নড়াইল
নড়াইলে টিকটকে আসক্তির জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। সুমনা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে ঢাকাতেই লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে তীব্র কলহ শুরু হয়। এর জেরে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমনা ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না বলে ওয়াদাও করেছিলেন।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট এবং পরপুরুষের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয় নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর লিমন গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান। সারা দিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজেই ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ‘আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। মূলত হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতেই মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
২ দিন আগে
নড়াইলে পুকুরে ডুবে দুই ভাই নিহত
নড়াইলে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে আবু বক্কর (৫) ও ওমর ফারুক (২) নামে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ভাটিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত দুই শিশু ভাটিয়া গ্রামের মাজেদুল শেখের ছেলে ছিল।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, সকালে নিজ বাড়ির পাশে দুই ভাই খেলাধুলা করছিল। এ সময় পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরপর বেশ কিছু সময় ধরে শিশুদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে দুই শিশুকে পানিতে ভাসতে দেখা যায়। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
৯ দিন আগে
স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীসহ নিহত ২
ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল থেকে স্বামী ইসমাইল হোসেনের মরদেহ আনতে গিয়ে কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের সংঘর্ষে স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫) ও অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেন (৩২) নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও ৪ জন আহত হন।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের বাদশার গ্যারেজ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের সদর হাসপাতালে আনা হলে তাদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত জাহানারা বেগমের বাড়ি যশোরের মাহিদিয়া গ্রামে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেন লক্ষ্মীপুরের পূর্বচককলাপোতা গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) সকালে ঢাকা থেকে নুরজাহান বেগম তার স্বামী ইসমাইল হোসেনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের বাদশার গ্যারেজ নামক স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পৌঁছালে বিপরীতদিক থেকে আসা কালনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই নুরজাহান বেগম নিহত হন।
আহত ৫ জনকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মক্তবের ইমাম গ্রেপ্তার
নড়াইলে মক্তবপড়ুয়া এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার চাকই বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে জামিল (৫৭)। উপজেলার রুখালী গ্রামের এই বাসিন্দা চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমামতি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে রাতে মসজিদেই থাকেন আমিনুল ইসলাম। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজের পরে তিনি এলাকার ছেলেমেয়েদের মসজিদের বারান্দায় মক্তবে আরবি পড়ান। ভুক্তভোগী শিশুটিসহ স্থানীয় আরও দুই মেয়ে শিশু প্রতিদিন সকালে মক্তবে তার কাছে আরবি পড়তে যায়। পড়ানোর মাঝে কোনো এক সময় তাদের যৌন নিপীড়ন করেন আমিনুল।
গত ৫ জুন আমিনুল ভুক্তভোগী শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের ভেতর ডেকে নেন। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তারা অন্য শিশুদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও এমন করা হয়েছে বলে জানায়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বিষয়টি আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে গেলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, আমিনুল রাতে শিশুদের যৌন হয়রানি করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছেন। আজ (শনিবার) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
৪১ দিন আগে
নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
নড়াইল সদর উপজেলায় আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনী আক্তার খাদিজা (২০) নামে এক গৃহবধুকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাকিব শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাকিব শেখকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রাম এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত খাদিজা খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ফুলতলা থেকে সোমবার (৪ মে) নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে সপরিবারে বেড়াতে আসেন সাকিব শেখ ও তার স্ত্রী। সাকিব মাদকাসক্ত ও কর্মবিমুখ হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তার স্বামী সাকিব। পরে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি 'দুর্ঘটনা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, হাসপাতালে নিহতের পরিবার দাবি করে, অসাবধানতাবশত বটির ওপর পড়ে গিয়ে চাঁদনী আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত এবং সাকিবের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৪৪ দিন আগে
নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও শিশু নিহত
নড়াইল শহরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানকে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১টার দিকে শহরের বরাশুলা চিত্রা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বরাশুলা এলাকার সাব্বির হোসেনসহ কয়েকজন জানান, অজ্ঞাত ওই নারী স্থানীয়দের কাছে কখন ট্রেন আসবে তা বারবার জানতে চাচ্ছিলেন। এরপর তিনি চিত্রা সেতু রেল ব্রিজের ওপর উঠে যান। পরে খবর পাই, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী ট্রেনে কাটা পড়ে ওই নারী এবং তার ছেলে সন্তান নিহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, অজ্ঞাত ওই নারী এবং তার দুই বছরের শিশু সন্তানের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
৫৪ দিন আগে
নড়াইলে তীব্র গরমে নারীর মৃত্যু
নড়াইলে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে লাভলী বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত লাভলী বেগম নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের দাউদ মোল্যার স্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) সকালে লাভলী বেগম নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ার সরদার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিয়ে ফেরার পথে সেলিম নামক এক দোকানির দোকানে আটা কিনতে যান। আটা কিনে ফেরার পথে তীব্র গরমে মাছিমদিয়া মসজিদের সামনে হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ওসমান শেখ ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
চিকিৎসকদের ধারণা, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে হিটস্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালে রয়েছে।
এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৬০ দিন আগে
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৭৩ দিন আগে
নড়াইলে জমির বিরোধে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষ্ণপদ আচার্য্য (৭৩) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষ্ণপদ আচার্য্য উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ আচার্য্যের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন— একই গ্রামের আশিকুর রহমান সুমন (৪০), আকিবুর রহমান মিলন (৩৭) ও মাহিদুল শেখ (৩৫)।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কৃষ্ণপদ আচার্য্য কালিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে পৌঁছালে সুমন, মিলন ও মাহিদুল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা তাকে মাথা, হাত ও পায়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মনসা মন্দিরের জমি ও আমার পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতিবেশী ফজর শেখ ও ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে মামলা চলছে। এ মামলার জের ধরে কাল বাজার থেকে ফেরার সময় আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে তারা। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি এই ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দোষীদের ধরতে অভিযান চলছে।
৭৪ দিন আগে
নড়াইলে সাড়ে ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার বারইপাড়া ও কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ এ তেল জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই উপজেলার ইউএনও মো. জিন্নাতুল ইসলামের নেতৃত্বে বারইপাড়া ফেরিঘাট সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুলনা থেকে আসা একটি নসিমন আটক করে ৯ ব্যারেলে ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে তেলের মালিক উপজেলার মাউলী গ্রামের পিন্টু শেখ তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক থেকে ২৮ ব্যারেলে ৫ হাজার ৬০০ লিটার তেল জব্দ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের খায়রুল শেখ বিক্রির জন্য অবৈধভাবে ট্রাকে করে এই তেল নিয়ে আসছিলেন। তেলের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকেও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা ৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল মেসার্স কালিয়া ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
৮০ দিন আগে