শরীয়তপুর
শরীয়তপুরে ‘হাতবোমা তৈরির সরঞ্জাম’সহ এক ব্যক্তি আটক
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় হাতবোমা তৈরির সরঞ্জাম, মাদক ও নগদ টাকা জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় ইনসান ঢালি নামে এক ব্যক্তি আটক হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের মশুরা এলাকায় ওই ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় তার ঘর থেকে ১০টি ইয়াবা, ১০ পুরিয়া গাঁজা, নগদ ২ হাজার ৫০ টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
জব্দ করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে: ১০০টির বেশি মার্বেল, ১০০টির বেশি কাঠিযুক্ত দিয়াশলাই, কয়েকটি কাঠিবিহীন দিয়াশলাইয়ের বারুদ, একটি কাঁচি ও একটি হাতুড়ি। প্রাথমিকভাবে এসব সরঞ্জাম ককটেল বা হাতবোমা তৈরিতে ব্যবহৃত করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ (মঙ্গলবার) রাতে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের মশুরা এলাকার ঢালি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইনসান ঢালির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং ককটেল (হাতবোমা) তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
১২ দিন আগে
স্বামীকে খুন করে মরদেহ টুকরো করে লুকানোর চেষ্টা, স্ত্রী আটক
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমা বেগম (আসমা আক্তার) নামে এক নারীকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনাটি গত বুধবারের (১৩ মে)। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে আজ (শুক্রবার) বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্বামী জিয়া সরদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসমা বেগমের তীব্র ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে স্বামীকে একাধিক আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা বেগম মরদেহ চাকু দিয়ে টুকরো টুকরো করেন। মরদেহের দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের অন্যান্য অংশ শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে রেখে আসা হয়। এমনকি মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখারও চেষ্টা করা হয়।
বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং অভিযুক্ত নারীর অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৯২ দিন আগে
শরীয়তপুরে হামের প্রাদুর্ভাব, ৯ দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু
শরীয়তপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ৯ দিনে হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার (৩০ মার্চ) হামে আক্রান্ত হয়ে জাজিরা উপজেলা থেকে ঢাকায় পাঠানো ৮ মাস বয়সী শিশু মালিহার মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৯ মার্চ) অসুস্থ হয়ে পড়লে মালিহাকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শরীরে হামের লক্ষণ শনাক্ত করেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত মালিহা জাজিরা উপজেলার নগর মাদবরকান্দি গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে।
এদিকে, গতকাল (সোমবার) সকালে হামের লক্ষণ নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইমন মুন্সী (১৯) ও শাহীন কাজী (১৮) নামে দুই তরুণ। হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি পৃথক কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাদের।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগীদের শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা যাওয়ায় হামের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গেছে।
গত দুই সপ্তাহে শরীয়তপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিল।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার জানান, রোগীদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। হামের লক্ষণ দেখা গেলেই দ্রুত নমুনা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১৩৮ দিন আগে
মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নুরজাহান (১৪) নামে এক কিশোরী বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চরমহিষকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নুরজাহান ওই গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, নুরজাহানের সঙ্গে তার মা রুচিয়া বেগমের সাংসারিক কাজকর্ম নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে অভিমান করে সে নিজের শোবার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান নুরজাহান আর বেঁচে নেই।
গোসাইরহাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১৭৬ দিন আগে
শরীয়তপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৭ লাখ টাকাসহ জামাত নেতা আটক
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও একটি ল্যাপটপসহ স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও একটি ল্যাপটপ, ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মাষ্টার গোলাম মোস্তফা নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
১৮৫ দিন আগে
শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩, গ্রেপ্তার ১২
শরীয়তপুরের জাজিরায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ল। সর্বশেষ গুরুতর আহত নয়ন মোল্লা (২৫) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে মারা যান। এ নিয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী (৩২) নিহত হন। ওইদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীন হোসেন সরদার (২২)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ভোরে বোমা তৈরির সময় একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ঘরের চালা উড়ে গিয়ে পাশের রসুনখেতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন মোল্লা ও নবীন হোসেনকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন ৯ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামে আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
‘এরপর শনিবার ও সোমবার ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডগ স্কোয়াড, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোমা ডিসপোজাল টিম ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে গান পাউডার, স্প্রিন্টার, কাচের টুকরা, তারকাঁটা, স্কচটেপ, জর্দার কৌটা ও মার্বেল পাথরসহ বোমা তৈরির নানা আলামত উদ্ধার করা হয়।
পরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫টি বোমাসদৃশ বস্তু, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, বড় হ্যামার, কুড়াল, মাছ ধরার কোচ, বিদেশি চাকু এবং একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে সেই টিনশেড ঘরটি দুই মাস আগে আবু সিদ্দিক বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী নির্মাণ করেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবদুল জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে অতীতে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর একই ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়। তখন কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবর গ্রেপ্তার হলেও পরে কুদ্দুস জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। জলিল মাদবর এখনও কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বোমা তৈরির সময় নিহত সোহান বেপারী কুদ্দুস বেপারীর অনুসারী ছিলেন এবং মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম বেপারীর নির্দেশে কাজ করতেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২১৩ দিন আগে
শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসি
শরীয়তপুরের বহুল আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই বছর পর এ রায় দেওয়া হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. কামরুজ্জামান।
২০২৩ সালে সদর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু নিবিড়কে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। পরিবার মুক্তিপণ না দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তারা। পরের দিন নিহত শিশুটির বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে ছিল। স্থানীয় শিশুকানন নামের একটি বিদ্যালয়ের দি্বতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল নিবিড়। ওই দিন স্কুল থেকে ফিরে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার। সন্ধ্যায় নিবিড়ের মায়ের মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করেন। তবে পুলিশকে জানানোয় পরের দিন সকাল ৬টার দিকে ওই বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শিশুটির বাবা মনির খান বলেন, ‘আমার অবুঝ আদরের সন্তান নিবিড়কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ২১ বছরের সাজার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এখন আমার এবং পরিবারের একটাই দাবি, আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’
২১৫ দিন আগে
শরীয়তপুরে ডগ স্কোয়াডের তল্লাশি: বাঁশঝাড়ে মিলল ৪৫ ককটেল
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ হাতবোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ‘ডগ স্কোয়াড’-এর সহায়তায় বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. তানভীর হোসেন জানান, অভিযানে ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়ির আশপাশ ও বাঁশঝাড় থেকে ৪৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তিন নারী ও একজন পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) একই ইউনিয়নের মুলাই বেপারি কান্দি গ্রামে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে সোহান বেপারী নামের এক যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হন। একই ঘটনায় আহত নবিন সর্দার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ওই ঘটনায় জাজিরা থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
২১৬ দিন আগে
জাজিরায় ‘হাতবোমা বানাতে গিয়ে’ বিস্ফোরণ, যুবক নিহত
শরীয়তপুরের জাজিরায় বোমা বিস্ফোরণে সোহান বেপারী (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের কান্দি গ্রামে কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির পাশে একটি ঘরে বোমা তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি জমি থেকে সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করে জাজিরা থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, রাতে বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির পাশে তার ভাই নুরুল ইসলাম বেপারীর একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাত বোমা (ককটেল) বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। যার মধ্যে চেরাগ আলী বেপারী কান্দির সোহান বেপারী নামের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি জমি থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছি।
২২০ দিন আগে
শরীয়তপুরে খোকন দাস হত্যার ঘটনায় তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের ফার্মেসির মালিক ও বিকাশের এজেন্ট খোকন দাস (৫০) হত্যার ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ।
র্যাব-৮ ও ইন্ট উইং, জানায়, র্যাব-১৪, সিপিসি-২ ও কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান, পরেশ দাসের ছেলে খোকন দাস একজন ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসায়ী। তিনি গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কেহরভাঙ্গা বাজারস্থ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির নিকটবর্তী তিলই এলাকায় পৌঁছানোমাত্র ৩–৪ জন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
রওনক জাহান জানান, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তী সময়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তাররা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা নানা ধরনের মাদক সেবন করে বলেও জানা যায়। মৃত্যুর আগে খোকন দাস উল্লিখিত আসামিদের নাম বলে গেছেন বলে জানান তিনি।
২২৪ দিন আগে