লালমনিরহাট
বলাৎকারের অভিযোগে লালমনিরহাটে মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামি করে আদিতমারী থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম ভেলাবাড়ী নামুড়ীরপাড় এলাকার মাদরাসাতু তাহফিযীল কুরআন ওদ্দীনিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের ওই শিক্ষার্থী আবাসিকভাবে মাদরাসায় থাকত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদরাসার শিক্ষক মো. শাহজালাল হক (২৩) শিশুটিকে মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে নিজের কক্ষে ডাকেন। সেখানে তিনি জোরপূর্বক শিশুটিকে বলাৎকার করেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান।
পরদিন সকালে শিশুটি বাড়িতে ফিরে অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানালে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় গেলে অভিযুক্ত শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। সে সময় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি ছুটিতে বাড়িতে গেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৪ জুলাই রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় ফিরে এলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করলে চিকিৎসা দিয়ে আদিতমারী থানায় নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবনের শঙ্কায় নিম্নাঞ্চল
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের সবকটি প্রয়োজনীয় জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে লালমনিরহাট সদর আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে সড়ক খুড়ে লাপাত্তা ঠিকাদার, জনদুর্ভোগে স্থানীয়রা
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে পাঁচ মাস ধরে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা চিঠি দিয়েও তাদের কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, ভাদাই ও পলাশী ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক মহিষখোচা-বুড়িরহাট জেসি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে যায়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় কাজ পায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভোলার চওড়া এলাকার মেসার্স শাকিল ট্রেডার্স।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নিয়মানুযায়ী দরপত্র শেষে গত ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু করে ২৬ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সড়ক খুঁড়ে, কিছু গাইডওয়াল নির্মাণ করে এবং প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্নের পর প্রথম বিল হিসেবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরপর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে বর্ষার বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও এলজিইডির সুনাম রক্ষায় একাধিকবার চিঠি দিয়েও কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ শতাংশ লাভে কাজটি কিনে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিনুর ইসলামের ভাই আলম কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ওই লাভের হিসাব ধরে কাজ করলে লোকসান হবে বুঝতে পেরে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। এ কারণে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও এলজিইডির কোনো চিঠির জবাব দিচ্ছে না। ফলে কাজটি বাস্তবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত সড়কটির সংস্কার শেষ করা হোক।
স্থানীয় স্কুলছাত্রী সোনিয়া সুলতানা বলেন, ‘প্রতিদিন অটোরিকশায় এ পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অটোরিকশায় উঠলেই ভয় লাগে। অটোরিকশা শুধু কাঁপে; কখন যে গর্তে পড়ে হাত পা ভেঙে যায়, সেই আশঙ্কায় থাকি।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শাওন বলেন, তিন-চার বছর ধরে ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করেছি। দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শুরুর পরই ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এখন আগের চেয়েও কয়েকগুণ দুর্ভোগ বেড়েছে। এখন মনে হয়, আগের খানাখন্দরই ভালো ছিল, মাঝে মধ্যে গর্ত থাকলেও কিছু স্থান ভাল ছিল; এখন পুরো পথেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবি করেন তিনি।
মহিষখোচার ব্যবসায়ী গোলাম কবির বলেন, সড়কটি খুড়ে রাখায় ৫ মাস ধরে বড় ট্রাক ঢুকছে না। ফলে ছোট ট্রাকে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। একটি সড়ক সংস্কার করতে যদি ৬ মাস সময় লাগে। তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য করব কীভাবে?
অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আবার কাজ শুরু করা হবে।’
আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়েছি কাজ সমাপ্ত করার জন্য, কিন্তু তারা সাড়া দিচ্ছে না। কাজটি দ্রুত সমাপ্ত করতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ওই ঠিকাদারকে অফিসে ডেকে এনে চাপ প্রয়োগ করেছি। তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু করে দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুতই মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নদীভাঙনের আশঙ্কা
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। গতকাল রাত ১০টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রাতভর ধীরে ধীরে পানি কমলেও বন্যার ক্ষত তেমন কোথাও দেখা যায়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি নেমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা এবং কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অন্তত হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে এখনও পানি রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গতরা।
এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলে ভাঙনের তীব্রতায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। যদি আবারও পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদীতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা নদীভাঙনের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের বন্যার আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাবিধৌত জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যায় আবারও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল রাতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। এর ফলে পানির সময় এসব বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার তীর-সংলগ্ন গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান জানান, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।
তিনি বলেন, পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে, বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বন্যার সময় আমাদের নদীপাড়ের মানুষদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।
আদিতমারী উপজেলার নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝেও থাকে সাপ-কোপের প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলে আজ সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানির চাপ।
১৩ দিন আগে
পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ‘আলো নিভিয়ে’ ৩ নারীকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ৩ ভারতীয় নারীকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনার পর সীমান্তে টহল আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করেছে বাংলাদেশ অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ৩ নারীকে বিএসএফ ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকায় প্রধান পিলার ৮৩৪-এর ১ নম্বর উপপিলারের বিপরীতে গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে দেয় বিএসএফ। এ সময় পুশইনের জন্য আনা ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাহিনীটি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ওই তিনজনকে পুনরায় ভারতের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়। এতে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় প্রায় ২২ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন তারা।
ঘটনার পর গতকাল দুপুর ১টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৮ নম্বর উপপিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খড়খড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন এবং ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন অংশ নেন।
১৪ দিন আগে
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও পাকা হয়নি রাস্তা, ভোগান্তিতে কয়েক গ্রামের মানুষ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ২ কিলোমিটারেরও বেশি কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুহুলী, বারাজান, শিয়ালখেওয়া আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে। স্বাধীনতার পর থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি এখনও পাকা না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে কাদা ও জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে পড়ছে, ফলে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন দুহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কয়েক শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। অনেক সময় অভিভাবকরা শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও অনীহা প্রকাশ করেন।
এছাড়া, রাস্তাটি এখনও পাকা না হওয়ায় কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। এই এলাকার কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারজাত করা সম্ভব হয় না।
১৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও তিস্তাপাড়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা
উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি রাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও আজ শুক্রবার সকাল থেকে কিছুটা কমেছে। তবে পানি কমার এই সাময়িক স্বস্তি ছাপিয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ রয়েছে।
এদিকে, তিস্তাপাড়ে আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই (স্লুইস গেট) খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তার পানি তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকেল গড়াতেই দ্রুত বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে থাকার পর রাত ৯টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। হঠাৎ নদীর পানি এভাবে দ্রুত ওঠানামা করায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
আদীতমারী উপজেলার গোবর্ধন এলাকার কৃষক রিপন মিয়া বলেন, আমাদের তিস্তা নদীর পানি কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আমরা এখনও বাড়িতে অবস্থান করছি, তবে পানি আরেকটু বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে কি না, তা জানি না। কয়েক দিন ধরে দিনে বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হু হু করে আসছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, উজানে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছি।
নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বলা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদীপাড়ের মানুষদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
১৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনায় বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
মামলার এজাহারে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান (৪০) গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে তাকে বাগানে ফেলে রেখে যান মোখলেছার। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।
ওই ঘটনার পর গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন মোখলেছার। পরে স্কুলছাত্রীকে প্রথমে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন মোখলেছার। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করে ছুটে গিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা চার। সেখানের স্থানীয় লোকজন মোখলেছারকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা বুক্তভোগীর কাছ থেকে বাড়ির ফোন নম্বর নিয়ে গাজীপুর থেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এ ঘটনার অসুস্থ মেয়েটিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মোখলেছার ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন তার বাবা। ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলকার কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার ক্ষমতার প্রভাবে তিনি অপকর্ম করে বেড়ান। এ মামলাটিও নষ্ট করতে জোর চেষ্টা করেছিল গ্রাম পুলিশ মহুবর। তার সঙ্গে থানা পুলিশের সম্পর্ক ভালো। এ কারণে বারবার অপরাধ করেও বেঁচে যান মোখলেছার। মোখলেছারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল মোখলেছার। তার বিশ্বাস ছিল, আমার মেয়ে কোনো একদিন ঘটনাটি আমার কাছে প্রকাশ করবে। সেই ভয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে আসামিরা তাকে অপহরণ করে।
তিনি বলেন, আমি অশিক্ষিত গরীব মানুষ, টাকা পয়সা নেই। ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যেতে হবে, সেটাও জানি না। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলা করার পর থেকে তাদের লোকজনের হুমকিতে আমাদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। আজ (বুধবার) ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতেলে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৮ দিন আগে
দুই বছর আগে পরিত্যক্ত হয়েছে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, মন্দিরের বারান্দায় চলছে পাঠদান
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক দুলালী রাজকাছারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন দুই বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় মন্দিরের বারান্দায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা তালুক দুলালী গ্রামে শিক্ষার প্রসারে স্থানীয়দের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সরকার বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন নির্মাণ করে এবং ২০১৩ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ২৫৩ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে উপজেলায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দুই শিফটে পাঠদান পরিচালিত হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তদন্তে বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অন্য ভবনের তিনটি কক্ষের একটি প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি দুটি কক্ষে দুই শিফটের সব শ্রেণির পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়ে পাশের তালুক দুলালী রাজকাছারী দুর্গা মন্দিরের বারান্দায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
১৯ দিন আগে