ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চান সরদার (৪২) ও তার ভাই তারা সরদার (৩৫) এবং বাবুল আকন্দ (৩৬)। তাদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া পলাতক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আকু শেখের ছেলে ছিলেন।
এ ঘটনার পরের দিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় চান সরদার, তারা সরদার ও শাহিন সরদারের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলি সেতু-সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। অন্যদিকে, আসামি চান সরদার আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার আগে ফয়সালের সঙ্গে আসামি চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান চান সরদার। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসমিরা ফয়সালকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চারজন আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে তিনি উল্লেখিত তিনজন আসামিসহ তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বাবুল আকন্দের নাম সংযুক্ত করেন। এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহতীতভাব প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।