পিরোজপুরের নেছারাবাদে গোপাল চন্দ্র দাস নামের এক ব্যাক্তির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার দুই বন্ধুকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)-৮। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আটক আসামিরা।
শনিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে বরিশাল নগরীর পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাট এবং পিরোজপুর সদরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদীন মাঝি রাজু।
রবিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে র্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশের সন্ধ্যা নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মাথাবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র দাসের।
র্যাব-৮ সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিন ব্যক্তি ইটভাটায় প্রবেশ করেন। পরে ভাটা থেকে তাদের মধ্য থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। ওই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন নিহত গোপাল চন্দ্র দাস এবং অপর দুজন হলেন তরিকুল ইসলাম ও আবেদীন মাঝি রাজু।
এরপর গতকাল (শনিবার) রাতে বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৮ এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে আটক করে। পরে নগরীর স্টীমার ঘাট এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত আবেদীন মাঝি রাজুকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যা করে মাথা আলাদা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে আটক আসামিরা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।