লালমনিরহাট
হাতীবান্ধায় অটোরিকশা চাপা দিয়ে শোরুমে ঢুকল ট্রাক, নিহত ২
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও তিনজন পথচারী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: উপজেলার শিংগিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০) ও একই উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে জহুরুল হক (৪৮)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলার বড়খাতা এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত একটি অটোরিকশা হাতীবান্ধা সদরে যাচ্ছিল। রিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌছলে বিপরীত দিক লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। এ সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি মোটরসাইকেল শোরুমে ঢুকে পড়ে। ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত ও তিনজন পথচারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং, লালমনিরহাটে তাপদাহ ও অনিদ্রায় বিপর্যস্ত জনজীবন
লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র ঘুমহীনতায় ভুগছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ফলে সকালে ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুরেরা, যা তাদের ঠেলে দিচ্ছে চরম আর্থিক সংকটে।
পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, সকালের পর থেকেই শুরু হয় ঘন ঘন লোডশেডিং, যা চলে পরদিন ভোর পর্যন্ত। ভ্যাপসা গরম আর মশার উপদ্রবে সারা রাত ছটফট করে কাটাতে হয় শ্রমজীবীদের। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে সকালে ভারী কাজে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে তাদের জন্য।
উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। সকালে চোখ খোলাই যায় না, শরীর এত দুর্বল লাগে যে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। একদিন কাজ না করলে ঘরে চাল ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও অটোচালকদের ওপরও। সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় যানবাহনের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না।
লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার মুমিনের গ্যারেজ সড়কের অটোচালক সাইদুর রহমান বলেন, রাতে কারেন্ট না থাকায় গাড়ি ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যায় না। অর্ধেক চার্জ নিয়ে রাস্তায় নেমে মাঝপথেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে দৈনন্দিন আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, সংসার চালানোই এখন দায়।
একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। লালমনিরহাট গোসলা বাজারের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়ছি। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় কাস্টমারও দোকানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে চায় না।
এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উত্তর বাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জানান, রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না। বর্তমানে ইয়ারচেঞ্জ পরীক্ষা চলায় এই বিদ্যুৎ সংকট তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুহুলী এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, সামনে তাদের নির্বাচনি পরীক্ষা, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নিতে চরম সমস্যা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ নেসকো (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাট কালীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, অথচ তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণেই এই লোডশেডিং হচ্ছে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বাড়লে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
চরম ভোগান্তিতে পড়া নিম্নআয়ের ও সাধারণ মানুষের আকুল দাবি, অন্তত রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে তাদের স্বাভাবিক ঘুম, পড়ালেখা ও জীবিকা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হোক।
২ দিন আগে
উজানের ঢলে ফের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে।
নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে তবে বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদনদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার আরও ওপরে উঠতে পারে এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১০ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিদ্যালয়ে ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। এমন অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষকের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২ আগস্ট) থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তঘেরা দহগ্রাম ইউনিয়ন। দেশের উত্তরের আলোচিত এই জনপদে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডর। ওই ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টিকে ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র ৭ জন শিক্ষক সরকারিকরণের আওতায় আসেন। পরবর্তীতে একে একে ৬ জন শিক্ষক অবসরে চলে যাওয়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ।
১২ দিন আগে
লালমনিরহাটে বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে সবজির বাজারে আগুন
টানা বৃষ্টি ও দফায় দফায় বন্যার প্রভাবে লালমনিরহাটে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ফলে হাতে গোনা দুয়েকটি সবজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজিই এখন ৭০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) আদিতমারী স্টেশন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে বেগুন ও বরবটির দাম ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা কেজি।
শসার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পটল ও ঢেঁড়শ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম, কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষকেরা খেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। অনেক জমিতে পানি জমে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু এলাকায় বন্যার পানিতে সবজির খেত তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বেড়েছে সবজির দাম।
তুষভান্ডার বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন সাদিকুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগের তুলনায় প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) সবজিতে অন্তত ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। তাই আমাদেরও খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
আদিতমারী স্টেশন বাজারে সবজি কিনতে আসা আরজিনা খাতুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সবজির এত দাম হলে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।
পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চাষিরা ঠিকমতো সবজি তুলতে পারছেন না। অনেক খেত পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার অনেক সবজি পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণেই সবজির দাম বেড়েছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, বাজার মনিটরিং করা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব নয়। এ কাজের জন্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রয়েছে, তারাই মূলত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া। তবে বাজার পরিস্থিতিরও আমরা খোঁজখবর রাখি।
তিনি আরও বলেন, বাজারে পণ্যের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে সরবরাহ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে এর প্রভাব বাজারে পড়েছে।
১৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ, ছুরিকাঘাত ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) তিন আসামির প্রত্যেককে পৃথকভাবে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার সবুজ মিয়া, একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংয়ের (৩৬) ট্রাকটি বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাক উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
পরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরবর্তী সময়ে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ (অপহরণ) ও ৩৯৪ (আঘাত করে ছিনতাই) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা নিন্দনীয়। এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
১৯ দিন আগে
বলাৎকারের অভিযোগে লালমনিরহাটে মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামি করে আদিতমারী থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম ভেলাবাড়ী নামুড়ীরপাড় এলাকার মাদরাসাতু তাহফিযীল কুরআন ওদ্দীনিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের ওই শিক্ষার্থী আবাসিকভাবে মাদরাসায় থাকত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদরাসার শিক্ষক মো. শাহজালাল হক (২৩) শিশুটিকে মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে নিজের কক্ষে ডাকেন। সেখানে তিনি জোরপূর্বক শিশুটিকে বলাৎকার করেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান।
পরদিন সকালে শিশুটি বাড়িতে ফিরে অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানালে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় গেলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। সে সময় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি ছুটিতে বাড়িতে গেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৪ জুলাই রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় ফিরে এলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করলে চিকিৎসা দিয়ে আদিতমারী থানায় নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ দিন আগে
তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবনের শঙ্কায় নিম্নাঞ্চল
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের সবকটি প্রয়োজনীয় জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে লালমনিরহাট সদর আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
২৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে সড়ক খুড়ে লাপাত্তা ঠিকাদার, জনদুর্ভোগে স্থানীয়রা
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে পাঁচ মাস ধরে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা চিঠি দিয়েও তাদের কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, ভাদাই ও পলাশী ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক মহিষখোচা-বুড়িরহাট জেসি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে যায়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় কাজ পায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভোলার চওড়া এলাকার মেসার্স শাকিল ট্রেডার্স।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নিয়মানুযায়ী দরপত্র শেষে গত ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু করে ২৬ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সড়ক খুঁড়ে, কিছু গাইডওয়াল নির্মাণ করে এবং প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্নের পর প্রথম বিল হিসেবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরপর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে বর্ষার বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও এলজিইডির সুনাম রক্ষায় একাধিকবার চিঠি দিয়েও কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ শতাংশ লাভে কাজটি কিনে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিনুর ইসলামের ভাই আলম কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ওই লাভের হিসাব ধরে কাজ করলে লোকসান হবে বুঝতে পেরে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। এ কারণে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও এলজিইডির কোনো চিঠির জবাব দিচ্ছে না। ফলে কাজটি বাস্তবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত সড়কটির সংস্কার শেষ করা হোক।
স্থানীয় স্কুলছাত্রী সোনিয়া সুলতানা বলেন, ‘প্রতিদিন অটোরিকশায় এ পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অটোরিকশায় উঠলেই ভয় লাগে। অটোরিকশা শুধু কাঁপে; কখন যে গর্তে পড়ে হাত পা ভেঙে যায়, সেই আশঙ্কায় থাকি।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শাওন বলেন, তিন-চার বছর ধরে ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করেছি। দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শুরুর পরই ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এখন আগের চেয়েও কয়েকগুণ দুর্ভোগ বেড়েছে। এখন মনে হয়, আগের খানাখন্দরই ভালো ছিল, মাঝে মধ্যে গর্ত থাকলেও কিছু স্থান ভাল ছিল; এখন পুরো পথেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবি করেন তিনি।
মহিষখোচার ব্যবসায়ী গোলাম কবির বলেন, সড়কটি খুড়ে রাখায় ৫ মাস ধরে বড় ট্রাক ঢুকছে না। ফলে ছোট ট্রাকে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। একটি সড়ক সংস্কার করতে যদি ৬ মাস সময় লাগে। তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য করব কীভাবে?
অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আবার কাজ শুরু করা হবে।’
আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়েছি কাজ সমাপ্ত করার জন্য, কিন্তু তারা সাড়া দিচ্ছে না। কাজটি দ্রুত সমাপ্ত করতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ওই ঠিকাদারকে অফিসে ডেকে এনে চাপ প্রয়োগ করেছি। তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু করে দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুতই মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
২৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নদীভাঙনের আশঙ্কা
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। গতকাল রাত ১০টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রাতভর ধীরে ধীরে পানি কমলেও বন্যার ক্ষত তেমন কোথাও দেখা যায়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি নেমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা এবং কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অন্তত হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে এখনও পানি রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গতরা।
এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলে ভাঙনের তীব্রতায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। যদি আবারও পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদীতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা নদীভাঙনের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩২ দিন আগে