শেরপুর
শেরপুরে খালে ভাসমান ড্রাম থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের শ্রীবরদীতে খালে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কুড়িকাহনিয়া বাজারে সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, খালের পানিতে প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে শ্রীবরদী থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে ড্রামটি খুলে ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ দেখতে পায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও ওই নারীকে হত্যার পর দেহ ড্রামে ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ জানান, মরদেহের গলায় কাপড় পেঁচানো এবং কপাল ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার তদন্ত ও মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দলও ঘটনাস্থলে রয়েছে।
১৩ দিন আগে
শেরপুরে নিখোঁজের পর পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের সাড়ে ১৪ ঘণ্টা পর একটি পুকুর থেকে ভেসে ওঠা দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের মধ্য নাকশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রোহান মিয়া (৭) ও এবাদুল ইসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে শিশু দুটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয় একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাসীর সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, শিশু রোহান ও ইসমাইলের মাছ ধরার শখ ছিল। তবে সাঁতার ভালোভাবে না জানলেও মাঝেমধ্যে তারা জলাশয়ে মাছ ধরতে নামত।
মাছ ধরতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে।
৭২ দিন আগে
আমরা সবই করতে চাই, কিন্তু পর্যাপ্ত ফান্ড নেই: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, আমরা সবই করতে চাই, তবে আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমাদের পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। যেটুকু বরাদ্দ আছে, তা দিয়ে যতটুকু কাজ করা সম্ভব, ততটুকুই করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মহারশি নদীর দুই তীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির আক্রমণ থেকে জান-মাল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবই করতে চাই, কিন্তু আমাদের হাত-পা বাঁধা। পর্যাপ্ত ফান্ড আমাদের নেই। যেটুকু বরাদ্দ আছে, তা দিয়ে যতটুকু কাজ করা সম্ভব, ততটুকুই করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। সমস্যাগুলো আমরা জানি। সময়মতো সব করা হবে। এ বছর না হলেও আগামী বছর দৃষ্টিনন্দন কিছু করতে পারব বলে আশা করছি।’
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির (প্রথম পর্যায়) আওতায় নির্মিত সড়ক পরিদর্শনে ঝিনাইগাতী উপজেলায় যান প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি সদ্য নির্মিত ২২টি সড়কের মধ্যে হলদীগ্রাম, নওকুচি ও গান্ধীগাঁও এলাকার তিনটি সড়ক ঘুরে দেখেন।
প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন, নালিতাবাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
৯৯ দিন আগে
শেরপুরে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করায় শেরপুরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। জেলার ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ৯৩ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় ১২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৩২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৪২ হেক্টর শাকসবজি, ১০ হেক্টর কলা এবং ৩৪ হেক্টর আউশ ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালির স্তর জমে কৃষিজমি সাময়িকভাবে অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সূদীপ্ত চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৃগী নদীর প্রায় দেড় কিলোমিটার, ভোগাই নদীর এক কিলোমিটার, চেল্লাখালী নদীর ৫০০ মিটার এবং মহারশি নদীর ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে দুই তীরের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় ১১ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শেরপুর সদর, নকলা, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় নদীভাঙনে ৭৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত পারাপারের সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া চেল্লাখালী নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী (গাজীরখামার হয়ে) সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য ১০ টন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১০৪ দিন আগে
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে বেইলি সেতু বিধ্বস্ত, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন কয়েক গ্রামের মানুষ
ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে জেলার নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত তিন শতাধিক পরিবার। নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি লোহার বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বিধ্বস্ত হয়। এ সময় সেতুর ওপর থাকা দুই শিশুসহ তিনজন অল্পের জন্য বেঁচে যান।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকার বেইলি সেতুর অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের তোড়ে সেতুটি ভেঙে পড়লে দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, চেল্লাখালী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গতকাল (সোমবার) সকাল থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রানীগাঁও এলাকায় ভাঙনের কারণে গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমেশ্বরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানিবৃদ্ধির ফলে আয়নাপুর ও কাড়াগ্রাঁও এলাকায় তীব্র স্রোত ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইগাতী উপজেলার রামেরকুড়া এলাকার পুরোনো ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি ঝিনাইগাতী সদর বাজারে প্রবেশ করে। এতে বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রবিবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। সোমবার সকাল থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে নিম্নাঞ্চলের অন্তত তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টার দিকে তা কমে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ২১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে সোমেশ্বরী নদীর পানি ২৪ দশমিক ১৭ মিটার এবং মহারশি নদীর পানি ২১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে এবং উজান থেকে অতিরিক্ত পানি না এলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
১০৬ দিন আগে
শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ২
শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সড়কের নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নালিতাবাড়ীর বাঘবের খড়িয়াপাড়া গ্রামের একদিল হোসেনের ছেলে অটোরিকশাচালক কামরুল হোসেন (৪০) ও সালেহাবাদ কৃষ্ণপট্টি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে অটেরিকশার যাত্রী শহিদুল ইসলাম (৪০)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে নালিতাবাড়ী শহরে পৌঁছান শহিদুল ইসলাম। পরে তিনি কামরুল হোসেনের অটোরিকশা নিয়ে পাঁচগাঁও এলাকার সাগরদী কৃষ্ণপট্টিতে তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কের সন্নাসীভিটা এলাকায় বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তাদে অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেখানে সড়কের পাশে রাখা বালুর স্তুপের কাছে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা ও দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা ও মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে সড়কের পাশে রাখা বালুর স্তুপে অটোরিকশাটি সজোরে ধাক্কা লেগে কিংবা অজ্ঞাত কোনো ভারী যানবাহনের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। গতকাল দিবাগত রাতে নালিতাবাড়ী শহর থেকে অটোরিকশাটি পাঁচগাও যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক কিংবা বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, মরদেহ দাফনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর বিনা ময়নাতদন্তে আজ (শনিবার) দুপুরে নিজ নিজ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
১০৯ দিন আগে
শেরপুরে নদ-নদীতে পানিবৃদ্ধি, ভাঙনে বিলীন ৬৫ বসতভিটা
ভারী বর্ষণ থামলেও উজানের ঢলে নদ-নদীতে পানি বাড়ায় শেরপুরে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া ও শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে নদীতীরবর্তী অন্তত ৬৫টি পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় একটি স্কুল, মাদরাসা, মসজিদসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে জনপদ। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। নদীভাঙন রোধে জরুরি সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উজানের ঢলে মৃগী নদীতে পানি বাড়ায় নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া এবং শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালি নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৫০০ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে সড়কটি রক্ষার কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃগী ও চেল্লাখালি নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিধ্বস্ত সড়ক জরুরি মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁধ সংস্কারসহ রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়ন করা হবে।
১১১ দিন আগে
শেরপুর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, দুজনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি
শেরপুরে সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে দুইজনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা ব্যর্থ করে তাদের ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়নের খাড়ামুরা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, ভারতীয় মানবপাচারকারীরা ওই দুজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তাওয়াকুচা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ শেরপুর সীমান্তে মেইন পিলার ১০৯৭-এর পাশ দিয়ে তাদের আবার ভারতের দিকে ফেরত পাঠান। বর্তমানে তারা ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত পিলারের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের যশোরের বাসিন্দা বলে দাবি করলেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা টুটুল বলেন, দুজন ব্যক্তি গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা থেকেই কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান করছিলেন। আজ (সোমবার) সকালে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে বিজিবি তাদের আবার সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে তারা পিলারের পাশে শূন্যরেখায় রয়েছেন।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত শেরপুর সীমান্তে মেইন পিলার (এমপি) ১০৯৭-এর নিকট দিয়ে আজ দুই জন ব্যক্তির বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা বিজিবি ব্যর্থ করে দিয়েছে। বিজিবির টহল দলের তাৎক্ষণিক সতর্ক অবস্থান গ্রহণ এবং সীমান্তবর্তী স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ফলে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
তাওয়াকুচা বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আজ সকালে সীমান্ত এলাকায় দুইজনকে পাওয়া যায়। আমরা তাদের ভারতের সীমানায় রেখে এসেছি। বর্তমানে তারা ১০৯৭ নম্বর পিলারের পাশে অবস্থান করছে। সীমান্তে মানবপাচারসহ সব ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি।’
১২৮ দিন আগে
শেরপুরে উজানের পাহাড়ি ঢলে নদী উপচে বাজার প্লাবিত, চেল্লাখালি নদী বিপৎসীমার ওপরে
শেষ রাতের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ী ঢলে শেরপুরে সীমান্ত জনপদের নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি ঘটেছে। মহারশি নদীতে পানিবৃদ্ধির ফলে নদী তীর উপচে ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর বাজার প্লাবিত হয়েছে।
সোমেশ্বরী নদীর পানিবৃদ্ধিতে আয়নাপুর বাজারে প্রবেশ করেছে ঢলের পানি। এতে করে বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, আজ (শনিবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় জেলার নালিতাবাড়ীতে ৩৫ মিলিমিটার এবং সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও পয়েন্টে সর্বোচ্চ ১৮০ মিলিমিটার ও শেরপুর সদরে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে চেল্লাখালি নদী নালিতাবাড়ীর বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ মিটার ওপর দিয়ে দিয়ে ২৩ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ঝিনাইগাতীতে মহারশি রশি নদী ২১ দশমিক ৫০ মিটার এবং শ্রীবরদীতে সোমেশ্বরি নদী ২৩ দশমিক ৬৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোসা. জিয়াসমীন খাতুন রুনা জানিয়েছেন, উজান থেকে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীগুলোতে পানিবৃদ্ধি ঘটেছে। আমরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। নতৃন করে বৃষ্টিপাত না হলে ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করছি।
১৪৪ দিন আগে
শেরপুরে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ: যুবককে পিটুনি, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর গর্ভপাতের ঘটনায় আটক ১
শেরপুর শহরে গৃহবধু ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সজবরখিলা এলাকার ঘটনায় গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনামুল হোসেন নামে এক যুবককে স্থানীয় আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।
অপরদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় মুল অভিযুক্তকে আটক করতে না পারলেও মামলার অপর আসামি সুন্নত আলী সন্তু (৬০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) শহরের সজবরখিলা ও ঢাকলহাটি এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে। ধর্ষণের এসব ঘটনায় শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (শনিবার) রাত ১০টার দিকে শহরের সজবরখিলা এলাকার মোবারক মিয়ার ছেলে এনামুল হোসেনকে স্থানীয় জনতা এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে এনামুলকে হেফাজতে নেয়। পরে তার শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভও করে এলাকাবাসী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে এনামুলের বাসায় গত ৫ মাস ধরে ভাড়া রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে এনামুল ওই গৃহবধূকে মেসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তিনি তার স্বামীকে জানালে পরিবার ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এনামুলকে সতর্কও করা হয়। এরপর থেকেই এনামুল ওই গৃহবধুর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরেই গতকাল দুপুরে বাড়িতে ওই গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এনামুল ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি গৃহবধু তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এনামুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার বলেছেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, জনতার কাছ থেকে এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (শনিবার) নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর পরিবার বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার ওরফে কায়েস (২৪), সুন্নত আলী সন্তুসহ (৬০) আরও কয়েকজনের নামে সদর থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, শিশুটিকে বিভিন্ন সময় স্থানীয় কাউছার মিয়া ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন। একাধিকবার এমন নিপীড়নে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক গঠনে পরিবর্তন এলে কাউসার মিয়া অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় তার গর্ভপাত করান। এ সময় শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল চাপ প্রয়োগ করে। পরে গত শুক্রবার শিশুটির মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছে, এরপর গর্ভপাত করানোর ফলে মেয়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখন আমার মেয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর শাস্তি চাই।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, ১২ বছরের একটি কন্যাশিশু স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত জটিলতায় গাইনি বিভাগে ভর্তি রয়েছে। শিশুটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং চিকিৎসা চলছে। যেহেতু এটি পুলিশ কেস, সে কারণে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে গতকাল বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
১৬৪ দিন আগে