লালমনিরহাট
শিশু নন্দিনী হত্যা ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত অন্তত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
৩ ঘণ্টা আগে
লালমনিরহাট সীমান্তবাসীর হুঁশিয়ারিতে পিছু হটল বিএসএফ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল গ্রামবাসী ও বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল জানায়, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় রাত ৯টার দিকে ১০-১২ জনকে বহন করা একটি গাড়ি সীমান্তে দাঁড়ায়। ওই গাড়িতে থাকা লোকদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার গেট পার করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেন বিএসএফ ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের সদস্যরা।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক হুঁশিয়ারি দিয়ে পুশইন রোধে মাইকিং করে গ্রামবাসী ও বিজিবি। কিছুক্ষণ এসব লোকদের শুন্যরেখায় বসিয়ে রাখলে গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে পুনরায় তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ। এ ঘটনায় সীমান্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুশইন রোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।
বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, যেকোনো ধরনের পুশইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে সকল ধরনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে উপজেলার সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়াকত আলী লাদেন উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের আশরাফুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের রাব্বি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে লিয়াকত আলী লাদেনকে গাঁজাখোর বলে গালি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লাদেন রাব্বিকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি রাব্বি তার পরিবারকে জানালে তার বাবা ও বড় ভাই রকি লাদেনকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। এর পরেও রাব্বির পরিবারের লাদেনের প্রতি ক্ষোভ থেকে যায়।
সোমবার রাত ৮টার দিকে লিয়াকত আলী লাদেন তার বাড়ির পাশের সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একা বসে ছিলেন। এ সময় রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে স্থানীয়রা লাদেনকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত রকিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
সাব-রেজিস্টারশূন্য লালমনিরহাট: ভাড়াটে কর্মকর্তায় চলছে ৫ অফিস
জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল সম্পাদন এবং এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন সাব-রেজিস্টার। অথচ লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই বর্তমানে স্থায়ী সাব-রেজিস্টারবিহীন। ফলে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।
সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম উৎস জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন কর। এসব কর আদায়ের জন্য দলিল নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সাব-রেজিস্টাররা। কিন্তু জেলার পাঁচ উপজেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্টার পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে অফিসগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস থাকলেও কর্মকর্তা সংকটের কারণে অধিকাংশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো অফিসে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি দীর্ঘ আট থেকে নয় বছর ধরে শূন্য রয়েছে। পদায়নের বিষয়টি যেন কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে চলে গেছে।
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য রয়েছে পাটগ্রাম উপজেলা সাব-রেজিস্টার পদ। জেলা রেজিস্টারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এ উপজেলায় ২০১৭ সালে সাব-রেজিস্টার রতন অধিকারী বদলি হওয়ার পর থেকে নতুন কোনো কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। প্রায় নয় বছর ধরে অফিসটি চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে।
বর্তমানে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাব-রেজিস্টার রাশেদুজ্জামান সপ্তাহে এক দিন পাটগ্রামে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। অর্থাৎ নিজের কর্মস্থল রাজারহাট ছাড়াও তিনি লালমনিরহাট সদর এবং প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের পাটগ্রাম—এই তিনটি অফিসের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টার আহসান হাবিব ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল বদলি হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। একই দিনে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্টার রাশেদুজ্জামানও বদলি হন। এরপর থেকে এ দুই কার্যালয়ে কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা নেই।
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বিসিএস ক্যাডারে নির্বাচিত হয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা সাব-রেজিস্টার আরিফ ইশতিয়াক অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে, একমাত্র আদিতমারী উপজেলায় সাব-রেজিস্টার শিউলী খাতুন পদায়ন থাকলেও বর্তমানে দুই মাসের প্রশিক্ষণে রয়েছেন তিনি।
এভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই কার্যত স্থায়ী কর্মকর্তাশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাব-রেজিস্টার কামরুন নাহার আদিতমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সাব-রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন হাতীবান্ধা অফিসে। আর কালীগঞ্জের তুষভান্ডার অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সাব-রেজিস্টার রিপন চন্দ্র মণ্ডল।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি এসব অফিসে সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন সময় দিতে পারছেন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাব-রেজিস্টার না থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজ না করেই ফিরে যেতে হয়। সপ্তাহে মাত্র এক দিন সাব-রেজিস্টার অফিসে এলে সেদিন আবার অনেক দাতা বা বিক্রেতা ছুটি পান না। ফলে দলিল নিবন্ধনের কাজ পিছিয়ে যায়। অনেক বিক্রেতা মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সময়মতো জমি বিক্রি করতে পারছেন না।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ভোগান্তির পর সাব-রেজিস্টার ও দলিলদাতা উভয়কে একসঙ্গে পাওয়া গেলেও নতুন সমস্যা দেখা দেয়। এক দিনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্টারদের পক্ষে প্রতিটি দলিল যথাযথভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ভুলত্রুটি থেকে যাওয়ার এবং ভুলভাবে দলিল সম্পাদনের ঝুঁকি তৈরি হয়। সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ এক দিনে সম্পন্ন করতে গিয়ে ভুল হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকলে দলিল নিবন্ধন, নকল সরবরাহ, পুরোনো দলিল সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যায়, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে সাব-রেজিস্টার পদায়ন করে স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্টার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলার পাঁচটি কার্যালয়ে সাব-রেজিস্টার পদে বাইরের জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে সাব-রেজিস্টার পদায়নের জন্য কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকলে অফিসের সার্বিক কার্যক্রম গতিহীন হয়ে পড়ে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পদায়ন হলে এ জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
১৪ দিন আগে
সীমান্তহত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দয়িত্ব পালন না করতে পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন। আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তে মানুষ মরলেও সরকার নিশ্চুপ থাকছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে আমাদের দায়িত্ব দিক; আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব। অস্ত্র না থাকলেও আমরা বাঁশ হাতে নিয়ে রেডি হব সীমান্তে।
তিনি বলেন, বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশি হত্যা করে আর বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় বয়ান উল্লেখ করে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ চোরাচালান করতে পারে না। বাংলাদেশের সকল মানুষ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার। আমরা সীমান্তের শহিদদের পাশে থাকব। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, এ মানুষগুলোর জন্য ফাউন্ডেশন গঠন করে দেব। সীমান্তে শহিদদের সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মাছ ধরতে যাওয়া বাংলাদেশি খাদেমুলকে বিএসএফ গুলি করে শহিদ করেছে বলে এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
এই রাজনীতিক বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের সীমান্তে অস্থিতিরতা বিরাজ করছে। সে জায়গা থেকে আমরা সরকারকে বলব, রেড এলার্টে যাওয়ার জন্য, সীমান্তবাসীকে বলব সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য।
এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, ইতিহাস থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন ওই সময় শেখ মুজিবের সঙ্গে ‘গুন্ডা বাহিনী’ ভারতে পলাতক ছিলেন। সেখান থেকে তারা জিয়াউর রহমান সরকারকে বিরক্ত করেছিলেন। একই কায়দায় শেখ হাসিনা ভারতে থেকে বাংলাশেদের মানুষকে বিরক্ত করে যাচ্ছে এবং তারা ওই দেশের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মিলে সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। সরকারকে বলব, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘লিয়াজোঁ’ করবেন না। বরং আমরা এসে শেখ হাসিনাকে যদি ফাঁসির দড়িতে ঝুলাইতে পারি, তাহলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে এবং সীমান্তের মানুষ নিরাপদ থাকবে।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সরকারকে বলব সকল ধরনের পুশ-ইন বন্ধ করার জন্য। সীমান্তবাসীকে সজাগ থাকার জন্য, রাতে বাঁশ নিয়ে পাহারা দেওয়ার জন্য, যাতে ভারত থেকে তারা কাউকে পুশ-ইন করাতে না পারে। রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা ঝামেলায় আছি, নতুন করে ঝামেলা নিতে চাই না।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন, আপনারাও ভালো, আমরাও ভালো। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এ সরকার থাকতে পারবে না। এ সরকার নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারছে না।
সাংবাদিক নিপীড়ন প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এখনও নিপীড়ন চলছে। আগে করত শেখ হাসিনা সরকার, এখন করছে বর্তমান সরকার। সকল সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দিতে হবে। যারা সত্য সাংবাদিক আমরা তাদের পক্ষে। ভারতে পক্ষের ও মিথ্যা সাংবাদিকদের আমরা ছাড় দিব না।
এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী প্রথমে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের বাড়িতে যান। তাদের খোঁজখবর নেন। পরে তার কবর জিয়ারত করে হাতীবান্ধা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল নামে এক স্থানীয় যুবক নিহত হন।
২৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাই নিহত
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের সলেডি স্প্যার বাঁধ এলাকায় তিস্তা নদীতে ডুবে তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন— লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামের ছেলে কলেজছাত্র সিফাত আহমেদ (১৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্র স্বচ্ছ আহমেদ (১৪)। তারা দুই ভাই লালমনিরহাট ক্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে অন্যান্য দিনের মতো আজ (শনিবার) সকালে গ্রামের সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে যান দুই ভাই সিফাত ও স্বচ্ছ। খেলা শেষে স্বচ্ছ তিস্তা নদীতে গোসলে নেমে গভীর পানিতে ডুবে যায়। ছোট ভাইকে বাঁচাতে নদীতে লাফ দিলে বড় ভাই সিফাতও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ডাব্লু অধিকারী তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে ঝরল আরও এক বাংলাদেশির প্রাণ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের গুলিতে মো. খাদেমুল (২৫) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে উপজেলার বনচৌকি বিওপির আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদেমুল ওই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৫/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারির সঙ্গে ভারতের ১৫০ গজ ভেতরে অনুপ্রবেশ করেন খাদেমুল হক। এ সময় বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।
সহযোগীদের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন খাদেমুল। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাট বিজিবির ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলির কথা প্রাথমিকভাবে বিএসএফ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৩৩ দিন আগে
বজ্রপাতে তিন জেলায় ৫ প্রাণহানির খবর
সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতে পৃথক স্থানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই মাঠে ধান কাটা ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় এ ঘটনাগুলো ঘটে বলে ইউএনবির জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
নওগাঁয় তিন কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিন কৃষক নিহত হয়েছেন।
আজ (বুধবার) বিকেলে ধান কাটার সময় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দিলীপ চন্দ্র বর্মন নামে এক কৃষক নিহত হন।
অন্যদিকে, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজিনগর ইউনিয়নে ধান কাটার সময় রফিকুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে শ্রমিকের কাজ করতে এসেছিলেন।
এছাড়া চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান ঘরে তোলার সময় বজ্রপাতে অনুকূল চন্দ্র মোহন্ত নামে এক ব্যক্তি মারা যান।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত এই তিন ব্যক্তির পরিবারকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রামে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণহানি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে মো. ওবাইদুল হক (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ দুপুরে উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নিজের জমিতে ধান কাটার সময় বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
লালমনিরহাটে ভুট্টাখেত থেকে ফেরার পথে কৃষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাখেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৩৫) নামে এক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্লারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইউসুফ আলী ওই এলাকার আকবর আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় পথে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষি-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে কর্মরত কৃষকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
৪১ দিন আগে
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার।
রবিবার (৩ মে) লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহিদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ‘বিদ্যানন্দ আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্প ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় লাখ লাখ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।
তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে সহায়তা পাবেন।
আগামী ৬ মে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য সুনামগঞ্জ সফরে যাবেন মন্ত্রী।
এদিকে, অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০১টি অসহায় পরিবারের মাঝে আয়বর্ধক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল দোকানের মালামাল, ভ্যানগাড়ি, গরু এবং সেলাই মেশিন।
৪৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে কৃষক নিহত
লালমনিরহাটে পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মরিচ খেতে উল্টে পড়ে মনছের আলী (৬৩) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) সকালে লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এয়ারপোর্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মনছের আলী ওই এলাকার পয়ের উল্ল্যাহর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কৃষক মনছের আলী নিজ বাড়ির পাশে মরিচ খেত দেখতে বের হয়েছিলেন। এ সময় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। মনছের তখন ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় জনতা চালক ও সহকারীকে আটক করে। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আটক চালক ও সহকারীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৪৬ দিন আগে