কুপিয়ে হত্যা
যশোরে জমির বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত খুনি
যশোরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের একজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) নামের অন্যজন সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার।
নিহত রফিকুল যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে এবং পলাশ একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সলুয়া কলেজের সামনে রফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন পলাশ। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রফিকুলকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে রফিকুলেরও মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৪ দিন আগে
রাতের আঁধারে কুপিয়ে হত্যা, পটুয়াখালীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের হামলায় বশির শরীফ (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বদরপুর এলাকায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপর আজ (শনিবার) ভোরে বাড়ির পাশের মাটির সড়কে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলকাবাসী।
নিহত বশির বদরপুরের মো. আব্দুল শরীফের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অত্যন্ত ভদ্র ও ধার্মিক মানুষ ছিলেন বশির। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। তার মতো মানুষকে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানাতে পারেননি তারা। তবে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
নিহতের বড় ভাই জাকির শরীফ বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে বশির বাড়িতে না ফেরায় আমি তার মোবাইলে ফোন দিই, কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় ভেবেছিলাম সে হয়তো কোথাও আছে। সকালে আমাদের বড় ভাই ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে বাড়ির দরজার পাশেই বশিরের মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন। পরে দৌড়ে এসে দেখি, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরজুড়ে রক্ত।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের বেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
১৫ দিন আগে
রাজধানীর হাজারীবাগে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
রাজধানীর হাজারীবাগ থানার ঝাউচর এলাকায় মো. শিপন (২৪) নামে এক যুবককে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরের দিকে গুরুত আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই যুবককে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিপনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। বর্তমানে হাজারীবাগ বড় মসজিদ গলি এলাকায় থাকতেন তিনি। তার বাবার নাম শাহআলম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র শেখ। তিনি বলেন, ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। হাজারীবাগ ঝাউচর সিয়াম স্কুল গলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ছেলেটি। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মাথা, দুই হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, কে বা কারা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তা তৎক্ষাণিক জানতে পারিনি। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
গাজীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
গাজীপুরের শ্রীপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লতিফপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম ফরিদ সরকার। তিনি শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর গত বছর জুলাই আন্দোলনের পর তিনি দেশে ফিরে একটি ইটভাটার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি একটি মামলা চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে ফরিদকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
পুলিশ জানায়, ইটভাটায় ফরিদ সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বড় ভাই ফারুক হোসেন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা করা হবে।
৩২ দিন আগে
খুলনায় আদালত চত্বরে দুজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা
খুলনা আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে দুজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রূপসার বাগমারা এলাকার হাসিব হাওলাদার (৪১) এবং ফজলে রাব্বি রাজন (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা মহানগর ও দায়রা জজ আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আসেন বাগমারা এলাকার রাজন ও হাসিব। হাজিরা শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন তাদের ওপর গুলি চালায় ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। এরপর তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন, আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করা হয়েছে বলে খবর পেয়ে এসেছি। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে রক্ত, চাপাতি ও দুটি মোটরসাইকেল পড়ে ছিল। তাদের গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনার পরে পুরো আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আদালতের আইনজীবীরা।
৫৬ দিন আগে
ভোলায় বাড়িতে ঢুকে মসজিদের খতিবকে কুপিয়ে হত্যা
ভোলায় নিজ বাড়িতে ঢুকে মাওলানা আমিনুল হক নোমানী (৪৫) নামে এক মসজিদের খতিব ও মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে শহরের চরনোয়াবাদে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মাওলানা আমিনুল হক নামের ওই ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকেভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
নিহত মাওলানা আমিনুল হক নোমানী ওই এলাকার মাওলানা এনামুল হকের ছেলে। তিনি ভোলা সদর উপজেলা জামে মসজিদের খতিব ও ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম চরনাবাদ জামে মসজিদ থেকে এশার নামাজ শেষ করে বাড়িতে যান আমিনুল হক। এ সময় তার স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানদের কেউই বাড়িতে ছিল না। রাত সোয়া ৯টার দিকে আমিনুল হককে তার নিজ ঘরের মধ্যে কুপিয়ে জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ সময় তার চিৎকার শুনে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আমিনুল হককে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মাথা, গলা, ঘাড়, বুক ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখমের আঘাত ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আমিনুল হকের বাড়ির ড্রয়িং রুমে সোফার সামনে মেঝেতে রক্ত পড়ে আছে। একটি ওয়েব ক্যামসহ কম্পিউটার অন করা অবস্থায় রয়েছে। টেবিলের ওপর তার কম্পিউটারের সামনে একটি ঘড়ি। অপর টেবিলে তার টুপি পড়ে আছে। তবে তাকে হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি।
এ ঘটনার বিচার দাবিতে তাৎক্ষণিক ভোলা সদর রোডে বিক্ষোভ মিছিল করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ইসলামিক দলের নেতারা ও এলাকাবাসী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের একাধিক টিম কার্যক্রম শুরু করেছে।
১৪০ দিন আগে
খুলনায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা
খুলনার দিঘলিয়ায় আলামিন সিকদার (৩৩) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের নন্দনপ্রতাপ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আলামিন ওই গ্রামের কাওসার শিকদারের ছেলে।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
কামারগাতী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল জানান, আজ (শনিবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আলামিনের স্ত্রীর সাবেক স্বামী মো. আসাদুল ঝিনাইদহ থেকে এসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীকে আলামিন কেন বিয়ে করেছেন— এই ক্ষোভ থেকেই আসাদুল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামিনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ তদন্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন এসআই জামিল।
১৭৬ দিন আগে
রাজবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
রাজবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে আমজাদ খান (৬০) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মুচিদহ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে আমজাদের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
পুলিশ জানায়, পূর্বের বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় (২৩ জুলাই) আমজাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষ। পরদিন (বৃহস্পতিবার) বিকালে তার ভাই আরিফুল আলম খান বাদী হয়ে ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওইদিন রাতেই সোহেল মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বুধবার বিকালে বাড়ির সামনে স্থানীয় সোহেল ও সবুজদের সঙ্গে আমজাদ খানদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মারামারি বেধে যায় এবং সোহেল মণ্ডলদের লোকজন বেশি মার খায়। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় আমজাদ খান বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় গেলে সোহেল ও সবুজদের লোকজন তার পথরোধ করে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ বিলের কোটি টাকা আত্মসাৎকারী রাজবাড়ীর সেই মিটার রিডারম্যান গ্রেপ্তার
আরিফুল আলম খান জানান, ‘আমজাদকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
তিনি আরও জানান, অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে শুক্রবার (২৫ জুলাই) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। অবস্থার আবার অবনতি হলে শুক্রবার ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে মারা যান আমজাদ।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, পূর্বের বিরোধ কেন্দ্র করে কৃষক আমজাদ খানকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ, এরপর তিনি মারা যান। মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত করে রবিবার প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সোহেল মণ্ডল নামের একজনকে ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১৮১ দিন আগে
যশোরে বন্ধুর সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় যুবককে খুনের অভিযোগ
যশোর শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় আশরাফুল ইসলাম বিপুল (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বন্ধুর সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ইসলাম যশোর শহরতলীর শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার আখতার হোসেনের ছেলে। তিনি এসিআই গ্রুপ নামে একটি বেসরকারি কোম্পানির ডিপোর শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের পিতা আখতার হোসেন জানান, হামলাকারী শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকার বাপ্পী ও বিপুল বন্ধু ছিলেন। বাপ্পী মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় তার স্ত্রী সুমাইয়া তাকে তালাক দেন। এরপর সুমাইয়ার সঙ্গে আশরাফুলের সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন। এ কারণে বাপ্পী ক্ষিপ্ত হন। আশরাফুল ও সুমাইয়াকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন বাপ্পী। এরপর বিভিন্ন সময় বাড়ির সামনে বোমাবাজির ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন আখতার হোসেন।
আরও পড়ুন: যশোরে স্টিলের বাক্সে মিলল গৃহবধূর লাশ, স্বামী আটক
তিনি আরও জানান, শনিবার রাতে কৌশলে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে আশরাফুলকে কুপিয়ে জখম করেন বাপ্পী ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এর কিছু সময় পর মারা যান আশরাফুল।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শাকিরুল ইসলাম জানান, আশরাফুলের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে ভর্তি করে ওয়ার্ডে পাঠানোর পর তিনি মারা যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। হামলাকারীদের তথ্য নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৯৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসা-সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে মোহন আলী (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা।
এ ঘটনায় হৃদয় (২৫) নামের আরও যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুণ্ডি গ্রামের ঠোঁটারপাড়া মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহন আলী জামালপুর গ্রামের মৃত মদন আলীর ছেলে এবং আহত হৃদয় একই গ্রামের মৃত মসুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঠোঁটারপাড়া ও জামালপুরের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মোহন ও হৃদয়ের মাদক ব্যবসা নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন মোহন ও হৃদয় তাদের জনি নামের এক বন্ধুর অসুস্থ দাদাকে দেখতে ঠোঁটারপাড়ায় যান। বন্ধুর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠোঁটারপাড়া মাঠ থেকে তাদের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে জনি পালিয়ে গেলেও মোহন ও হৃদয় তাদের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় তাদের কুপিয়ে আহত করা হয়।
আরও পড়ুন: যশোরে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
পরে টহলরত বিজিবির একটি দল তাদের উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহন আলীর মৃত্যু হয়।
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আক্তারুজ্জামান লিটন বলেন, ‘মাদক ব্যবসা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পুরোনো বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মোহন মারা গেছেন, হৃদয় হাসপাতালে ভর্তি।’
বিজিবির মহিষকুণ্ডি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শওকত আলী বলেন, ‘আমাদের টহল দল আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিহতের লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
২১১ দিন আগে