রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকাও লুট করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বাহির চর দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার রমজান শেখ (৪০) ও তার ভাই জয়নাল শেখ (৩৭), একই এলাকার মো. আমিন ম-লকে (৩৭) এবং চিহ্নিত এবং অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে করে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চান্দু মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত রমজান শেখ পেশায় একজন জেলে। আমি যেহেতু আমার আড়তঘরে প্রতিনিয়ত মাছ বেচাকেনা করে থাকি, তাই গতকাল দুপুর ১টার দিকে রমজান শেখ আমার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি চলে গেলে আমিও বাড়ি চলে যাই।
তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আমার খালাতো ভাই মমিন (৩৬) ও ভাগিনা শাহাদৎ বেপারী (৩৬) ব্যবসা দেখাশোনা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে রমজান তার ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন ও অজ্ঞাত কয়েকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার আড়তে হামলা চালিয়ে মমিনকে মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে তাকে আহত করেন। ঠেকাতে গেলে ভাগ্নে শাহাদৎকেও মারধর করে আহত করেন তারা।
পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মমিন ও শাহাদৎকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
চান্দু মোল্লার দাবি, একটি পক্ষ তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়তঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আড়তের কর্কশিট বাক্সে রাখা ব্যবসার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে রমজান শেখ বা অন্য অভিযক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম আজ (শনিবার) দুপুরে বলেন, সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।