প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীনের গুয়াংজুতে আলোচনা সভা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীন বিএনপির উদ্যোগে দেশটির গুয়াংজু শহরের একটি স্থানীয় হোটেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চীন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সাখাওয়াত হোসেন কানন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আসিফ হক রুপু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শেখ মাহাবুবুর রশীদ, ওয়ালি উল্লাহ, হাসমত আলী মৃধা, হোসেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত, মাসুদ আহম্মেদ মাসুদ, মো. খোরশেদ আলম আপু, মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. নজিম আহম্মেদ নাদিম ও মাহাবুব জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা, দলটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও ১৯ দফা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় চীন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দলের কর্মসূচিতে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় চীনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। এ ছাড়া চীন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।
২ দিন আগে
দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে: রিজভী
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ...হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
রিজভী জানান, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে সেটি মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে গ্যাসের রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে।
‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। বিদ্যুৎ থাকবে—তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার রাজনীতি করে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।
দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।
দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ (অস্পষ্ট) টার্ম।’
রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’
রিজভী আরও বলেন, সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে এসব মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার কথায়, ‘সংকট আসবে। কিন্তু সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসে নেই। সব সংকট মোকাবিলা করেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
৩ দিন আগে
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ মঙ্গলবার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ১৭ বছরের বেশি সময় পর সরকার গঠনের পর এটিই দলটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির হাল ধরেন তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দীর্ঘ সময় দলটির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন। তিনবার তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলার পর ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তারেক রহমান। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই দল পরিচালনা করেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি দলকে নির্বাচনি রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন।
দেশে ফেরার পর দেশবাসীর উদ্দেশে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর মাই কান্ট্রি।’
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় বিএনপি। দলটি ২১১টি আসনে জয় পেয়ে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ১৭ বছরের বেশি সময় পর ক্ষমতায় ফিরে আসে।
সরকার গঠনের পর নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসীদের অধিকার ও সহায়তায় প্রবাসী কার্ড এবং প্রতিটি জেলায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজক ও বৌদ্ধ অধ্যক্ষদের জন্য সম্মানী, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বাণীতে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়া তার নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, দেশে যতবার জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের’ অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়।
বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। গত বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এছাড়া আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টারও প্রকাশ করা হবে।
এ ছাড়াও বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন ইউনিট ১ সেপ্টেম্বর সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।
৩ দিন আগে
জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়: প্রধানমন্ত্রী
জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ ১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থীরা দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে দলটির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে এবং করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে যতবার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।
গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগণ যখনই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের’ অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি।
বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম উল্লেখ করে তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে আবারও শুভেচ্ছা জানান।
৩ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া-খালেদার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান।
পরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে নিয়ে ফাতেহা পাঠ করেন এবং শহিদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
৩ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া ৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
সেপ্টেম্বরের উপযুক্ত সময়ে আরও দুটি কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যে একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ। এতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। আরেকটি কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণে নেতৃত্ব দেবেন যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
রিজভী জানান, এসবের বাইরে আরও বেশ কিছু কর্মসূচি থাকবে। এসব কর্মসূচির খসড়া দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে।
যৌথ সভায় বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
আ.লীগ নিষিদ্ধ কি না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে: উপদেষ্টা জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমেছে। দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনকে সরকার কতটুকু যুক্তিযুক্ত মনে করছে? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো আমি মনে করি তারা একটা সিম্বলিক কারণে আছে। কারণ হচ্ছে, একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, নিষিদ্ধ ঘোষিত আসলে কথাটা ঠিক না, আমরা টেকনিক্যালি যদি বলি, নাম যদি এভাবে বলি আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, এই জিনিসটা একটু স্পষ্ট করে রাখা দরকার, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে ‘সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯’-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা (আওয়ামী লীগ) বলছেন, তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন।
সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। কিছু করতে হলে অন্তত একটা নৈতিক সাহস লাগে।
তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বলি না, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি (স্মৃতিশক্তি) শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে পারবে বলে আমার মনে হয় না। তাই, তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরের দিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।
৭৩ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ.লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামীকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আগামীকাল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। কিন্তু বাহিনী হিসেবে এবং আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যে মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে (জেলা) আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দুয়েকটা জায়গায় এসব দেখেছি। তাতে করে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা আমাদের সমস্ত বাহিনীগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।’
তিনি বলেন, তার বাইরে আমরা আজকে থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম মেট্রো, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মেট্রো এবং এর বাইরে দুটো জেলাতে আমরা (সেনাবাহিনী) ডেপ্লয় (মোতায়েন) করেছি, যাতে যেকোনো রকমের অপতৎপরতা চিহ্নিত করা যায়।
৭৩ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ.লীগের গোলযোগ সৃষ্টির শক্তি নেই: ড. মাহবুব উল্লাহ
শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার শঙ্কা আছে, তবে তাদের এখন সেই শক্তি নেই। আগামী ২৩ তারিখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারবে, এমন শক্তি তাদের এখনও হয় নাই।
রবিবার (২১ জুন) এফডিসিতে সহিংসতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, সম্প্রতি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লির ইমিগ্রেশনে শিষ্টাচার-বহির্ভূত যে আচরণ করা হয়েছে, তা কেবল ব্যক্তিকে নয়, বাংলাদেশকে অবমাননার অপচেষ্টা। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উস্কানি ও অপপ্রচার এখনও অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান ও সচেতন থাকতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ এখন যে ভাষা ব্যবহার করে, তা অত্যন্ত নোংরা, নিকৃষ্ঠ ও অরুচিকর। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উস্কানি প্রদানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা আছে।
এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, গুজব ও অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে পরাজিত শক্তি পুনরুত্থানের পথ খুঁজে পাবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ডিজিটাল আসক্তি তৈরি হচ্ছে, তা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, তার জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির লক্ষ্যে এক শ্রেণির মানুষ মুহূর্তের মধ্যে বানোয়াট, মিথ্যা তথ্য ও গুজব ভাইরাল করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতিতে আঘাত হেনে পোস্ট দিয়ে দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করে এরা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিকৃত তথ্য, ছবি বা ভুয়া প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি করে। এই ধরনের হঠকারী পোস্টের কারণে আকস্মিক সংঘবদ্ধ পিটুনি বা ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, রক্তপাত হচ্ছে, প্রাণহানিও ঘটছে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। কিছু বিকৃত রুচির মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে মানুষকে সম্মানহানি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। রাজনীতিবিদ, চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গসহ কেউই এ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল আসক্তিতে ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মাদকাশক্তির মতোই এই আসক্তি শিক্ষার্থীদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। সোশ্যাল মিডিয়া কোনো ক্ষতিকর মাধ্যম না হলেও এর অপব্যবহারই মূলত অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তরুণদের। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক সচেতনতা ও সাইবার নিয়ন্ত্রকদের নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে সরকারি দল প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাছুদুর রহমান, সাংবাদিক মিরাজ মাহবুব ইফতি, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক জাফর ইকবাল।
প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
৭৪ দিন আগে
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
আজ ১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
১৯৭৮ সালের এই দিনে বিএনপি গঠন করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দিনটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো।
সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফাতিহা পাঠ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এর আগে ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছয় দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আজ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও র্যালি হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি বের করা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও র্যালি হবে। ৪ সেপ্টেম্বর চারা রোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনাসহ বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর সমসাময়িক প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিএনপির উদ্যোগে গোলটেবিল বৈঠক করা হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র ও পোস্টার প্রকাশ করা হবে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির সহযোগী সংগঠন ও তাদের সকল ইউনিটও যথাযথভাবে নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে।
৪৬ বছরের পথচলায় বিএনপি চারবার ক্ষমতায় ছিল এবং দুইবার বিরোধী পদের দায়িত্বে ছিল। ১/১১ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে প্রায় ১৯ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে।
দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পৃথক এক বাণীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বার্তায় জনগণ, দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৬ সদস্যের ‘জাতীয় উদ্যাপন’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৩৬৮ দিন আগে