লালমনিরহাট
সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আমলী আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট শহরের তালুক খুটামারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সংরক্ষিত নারী আসন-২ (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম)-এর সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা ও হত্যাসহ ৫টি মামলার আসামি সফুরা বেগম রুমী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আজ বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
আদালতে নেওয়ার পর তার পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। তবে, বিচারক তাকে লালমনিরহাট সদর থানার একটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। লালমনিরহাট জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হামার বাড়ি ভাঙচুর মামলায়ও তাকে জামিন দেওয়া হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু আহাদ খন্দকার লেলিন বলেন, আদালত একটি মামলায় জামিন দিলেও অপর একটি মামলার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছেন। আশা করছি আগামী কার্যদিবসে তিনি জামিন পাবেন।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, লালমনিরহাট সদর থানায় ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারিতে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৭ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২৪) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমতপুর সীমান্তের গাডিয়ার ভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিজান ওই গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি সীমান্তের পাশে ধানখেতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার সরকারপাড়া ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট (গুলি) ছোড়েন। একটি গুলি মিজানের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মিজান নামে একজন কৃষক আহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এখনও এ ঘটনায় বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১০ দিন আগে
লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে আইয়ুব আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট বুড়িমারী রেলরুটে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সুকানদীঘি রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ওই এলাকার মনির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ আইয়ুব আলী ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশে রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, লোকমুখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
১৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন উঠতি ফসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে, উড়ে গেছে বেড়া ও ছাউনি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে অনেক ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ভিজে যায় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাতাসে উড়ে গিয়ে ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং অনেক এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে।
ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, তামাক, বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরের টিন উড়ে গিয়ে দূরের মাঠ ও গাছের ডালে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মোচা আসা ভুট্টা গাছ মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এসব খেতের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফসলের ক্ষতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
এছাড়া ঝড়ে গাছ পড়ে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও সদর উপজেলার হারাটি ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং তিস্তাচরাঞ্চলের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
ভোটমারী এলাকার চাষি তমিজ উদ্দিন বলেন, চড়া দামে সার, বীজ ও সেচ দিয়ে তিন বিঘা জমিতে করা ভুট্টা খেত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মোচা আসা গাছ পড়ে গেলে আর ফলন হবে না। ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। ঘরের টিনও পাথরের আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে।
তামাকচাষি শাহ আলম বলেন, তামাক পাতা ভেঙে শুকাতে দেওয়া ছিল। শিলাবৃষ্টির আঘাতে খেতে থাকা ও শুকাতে দেওয়া সব তামাক পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে তামাকের গুণগত মান ও ওজন কমে যাবে, ফলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরের টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। প্রায় একশ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
১৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে তেলের সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন
চাহিদার তুলনায় ডিপোগুলো থেকে কম সরবরাহের কারণে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তীব্র তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে জ্বালানি নিতে আসা গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে যানবাহনের চাপ ও জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলচালকসহ সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। গ্রাহকদের চাপ সামলাতে গিয়ে পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার হচ্ছে।
এদিকে, তেলের সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা জায়গায় বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
২৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৮ যাত্রী আহত, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
লালমনিরহাট জেলা শহরে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে শহরের বিজিবি ক্যান্টিন মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী তিশা এন্টারপ্রাইজের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ আটজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ট্রাফিক পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত রমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, ঘাতক বাসটি আটক করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
২৫ দিন আগে
১১ দিনের ছুটিতে বুড়িমারী স্থলবন্দর
পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।
বুড়িমারী কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ছুটির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটিসহ আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত। টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২৮ মার্চ থেকে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এই ছুটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টমস, বিএসএফ এবং ভুটানের সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ উভয় দেশের পরিবহন ও শ্রমিক সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে।
ফারুক হোসেন বলেন, পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ১১ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মানুষের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ অভিবাসন চৌকির (ইমিগ্রেশন) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, আমদানি-রপ্তানি বন্ধের চিঠি তারা পেয়েছেন। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ১১ দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আমাদের চিঠি দিয়েছে। মূলত ব্যবসায়ীরা কাজ না করলে বন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে, বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার মুহাম্মদ মহি উদ্দিন জানান, ১৭ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি তারা লিখিতভাবে জেনেছেন। তবে এ সময়ে যাত্রী পারাপার চালু থাকার পাশাপাশি কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।
৩১ দিন আগে
মাদক ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন কৌশলে অসহায় লালমনিরহাট প্রশাসন
কঠোর অবস্থান নিয়েও মাদক পাচার ও ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটে। মাদকের হটস্পটের কলঙ্ক ঘুচতে পারছে না প্রশাসন। নিত্যনতুন কৌশলে সীমান্তের মাদক সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। হাতের কাছে মাদক পেয়ে ধ্বংস হচ্ছে জেলার যুবসমাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার পাশ দিয়ে ২৮১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে কিছু সীমান্ত রয়েছে কাঁটাতারের বেড়াহীন। কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও চোরাচালানে থেমে নেই পাচারকারীরা। বিভিন্ন কৌশলে কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে রাতের আঁধারে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে ভারতীয় মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, টাপেন্টারসহ নানান জাতের মাদকদ্রব্য। প্রথমে পাচারকারীরা ভারত থেকে নিয়ে এসে সীমান্তঘেঁষা আস্তানায় রাখে। এরপর সুযোগ মতো ছড়িয়ে দেয় সারা দেশে।
সীমান্তের গ্রামগুলোতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। সন্ধ্যা হলে এসব গ্রামে বহিরাগত মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। চা পানের দোকানে, বিভিন্ন সড়কের মোড়ে ও স্টেশনে ছদ্মবেশে বিক্রি হচ্ছে মাদক। এসব ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন চিহ্নিত কিছু ব্যবসায়ী। এদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদেরও সখ্যতা বেশ।
স্থানীয়রা জানান, জেলার আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কিছু পয়েন্ট হয়ে উঠেছে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট। যেখান দিয়ে ভারতীয় মদ ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। ২০২১ সালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। এরপর থেকে অভিযান বাড়লেও বন্ধ হয়নি মাদক। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেও যেন টিকেই আছে শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক।
গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরল আমিন বাদশার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪টি মাদক মামলা। স্ত্রী, ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তবুও তিনি এলাকায় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। বাদশা বলেন, একটা সময় মাদকের ব্যবসা করতাম। পরে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও হয়রানি করে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলো ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তাদের মূল পেশা মাদক ব্যবসা।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে কিছুটা কমেছে মাদকদ্রব্য পাচার ও বিক্রি। ঈদকে সামনে রেখে আবারও বেপরোয়া হচ্ছে মাদক পাচার চক্র। তবে কঠোর নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে প্রশাসন।
লালমনিরহাটে দফায় দফায় পুলিশি অভিযান, একের পর এক মামলা করেও কমছে না মাদক। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, পুলিশের রাতভর অভিযান সবই ব্যর্থ হয়ে পড়ছে প্রভাবশালী মাদক চক্রের কাছে। লালমনিরহাটের সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলো যেন এক অদৃশ্য অন্ধকারে আটকে গেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২০টি মাদক মামলায় ২২ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
এসব মামলায় যাবজ্জীবন সাজাও দিচ্ছেন আদালত। তবুও মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতি তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্কুল-শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বলেন, অনেককে দেখেছি, মাদক ব্যবসা ছেড়ে ভালো হতে ওসি-এসপির হাতে ফুল দিয়ে শপথ করেছেন। তারা কিছুদিন ভালো থাকলেও ওইসব এসপি-ওসির বদলির পরে পুনরায় আগের পেশায় ফিরে গেছেন। তাই, আত্নসমর্পনে কোনো কাজ হবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে আইনের যথার্থ প্রয়োগ করতে হবে।
কলেজ-শিক্ষক তাপষ কুমার পাল বলেন, মাদক পাচার রোধ করতে হবে। হাতের কাছে মাদক পেয়ে অনেকের আসক্তির সুযোগ থাকে। অপরদিকে, যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তারা যেন সাজাভোগ ছাড়া কোনোভাবে ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে না যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। অনেক দেখেছি, মাদকের মামলায় হাজত থেকে বেড়িয়ে পুনরায় দ্বিগুণ গতিতে মাদক পাচারে ঝুঁকে পড়ছে। কারণ, মামলা হলে তার খরচ রয়েছে, যার অর্থ যোগান দিতেও অনেকেই পেশা বদল করছেন না।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাফওয়ান হোসেন বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। জুমার খুতবাতে মাদক নিয়ে আলোচনা করা হয়। মুলত, সচেতনতা বাড়াতে না পারলে এসব সামাজিক ব্যাধি শুধু আইন দিয়ে বন্ধ করা যায় না। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মাদকের দৌড়াত্ম্য কিছুটা কমেছে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন-পূর্ব আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাদকের অভিযান কিছুটা কম ছিল। তাই সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে মাদকের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বাড়লেও নির্বাচন পরবর্তীতে নতুন কৌশলে দফায় দফায় অভিযানে মাদকের কারবার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আমরা বিজিবিকে সঙ্গে নিয়েও যৌথ অভিযান পরিচালনা করে থাকি। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নয়। মাদক নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩১ দিন আগে
স্বাধীনতার স্মৃতি ধারণ ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল মানবিক সাম্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করা। বর্তমান সরকার সেই স্মৃতিগুলো ধারণ করবে এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে।
২১ ফেব্রুয়ারির (শনিবার) প্রথম প্রহরে লালমনিরহাটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ের সরকার স্বাধীনতার চেতনাকে বিক্রি করে দিয়েছিল বলেই সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল মানবিক সাম্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করা। বর্তমান সরকার সেই স্মৃতিগুলো ধারণ করবে এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে সকল অর্জনের সূচনা উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, স্বাধীনতার সূচনা বায়ান্ন থেকেই শুরু হয়েছিল। আমাদের আঞ্চলিক ভাষা ও কৃষ্টি-কালচার আমাদের গর্ব। বিশেষ করে জারি, সারি, ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়ার মতো লোকজ ঐতিহ্যগুলোকে টিকিয়ে রাখতে জাতীয় পর্যায়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
৫৪ দিন আগে
লালমনিরহাটের ৩টি আসনে বিএনপির জয়
লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা তাদের নিকটতম প্রার্থী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফলে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ৯২ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৮৯ ভোট।
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৬ ভোট।
লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু ১ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৫ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের।
৬৩ দিন আগে