লালমনিরহাট
লালমনিরহাটে কৃষকের ‘সোনালি আঁশের’ স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন
লালমনিরহাটে চলতি মৌসুমে পাটের আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা। ফলন ও দাম—দুই দিক থেকেই ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন জেলার পাটচাষিরা।
কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের দাম না পেলে গত কয়েক বছরের মতো এবারও লোকসান গুনতে হবে। এতে আগামী মৌসুমে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
জেলার আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও গ্রামে এবার ব্যাপকভাবে পাটের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর চরাঞ্চলের অনাবাদি ও বন্যাপ্রবণ জমিতে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। ধানসহ অন্যান্য ফসল ভালো হয় না—এমন জমিতেও এবার পাট চাষ করেছেন কৃষকেরা।
তবে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এখন ভালো দাম পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাট কাটার পর তা ডোবা, নালা, পুকুর ও খাল-বিলে পানিতে স্তূপ করে জাগ দিচ্ছেন। সাধারণত ২০ থেকে ২৫ দিন পর পাট পচে গেলে সেখান থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। অনেক কৃষকের পাট এখনও পুরোপুরি পচেনি; তবে কয়েক দিনের মধ্যে আঁশ ছাড়ানোর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
৬ দিন আগে
নন্দিনী হত্যা মামলা: বিধানের মৃত্যুদণ্ড, বাবা-ময়ের ৫ বছরের কারাদণ্ড
লালমনিরহাটের আলোচিত সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত নন্দিনী রায় একই গ্রামের নলনী মোহনের ৭ বছরের মেয়ে ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ জুন বিকেলে নিখোঁজ হয় স্কুলপড়ুয়া শিশু নন্দিনী রায়। পরদিন তার বাড়ির পেছনে ভুট্টাখেতের নরম মাটি দেখে সন্দেহ হলে তা খুড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সন্দেহ থেকে স্থানীয়রা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিধান চন্দ্রের বাড়িতে আগুন দেয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর স্থানীয়রা হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ সুপারসহ প্রায় ৩৫ জন পুলিশ আহত হন। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ মোট ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ ঘটনায় ১৬ জুন নিহত নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে বিধান চন্দ্রকে প্রধান আসামি করে তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে অভিযুক্ত করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিধান চন্দ্র হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিধানের মা মমতা রানীকেও এ মামলায় পলাতক অবস্থা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
মামলাটি তদন্ত শেষ করে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো. আইয়ুব তুহিন গত ১৩ আগস্ট আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এরপর ১৬ আগস্ট আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ১৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট ৩ দিনে এ মামলার ২৩ জনের সাক্ষ্য-শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে আজ (রবিবার) আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, আলোচিত নন্দিনী হত্যার দায়ে আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলো। আসামিদের হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।
আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি, রায়ে আমরা সন্তষ্ট। তবে এ রায় দ্রুত কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, মাত্র ৬ কার্য দিবসের মধ্যে লালমনিরহাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনায় বিধান আদালতকে জানান, কয়েক বছর আগে তার মা মমতা রানী অন্যের সংসারে যাওয়ায় তাকে তালাক দেন তার বাবা রণজিৎ কুমার। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন রণজিৎ। কিন্তু কিছুদিন পরে বিধান আলোচনা করে মাকে তাদের সংসারে ফিরিয়ে আনেন। এতে সমাজ থেকে তাদের একঘরে করা হয় যা নিয়ে নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহনের সঙ্গে তাদের ঝগড়া-বিবাদ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন বিধান চন্দ্র। সেই ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে নলিনীর পরিবারের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। দীর্ঘ এক বছর আগের ঝগড়ার ক্ষোভ মেটাতে কিছুদিন আগে নন্দিনীর বড় ভাই যোতিষ্ঠিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের কারণে সেটা করতে ব্যর্থ হন বিধান।
প্রতিশোধের দ্বিতীয় পরিকল্পনা মোতাবেক সেদিন বিকেলে নন্দিনী ও অপর এক শিশুকে নিয়ে বাড়ির উঠানে মোবাইল ফোনে টিকটক ভিডিও দেখছিলেন বিধান। তার মোবাইল ফোনে চার্জ শেষ হলে অপর শিশুটি চলে যায়। তখন ফোন চার্জে দিয়ে বিস্কুট মুখে দিয়ে আবার উঠানে আসেন বিধান। এ সময় নন্দিনী তার কাছে বিস্কুট চাইলে তাকে বিস্কুট দিতে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। এরপর শিশুটিকে বিস্কুট খাইয়ে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে রাখেন বিধান।
জবানবন্দিতে বিধান আরও জানান, প্রথমে নিজেদের বাড়ির পাশের পাটখেতে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। সে সময় স্থানীয়রা কী করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ছাগল মারা গেছে, তা পুঁতে রাখছেন। কিন্তু দুর্গন্ধ হবে বলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দেন। পরে তিনি নন্দিনীদের বাড়ির পেছনের ভুট্টাখেতে গর্ত করেন এবং বিকেল ৫টার পরেই নন্দিনীর বাড়ির সামনে দিয়ে তারই বস্তাবন্দি মরদেহ নিয়ে ওই গর্তে পুঁতে রাখেন।
এতসব কাজ করার সময় বিধানের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার বাবা-মা দুজনেই বাড়ির বাইরে থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করেন তিনি।
১২ দিন আগে
লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলী (৪৫) নামে এক ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা।
অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর কানার বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি রংপুর নিউ রূপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজ ক্লিনিকে প্রতিবেশী এক পোশাক শ্রমিক ও তার পরিবারের চিকিৎসার সুবাদে ওই পরিবারের সঙ্গে ইউসুফ আলীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই পোশাক শ্রমিক কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন এবং তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকেন।
গেল বৃহস্পতিবার ওই পরিবারের এক শিশু অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিয়ে তার মা ও খালা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে যান। তখন দম্পতির মেয়ে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রী বাড়িতে একা ছিল। এ খবর জানতেন ইউসুফ আলী।
সেদিন স্কুলছাত্রীটি বাড়িতে একা থাকায় তার মায়ের নম্বর নেওয়ার কথা বলে ইউসুফ আলী তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর বাড়ির গেট ও ঘরের দরজা বন্ধ করে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
পরে তার মুখ খুলে দিলে মেয়েটি চিৎকার দিতে চেষ্টা করলে তাকে মারপিট করে মেরে ফেলার হুমকি দেন ইউসুফ। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে ফেলে রেখে চলে যান তিনি।
পরে ওই স্কুলছাত্রী মোবাইল ফোনে তার মাকে বিষয়টি জানায়। প্রথমে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে তার ফাঁসি চাই। আমরা গরিব মানুষ। আসামিরা প্রভাবশালী, তারা নাকি টাকা দিয়ে সব কিনে ফেলেছে। তাই তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি টাকার অভাবে অসুস্থ মেয়ের দুইটা টেস্ট করাতে পারিনি। ওষুধ কেনারও টাকা নেই।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘বাদীর এজাহার নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
১৪ দিন আগে
নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিচারে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ এমপি বাবুল
তৃণমূলের একাংশের বিষোদগারের জবাবে নিজের পদত্যাগের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিজ দলের একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের বিচারের দাবিতে সরাসরি দলনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে লালমনিরহাটের সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনসমূহ আয়োজিত এক ‘কর্মী মূল্যায়ন সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি বাবুল এসব কথা বলেন।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আজকের এই মঞ্চে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত আছেন। তারা যদি তৃণমূলের নেতা না হন, তবে কি ওই গুটিকয়েক লোকই তৃণমূল? যারা নিজেদের তৃণমূল দাবি করে আমাকে অযোগ্য আখ্যা দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—আমাদের দলীয় চেয়ারম্যান ও সম্মানীত প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন আমি অযোগ্য এবং আমাকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেন, তবে এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে আমি পদত্যাগ করব।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অপপ্রচারের বিচার চেয়ে তিনি আরও বলেন, আমি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার ওপর চলা এই দীর্ঘদিনের নোংরা রাজনৈতিক চক্রান্তের ন্যায়বিচার করেন।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্য তুলে ধরে এমপি বাবুল বলেন, এই চক্রটি নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নের সময়ও নানা চক্রান্ত ও বিষোদগার করেছিল। তবে দলীয় চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য অনুধাবন করে আমাকে মনোনয়ন প্রদান করেছিলেন। নির্বাচন পার হলেও তারা থেমে নেই; নতুন করে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরা শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি করছে না, পুরো শহিদ জিয়ার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তারা মনেপ্রাণে চায় না যে এই আসনটি জাতীয়তাবাদী দলের দখলে থাকুক।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সবসময় সজাগ, সতর্ক ও ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কোনো অপশক্তি বা চক্রান্তকারী শহিদ জিয়ার পরিবারের আদর্শ, আমাদের অস্তিত্ব এবং আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারবে না।
এর আগে, সভার শুরুতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১৮০ দিনের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়।
কর্মী মূল্যায়ন সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর থেকেই মূলত স্থানীয় বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সেই চরম অসহযোগিতা ও অন্তর্দলীয় কোন্দল উপেক্ষা করেই রোকন উদ্দিন বাবুল বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজিত চক্রটি সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার নোংরা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তৃণমূল নেতৃবৃন্দ এই চক্রান্তকারীদের দল থেকে বয়কট করার দাবি জানান এবং তীব্র প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ফেলে পালালো কারা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম (১৮) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ শ্বশুরবাড়ির উঠানে রেখে যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি একটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি ওই বাড়ির উঠানে রেখে সটকে পড়েন। তবে নিহতের বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, ওই নারীকে তার স্বামীই নির্যাতন করে হত্যা করে লোক দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আফরোজা ওই গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী এবং একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে দীন ইসলামের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজের সুবাদে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই আফরোজাকে তার স্বামী শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হন আফরোজা।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য, গতকাল (রবিবার) রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এ কথা বলার পরই ফোনটি কেটে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর আফরোজার স্বামী দীন ইসলাম তার শ্বশুরকে ফোন করে বলেন, ‘আফরোজা অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা পাঠান, তার চিকিৎসা করাতে হবে।’
তবে বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও আফরোজার বাপের বাড়ির লোকজন টাকা পাঠাননি। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের জানান, আফরোজা মারা গেছেন।
এরপর সোমবার সকালে গাজীপুর থেকে একটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন ব্যক্তি আফরোজার মরদেহ কালীগঞ্জে দীন ইসলামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিচিত ওই ব্যক্তিরা মরদেহটি টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির উঠানে রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। এ সময় তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির, এমনকি বাপের বাড়ির কাউকে তাদের সঙ্গে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, আফরোজার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
আফরোজার চাচাতো বোন শাপলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুরের বাসায় তার স্বামী দীন ইসলাম আফরোজাকে কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। তার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। চিকিৎসার কথা বলে তাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। তারা টাকা না দেওয়ায় কৌশলে মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার বিচার দাবি করেন শাপলা বেগম।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মরদেহের সঙ্গে থাকা ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ওই কাগজে বিষপানে আফরোজার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরা তদন্ত করছি। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১৯ দিন আগে
হাতীবান্ধায় অটোরিকশা চাপা দিয়ে শোরুমে ঢুকল ট্রাক, নিহত ২
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও তিনজন পথচারী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: উপজেলার শিংগিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০) ও একই উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে জহুরুল হক (৪৮)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলার বড়খাতা এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত একটি অটোরিকশা হাতীবান্ধা সদরে যাচ্ছিল। রিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌছলে বিপরীত দিক লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। এ সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি মোটরসাইকেল শোরুমে ঢুকে পড়ে। ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত ও তিনজন পথচারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
২১ দিন আগে
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং, লালমনিরহাটে তাপদাহ ও অনিদ্রায় বিপর্যস্ত জনজীবন
লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র ঘুমহীনতায় ভুগছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ফলে সকালে ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুরেরা, যা তাদের ঠেলে দিচ্ছে চরম আর্থিক সংকটে।
পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, সকালের পর থেকেই শুরু হয় ঘন ঘন লোডশেডিং, যা চলে পরদিন ভোর পর্যন্ত। ভ্যাপসা গরম আর মশার উপদ্রবে সারা রাত ছটফট করে কাটাতে হয় শ্রমজীবীদের। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে সকালে ভারী কাজে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে তাদের জন্য।
উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। সকালে চোখ খোলাই যায় না, শরীর এত দুর্বল লাগে যে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। একদিন কাজ না করলে ঘরে চাল ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও অটোচালকদের ওপরও। সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় যানবাহনের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না।
লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার মুমিনের গ্যারেজ সড়কের অটোচালক সাইদুর রহমান বলেন, রাতে কারেন্ট না থাকায় গাড়ি ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যায় না। অর্ধেক চার্জ নিয়ে রাস্তায় নেমে মাঝপথেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে দৈনন্দিন আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, সংসার চালানোই এখন দায়।
একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। লালমনিরহাট গোসলা বাজারের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়ছি। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় কাস্টমারও দোকানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে চায় না।
এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উত্তর বাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জানান, রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না। বর্তমানে ইয়ারচেঞ্জ পরীক্ষা চলায় এই বিদ্যুৎ সংকট তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুহুলী এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, সামনে তাদের নির্বাচনি পরীক্ষা, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নিতে চরম সমস্যা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ নেসকো (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাট কালীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, অথচ তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণেই এই লোডশেডিং হচ্ছে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বাড়লে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
চরম ভোগান্তিতে পড়া নিম্নআয়ের ও সাধারণ মানুষের আকুল দাবি, অন্তত রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে তাদের স্বাভাবিক ঘুম, পড়ালেখা ও জীবিকা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হোক।
২২ দিন আগে
উজানের ঢলে ফের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে।
নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে তবে বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদনদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার আরও ওপরে উঠতে পারে এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিদ্যালয়ে ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। এমন অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষকের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২ আগস্ট) থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তঘেরা দহগ্রাম ইউনিয়ন। দেশের উত্তরের আলোচিত এই জনপদে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডর। ওই ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টিকে ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র ৭ জন শিক্ষক সরকারিকরণের আওতায় আসেন। পরবর্তীতে একে একে ৬ জন শিক্ষক অবসরে চলে যাওয়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ।
৩২ দিন আগে
লালমনিরহাটে বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে সবজির বাজারে আগুন
টানা বৃষ্টি ও দফায় দফায় বন্যার প্রভাবে লালমনিরহাটে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ফলে হাতে গোনা দুয়েকটি সবজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজিই এখন ৭০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) আদিতমারী স্টেশন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে বেগুন ও বরবটির দাম ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা কেজি।
শসার দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পটল ও ঢেঁড়শ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম, কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষকেরা খেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। অনেক জমিতে পানি জমে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু এলাকায় বন্যার পানিতে সবজির খেত তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বেড়েছে সবজির দাম।
তুষভান্ডার বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন সাদিকুল মিয়া। তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগের তুলনায় প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) সবজিতে অন্তত ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। তাই আমাদেরও খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
আদিতমারী স্টেশন বাজারে সবজি কিনতে আসা আরজিনা খাতুন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সবজির এত দাম হলে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।
পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চাষিরা ঠিকমতো সবজি তুলতে পারছেন না। অনেক খেত পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার অনেক সবজি পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণেই সবজির দাম বেড়েছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, বাজার মনিটরিং করা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব নয়। এ কাজের জন্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রয়েছে, তারাই মূলত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া। তবে বাজার পরিস্থিতিরও আমরা খোঁজখবর রাখি।
তিনি আরও বলেন, বাজারে পণ্যের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে সরবরাহ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে এর প্রভাব বাজারে পড়েছে।
৩৪ দিন আগে