১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামীকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে তাকে পুনরায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বুধবার (১৯ আগস্ট) তার প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদেশ অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি প্যারোলে মুক্ত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রয়াত স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখতে ঢাকার কলাবাগানের বাসভবন, গুলশানের আজাদ মসজিদের জানাজা এবং রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।
দীপু মনির আইনজীবী বলেন, ‘আমরা চার দিনের প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছেন।’
তিনি বলেন, ডা. দীপু মনির কারাবরণের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এর আগে তার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর এবার প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পেলেন তিনি।
ফয়সাল ইসলাম জানান, আজ সকাল ৬টায় কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় দীপু মনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্যারোলের পুরো সময় তিনি পুলিশ পাহারায় ছিলেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়াত ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে দীপু মনি স্বামীর মরদেহ দেখেন। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় গুলশান আজাদ মসজিদে। বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা ও দোয়া শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্যারোলে মুক্তির আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে আইনজীবী ফয়সাল ইসলাম বলেন, কারা আইন ও সংশ্লিষ্ট কারাবিধিতে দিনের আলোতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী তারা ১২ ঘণ্টার প্যারোল পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনগতভাবেই এই প্যারোল পেয়েছি। সরকার চাইলে এর চেয়ে বেশি সময়ের জন্যও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারত।’