নড়াইল
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ২ দিনের রিমান্ডে আসামি
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির (৩৫) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে তার রিমান্ড কার্যকর হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সদর আমলী আদালতের বিচারক মারুফ হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার একমাত্র আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ (বুধবার) সকালে নড়াইল সদর থানায় আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত সোমবার উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে নিহতের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনার পরদিন (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয় জনতা।
নিহত জান্নাতি দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে, শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে ফাঁসির দাবিতে এসপি অফিসের সামনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যে নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান করেন ছাত্র-জনতা।
অপরদিকে, নড়াইল-বেনাপোল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর বিকেল ৩টায় নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা।
নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেন। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশপাশের বাড়িতে ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে অভিযুক্তের ঘরের মেঝে থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত একাই তার ঘরে থাকতেন। তিনি বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।
এ ব্যাপারে গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অপরাধীকে ধরতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের কাছে মোবাইল ফোন ছিল না। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, তাকে শনাক্ত করতে। তার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হবে। তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যত ধরনের আইনগত সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে। আশা করছি, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক ১
নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী জান্নাতুল নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে (৩৫) আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
নিহত শিশুর স্বজনরা অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি ঘরের ভেতর শিশুটিকে কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন।
ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আটক ওই ব্যক্তিকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৮ দিন আগে
পাওনা টাকা চাওয়ায় নড়াইলে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আলিনুর ফকির (৩০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলিনুর ফকির কুমড়ডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলিনুর ফকির রাতে ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই গ্রামের রাজিব শেখের কাছে পাওনা টাকা চাইলে আলিনুরের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজিব আলিনুরের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তবে অভিযুক্ত রাজিব শেখ পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০ দিন আগে
বর্ষা নামলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নড়াইলের গ্রামীণ জনপদ
তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। ২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কে কাদা আর কাদা। মাঠের ফসলও ঘরে তুলতে কষ্টের শেষ নেই এ সব গ্রামের কৃষকদের। বর্ষাকালে সব ধরনের যান চলাচল একেবারেই বন্ধ। হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে আনতে গেলে তাদের জীবন অর্ধেক শেষ। সড়কটির এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটেছেন সরকারি দপ্তরে, কিন্তু মেলেনি কোনো প্রতিকার ।
গ্রামীণ সড়কটি নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের দূর্বাজুড়ি গ্রাম থেকে সীতারামপুর অভিমুখী। রাস্তার পাশে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের গ্রামীণ এ সড়ক নির্মাণের দাবি বহু আগে থেকেই। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও রাস্তায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
দূর্বাজুড়ি গ্রামের গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের গ্রামে তিন থেকে চার বার এমপি এসেছে। এসে রাস্তা দেখে গেছে। তারা আশ্বস্ত করে যায় রাস্তা হবে, কিন্তু আর হয় না। আমাদের এক মণ ধান হাটে নিতে হলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়। তা ও তারা আসে না। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয় না। আমরা চাই আমাদের এই রাস্তা দ্রুত পাকা হোক।’
শুধু দূর্বাজুড়ি সীতারামপুরের হিজলডাঙ্গা, ইচড়বাহাসহ কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচল এ রাস্তায়। বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যায় গ্রামের রাস্তা। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে যেমন দুর্ভোগ, তেমনি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য। স্কুল - কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।
কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, ‘সমান্য বৃষ্টিতে এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়ি পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তাটি পাকা করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।’
শুধু এই দুইটি গ্রামের সড়ক না। এরকম জেলায় তিনটি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশ এখনও কাঁচা রয়ে গেছে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় ওই সব গ্রামের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা ১ হাজার ৪৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে— সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার, এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।
লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৯ কিলোমিটার, এর মধ্যে কাঁচা রয়েছে ৭৮৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ।
কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। যা মোট সড়কের ৫৮ শতাংশ ।
এছাড়া, এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডিভুক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরও ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা সড়ক নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০শতাংশ রাস্তা এখনও কাঁচা আছে। বর্তমান অর্থ বছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু রাস্তা সংস্কার করার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে, কিছু রাস্তা টেন্ডারে আছে।
নড়াইল জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। এই প্রকল্পগুলো পাস হয়ে গেলে আগামী অর্থ বছরে কাঁচা এবং পাকা রাস্তা ৫০ শতাংশে আনতে পারব বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর।
১৬ দিন আগে
নড়াইলে ‘জুলাই যোদ্ধাদের মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ
নড়াইলে জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মারার জন্য ফেসবুকে দেড় লাখ করে টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১১ জনকে উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম রানা এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাস আসায় বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পারলে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতাকর্মী।
অভিযুক্তরা হলেন— বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮), সহ-সভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), চাচই গ্রামের ইমন শিকদার (২৪), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন জমাদ্দার (২৯), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), কামেশ্বরপুর গ্রামের মো. সজীব চৌধুরী (২৬), কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) ও সদর উপজেলার সিবানন্দপুর গ্রামের জুবায়ের শেখ (২০)।
আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আসায় আওয়ামী লীগ পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থেকে তারা এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে আমরা প্রস্তুত আছি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।’
অভিযুক্ত নড়াইল পৌরসভার আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের কাউকে আমি চিনি না। তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদেরও কাউকে আমি চিনি না। তাদের মারতে কেন টাকা খরচ করতে যাব।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ দিন আগে
নড়াইলে ঘরের ওপর পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে পড়ে শিক্ষার্থী নিহত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গভীর রাতে সড়কের পাশের একটি টিনের ঘরের ওপর একটি পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে শামীমা আক্তার সেতু (১৪) নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট বোন মিতু আহত হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সেতু নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আহত মিতু স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার জানায়, নলদী গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজার মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতু রাতের খাবার খেয়ে প্রতিদিনের মতো বিছানায় শুয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক পথ ভুল করে সরু রাস্তায় চলে যায়। ট্রাকটি হাফিজার মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা তাদের টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় সেতু ও মিতু ট্রাকের পাথরের নিচে চাপা পড়ে।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পাথর সরিয়ে তাদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সেতুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিতু প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নলদী পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএসআই) আনিচুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পরপর ট্রাক ফেলে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৩ দিন আগে
‘উপকারভোগীদের তালিকা চেয়ে না পেয়ে’ নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ
নড়াইল সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে সরকারি কর্মকর্তার নিকট উপকারভোগীদের তালিকা দাবি এবং তালিকা না পেয়ে কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাঁধা ও কার্যালয়ের জিনিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৮ জুন) রাতে সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বাদী হয়ে এক যুবকের নাম উল্লেখসহ ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামি মো.জিসানুর রহমান (৩০) নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে যুবদল নেতা দাবি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মো. জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গালিগালাজ করে চলে যেতেন।
সর্বশেষ, গতকাল (রবিবার) বিকেলে জিসানুর রহমান অজ্ঞাতনামা আরও চার পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি জেলার সব সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন। এ সময় মৎস্য কর্মকর্তা তাকে জানান, এর আগে তাকে একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে কিলঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে কার্যালয়ের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টেবিলের ওপর থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর ভেঙে ফেলে জিসানুর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন তিনি। পরে অভিযুক্ত জিসানুর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জিসানুর রহমান বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রদর্শনীর উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে তথ্য না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় কার্যালয়ে থাকা এক কর্মচারী হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘স্যার, সবকিছু মোবাইলে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছেন।’ একপর্যায়ে কর্মচারীরা আমাকে মেঝেতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারপিটের সময় যে কারও হাতে লেগে তাদের কম্পিউটার ভেঙে গেছে। তারা আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা যখন আমাকে মেঝেতে ফেলে দেন, তখন আমি সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরিহিত গেঞ্জি ধরে টান দিলে গেঞ্জি ছিড়ে যায়। আমি একা কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব? কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাকে মারধর করে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
৩০ দিন আগে
নড়াইলে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর বিল থেকে হুসাইন শেখ (১৩) নামে স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন এক সাংবাদিক।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কালিয়া উপজেলার নওয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থী স্থানীয় নওয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা শাবু শেখের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) বিকেলে হুসাইন শেখ তার দুই বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি বিলে ঘুড়ি ওড়াতে যায়। একপর্যায়ে ঘুড়ির সুতা কেটে গেলে সেটির পেছনে একাই দৌড়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ফিরে না আসায় তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু তাকে খুঁজতে শুরু করে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলের একটি নির্জন স্থানে মাটির মধ্যে মাথা দেবে থাকা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পায় তারা। পরে কাছে গিয়ে পা ধরে টেনে তুললে সেটি তাদের নিখোঁজ বন্ধুর মরদেহ বলে শনাক্ত হয়।
এদিকে, আজ (রবিবার) সকালে নিহতের বাড়িতে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে নিহতের স্বজনদের বাধার সম্মুখীন হন একজন সাংবাদিক। এছাড়া নিউজের জন্য নেওয়া ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করা হয় তাকে।
স্থানীয়দের দাবি, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার বলেন, নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩১ দিন আগে
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ব্যক্তির
নড়াইলে বিয়ে বাড়ির গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় আলোকসজ্জার তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নকুল মল্লিক ওই গ্রামের মৃত সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানায়, গতকাল (শুক্রবার) নকুল মল্লিকের ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের বাড়িতে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছিল। রাত ৮টার দিকে বরযাত্রী এসে পৌঁছালে গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য যান নকুল মল্লিক। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
নড়াইলে টিকটকে আসক্তির জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। সুমনা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে ঢাকাতেই লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে তীব্র কলহ শুরু হয়। এর জেরে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমনা ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না বলে ওয়াদাও করেছিলেন।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট এবং পরপুরুষের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয় নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর লিমন গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান। সারা দিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজেই ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ‘আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। মূলত হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতেই মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৪৩ দিন আগে