কালবৈশাখী
পটুয়াখালীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৫ বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এতে নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এছাড়া লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আহাজারি চলছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর উত্তল রয়েছে। তবে মাছধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
৩৪ দিন আগে
কুড়িগ্রামে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাছপালা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতি
কুড়িগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা, ঘরবাড়ি ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বসতঘরগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে ঝড় শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরেই কুড়িগ্রামে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড দমকা হাওয়া ও ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতায় জেলার ৯টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়ে। এছাড়া অনেক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম রাঙ্গাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খোকন আলী বলেন, ‘গত রাতের ঝড়ে গাছ ভেঙে আমার টিনের ঘরের ওপর পড়ে। আমি গরিব মানুষ, কী দিয়ে এখন টিন কিনে ঘর ঠিক করব?’
একইভাবে হলোখানা ইউনিয়নের চর সারোডোব এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘রাতে হঠাৎ ঝড়ে আমার তিনটি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। এখন হাতে টাকা-পয়সা নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে থাকব বুঝতে পারছি না।’
৩৪ দিন আগে
কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতের মধ্যেই ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃষ্টিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিষদ মার্কেট, রেল স্টেশন রোড, কাজীপাড়া ও সরকার পাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও একই চিত্র দেখা যায়। জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিজে কষ্ট করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
এদিকে, কালবৈশাখীর সঙ্গে দফায় দফায় বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। অনেক পরীক্ষার্থী জানান, সকালে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পাশাপাশি রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের সংকট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউসজর আহমেদ জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৌরসভার শ্রমিকরা বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে ড্রেন পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পৌর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন সমস্যা কমাতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন জলাবদ্ধতা নতুন নয়। দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে একই ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।
৩৫ দিন আগে
জামালপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় মা ও দুই মেয়ে নিহত
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মা ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের পূর্ব দাগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ (সোমবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা।
নিহতরা হলেন— দাগী এলাকার মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৬৫) এবং তার দুই মেয়ে ফরিদা আক্তার (৪০) ও ফতে আক্তার (৩৭)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে নিজ বসতঘরের একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা ও দুই মেয়ে। রাত গভীর হলে হঠাৎ দমকা হাওয়ার সঙ্গে নেমে আসে প্রচণ্ড ঝড়। ওই মুহূর্তে ঘরের পাশের একটি বড় মেহগনি গাছ উপড়ে গিয়ে টিনের ঘরের ওপর সজোরে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা তিনজনই গাছের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
রাতের অন্ধকার ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়নি। পরে সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ইউএনও জিন্নাতুল আরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। গাছের নিচ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড আলমডাঙ্গার দুই গ্রাম, নিহত ১
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে দুইটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় দেওয়াল চাপা পড়ে আকমান আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন, তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হারদি ইউনিয়নের হারদি ও উদয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে অন্তত ২০টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির কারণে গৃহহীন হয়ে পড়া অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এবং হারদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে নিরূপণ করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৭৬ দিন আগে
নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত, ৯ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা
বৈশাখ মাস পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ঝড়বৃষ্টি। এরই মধ্যে গত দুদিন ধরে দেশের বেশিরভাগ জায়গায় কমবেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় জনমনে এসেছে স্বস্তি। বৃষ্টিপাতের এই ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃষ্টির পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের বিষয়েও সতর্ক করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, যে ধারা পরবর্তী দুদিন অব্যাহত থাকার পর আবার বাড়বে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
বজ্রবৃষ্টির সময় বেশকিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেগুলো হলো:
• বজ্রপাত হলে ঘরের মধ্যে থাকুন।
• জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।
• সম্ভব হলে যাত্রা এড়িয়ে চলুন।
• নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
• গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না।
• কংক্রিটের মেঝেতে শোবেন না, কংক্রিটের দেওয়ালেও হেলান দেবেন না।
• বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর প্লাগ খুলে রাখুন।
• জলাশয়ে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে উঠে আসুন।
• বিদ্যুৎ পরিবাহক বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
• শিলাবৃষ্টির সময় ঘরে অবস্থান করুন।
৪১১ দিন আগে
নাটোরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তিন শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত
নাটোরে কালবৈশাখী ঝড়ে সিংড়া উপজেলার তিন শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (৫ জুন) রাতে উপজেলার হাতিয়ান্দহ, কলম, চামাড়ি, ডাহিয়া, শেরকোল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ঝড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গাছ উপড়ে ফেলেছে। ঘরবাড়ির ওপর গাছ ও ডালপালা পড়ে ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ কারণে ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা।
আরও পড়ুন: ১২ মিনিটের ঝড়: শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু, লন্ডভন্ড ২০টি গ্রাম
হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমানি চঞ্চল জানান, ইউনিয়নের আগলাড়ুয়া, চক লাড়ুয়া, সোনাপাড়া, বড় সাঁঐল ও পাট সাঁঐল গ্রাম বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয়েছে। এসব গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বলে জানান তিনি।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের তালিকা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় রিমাল: ১২৭টি হরিণসহ সুন্দরবনে মৃত প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে ১৩২
৭২৭ দিন আগে
সিলেটে শিলাবৃষ্টি-কালবৈশাখীর তাণ্ডব
সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। এতে বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে রাস্তাঘাটে পড়েছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১০-১৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর-বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে এবং ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি।
আরও পড়ুন: রাখাইনে আরাকান আর্মির তাণ্ডব, বাংলাদেশে আশ্রয় নিল আরও ৩৭ বিজিপি সদস্য
বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে বিশেষ করে কানাইঘাট সদর এবং ৭ নম্বর দক্ষিণ বানীগ্রাম, ৮ নম্বর ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়ন ও ৯ নম্বর রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে প্রচণ্ড ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এতে প্রচুর গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা ভেঙে যায়। পাশাপাশি শিলা বৃষ্টির কারণে ফসলেরও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ার কারণে কানাইঘাট গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে রবিবার দুপুর থেকে গোটা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ঝড়ে রাস্তার উপরে উপড়ে পড়া গাছপালা কানাইঘাট ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় শিলা বৃষ্টির কারণে অনেকের টিনের বাড়ি-ঘরসহ মৌসুমি ফল ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সারাদিন থেমে থেমে বজ্রপাত হওয়ার কারণে এবং বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে গাছপালা ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার ইউনিয়নের অনেকের ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। শক্তিশালী ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর তাণ্ডব
৭৫৭ দিন আগে
ধামরাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে দেয়াল ধসে ২ নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু
ঢাকার ধামরাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ধসে পরা দেয়ালের চাপায় দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন।
এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ জন তাদের মধ্যে দুজন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (৬ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ইনচার্জ মো. ইউসুফ আলী।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
এর আগে রবিবার দিনগত রাতে ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের একটি বেসরকারি এগ্রো ফার্মের নিরাপত্তারক্ষীদের শয়নকক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কফিল উদ্দীনের ছেলে আনিসুর রহমান ও গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে শাহারুল আলম।
এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন- আল মামুন ও হামিদ আলী। তারা সবাই ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের আড়ালিয়া এলাকার এসএস এগ্রো লিমিটেডের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, শিলাবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের এসএস এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেডের ভিতরের একটি কক্ষে ৭ জন নিরাপত্তাকর্মী অবস্থান করছিলেন। এসময় কালবৈশাখী ঝড়ে প্রথমে ওই কক্ষের চাল উড়ে নিরাপত্তাকর্মীদের উপরে পরে। পরে দেয়ালও তাদের উপর ধসে পরে।
এসময় তাদের মধ্যে ৫ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজনের চিকিৎসা চলছে। অপর আরেকজন সামান্য আহত হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডিউটি ইনচার্জ মো. ইউসুফ আলী বলেন, গতরাতে দেয়াল ধসে আহত চারজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। বাকি দুই জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পাভেল মোল্লা বলেন, গতরাতে দেয়াল ধসে একটি ফার্মে কয়েকজন আহত হন। তাদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুইজন মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের লাশ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। তারা শঙ্কামুক্ত আছেন।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-ভটভটি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু
গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
৭৫৭ দিন আগে
কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরচাপায় ছেলেসহ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু
কালবৈশাখী ঝড়ে বসতঘরের নিচে চাপা পড়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার পাঁচ বছরের ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের হাজীপাড়া ঘোনার বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: তাপপ্রবাহে মৃত্যু-স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকিতে গবাদিপশু, ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
নিহতরা হলেন- আব্দুল কাইয়ুমের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছা. রুপতারা ও তার পাঁচ বছরের ছেলে তাইজুল।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে ঝড় বৃষ্টির সময় ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন রুপতারা ও তার ছেলে তাইজুল। এ সময় ঘরের উপরে থাকা একটি রঙিলা কাঠের গাছ ঝড়ে উপড়ে ঘরের উপর পড়ে যায়। এ সময় ঘরের নিচে চাপা পড়েন রুপতারা ও তার ছেলে তাইজুল। ঘটনাস্থলে তাইজুল মারা যায়। স্থানীয়রা আহত রূপতারাকে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: দিয়াবাড়ি লেকে পানিতে ডুবে ২ স্কুলছাত্রের মৃত্যু
ময়মনসিংহে ধান উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু
৭৫৮ দিন আগে