লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন উঠতি ফসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে, উড়ে গেছে বেড়া ও ছাউনি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে অনেক ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ভিজে যায় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাতাসে উড়ে গিয়ে ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং অনেক এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে।
ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, তামাক, বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরের টিন উড়ে গিয়ে দূরের মাঠ ও গাছের ডালে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মোচা আসা ভুট্টা গাছ মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এসব খেতের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফসলের ক্ষতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
এছাড়া ঝড়ে গাছ পড়ে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও সদর উপজেলার হারাটি ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং তিস্তাচরাঞ্চলের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
ভোটমারী এলাকার চাষি তমিজ উদ্দিন বলেন, চড়া দামে সার, বীজ ও সেচ দিয়ে তিন বিঘা জমিতে করা ভুট্টা খেত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মোচা আসা গাছ পড়ে গেলে আর ফলন হবে না। ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। ঘরের টিনও পাথরের আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে।
তামাকচাষি শাহ আলম বলেন, তামাক পাতা ভেঙে শুকাতে দেওয়া ছিল। শিলাবৃষ্টির আঘাতে খেতে থাকা ও শুকাতে দেওয়া সব তামাক পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে তামাকের গুণগত মান ও ওজন কমে যাবে, ফলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরের টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। প্রায় একশ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।