উপনির্বাচন
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ জামায়াতের
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, ফলাফলের শিটে আগাম সই নেওয়া এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম হচ্ছে। ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং সকালেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পরওয়ার বলেন, শেরপুরের শ্রীবরদীতে তাদের প্রার্থী ইন্তেকাল করেছেন। নির্বাচনের আগে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
শেরপুরে তাদের প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বগুড়ায় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া শহরের আমির আবিদুর রহমান সোহেল।
তিনি বলেন, ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল আমরা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তিন দিন নির্বাচনি এলাকা সফর করেছি। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং হুমকির আলামত পেয়েছি।
বগুড়ায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা সকালেই পোলিং এজেন্টদের দিয়ে ফলাফলের শিটে জোরপূর্বক সই করিয়েছেন যা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী। উদাহরণ হিসেবে তিনি মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই কেন্দ্রে সকালে এজেন্টদের দিয়ে সই নেওয়ার পর জালভোট দেওয়া হয়েছে এবং পরে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত শেরপুরে অন্তত ১৩টি কেন্দ্রে জোর করে এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। শ্রীবরদী পৌরসভার ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে জাল ভোট প্রতিরোধ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাদের এজেন্টদের বের করে দেন এবং জামায়াতের এক যুবনেতাকে মারধর করেন।
তার অভিযোগ, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ‘পেটুয়া বাহিনী’ ভোটারদের, বিশেষ করে নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের হয়রানি করছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা একটি বড় রাজনৈতিক দলের অধীনে প্রথম উপনির্বাচনেই যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা এবং দায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে জনগণ এমন একতরফা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০০ কেন্দ্রের মধ্যে যেসব কেন্দ্রে জালভোট ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য উদ্বেগজনক। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে, ফলে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের তফসিল ঘোষণা করে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনে নির্বাচিত হন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসন রাখেন।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।
৭ দিন আগে
শেরপুর-৩, বগুড়া-৬ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে
শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এর আগে, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইসি এই দুটি নির্বাচনি এলাকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২ মার্চ, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল ৫ মার্চ এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৪ মার্চ।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই জয় লাভ করেন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসন বাদে দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-২ এবং ৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রেখে ১২ ফেব্রুয়ারি ইসি ২৯৭ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছিল।
৮ দিন আগে
উপনির্বাচন: ৯ এপ্রিল বগুড়া ও শেরপুরের ২ আসনে সাধারণ ছুটি
বগুড়া ও শেরপুরের দুটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
বুধবার (১ এপ্রিল) এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (রুলস অফ বিজনেস ১৯৯৬)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে এ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় সংসদের ৪১ (বগুড়া-৬) ও ১৪৫ (শেরপুর-৩) শূন্য আসনে ভোটগ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এ সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে।
১৫ দিন আগে
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট হতে পারে ৯ এপ্রিল
শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হতে পারে আগামী ৯ এপ্রিল।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের এক জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিকেলে দুটি আসনে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর-৩ আসনে পুনঃতফসিল এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ দুই আসনের প্রবাসী এবং দেশের ভেতরে থাকা সরকারি কর্মকর্তা ও ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা পোস্টাল ব্যালটে যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হবে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করে ইসি।
এখন নতুন তফসিলের মাধ্যমে এ আসনে ভোট করতে হবে। অন্যদিকে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়ী হলেও সংসদে একইসঙ্গে একাধিক আসনে সদস্য থাকা যায় না বলে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। শূন্য এ আসনে এখন উপনির্বাচন করবে ইসি।
৫১ দিন আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে বাধা নেই
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
এর ফলে আগামী ৫ জুন এই আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণে আর কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আরও পড়ুন: দেশব্যাপী অবরোধের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন চলছে
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এক প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী এম. সাঈদ আহমেদ রাজা, আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ (এসকে) মোরশেদ ও আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি।
অন্যপক্ষে ছিলেন- আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম।
গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে এ আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নজরুল ইসলামের এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৬ মে হাইকোর্ট উপনির্বাচন স্থগিত করে আদেশ দেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাইকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু ওই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ঘোষিত ফলাফল বাতিল করতে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম দুলাল বিশ্বাসকে বিজয়ী ঘোষণার দাবিতে করা ইলেকশন পিটিশন হাইকোর্টে বিচারাধীন।
বিচারাধীন ইলেকশন পিটিশন নিষ্পত্তির আগেই উপ-নির্বাচন হয়ে গেলে পিটিশনটি অকার্যকর হয়ে যাবে। সেজন্য উপ-নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানায়। হাইকোর্ট ২১ দিনের জন্য এই উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে আগামী রবিবার থেকে ইলেকশন পিটিশনের উপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত
পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওই আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নায়েব আলী জোয়াদ্দার। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত বুধবার আদেশ দেন।
ভোটে কারচুপির অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাস দুলালের পক্ষে হাইকোর্টে করা ইলেকশন পিটিশনে বলা হয়, ভোট গ্রহণ শেষে ৭ জানুয়ারি বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঝিনাইদহ-১ আসনে ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়।
কাস্টিং ভোটের ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলামের সই করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ ছিল।
কিন্তু ওই আসনের চূড়ান্ত ফলে ৯ শতাংশ ভোট বেড়ে যায়। ওই আসনে ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ কারণে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭৮ ভোট কাস্টিং দেখানো হয়, যা প্রথম প্রতিবেদনের চেয়ে বেশি ২৮ হাজার ৩৮৯ ভোট। এসব ভোট নৌকা প্রতীকে কাস্টিং দেখানো হয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়।
এরপর ৮ জানুয়ারি ভোটের ফলের গেজেট স্থগিত রাখতে এবং ১০ জানুয়ারি জারিকৃত গেজেট বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী এসব ঘটনা তুলে ধরে হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল বিশ্বাস।
পরে ওই পিটিশনের শুনানি নিয়ে গত এক ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই মাসের জন্য আব্দুল হাইকে বিজয়ী ঘোষণার গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
একইসঙ্গে এই নির্বাচনে কারচুপি করে ফল ঘোষণার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্বাচন কমিশন, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, ইউএনওসহ ১৭ বিবাদীর প্রতি নোটিশ জারি করেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত।
এদিকে ইলেকশন পিটিশন নিষ্পত্তির আগেই আব্দুল হাই মারা যান। ফলে ওই আসনে উপ-নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসি।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন ও কুমিল্লা সিটি উপনির্বাচন ৯ মার্চ: ইসি
৭০৮ দিন আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন ২১ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৫ জুন এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করার কথা ছিল।
জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করে এ আদেশ দেন।
গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থী আবদুল হাই জয়ী হন। এরপর গত ১৬ মার্চ আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।
আরও পড়ুন: ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম বাড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
পরে আগামী ৫ জুন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর জারি করা গেজেট বাতিল চেয়ে একটি নির্বাচনি রিট হাইকোর্টে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে এ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল স্থগিত করে আগামী রবিবার (১২ মে) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ওই আসনের গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে নির্বাচনি আবেদন করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।
গত ১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আবদুল হাই ইন্তেকাল করেন।
আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ইলেকশন পিটিশন নিষ্পত্তির আগেই উপনির্বাচন হলে পিটিশনটি অকার্যকর হয়ে যাবে। সেজন্য উপনির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানাই। হাইকোর্ট ২১ দিনের জন্য এই উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। একইসঙ্গে আগামী রবিবার থেকে নির্বাচনি পিটিশনের উপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি ঝিনাইদহ-১ আসনে প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোট পড়ে। কিন্তু নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ভোট পড়েছে ৫৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা প্রথম প্রতিবেদনের চেয়ে ২৮ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ৮ জানুয়ারি ও ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত ভোটের ফল ও গেজেট প্রকাশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রংপুরে শ্রম আদালতের মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
৭১০ দিন আগে
কুমিল্লা সিটির মেয়র নির্বাচিত তাহসিন বাহার
শনিবার অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) উপ-নির্বাচনে বেসরকারিভাবে তাহসিন বাহার সূচনাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় নগরীর জিলা স্কুল মিলনায়তনে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন।
কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে সূচনা পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয়বারের মতো ময়মনসিংহের মেয়র নির্বাচিত ইকরামুল হক টিটু
আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট এবং অপর প্রার্থী নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম পেয়েছেন ৫ হাজার ১৭৩ ভোট।
সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টার দিকে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়েছে।
তাহসিন বাহার বলেন, এ বিজয় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ ও কুমিল্লা নগরবাসীর বিজয়।
এ সময় তিনি কুমিল্লা নগরীর সংস্কারে সর্বস্তরের সহযোগিতা কামনা করেন।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় মেয়র আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুতে মেয়র পদটি শূন্য হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা-ময়মনসিংহ সিটির ভোট গ্রহণ চলছে
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: ভোটকেন্দ্রের পাশে গুলিবিদ্ধ ২ জন
৭৬৮ দিন আগে
দ্বিতীয়বারের মতো ময়মনসিংহের মেয়র নির্বাচিত ইকরামুল হক টিটু
শনিবার অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে ইকরামুল হক টিটুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে টিটু আবারও মসিক মেয়র নির্বাচিত হলেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।
টিটু পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৪ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আইনজীবী সাদেকুল হক খান মিল্কি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৭৬৩ ভোট।
অপর প্রার্থী এহতেশামুল আলম পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৩৩ ভোট, রেজাউল পেয়েছেন ১ হাজার ৪৮৭ ভোট ও জাতীয় পার্টির শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৩২১ ভোট।
সকাল ৮টা থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।
এছাড়া ৩২টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ও ১১টি সংরক্ষিত নারী আসনে ১৪৯ জন কাউন্সিলর ও ৬৯ জন নারী কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এবারের উপনির্বাচনে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৪৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা-ময়মনসিংহ সিটির ভোট গ্রহণ চলছে
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: ভোটকেন্দ্রের পাশে গুলিবিদ্ধ ২ জন
৭৬৮ দিন আগে
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম ওবাইদুর রহমান
কুড়িগ্রামে জেলা পরিষদের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন আ ন ম ওবাইদুর রহমান।
তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫২৬টি ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আনারস প্রতীক মো. জাফর আলী পেয়েছেন ৪৬৮টি ভোট।
আরও পড়ুন: বিলাসিতা পরিহার করে জনগণের সেবা করুন: নির্বাচিত জেলা পরিষদকে প্রধানমন্ত্রী
শনিবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সবকটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে নিবার্চনি ভোট দেন ভোটাররা।
কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিলহাহাজ উদ্দিন বলেন, জেলায় ৯টি উপজেলার ৯টি ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই বেসরকারিভাবে ৫৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী আ ন ম ওবাইদুর রহমান।
আরও পড়ুন: জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বললেন গণপূর্তমন্ত্রী
ইউএনওদের উপজেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: হাইকোর্ট
৭৬৮ দিন আগে
দেশব্যাপী অবরোধের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন চলছে
দেশব্যাপী অবরোধের মধ্যে আজ (৫ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে চলছে, তবে ভোটার উপস্থিতি কম।
সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীন চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার ১৩২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন ও ২ পৌরসভার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে ইসি
ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৭ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনে মোট ৪ লাখ ১০ হাজার ৭২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, জাতীয় পার্টির আবদুল হামিদ ভাসানী, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির রাজ্জাক হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনজীবী জিয়াউল হক মৃধা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের মতো লক্ষ্মীপুর-৩ আসনেও শান্তিপূর্ণভাবে উপনির্বাচন চলছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিজয়ী
এ আসনের ১১৫টি কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯৫০ জন পুলিশ সদস্য, ১ হাজার ৪৯৫ জন আনসার সদস্য ও ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া উপ-নির্বাচনে র্যাবের ৭টি টিম টহল দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক পিঙ্কু, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ রাকিব হোসেন, জাকের পার্টির শামসুল করিম খোকন ও এনপিপির সেলিম মাহমুদ এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার মৃত্যুতে ১ অক্টোবর ওই দুটি আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু বিজয়ী
৮৯৪ দিন আগে