বাগেরহাটে একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির লবণাক্ততা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত চলতি রোপা আমন ধানের বীজতলা, আউশ ধান এবং সবজির জন্য সুফল বয়ে এনেছে। বৃষ্টিপাত বাগেরহাটে কৃষির জন্য আর্শিবাদ হয়ে এসেছে।
জেলার ৬১ শতাংশ জমির মাটিতে লবণাক্ততা রয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। বৃষ্টি কমতে থাকায় সাধারণ মানুষ এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে একটানা ৪দিন বৃষ্টির পর সূর্যের দেখা মিলেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত হালকা রোদ দেখা গেছে। এরপর আবার গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ঝরতে দেখা যায়। আকাশে মাঝেমধ্যে মেঘ দেখা যাচ্ছে। ভ্যাপসা গরম অনুভুত হচ্ছে।
আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার নির্মল দাস, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা এখন রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি করছেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের বীজতলা করতে সুবিধা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন সবজির জন্যও বৃষ্টি উপকারে এসেছে। বৃষ্টি হলে তাদের ধান এবং সবিজর ভালো ফলন হয় বলে জানান তারা।
বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার রতন দাস জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভ্যানে করে স্যান্ডেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে তা বিক্রি করেন। যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়ে কষ্টে তার সংসার চলে। কিন্তু একটানা চার দিন ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে তার বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল। বিক্রি করতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসারের খরচ চালাতে তার অনেক কষ্ট হয়। আজ সকালে বৃষ্টি না থাকায় ভ্যানে করে স্যান্ডেল বিক্রি করতে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। দুপুর পর্যন্ত মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়েছে। এতেই তিনি খুশি।
বাগেরহাট শহরে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে আম বিক্রেতা ইকরাম হোসেন এবং কলা বিক্রেতা করিম শেখসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে তাদের আম ও কলা বিক্রি হয়নি। আজ দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকায় তা বিক্রি হচ্ছে।
বাগেরহাট শহরের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক আলমগীর হোসেন জানান, ইজিবাইক চালিয়ে দিনে যা আয় হয়, তা দিয়েই তাদের পাঁচজনের সংসার চলে। কিন্ত একটানা কয়েদিনের বৃষ্টিতে রাস্তায় যাত্রী কম থাকায় তার আয় অনেক কম হয়েছে। আজ সকালের দিকে বৃষ্টি না থাকায় রাস্তায় মানুষের চলচল ছিল। যাত্রী পরিবহন করে দুপুর পর্যন্ত তিনি ৪০০ টাকা আয় করেছেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বাগেরহাটের ৬১ শতাংশ জমির মাটিতে লবণাক্তা রয়েছে। একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির লবণ ধুয়ে যাচ্ছে। এতে করে রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং সবজির জন্য উপকার হচ্ছে। এই বৃষ্টিপাত বাগেরহাটে কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ হলে, পানি জমে থাকলে রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং বিভিন্ন সবজির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ দশমিক ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করেছে বলে তিনি জানান।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ক্রমান্বয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত মোংলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়। মোংলা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত বহাল রয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামি দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানান তিনি।