বাগেরহাট
বাগেরহাটে কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বৃষ্টি
বাগেরহাটে একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির লবণাক্ততা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত চলতি রোপা আমন ধানের বীজতলা, আউশ ধান এবং সবজির জন্য সুফল বয়ে এনেছে। বৃষ্টিপাত বাগেরহাটে কৃষির জন্য আর্শিবাদ হয়ে এসেছে।
জেলার ৬১ শতাংশ জমির মাটিতে লবণাক্ততা রয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। বৃষ্টি কমতে থাকায় সাধারণ মানুষ এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে একটানা ৪দিন বৃষ্টির পর সূর্যের দেখা মিলেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত হালকা রোদ দেখা গেছে। এরপর আবার গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ঝরতে দেখা যায়। আকাশে মাঝেমধ্যে মেঘ দেখা যাচ্ছে। ভ্যাপসা গরম অনুভুত হচ্ছে।
আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার নির্মল দাস, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা এখন রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি করছেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের বীজতলা করতে সুবিধা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন সবজির জন্যও বৃষ্টি উপকারে এসেছে। বৃষ্টি হলে তাদের ধান এবং সবিজর ভালো ফলন হয় বলে জানান তারা।
বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার রতন দাস জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভ্যানে করে স্যান্ডেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে তা বিক্রি করেন। যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়ে কষ্টে তার সংসার চলে। কিন্তু একটানা চার দিন ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে তার বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল। বিক্রি করতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসারের খরচ চালাতে তার অনেক কষ্ট হয়। আজ সকালে বৃষ্টি না থাকায় ভ্যানে করে স্যান্ডেল বিক্রি করতে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। দুপুর পর্যন্ত মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়েছে। এতেই তিনি খুশি।
বাগেরহাট শহরে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে আম বিক্রেতা ইকরাম হোসেন এবং কলা বিক্রেতা করিম শেখসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে তাদের আম ও কলা বিক্রি হয়নি। আজ দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকায় তা বিক্রি হচ্ছে।
বাগেরহাট শহরের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক আলমগীর হোসেন জানান, ইজিবাইক চালিয়ে দিনে যা আয় হয়, তা দিয়েই তাদের পাঁচজনের সংসার চলে। কিন্ত একটানা কয়েদিনের বৃষ্টিতে রাস্তায় যাত্রী কম থাকায় তার আয় অনেক কম হয়েছে। আজ সকালের দিকে বৃষ্টি না থাকায় রাস্তায় মানুষের চলচল ছিল। যাত্রী পরিবহন করে দুপুর পর্যন্ত তিনি ৪০০ টাকা আয় করেছেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বাগেরহাটের ৬১ শতাংশ জমির মাটিতে লবণাক্তা রয়েছে। একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির লবণ ধুয়ে যাচ্ছে। এতে করে রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং সবজির জন্য উপকার হচ্ছে। এই বৃষ্টিপাত বাগেরহাটে কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ হলে, পানি জমে থাকলে রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং বিভিন্ন সবজির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ দশমিক ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করেছে বলে তিনি জানান।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ক্রমান্বয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত মোংলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়। মোংলা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত বহাল রয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামি দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানান তিনি।
১৩ ঘণ্টা আগে
নিম্নচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে বৃষ্টি ঝরছে, দুর্ভোগে শিক্ষর্থীরা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরছে। এতে সাধারণ মানুষসহ দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৫ জুলাই) গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলেও আজ (সোমবার) ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
সকাল থেকে বৃষ্টিপাতের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের পরীক্ষার্থীরা সব চেয়ে বেশি দুভোর্গে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোংলা সমুদ্র বন্দরকে আবাহওয়া বিভাগ ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জানান, বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা ঘর থেকে বের হয়েছেন। তবে দফায় দফায় মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টিতে ভিজে কাজকর্ম করতে হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, পেটের তাগিদে তারা রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম। এতে তাদের দুর্ভোগ হচ্ছে।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ জানান, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরছে। গতকার (রবিবার) সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
খানজাহান আলী মাজারের কুমির ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম
ঐতিহাসিক বাগেরহাট হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির একমাত্র কুমিরটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি সম্বলিত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দিঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেইসঙ্গে বাগেরহাটের বাসিন্দারা হতাশ ও মর্মাহত বলে দাবি করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, শত শত বছর ধরে এই মাজার, দিঘি ও কুমির বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য সাংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ঐতিহাসিক এই নির্দশন ও কুমিরটি একনজর দেখার জন্য বাগেরহাটে আসেন। দিঘির এই কুমিরটি শুধুমাত্র একটি প্রাণী নয়, এটি বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক, মানুষের আবেগের অংশ এবং ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক।
এ সময় দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা নামে ৮ বছরের শিশু নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রশাসন চাইলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারত। দর্শনার্থীদের জন্য সুরক্ষা বেষ্টনী, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত পাহারার মাধ্যমে কুমিরটিকে দিঘিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় জনগণ, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রাতে জরুরি বৈঠক করে ঐতিহাসিক দিঘির একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সম্মেলনে বলা হয়, ঐতিহাসিক এই দিঘির কুমিরটি বাগেরহাটের মানুষের সম্পদ। এটি আমাদের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনতিবিলম্বে কুমিরটিকে পুনরায় দিঘিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কুমিরটিকে দিঘিতে ফিরিয়ে আনা না হলে নতুন করে কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয় এই সংবাদ সম্মেলনে।
৩২ দিন আগে
বাগেরহাটে ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি, দুর্ভোগে জনজীবন
বাগেরহাটে এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে শহরের ব্যস্ততম বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২ মে) দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি ঝরতে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে শহরের সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়, ফলপট্টি মেইন রোড, কাজী নজরুল ইসলাম রোডসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে হাঁটুপানি জমে আছে। জলাবদ্ধাতার কারণে মানুষ এবং রিকশা-ভ্যান, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ হাঁটু পানিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে, বাগেরহাটের বিভিন্ন নদ-নদীতে জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমিতে পাকা বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
৬৮ দিন আগে
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলার একই পরিবারের চার জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে মিতু, লামিয়া ও রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া দাকোপে মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতরা হলেন— কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের সালাম মোড়লের মেয়ে নববধু মার্জিয়া মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া (১০), তাদের দাদী মৃত শামছুউদ্দিন মোড়লের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। মিতু নাকশা আলিম মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই সেতু এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নাকশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরযাত্রী নববধু মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া, বৃদ্ধা দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মাইক্রোবাসে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি রামপাল বেলাই সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা নববধু, বর ও তাদের স্বজনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রাম নাকশাসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
১১৮ দিন আগে
খুলনা-বাগেরহাটে মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২
খুলনা, ১২ মার্চ (ইউএনবি)— বাগেরহাটের খুলনা- বাগেরহাট মহাসড়কে নৌবাহিনীর বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের গোনাইব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া নিহতদের ১০ জন একই পরিবারের সদস্য।
রামপাল রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ৮টি মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এবং বাকি মরদেহগুলো বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
আহত কয়েকজনকে খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
১১৯ দিন আগে
বাগেরহাট কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৩ ভারতীয় জেলে
বাগেরহাট জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ভারতীয় ২৩ জন জেলে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আদালতের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন। এ সময় ভারতীয় দুতাবাসের কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরপত্তা দিয়ে ভারতীয় ওইসব জেলেদের মোংলায় নিয়ে যান।
আগামী পরশু (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ড সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরার অপরাধে নৌবাহিনীর সদস্যরা গত অক্টোবর মাসে দুই দফায় ওই ২৩ জন জেলেকে আটক করেন। এর মধ্যে একটি ট্রলারসহ ১৪ জনকে এবং অপর একটি ট্রলারসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে বাগেরহাটের মোংলা থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ এবং মাছ ধরার অপরাধে সমুদ্র মৎস্য আইনে মামলা করা হয়।
পরে পুলিশ তাদের বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠালে বিচারক জেলা কারাগারে পাঠান।
বাগেরহাট জেলা কারাগারের সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশ জলসীমা থেকে আটক ভারতীয় ১৪ জেলে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ৯ জেলে ২৪ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে আসেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বাগেরহাটের আদালত থেকে ভারতীয় ওই ২৩ জেলেকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আদেশ আসে। আদেশ মোতাবেক তাদের কারগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মোস্তফা কামাল।
কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সেলিম বিশ্বাস জানান, বাগেরহাট জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আজ (মঙ্গলবার) ভারতীয় ২৩ জেলেকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আগামীকাল (বুধবার) সকালে মোংলা থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই জেলেদের নিয়ে সমুদ্র পথে রওনা হবেন। এরপর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আরও ৪৭ জন ভারতীয় জেলে দেশে ফিরে গেছেন।
১৬৩ দিন আগে
বাগেরহাটে শিশুকে হত্যার পর মায়ের ‘আত্মহত্যা’
বাগেরহাটে ৯ মাসের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে পুলিশ নিহত মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত গৃহবধূ কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২২) বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জেলা জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। হত্যার শিকার শিশু নাজিম হোসেন স্বর্ণালী ও সাদ্দাম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল।
স্বর্ণালীর পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে সাদ্দামের সাথে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। সাদ্দাম বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দাম গ্রেপ্তার হন। স্বর্ণালী তার স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তাকে মুক্ত করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
শুভ আরও জানান, স্বর্ণালী হতাশা থেকেই প্রথমে তাদের একমাত্র শিশু সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে নিজে গলায় দড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশু নাজিম এবং স্বর্ণালীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
শামীম হোসেন জানান, শিশুটিকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা এবং স্বর্ণালীর আত্মহত্যার বিষয় উদঘাটন করতে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা এবং একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
১৬৬ দিন আগে
বাংলাদেশের জলসীমায় ট্রলারসহ আটক ১৪ ভারতীয় জেলে
বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি ট্রলারসহ ১৪ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী।
গতকাল শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ওই জেলেদের মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে আনা হয়। আজ রোববার আটক জেলেদের বাগেরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বঙ্গোপসাগরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় ওই ১৪ জেলেকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার অপরাধে রাজবাড়ীতে সাড়ে তিন কোটি টাকার জাল ধ্বংস, ১৩০ জেলে দণ্ডিত
মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের অদূরে ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে ‘এফ, বি শুভযাত্রা’ নামক একটি ভারতীয় ফিশিং ট্রলার আটক করে সমুদ্রসীমায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা শহীদ আক্তার উদ্দিন।
ট্রলারটিতে ১৪ জন ভারতীয় জেলে রয়েছে। তারা বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকার করছিলেন। তাদের বাড়ি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় ট্রলারটিতে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৫০০ কেজি মাছ পাওয়া গেছে বলে জানান মোহাম্মদ জাহিদুল।
তিনি আরও জানান, ওই মাছ আদালতের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। আটক জেলেদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হবে।
২৬৩ দিন আগে
বাগেরহাটে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে কমিটির নেতাকর্মীরা বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন এবং অফিসের প্রধান ফটক ঘিরে রাখেন।
এ সময় নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। এই ঘেরাও কর্মসূচি দুপুর একটা পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্দলোনকারীরা।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিক্ষোভ-অবরোধ শনিবার পর্যন্ত স্থগিত
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি হরতাল কর্মসূচি স্থগিত করেছে। তবে কমিটির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও চলবে।
কমিটির সদস্যসচিব ও জামায়েতে ইসলামী বাংলাদশের জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেন, ‘আমরা হরতাল বাতিল করেছি, যাতে দুর্গাপূজা ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হয়। উচ্চ আদালত ১০ দিনের রুল জারি করেছেন, আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী। চারটি আসন ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসনকে কমিয়ে তিনটি করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকেই বাগেরহাটবাসী আন্দোলন শুরু করেন। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটবাসী।
তা সত্ত্বেও ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে, যা জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করেছে বলে কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, নতুন আসনবিন্যাস হলো— বাগেরহাট-১: (বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২: (ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা), বাগেরহাট-৩: (কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে আসনবিন্যাস ছিল— বাগেরহাট-১: (চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট), বাগেরহাট-২: (বাগেরহাট সদর, কচুয়া), বাগেরহাট-৩: (রামপাল, মোংলা), বাগেরহাট-৪: (মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)।
২৯৫ দিন আগে