লালমনিরহাট
লালমনিরহাটে ব্রডগেজ লাইন ও তিস্তা সেতুর মহাপরিকল্পনা রয়েছে: রেলওয়ে মহাপরিচালক
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে জেলার রেলওয়ে বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও ঐতিহাসিক তিস্তা রেলসেতু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ পরিকল্পনার কথা জানান রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেন, লালমনিরহাট বিভাগে বর্তমানে মিটারগেজ রেললাইনের আধিক্য বেশি। রেল সেবাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে পার্বতীপুর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন স্থাপন করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
তিস্তা রেলসেতুটি নিয়ে আফজাল হোসেন জানান, সেতুটির আয়ুষ্কাল ২৫ বছর আগেই পার হলেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এটি এখনো সচল রাখা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে। তবে ব্রডগেজ লাইন স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে, বর্তমান সেতুর স্থলে একটি আধুনিক নতুন রেলসেতু নির্মাণের বিষয়টিও সেই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রেলওয়ে মহাপরিচালক তিস্তা রেলসেতুর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও মালামাল চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি কঠোরভাবে মনে করিয়ে দেন যে, রেলওয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা শুধু রেল কর্তৃপক্ষের কাজ নয়, বরং আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা, বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান হাবিব, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
১ দিন আগে
প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনেই লালমনিরহাটে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীতে চলছে সড়ক নির্মাণ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানহীন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে নামুড়ীহাট পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মিটার সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের বেস (পাথর ও পিচ ঢালাইয়ের আগে ইটের খোয়া ও সুরকি দিয়ে তৈরি ভিত্তি) নির্মাণে নম্বরবিহীন ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা একাধিকবার বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। আর এ কাজে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় নামুড়ীহাট থেকে দুহুলী বাজার পর্যন্ত ৯০০ মিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শান ট্রেডার্স। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ৭৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৯০ টাকা। কাজ শুরু হয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর এবং নির্ধারিত সমাপ্তির সম্ভাব্য তারিখ এ বছরের ৩১ মার্চ।
৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে ইউপি সদস্যসহ আ.লীগের ৬১ জনের বিএনপিতে যোগদান
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ ৬১ জন বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আদিতমারী–কালিগঞ্জ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুলের বাসভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিএনপিতে যোগ দেন।
এ সময় নবাগত সদস্যরা ফুলের তোড়া দিয়ে রোকন উদ্দিন বাবুলকে শুভেচ্ছা জানান এবং এক গুচ্ছ ধানের শীষ তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।
বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আদিতমারী ও কালিগঞ্জ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। উন্নয়নের নামে হয়েছে লুটপাট, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি, যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। আজ আপনাদের পাশে পেয়ে আমি গর্বিত ও অনুপ্রাণিত বোধ করছি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
লালমনিরহাটে বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির, হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন
লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত, বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির। শীত ও ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। এতে স্কুলগামী শিশু ও কর্মজীবী মানুষদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, লালমনিরহাটে আজ (রবিবার) সকালে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিদিনই শীতের সঙ্গে কুয়াশা বাড়ছে। এখন ঠান্ডা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে শীতের এই প্রবণতা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
২১ দিন আগে
সাত দিন সূর্যের দেখা নেই, লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় শীত জেঁকে বসেছে। গত ৭ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। শীতের দাপটে প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও আজ সূর্যের দেখা মেলেনি।
রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সামনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঠান্ডা ও কুয়াশার মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
২৬ দিন আগে
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জবুথবু লালমনিরহাট
শীতের ঠ্যালায় ঘর থাকি বাইরা বের হওয়া যায় না। বাইরা বের হইলে বাতাস গাত ফোরে ফোরে সোন্দায় (বাতাস গায়ের ভেতর ছুঁচের মত ফুঁড়ে যায়)।
কথাগুলো বলছিলেন লালমনিহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের চর ইচলি গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী আরিফ নামের এক কৃষক। কথা বলার সময় কাঁপতে থাকা দুই হাত ঘষে শরীরে একটু উষ্ণতা ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় লালমনিরহাটের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানিয়েছেন।
উত্তরের হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের গ্রাম থেকে শহর সবখানে। এর মধ্যে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা তিস্তা নদীর চরে শীত আরও নির্দয়। খোলা প্রান্তর, নদীর হাওয়া আর কুয়াশার ভেজা ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন। টানা তিন দিন সূর্যের দেখা নেই। রাতে কুয়াশা ঝরছে বৃষ্টির মতো।
সূর্যের আলোর বদলে লালমনিরহাটে সকাল হয় ধূসর কুয়াশায় ঢেকে। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া ঠান্ডা হাওয়া ঘুম ভাঙিয়ে দেয় আগেই। উঠোনের ভেজা মাটি আর কনকনে বাতাসে মনে হয় যেন পুরো জনপদ থমকে আছে। এই বৈরী আবহাওয়ার ভেতরই প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার জন্য লড়াই করেন লালমনিরহাটের মানুষ। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল আর প্রান্তিক গ্রামগুলোতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ।
২৯ দিন আগে
শীত ও কুয়াশায় বিপর্যস্ত লালমনিরহাট, চরম দুর্ভোগে জনজীবন
কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের জীবন। ভোর হতেই জেলা সদরসহ পাঁচটি উপজেলাজুড়ে কুয়াশার ঘনত্ব কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। রাস্তা, মাঠ ও বসতবাড়ি ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীত এখানে শুধু একটি ঋতু নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য টিকে থাকার কঠিন এক সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন তিস্তা নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও খোলা প্রান্তরের বাসিন্দারা। টিনের চালাঘর, ফাঁকা দেওয়াল আর কয়েক টুকরো পুরোনো কাপড়ই তাদের শীত নিবারণের একমাত্র সম্বল। গভীর রাতে কুয়াশা শিশিরের মতো নয়, বরং বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে এখানে। এতে ভিজে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও কাপড়চোপড়; বেড়ে যাচ্ছে শীতের তীব্রতা।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, এত ঠান্ডায় হাত-পা শক্ত হইয়া যায়। রাইতে ঠিকমতো ঘুম আইসে না। নদীপাড়ের মানুষ, বড় কষ্টে আছি। আর খুব বেশি বাতাস আইছে বাহে।
জেলা সদর, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, আদিতমারী, কালীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে সকাল থেকেই কুয়াশার কারণে চারপাশের তেমন কিছুই দেখা যায় না। দিনের বেলায়ও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ভোরে কাজে বের হওয়া দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
আদিতমারী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার অটোরিকশাচালক সামছুল হক (৫৭) বলেন, শীতে শরীর নড়ে না, তাও সকাল হইলেই গাড়ি নিয়ে বাহির হইতে হয়। কাজ না করলে খাবার জুটে না।
শীতের সঙ্গে সঙ্গে রোগবালাইও বাড়ছে জেলাজুড়ে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে দরিদ্র পরিবারের অনেকেরই প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই।
আদিতমারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আজমল বলেন, শীতে স্বাস্থ্যের পরিচর্যায় শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
৩২ দিন আগে
লালমনিরহাট হানাদারমুক্ত দিবস আজ
আজ ৬ ডিসেম্বর, হানাদারমুক্ত দিবস পালন করছে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে লালমনিরহাট থেকে পালিয়ে যায়। এর মাধ্যমে মুক্ত হয় পুরো জেলা।
মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ৩ মার্চ পাকসেনারা সড়কপথে লালমনিরহাট দখল করে। দখলের পর বিহারী, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় দখলদাররা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এসব নৃশংসতার সাক্ষী হয়ে আছে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বহু গণকবর।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন জানান, পাকিস্তানি বাহিনী হেলিকপ্টারযোগে লালমনিরহাটে পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ ওসি মীর মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে বহু পাক সেনা ও অবাঙালি সহযোগী নিহত হয়। প্রতিশোধ নিতে দখলদাররা বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে হামলা শুরু করে; হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতন চালায়।
তিনি জানান, মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের যৌথ ত্রিমুখী আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৬ ডিসেম্বর ভোরে তারা রাজাকার ও আলবদরদের নিয়ে লালমনিরহাট রেলস্টেশন থেকে দুটি বিশেষ ট্রেনে রংপুর ও সৈয়দপুরের দিকে পালিয়ে যায়। তিস্তা নদী পার হওয়ার পর ফেরার পথে তারা তিস্তা রেলসেতুতে বোমা বর্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৫০ দিন আগে
লালমনিরহাটে ডাকবাক্স হয়ে উঠছে গল্প, যোগাযোগে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া
একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। সুখ-দুঃখের খোঁজখবর থেকে শুরু করে প্রেম-ভালোবাসার বার্তা, সামাজিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো সংবাদ—সবই পৌঁছাত ডাকপিয়নের ঝুলিতে থাকা সেই চিঠির মাধ্যমে। আর চিঠি আদান-প্রদানের ভরসা ছিল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লাল রঙের ডাকবাক্স। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে সেই লাল ডাকবাক্স ক্রমেই কেবল অতীতের গল্প হয়ে উঠছে।
কালের পরিক্রমায় প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ডাকবাক্স এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। যোগাযোগে ডাকবাক্সের জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
এসব মাধ্যম মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দ্রুততা এনেছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ফলে চিঠির কাগজে লেখা আবেগ ও সম্পর্কের অনন্য সৌরভ আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে একসময় ডাকবাক্স ছিল যোগাযোগের শেষ ভরসা। পরিবারের কিশোর সদস্যদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা লেগে যেত—কে আগে গিয়ে চিঠি ফেলবে, সেই নিয়ে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা অফিস-আদালতের প্রয়োজনীয় সংবাদ—সবই যেত ডাকবাক্সের মাধ্যমে।
কিন্তু আজ এসব ডাকবাক্স ব্যবহার না হওয়ায় পড়ে আছে অবহেলায়। কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও আবার মরিচায় ক্ষয়ে গেছে লাল রঙ।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে একটি খাল খননে ফিরেছে কৃষকের ভাগ্য, বদলে গেছে ২৫ হাজার একর জমির চিত্র
আদিতমারী উপজেলা ডাকঘর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শাখা অফিসগুলোতে একসময় প্রতিদিন নিয়মিত খোলা হতো ডাকবাক্স। বর্তমানে আর প্রতিদিন খোলার প্রয়োজন পড়ে না। চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় ডাকবাক্সগুলো দিন দিন অচল হয়ে পড়ছে।
লালমনিরহাট জেলা পোস্টমাস্টার নূরনবী বলেন, এই জেলায় ৮১টি পোস্ট অফিস রয়েছে। ডাকবাক্সগুলো নিয়মিত খোলা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তবে আগের মতো আর কেউ চিঠি ফেলে না। উপজেলা ও শাখা পর্যায়ের ডাকবাক্সগুলোতে ব্যক্তিগত চিঠি এখন খুব কমই পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ডাকবীমা কার্যক্রম ও অফিস-আদালতের চিঠিপত্র ছাড়া ব্যক্তিগত চিঠি নেই বললেই চলে।
একসময় সম্পর্কের মায়াজাল আর আবেগের প্রতীক ছিল ডাকবাক্স। প্রযুক্তির যুগে সেই স্মৃতিময় যোগাযোগ মাধ্যম আজ কেবল অতীতের গল্প হয়ে যাচ্ছে।
১০৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ, প্রস্তুত ৪৬৮ মণ্ডপ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে লালমনিরহাটে বইছে উৎসবের আমেজ। শহর থেকে গ্রাম—প্রতিটি স্থানেই চলছে জমজমাট প্রস্তুতি। জেলার বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলোতে এখন চোখে পড়ছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। যা ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে।
এ উপলক্ষে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লালমনিরহাট শহরের মার্কেটগুলোতে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। নারীদের শাড়ি, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাক, পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট-পাঞ্জাবি, কসমেটিকস, গহনা ও ঘর সাজানোর সামগ্রী কেনার হিড়িক পড়েছে। ঋতুভিত্তিক ছাড় (সিজনাল ডিসকাউন্ট) ও ক্যাশব্যাক সুবিধার কারণে বিক্রি বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাহান শপিং কমপ্লেক্স, পাটোয়ারী শপিং কমপ্লেক্স, পৌর শপিং কমপ্লেক্স, ফ্যাশন পার্ক, চয়েস ফ্যাশন, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, একতা বস্ত্রালয়, সিটি গার্মেন্টস, আড়ং ফেব্রিক্স ও দুলাল গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্জির দোকানগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।
শহরের বাটা মোড়ে কেনাকাটা করতে আসা তিলোত্তমা চক্রবর্তী বলেন, বাবার জন্য ২ হাজার টাকায় জামা-প্যান্ট, দাদুর জন্য ৮০০ টাকায় ফতুয়া কিনেছি। মায়ের জন্য শাড়ি ও বোনের জন্য পোশাক কিনতে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি।
আরও পড়ুন: চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়ে গেল চাঁদপুরের শতবর্ষী দাতব্য চিকিৎসালয়
বিক্রেতারা জানান, চাহিদা অনুযায়ী পোশাক আনার ফলে বিক্রি ভালো হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ভিড় বেড়ে যায়।
প্রশাসনের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় মোট ৪৬৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৪টি, কালীগঞ্জে ৯১টি, হাতীবান্ধায় ৭২টি এবং পাটগ্রামে ২৯টি মণ্ডপে পূজা হবে।
শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। বড়বাড়ী বাজারের শিবকালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় আনন্দঘন পরিবেশে পূজার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট লালমনিরহাট সদর উপজেলার আহ্বায়ক হিরালাল রায় বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে লালমনিরহাটে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের যে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের গর্বের বিষয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ধারা অটুট রেখে আনন্দ ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব উদযাপন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ উৎসবের সোনালি দিন
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট লালমনিরহাট সদর উপজেলার সদস্য সচিব ধনঞ্জয় কুমার রায় বলেন, লালমনিরহাটে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর মতো ধর্মনিরপেক্ষ নেতা থাকায় আমাদের বিশ্বাস, দুর্গাপূজার মতো বড় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। তার আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রশাসনের প্রস্তুতি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই সুন্দর ধারা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে, পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো চেষ্টাই সফল হবে না। পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আমাদের নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করবে।
১২৪ দিন আগে