ভারী বর্ষণ থামলেও উজানের ঢলে নদ-নদীতে পানি বাড়ায় শেরপুরে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া ও শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে নদীতীরবর্তী অন্তত ৬৫টি পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় একটি স্কুল, মাদরাসা, মসজিদসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে জনপদ। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। নদীভাঙন রোধে জরুরি সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উজানের ঢলে মৃগী নদীতে পানি বাড়ায় নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া এবং শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালি নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৫০০ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে সড়কটি রক্ষার কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃগী ও চেল্লাখালি নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিধ্বস্ত সড়ক জরুরি মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁধ সংস্কারসহ রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়ন করা হবে।