নড়াইল
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্কুলছাত্র ফাহিম মোল্যা (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নড়াইল ও যশোর জেলার সীমান্তবর্তী অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহিম মোল্যা কালিয়া উপজেলার পেড়োলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মনিরুল মোল্যার ছেলে। খড়রিয়া এ জি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে।
ফাহিমের চাচা জাহাঙ্গীর মোল্যা বলেন, গতকাল (বুধবার) নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় ঘোড়দৌড় দেখতে যায় ফাহিম। পরে বিকেলে ঘোড়দৌড় দেখে মোটরসাইকেল চড়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিল সে। পথের মধ্যে অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা এক ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ফাহিম ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান পৌঁছে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যায় ফাহিম।
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাটি আমাদের থানার মধ্যে ঘটেনি। যেহেতু ঘটনাটি পাশের যশোর জেলায় ঘটেছে, সে কারণে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১২ দিন আগে
পৌষ সংক্রান্তিতে নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, দর্শনার্থীর ঢল
টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটছে গ্রামের একঝাঁক তরুণ। প্রথম পুরস্কার নেওয়ার আশায় অংশগ্রহণকারীদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। যে যেভাবে পারছে তার ঘোড়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে চলে তাদের প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার দেখা মিলেছে নড়াইল সদর উপজেলা বিছালী চাকই গ্রামে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক।
দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে একপ্রকার মেলা বসে সেখানে। বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র দোকানিরা। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে মাঠের দুই পাশে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, আমি প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জারিগান এবং আগামীকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, চাকই রুখালী গ্রামের ঘোড়দৌড় প্রায় ৪ থেকে ৫ শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। পৌষ মাসের শেষের দিন প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে রয়েছে। আমরা যতদিন এই জনপদে আছি ততদিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এটিকে আরও বড় করে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তার দৌড়ানোর যে অংশ, সেটিও আমি সংস্কার করেছি যাতে এই অঞ্চলে উৎসবটি টিকে থাকে। লাখো মানুষের পদচারণায় আমাদের উৎসব সফল হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর বিএনপি সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কাজী হাসরাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মোল্যা, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, পারভিন বেগম, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
১২ দিন আগে
নড়াইলে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪
নড়াইলের লোহাগড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত উপজেলার দিঘলিয়া ও আগ্রাহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— লোহাগড়া উপজেলার তোফায়েল মণ্ডল (২৫), মো. রাসেল বিশ্বাস (১৯), সাতক্ষীরা শ্যামনগরের ইসমাইল হোসেন ওরফে পিন্টু (৫০) এবং একই গ্রামের আমিনুর গাজী (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকার তোফায়েল মণ্ডলের বাড়িতে রাতে অভিযান চালায় ওই উপজেলার সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বসতঘরের ওয়ারড্রোব থেকে একটি চাইনিজ পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযুক্ত তোফায়েলকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার আগ্রাহাটি এলাকার ছোটন মোল্যার মাছের ঘেরে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় পিন্টুসহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘেরের বিভিন্ন স্থান থেকে ১টি এয়ারগান, ৮০০টি গুলি, মাদক, চাপাতি, দা, রামদাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দিঘলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়। পরে নিয়মিত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
১২ দিন আগে
নড়াইলে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা
নড়াইলের কালিয়ায় মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় মো. বাদল মোল্যা (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কালডাঙ্গা গ্রামে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করে ওই কিশোর। আজ (বুধবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।
বাদল কালডাঙ্গা গ্রামের মিঠু মোল্যার একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয়রা জানান, বাদল মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। তবে তার পরিবার মোটরসাইকেল কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে ছেলেটি বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করে। এরপর বাড়ি ফিরে কোনো একপর্যায়ে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস নেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে ওই ঘরে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানান, বাদল আর বেঁচে নেই।
পরে কালিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে গতকাল রাতেই মরদেহটি হেফাজতে নেয়। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পরবর্তী সময়ে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওসি ইদ্রিস আলী জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৩ দিন আগে
তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে লোকসানের আশঙ্কায় নড়াইলের মধুচাষিরা
বেশ কিছুদিন ধরেই নড়াইলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। এতে মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলায় মধু চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মধুচাষিরা জানান, দিনের বেলাতেও কুয়াশা থাকায় মৌমাছি বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে মধু সংগ্রহ বন্ধ হয়ে গেছে। উল্টো আগে থেকে সংগ্রহ করা মধু মৌমাছিরাই খেয়ে ফেলছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
সরেজমিন নড়াইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিলে গিয়ে দেখা গেছে, সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য শত শত মধুর বাক্স বসানো রয়েছে। তবে বাক্সগুলোর বাইরে মৌমাছির তেমন আনাগোনা নেই।
মধুচাষি মো. শম্পি সরদার বলেন, ‘দিনে কুয়াশা থাকায় বাক্সগুলো থেকে মৌমাছি বের হচ্ছে না। বেশি মধু সংগ্রহের জন্য রাতে কুয়াশা আর দিনে রোদ দরকার। কিন্তু এখন দিনে কুয়াশা থাকায় মধু সংগ্রহ কমে গেছে।’
আরেক খামারি মো. ইনামুল হক বলেন, ‘দিনে কুয়াশা থাকায় খামারের মৌমাছি বাক্স থেকে বের হয় না। বের হলেও খুব অল্পসংখ্যক বের হয়। এতে করে মৌমাছিরা জমিয়ে রাখা মধু খেয়ে ফেলছে। এ বছর অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে অনেক মৌমাছিও মারা যাচ্ছে।’
মধুচাষি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর মধু উৎপাদন কম হবে বলে মনে হচ্ছে। সামনে যদি আবহাওয়া অনুকূল হয়, তাহলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তা না হলে উৎপাদন আরও কমে যাবে।’
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আরিফুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মধু উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে তাঁরা আশা করছেন, এ বছর ১০ মেট্রিক টন বা তার বেশি মধু উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, মধুচাষিদের খাঁটি মধু উৎপাদনে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
খুঁড়িয়ে চলছে নড়াইলের বারুইপাড়া সেতুর কাজ, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ
নড়াইলের কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর বারুইপাড়া সেতুর নির্মাণ কাজ দেড় বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে প্রায় ৮ বছরেও তা শেষ হয়নি।
সেতুর নকশায় জটিলতায় ৬৫ কোটি টাকার সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজে দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তি চরমে, এতে ক্ষুব্ধ এ পথে চলাচলকারী লোকজন ও এলাকাবাসী। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, নকশা জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী বছর জুনের মাঝেই সেতুর অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে।
জানা গেছে, সড়ক পথে নড়াইল সদরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলাসহ, আশপাশের অন্তত তিনটি জেলার সড়ক যোগাযোগ সহজীকরণে সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালে শুরু হয় নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া-বারুইপাড়া সেতুর নির্মাণ কাজ। প্রায় ৮ বছরে কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ। সবশেষ চলতি বছরে সময় বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নদীর দুই তীরবর্তী অংশের সংযোগ সড়কসহ ১১টি স্তম্ভ এবং ১১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হলেও মধ্যবর্তী অংশের ৩টি স্তম্ভ ও ৩টি স্টিলের স্প্যান বসানোর কাজ এখনো বাকি। নকশা ত্রুটিতে নির্মাণ ব্যয় দুই গুণের বেশি বেড়েছে। একদিকে জনগণের অর্থ অপচয়, অন্যদিকে যাতায়াতে ভোগান্তি মিলেমিশে একাকার, এতেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের পিসি গার্ডার সেতুরটির নির্মাণে চুক্তিমূল্য ৬৫ কোটি টাকা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে আর নকশা জটিলতায় নির্মাণ ব্যয় ঠেকেছে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।
সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিন বাসী কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ২০১৮ সালে ৬৫ কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। বাল্কহেডের ধাক্কায় ৯ নম্বর পিলারটি দুই বার নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পর মূল অংশের ৪টি স্তম্ভ ও ৩টি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ৬১ কোটি টাকায় সড়ক বিভাগ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রথম মেয়াদের চুক্তি শেষ করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতুর বাকি অংশ নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৮৬ দশমিক ৭৩ মিটার স্টিল আর্চ স্প্যানসহ আরও দুটি স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, বেশ কিছু জটিলতায় স্টিল স্প্যান বিদেশ থেকে আনতে কিছুটা দেরি হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে দুটি স্প্যান বসানো শেষ হবে। আর মধ্যবর্তী আর্চ স্প্যানটি আমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই স্থাপন করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারব বলে আশা করি।
নকশার ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী বছর জুনের মাঝেই কাজ শেষ করে সেতু ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম।
৩৪ দিন আগে
নড়াইলে ডাকাতির সময় হত্যা, পাঁচজনের যাবজ্জীবন
নড়াইল সদর উপজেলায় ডাকাতিকালে নির্মল পোদ্দারকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শাহিন মুন্সি, আক্তারুজ্জামান বাবুল, সেলিম, নজরুল ইসলাম মৃধা ও তেজারত মোল্যা। এর মধ্যে তেজারত মোল্যা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন, অন্য চারজন পলাতক রয়েছেন।
পড়ুন: ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে গৃহশিক্ষকের যাবজ্জীবন
মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ২৪ জুন রাতে সদর উপজেলার ভওয়াখালী গ্রামে ডাকাতরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে নির্মল পোদ্দারকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পলি পোদ্দার নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ দেন। তবে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
১৪৭ দিন আগে
নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার রঘুনাথপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নবীন যুব সংঘের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুর গড়াতেই রঘুনাথপুর বিদ্যালয়ের মাঠের চারপাশে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কেউ স্কুলের বারান্দায়, কেউ বাড়ির ছাদে, আবার কেউ গাছে উঠে উপভোগ করেন এ লড়াই। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও লড়াই দেখতে ভিড় জমান।
প্রতিযোগিতায় আড়পাড়া, যাদবপুর, শোলপুর, মির্জাপর, পেড়লীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩০টি ষাঁড় অংশ নেয়।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জের কালিগঙ্গায় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত
মির্জাপুর থেকে আসা সুবুদ্ধি বিশ্বাস বলেন, আমিসহ আমাদের গ্রাম থেকে নসিমন যোগে ১৫ জন এক সঙ্গে ষাঁড়ের লড়াই দেখেছি। ষাঁড়ের লড়াই দেখার আনন্দেই আলাদা। যদি বৃষ্টি না হতো তাহলে এখানে আসা মানুষ আরও সুন্দরভাবে এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে পারত।
আয়োজকদের মতে, গ্রামবাংলার মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্যের প্রতীক এই ষাঁড়ের লড়াই। আমাদের সকলের পুরোনো এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা উচিত, যাতে করে আগামী প্রজন্ম কাছে এটি জীবন্ত থাকে। ষাঁড়ের লড়াই শুধু একটি সাধারণ খেলা নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৪৯ দিন আগে
নড়াইলে ১৪৪৩ পিস ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ১
নড়াইলের কালিয়ায় ১ হাজার ৪৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। এ সময় আবেদ মোল্যা (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার জামরিলডাঙ্গা গ্রামে অভিযানে চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও মাদক বিক্রির ১০ হাজার ৯০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আবেদ ওই গ্রামের রকি উদ্দিন মোল্লার ছেলে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিরীন আক্তার জানান, পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে আবেদ মোল্যাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আজ (মঙ্গলবার) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১৫৪ দিন আগে
নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত, আহত ৬
নড়াইলে দুই মোটরসাইকেল ও একটি ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে অপু বিশ্বাস (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ছয়জন।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে নড়াইল-খুলনা আঞ্চলিক সড়কের মির্জাপুর-সোনাডাঙ্গা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু বিশ্বাস গোবরা পার্বতী বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং গোবরা গ্রামের নাতু বিশ্বাসের ছেলে।
আহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক সাকিবকে (২০) ঢাকায়, নারায়ণ (২৮) ও সুকদেবকে (৫০) উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ও খুলনায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভ্যানচালক ও দুই যাত্রীকে স্বজনেরা খুলনায় নিয়ে গেছেন।
পড়ুন: চাঁদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সাকিব ও তার বন্ধু অপু মোটরসাইকেলে করে নড়াইল থেকে সিকিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল চালক নারায়ণ বিশ্বাস খুলনার ফুলতলা থেকে নড়াইলের দিকে ফিরছিলেন। মির্জাপুর বাজার পার হয়ে সোনাডাঙ্গা মোড়ে পৌঁছালে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলটি অপর মোটরসাইকেল ও ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সাকিবের মোটরসাইকেলের আরোহী অপু বিশ্বাস। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১৬১ দিন আগে