাসিন্দা।
বিএনপি নেতা হুমায়ূন মোল্যার পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাত ১টার দিকে বিকট শব্দ পেয়ে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তারা ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। আগুনে ধান, রবিশস্যসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ঘরে কোনো লোক ছিলেন না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তারা নড়াইল-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করায় বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের ঘরে পেট্রোল বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষের সমর্থক হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম টিংকু বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ষড়যন্ত্র করে আগুন দিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, আগুনের বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০ দিন আগে
নড়াইলে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত ১৪
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নড়াইল-২ আসনে সদর উপজেলার গাবতলা এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গাবতলা এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
কলস প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের সমর্থকরা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে ধানের শীষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ২ নারীসহ আমাদের ৯ জন আহত হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষের সমর্থকরা দাবি করেন, কলস প্রতীকের সমর্থকেরা আমাদের ধানের শীষের অফিস ভাঙচুর করতে আসে। আমরা বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের ৫ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, কলস সমর্থক ও ধানের শীষের সমর্থকদের মাঝে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২৩ দিন আগে
নড়াইল-১ আসনে বিএনপি, ২ আসনে জামায়াত বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ) এবং নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন। নড়াইলের দুটি আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২ টায় আসন দু'টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
ঘোষিত ফলাফলে নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১১২টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ কায়সার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। এ আসনে ১১২টি কেন্দ্রে মোট ভোট দেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার।
নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১৪৮টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের মো. মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। আসনটির ১৪৮টি কেন্দ্রে মোট ভোট দেন ২ লাখ ৫২হাজার ৭৮১ জন ভোটার।
২৪ দিন আগে
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্কুলছাত্র ফাহিম মোল্যা (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নড়াইল ও যশোর জেলার সীমান্তবর্তী অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহিম মোল্যা কালিয়া উপজেলার পেড়োলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মনিরুল মোল্যার ছেলে। খড়রিয়া এ জি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে।
ফাহিমের চাচা জাহাঙ্গীর মোল্যা বলেন, গতকাল (বুধবার) নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় ঘোড়দৌড় দেখতে যায় ফাহিম। পরে বিকেলে ঘোড়দৌড় দেখে মোটরসাইকেল চড়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিল সে। পথের মধ্যে অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা এক ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ফাহিম ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান পৌঁছে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যায় ফাহিম।
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাটি আমাদের থানার মধ্যে ঘটেনি। যেহেতু ঘটনাটি পাশের যশোর জেলায় ঘটেছে, সে কারণে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৫৩ দিন আগে
পৌষ সংক্রান্তিতে নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, দর্শনার্থীর ঢল
টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটছে গ্রামের একঝাঁক তরুণ। প্রথম পুরস্কার নেওয়ার আশায় অংশগ্রহণকারীদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। যে যেভাবে পারছে তার ঘোড়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে চলে তাদের প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার দেখা মিলেছে নড়াইল সদর উপজেলা বিছালী চাকই গ্রামে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক।
দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে একপ্রকার মেলা বসে সেখানে। বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র দোকানিরা। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে মাঠের দুই পাশে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, আমি প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জারিগান এবং আগামীকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, চাকই রুখালী গ্রামের ঘোড়দৌড় প্রায় ৪ থেকে ৫ শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। পৌষ মাসের শেষের দিন প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে রয়েছে। আমরা যতদিন এই জনপদে আছি ততদিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এটিকে আরও বড় করে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তার দৌড়ানোর যে অংশ, সেটিও আমি সংস্কার করেছি যাতে এই অঞ্চলে উৎসবটি টিকে থাকে। লাখো মানুষের পদচারণায় আমাদের উৎসব সফল হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর বিএনপি সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কাজী হাসরাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মোল্যা, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, পারভিন বেগম, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
৫৩ দিন আগে