সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জাতুয়া গ্রামের মুসাব্বির মিয়ার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— দোয়ারাবাজার উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী (৫০) এবং ছাতক উপজেলার জটি গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর উদ্দিন (৩৫)।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী লেনে একটি ট্রাক রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত হন। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহিরুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশাটি জব্দ করে জয়কলস হাইওয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই (নিরস্ত্র) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করি। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, মহাসড়কে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন পার্কিং করে রাখার প্রবণতা এবং অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচলের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।