শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমা বেগম (আসমা আক্তার) নামে এক নারীকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনাটি গত বুধবারের (১৩ মে)। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে আজ (শুক্রবার) বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্বামী জিয়া সরদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসমা বেগমের তীব্র ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে স্বামীকে একাধিক আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা বেগম মরদেহ চাকু দিয়ে টুকরো টুকরো করেন। মরদেহের দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের অন্যান্য অংশ শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে রেখে আসা হয়। এমনকি মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখারও চেষ্টা করা হয়।
বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং অভিযুক্ত নারীর অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।