নড়াইল
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
১২ দিন আগে
নড়াইলে জমির বিরোধে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষ্ণপদ আচার্য্য (৭৩) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষ্ণপদ আচার্য্য উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ আচার্য্যের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন— একই গ্রামের আশিকুর রহমান সুমন (৪০), আকিবুর রহমান মিলন (৩৭) ও মাহিদুল শেখ (৩৫)।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কৃষ্ণপদ আচার্য্য কালিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে পৌঁছালে সুমন, মিলন ও মাহিদুল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা তাকে মাথা, হাত ও পায়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মনসা মন্দিরের জমি ও আমার পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতিবেশী ফজর শেখ ও ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে মামলা চলছে। এ মামলার জের ধরে কাল বাজার থেকে ফেরার সময় আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে তারা। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি এই ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দোষীদের ধরতে অভিযান চলছে।
১৩ দিন আগে
নড়াইলে সাড়ে ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার বারইপাড়া ও কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ এ তেল জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই উপজেলার ইউএনও মো. জিন্নাতুল ইসলামের নেতৃত্বে বারইপাড়া ফেরিঘাট সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুলনা থেকে আসা একটি নসিমন আটক করে ৯ ব্যারেলে ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে তেলের মালিক উপজেলার মাউলী গ্রামের পিন্টু শেখ তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক থেকে ২৮ ব্যারেলে ৫ হাজার ৬০০ লিটার তেল জব্দ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের খায়রুল শেখ বিক্রির জন্য অবৈধভাবে ট্রাকে করে এই তেল নিয়ে আসছিলেন। তেলের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকেও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা ৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল মেসার্স কালিয়া ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
১৯ দিন আগে
শেষ রক্ষা হলো না, যশোরে আটক সেই ঘাতক ট্রাকচালক
তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশন ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকের চাকায় হত্যার ঘটনার হোতা ট্রাকচালক সুজাত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬-এর একটি দল। এর আগে, বেনাপোল থেকে ট্রাকটি জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নড়াইলে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ (রবিবার) বিকেলে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে তেল না পেয়ে ট্রাকচালক সুজাতকে কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ ও তার সহকর্মী জিহাদুল মোল্যাকে পাম্পের অদূরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল সেতু এলাকায় নাহিদ ও জিহাদ মোল্যাকে ট্রাকচাকা দিয়ে পালিয়ে যান সুজাত।
ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদ উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্পটির ব্যবস্থাপক নাহিদ। তেল না পেয়ে ট্রাকচালক তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে ট্রাকচাপা দিয়ে নাহিদকে হত্যা করার হুমকি দেন সুজাত। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে নিজ গ্রামে যাচ্ছিলেন নাহিদ ও পাম্পের কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে একটু দূরে গেলে পেছন থেকে এসে সুজাত তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দর আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চালক ও ট্রাকটিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জেলার সকল পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল পাম্প মালিক সমিতি।
পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম হিটু জানান, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
২১ দিন আগে
নড়াইলে পাম্প ব্যস্থাপককে হত্যার ঘটনায় সব পাম্প বন্ধ ঘোষণা
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় পেট্রোল পাম্প ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সকল পাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়াইল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম হিটু।
তিনি বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিহাদ মোল্যা (২৭) নামের পাম্পটির এক কর্মী গুরুতর আহত হন।
ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদ সরদার উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্পটির ব্যবস্থাপক নাহিদ। তেল না পেয়ে ট্রাকচালক তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে ট্রাকচাপা দিয়ে নাহিদকে হত্যা করার হুমকি দেন সুজাত। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে নিজ গ্রামে যাচ্ছিলেন নাহিদ ও পাম্পের কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে একটু দূরে গেলে পেছন থেকে এসে সুজাত তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দর আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চালক ও ট্রাকটিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
২১ দিন আগে
নড়াইলে তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপায় ‘হত্যা’
নড়াইলে তেল না পেলে একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে এক ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৫) চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাহিদের বন্ধু জিহাদুল মোল্যাকে (২৯) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাহিদ সরদার উপজেলার তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে ছিলেন তিনি। তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে বাগবিতণ্ডার পরও ওই ট্রাকচালক পাম্পেই অবস্থান করেন। রাত ২টার দিকে ফিলিং স্টেশনের কাজ শেষ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে সহকর্মী জিহাদকে নিয়ে পাম্প থেকে বের হন নাহিদ। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গতিতে তাদের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা যায় ওই ট্রাকটিকে। পরে ওই ট্রাকের চাপায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বন্ধু জিহাদুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন নিহতের সহকর্মীরা ও স্থানীয়রা।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক তেল নিতে সদরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে আসেন। এ সময় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকচালক প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২১ দিন আগে
নড়াইলে পেট্রোল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলে পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসী মো. আকাশ মোল্যাকে (২২) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার সমাইজপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আকাশ মোল্যা (২২) নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মো. জিহাদুল মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে চা খাচ্ছিলেন আকাশ। এ সময় মাইজপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের ৪০ থেকে ৫০ জন এসে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যান।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত আকাশকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের পরের দিন মাইজপাড়া পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে হোসেনপুর গ্রামের কয়েকটি ছেলের সঙ্গে আকাশের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরেই তার ওপর হামলা করা হয়েছে।
আহত আকাশ মোল্যার বাবা মো. জিহাদুল মোল্যা বলেন, আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। ছেলেকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে যাচ্ছি। ছেলের অবস্থা ভালো না। তার শরীরে অসংখ্য ধারালো অস্ত্রের আঘাত। শুনেছি তার ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৪ দিন আগে
এক ট্রেনেই চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রুট, ট্রেন বাড়ানোর দাবি
একটি মাত্র ট্রেন দিয়ে চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রেলপথের যাত্রীসেবা। একই ট্রেন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন নামে চলাচল করায় দিনে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া যাতায়াতের সুযোগ নেই। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হয় নড়াইল জেলা। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে একটি মাত্র ট্রেন ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘জাহানাবাদ’—এই দুই নামে ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল এবং খুলনা রুটে চলাচল করছে।
‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটি সকাল ৬টায় খুলনা থেকে ছেড়ে সকাল সোয়া ৭টায় নড়াইলে পৌঁছায়। একই ট্রেন বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নামে বিকেল ৩টায় ছেড়ে নড়াইলে আসে বিকেল পৌনে ৫টায়। নড়াইল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানো যায়। তবে রাতে রাজধানীতে যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
রেলযাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘নড়াইল থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম এখন রেলপথ। কিন্তু সকাল ও বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
আরেক যাত্রী আ. আল-মারজান বলেন, ‘কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যোগাযোগের সুবিধা হয়েছে ঠিকই, তবে মাত্র একটি ট্রেন দুটি নামে চলায় আমরা পুরো সুবিধা পাচ্ছি না। নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
আমেনা বেগম বলেন, ‘রেল চালু হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। সকালে নড়াইল থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারি, আবার রাতে বাড়ি ফিরি। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে যাতায়াত আরও সহজ হবে।’
নড়াইল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চালুর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, ‘ঢাকা–নড়াইল–খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ট্রেন চালুর মাধ্যমে। তবে চাহিদা অনুযায়ী রেলসেবা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করেছে ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং বাকি ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা দিয়েছে চীন।
৩৭ দিন আগে
নড়াইলে সেহরি খাওয়ার সময় গলায় ভাত আটকে কৃষকের মৃত্যু
নড়াইলের লোহাগড়ায় সেহরি খাওয়ার সময় গলায় ভাত আটকে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের এগারোনলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
কোবাদ হোসেন কাবুল (৫৭) এগারোনলী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মৃত শেখ তসির উদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো কাবুল রোজা থাকার উদ্দেশ্যে ভোরে সেহরি (ভাত) খাচ্ছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করে তার খাদ্যনালীতে ভাত আটকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জোহরের নামাজের পর লাহুড়িয়ার তৈলক্ষণপাড়া গোরস্থান মাঠে তার জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৩৮ দিন আগে
নড়াইলে নিজের ট্রলির চাপায় চালক নিহত
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার নিচে চাপা পড়ে ইরান শেখ (২১) নামে ওই ট্রলির চালক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকার চাপাইল-কালিয়া সড়কের মূলখানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইরান শেখ কালিয়া উপজেলার জোকা গ্রামের মো. জুয়েল শেখের ছেলে। নড়াগাতী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে জোকা গ্রাম থেকে ট্রলিটি চালিয়ে কালিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন ইরান। একপর্যায়ে মুলখানা এলাকায় পৌঁছালে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রলির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইরান। খবর পেয়ে নড়াগাতী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি হেফাজতে নেয়।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৩৯ দিন আগে