জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মাত্র দুই বছরে রংপুরে ৪ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার জনকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়নও করা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন মাত্র চার মাস করে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার ও পদায়নে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যোগদানের মাত্র চার মাসের মধ্যেই মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করায় এ ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানকে ওই বছরের ২০ আগস্ট প্রত্যাহার করে মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এরপর ১ বছর ২ মাসের ব্যবধানে তাকে প্রত্যাহার করে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এনামুল আহসানকে পদায়ন করা হয়। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাকেও মাত্র চার মাস ২০ দিনের মাথায় পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। মোহাম্মদ রুহুল আমিনকেও চার মাস ১৩ দিনের মাথায় পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল যোগদান করেছিলেন।
তার স্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজ ইশরাত জাহানকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পদায়ন করা হয়। দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-২ শাখা থেকে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারপূর্বক পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, অল্প সময়ের মধ্যেই রংপুরবাসীর কাছে জনপ্রিয় ও দক্ষ প্রশাসক হয়ে ওঠেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তাকে হঠাৎ করে প্রত্যাহার করায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মোহাম্মদ রুহুল আমিন রংপুরে যোগদানের পর থেকেই জনকল্যাণমূলক নানা পদক্ষেপ, প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত রংপুরবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরনের বদলি বা ওএসডি করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।
এ বিষয়ে জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু জানান, ‘অল্প সময়ের ব্যবধানে রংপুরের কয়েকজন জেলা প্রশাসক পরিবর্তন করা হলো যা রংপুরবাসীর একজন হিসেবে মোটেই সমর্থন করি না। কেননা ঘন ঘন জেলা প্রশাসক পরিবর্তন হলে রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়। একজন জেলা প্রশাসক যোগদান করে ‘সেটেল’ হতেই কয়েক মাস সময় লাগে। অথচ তার আগেই আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে রংপুরবাসী সেবা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি উন্নয়নের জন্যও বিষয়টি অন্তরায়। তাই আগামী দিনে জেলা প্রশাসক যোগদান করবেন কিংবা আগামীতে যারা আসবেন জেলা প্রশাসক হিসেবে, অবশ্যই তাদের কাজ করার জন্য দুই-এক বছর সময় দেওয়া দরকার বলে মনে করি।’