রংপুরে শিক্ষার্থী নুজশাত জাহানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত মেডিকেলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (২৮ জুন) সকালে কারাগার থেকে সাকিনকে আদালতে নেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইনের কাছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রফিক সাকিনের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে, সাকিনের আইনজীবিরা তার জামিনের আবেদন করেন। এ সময় আদালতের কাছে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করলে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকোচ করে আগামী ৩ দিনের যেকোনো এক দিন রিমান্ডে নিয়ে সাকিনকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন বলেন, মামলার উপাদান ও মোবাইলের তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা তা আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত আজ সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ জুন সাকিন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নুজশাতকে মোবাইলে ফোন করে দীর্ঘ ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলেন। গত তিন মাসে ১১৮ বার তাদের মোবাইল ফোনে কথা হয় এবং মেসেজ আদান-প্রদান করা হয়। গভীর রাতে এত দীর্ঘক্ষণ কোনো ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কথা হতে পারে না।
বিবাদীর আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল বলেন, ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা করার জন্য এজাহারে যে উপাদান থাকতে হয়, তার কিছুই নেই। পুলিশের কাছে দুটি মোবাইল ফোনই ছিল। তারা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে সকল ধরনের তথ্য বের করতে পারবে। এর জন্য রিমান্ডের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। আমরা সাকিনের জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত যেহেতু একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, তাই আমাদের আবেদন নাকোচ করেছে। রিমান্ড শেষে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন বিকেলে নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান। এ ঘটনায় পরের দিন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় ওই দিনই অভিযুক্ত রংপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ও নুজশাতের প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।