নড়াইল
নড়াইলে মাদরাসার ৬ ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
নড়াইলে ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় ৬ শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাহাবুবুর রহমান (২৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মাহাবুবুর রহমান সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে নড়াইল পৌর এলাকার ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান এক ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। পরের দিন ভুক্তভোগী ছাত্রের মা ওই মাদরাসায় গেলে ভুক্তভোগী শিশু তার মাকে ঘটনা জানায়। পরে শিশুটি ও তার মা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান। এ সময় মাদরাসায় থাকা আরও ৫ শিশুকে ওই শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান পালিয়ে যান।
এরপর গতকাল (শনিবার) নড়াইল সদর থানায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর ওই দিন দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে শনিবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে
নড়াইলে ৪০ বস্তা সারসহ নছিমন জব্দ, নিলামে বিক্রি
নড়াইলের লোহাগড়ায় কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় ৪০ বস্তা সারসহ একটি নছিমন আটক করেছে স্থানীয় জনগণ। জব্দকৃত সারের আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা।
উপজেলার কালনা-লাহুড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল এলাকার ভিট বটতলা থেকে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সারবাহী নছিমনটি আটক করে স্থানীয় জনগণ।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে গাড়িটি আটক করে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। এরপর লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা ও লোহাগড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪০ বস্তা সারসহ নছিমনটি জব্দ করে। পরে ওই সার ন্যায্য মূল্যে স্থানীয়দের মাঝে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, লাহুড়িয়া বাজারের সারের সাব-ডিলার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আলিম শেখের দোকানে এই ৪০ বস্তা সার অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। এসব সার নড়াইল সদর উপজেলার ফেদি বাজার থেকে কেনা হয়েছিল।
অভিযুক্ত লাহুড়িয়া ইউনিয়নের দিননাথপাড়ার বাসিন্দা আলিম শেখ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামী দলের একজন সমর্থক। এলাকার কৃষকদের সার সংকট থাকায় এবং আমার দোকান সার শূন্য থাকায় ফেদি বাজারের ৪-৫টি দোকান থেকে ৪০ বস্তা সার কিনে একটি নছিমন গাড়িতে করে নিয়ে আসছিলাম। পথিমধ্যেই এ বিপত্তি ঘটে। ’
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সারসহ নছিমন আটক করা হয়েছে। সার পাচারের বিষয়টি তদন্তাধীন।
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘জব্দকৃত সার রাতেই উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত সারের ডিলারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৫ দিন আগে
নড়াইলে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, ৩ শিক্ষক আটক
নড়াইল শহরসংলগ্ন লস্করপুর-চাঁনমারি এলাকার মারকাযুল কোরআন মাদরাসার কিতাব বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সৈয়দ সোলাইমান ইসলামের (১৪) মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসায় নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসাটির তিন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
সোলাইমান সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরামুল ইসলামের ছেলে। সে মাদরাসাটির আবাসিক ছাত্র ছিল।
সোলাইমানের বাবা ইকরামুল ইসলাম জানান, গেল মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যায় সোলাইমান। পরদিন বেলা ১১টার দিকে মাদরাসা থেকে পরিবারের কাছে খবর দেওয়া হয়, সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
ইকরামুল ইসলামের অভিযোগ, সোলাইমানের ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার ছয় ঘণ্টা পরও আমার ছেলে সোলাইমানকে হাসপাতালে ভর্তি করেনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতেই আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
তবে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারকাযুল কোরআন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক সোলাইমানকে শারীরিক নির্যাতন করেননি। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। মাদরাসার কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেওয়া হবে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, এ ঘটনায় মাদরাসাটির তিন শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
৫ দিন আগে
ফেলে দেওয়া মাছের আঁশেই বাড়তি টাকা গুনছে নড়াইলের জেলেরা
একসময় মাছ কাটার পর আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো আঁশ। সেই আঁশই এখন নড়াইলের জেলে পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন অনেক পরিবারের সদস্য। এতে বাড়ছে পারিবারিক আয়, পাশাপাশি মাছের আঁশ বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দেওয়ায় কমছে পরিবেশদূষণও।
নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের পংকবিলা জেলেপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠান ও চিত্রা নদীর পাড়ের খোলা জায়গায় রোদে শুকানো হচ্ছে ছোটবড় বিভিন্ন মাছের আঁশ। কোথাও বাঁশের চাটাই, কোথাও পলিথিনের ওপর, আবার কোথাও পরিষ্কার মাটিতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সেগুলো। পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের কেউ আঁশ পরিষ্কার করছেন, কেউ শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকানো আঁশ উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন।
পংকবিলা জেলেপাড়ায় প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার গত পাঁচ থেকে ১৬ বছর ধরে মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। মাছের ব্যবসার পাশাপাশি আঁশ বিক্রি এখন এসব পরিবারের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, মাছের আঁশ বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ ও পোলট্রি ফিড তৈরিতে এর চাহিদা রয়েছে। দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত এসব মাছের আঁশ বিদেশের বাজারেও পাঠানো হচ্ছে। জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এর রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
পংকবিলা গ্রামের জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী টিকান্তু সরকার বলেন, ‘আগে মাছ কাটার পর আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। এখন আমরা সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করে কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে রাখি। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। এতে মাছ বিক্রির পাশাপাশি বাড়তি কিছু আয় হয়।’
অপর জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী সুপল বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি মাছের আঁশ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের আঁশ হলে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিন-চার মাস পরপর যশোর, নওয়াপাড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আঁশ কিনে নিয়ে যান।
পংকবিলা এলাকার বাসিন্দা দয়াল শিল শুভ বলেন, এলাকার অনেক জেলে পরিবার মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ করে। পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই এ কাজে যুক্ত থাকেন। আঁশ বিক্রির টাকা দিয়ে তারা সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয়ও চালাচ্ছেন।
জেলে পরিবারের কয়েকজন গৃহিনী জানান, আগে আঁশগুলো আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেগুলো আলাদা করে পরিষ্কার, শুকিয়ে জমিয়ে রাখা হয়। পরে বিক্রি করে পাওয়া টাকা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে কাজে লাগে। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নারীরাও সরাসরি আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারছেন।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের জাত ও আকার অনুযায়ী আঁশের চাহিদা ও দাম ভিন্ন হয়। বড় আকারের রুই, কাতলা, গ্রাস কার্প ও ব্ল্যাক কার্পের আঁশের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বড় মাছের আঁশ আকারে বড় হওয়ায় তা সংগ্রহ, পরিষ্কার ও শুকানোও সহজ।
নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান বলেন, মাছের আঁশ এখন আর বর্জ্য নয়, এটি মূল্যবান সম্পদ। রূপগঞ্জ মাছবাজারে পংকবিলার জেলে সম্প্রদায় মাছ রান্নার উপযোগী বা ‘রেডি টু কুক’ করার সময় আঁশ সংগ্রহ করেন। এসব আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং বিভিন্ন শিল্পে এর চাহিদা বাড়ছে।
তিনি বলেন, জেলেদের এ বিষয়ে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা এ খাতে আরও সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং এটিকে টেকসই আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারেন।
৯ দিন আগে
নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মস্থান নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু হয়েছে। নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজ সুলতান মঞ্চ চত্বরে ‘এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশ’ এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিশু অংশগ্রহণ করে। শিশুদের রঙ তুলিতে এসএম সুলতান, প্রাকৃতিক দৃশ্য, গ্রামীণ মেলা, সুলতান মেলা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে ওঠে। শিশুদের মধ্যে সুলতানের শিল্পচেতনা ও শিল্পকর্ম ছড়িয়ে দিতেই এমন আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।
সুলতান উৎসবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ছাড়াও রয়েছে শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী, সুলতানের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, এসএম সুলতান চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্রশিল্পী বিমানেষ বিশ্বাস, এসএম সুলতান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক অনাদী বৈরাগী, সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী, সহকারি কিউরেটর মেহেদী হাসান রানাসহ সুলতানপ্রেমীরা।
১১ দিন আগে
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী আজ
আজ ১০ আগস্ট, বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৩ সালের এই দিনে নড়াইলের মাছিমদিয়ায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম মেছের আলী এবং মায়ের নাম মাজু বিবি।
গ্রামীণ জীবন, কৃষক-শ্রমিক এবং তাদের পেশিশক্তিকে রং-তুলির ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন শিল্পী সুলতান। চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য পদক ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে কর্মসূচি
শিল্পী সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআন খতম, শিল্পীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি, শিশুকিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, আর্ট ক্যাম্প, চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং এসএম সুলতান সম্মাননা পদক বিতরণ।
এ বছর সুলতান সম্মাননা পদক পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, প্রিন্টমেকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ অন্যান্য অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
এসএম সুলতানের জীবন ও কর্ম
চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ডাকনাম ছিল ‘লাল মিয়া’। তার বাবা পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি ও কৃষক। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় বেশি দূর এগোতে পারেননি সুলতান। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার পর তার স্কুলজীবনের ইতি ঘটে। এরপর তিনি বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন।
তবে ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি তিনি দালানকোঠার ছবি আঁকা শুরু করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রায় তিন বছর চিত্রকলার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই তিনি বেরিয়ে পড়েন।
সুলতান পাকিস্তান, কাশ্মীর ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। ভ্রমণ ও সাধনার মাধ্যমে নিজেকে একজন বিশ্বমানের চিত্রশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলেন।
জীবদ্দশায় কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ছবির প্রদর্শনী বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে তিনি এসব দেশে বেশ কয়েকটি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দেশের ভেতরে ঢাকা ও নড়াইলে তার বিখ্যাত চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এবং ১৯৮৭ সালে গ্যোথে ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলো তার খ্যাতি ছড়িয়ে দেয়।
বিশ্বখ্যাত এই বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্মের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল গ্রামীণ জীবন ও অতিবলিষ্ঠ পেশিবহুল কৃষক সমাজ। তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে ‘চর দখল’, ‘ধান কাটা’, ‘পাট কাটা’, ‘কৃষকের সংগ্রাম’ ও ‘আমার গ্রাম’ উল্লেখযোগ্য।
চিত্রশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসএম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
২৯ দিন আগে
নড়াইলে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, এসআই আহত
নড়াইলের লোহাগড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মো. খোকন হাওলাদার নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন। এ সময় ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত এসআই খোকন হাওলাদার লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. খোকন হাওলাদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লাহুড়িয়া বাজারের শ্যামলের চায়ের দোকানে অভিযান চালায়।
এ সময় কচুবাড়িয়া গ্রামের নবির হোসেনের ছেলে হারুনের দেহ তল্লাশি করতে গেলে ওই দোকানে উপস্থিত কামাল, শ্যামল, আকিদুলসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এসআই খোকন হাওলাদারের ওপর হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে আরও ১০ থেকে ১৫ জন সেখানে এসে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে তারা ইয়াবাসহ হারুনকে সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত এসআই খোকন হাওলাদারকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২৯ দিন আগে
নড়াইলে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি
নড়াইলে অবিরাম বর্ষণ আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিস্তীর্ণ মাঠের আউশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বিলের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ আটকে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।
আবাদের এমন আকস্মিক বিনাশে শত শত কৃষক চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, এই ফসলহানিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
সরেজমিনে লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের আমাদার বিল, আন্ধারকোটা বিল ও কুচিয়াবাড়ির বিলসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ বুকসমান পানিতে তলিয়ে আছে। যেখানে এখন সোনালী ধানের সমারোহ থাকার কথা, সেখানে শোভা পাচ্ছে শাপলা, শালুক আর জলজ আগাছা। ফসলশূন্য খেতে এখন চরে বেড়াচ্ছে পাতিহাঁসের দল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, নিচু অঞ্চলের এসব জমি অধিক পানি সহনশীল স্থানীয় জাতের ‘রাতুল আউশ’ ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ জাতের ধানের গাছ দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে। বিগত বছরগুলোতে সহনীয় বৃষ্টিপাতের কারণে রাতুল ধানের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবারও চাষিরা ব্যাপক উৎসাহে আবাদ করেছিলেন। লক্ষ্মীপাশা ছাড়াও জেলার বাঁশগ্রাম, নলদি, কোটাকোল, কলাবাড়িয়া, বাঐসোনা, পহরডাঙ্গা, খাশিয়াল, মাইজপাড়া ও সেখহাটীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বিলে এই ধানের চাষ হয়েছিল।
তবে এবার জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ টানা বৃষ্টিতে বিলের নিচু জমিগুলো হঠাৎ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি সরার পথ অবরুদ্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধান গাছগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে এবং একপর্যায়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষকদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করে অবরুদ্ধ খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং নদীর সঙ্গে সংযোগকারী খালগুলো পুনঃখনন করা জরুরি।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত বলে দাবি করা হলেও কৃষকেরা তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, বিলের উপরিভাগের কিছু ধান রক্ষা পেলেও নিচু এলাকার সিংহভাগ ফসলই পচে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা।
এ বিষয়ে নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, নিচু বিল অঞ্চলের এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা বর্তমান চাষাবাদের জন্য একটি বড় হুমকি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কৃষি বিভাগ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে ভরাট ও হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে কাজ করছে।
৩১ দিন আগে
নড়াইলে ছদ্মবেশে পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার গ্রেপ্তার
নড়াইলের কালিয়ায় অভিনব কৌশলে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার আরোজ আলী শেখকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করতে কালিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা দিনভর কৃষক, ভ্যানচালক, হকার ও মুদি দোকানির ছদ্মবেশে এলাকায় অবস্থান করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গতকাল (বুধবার) দিনভর সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থেকে সন্দেহভাজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে রাত ৮টার দিকে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামে পরিকল্পিত অভিযান চালায়। এ সময় নিজ বাড়ি থেকে আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আরোজ আলীর বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় ৫টি, নড়াইল সদর থানায় ২টি, খুলনার দিঘলিয়া থানায় ১টি এবং গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১টি মামলাসহ ডাকাতি, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চুরির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ওসি মো. ইদ্রিস আলী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩৩ দিন আগে
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় ২ জন নিহত
নড়াইলে পৃথক ঘটনায় এক যুবক ও এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে লোহাগড়া উপজেলায় রহমত শেখ (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
আজ (সোমবার) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর-মল্লিকপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রহমত শেখ চর-মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল হাই শেখের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, রহমত শেখের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। রবিবার রাতে তিনি খাবার খেয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। আজ সকালে তাকে ডাকাডাকি করলেও তার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের দরজা ভেঙে জানালায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রহমতের মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের কোনো এক সময় তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, নড়াইলে কালিয়া পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ তানভীর (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিহত হয়েছে।
আজ সকাল ৮টার দিকে কালিয়া পৌর এলাকার বেন্দা গ্রামে একটি চায়ের দোকানে চা বানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তানভীর বেন্দা গ্রামের মো. আজগার শেখের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জানা গেছে, তানভীর তার বাবার চায়ের দোকানে বাবাকে সহায়তা করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক কেতলিতে চা বানাতে যায়। এ সময় কেতলিতে সমস্যা দেখা দিলে তানভীর নিজেই তা সারার চেষ্টা করে। এ সময় সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩৬ দিন আগে