কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লায় মা ও ৮ মাসের ভাতিজিকে ‘কুপিয়ে হত্যা’, যুবক আটক
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাকে ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ঈমন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার বড় ভাবি রাবেয়া বেগমকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬২) এবং তার ৮ মাস বয়সী ভাতিজি ইশরাত।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম আহসান বলেন, সকালে চিৎকার শুনে তারা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে পেয়ারা বেগমের মরদেহ এবং খাটের ওপর শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ঈমনকে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। তবে কী কারণে সে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটালো, তার কিছুই বলতে পারছি না।
আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও সেখানে যাচ্ছি। ঈমনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ঈমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
৪ দিন আগে
হবিগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে ‘হত্যা’
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে জায়দুল মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মন্দরি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জায়দুল ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার পুত্র।
পুলিশ জানায়, জায়দুল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের আব্দুল মজিদের পরিবারের। আজ (শুক্রবার) সকালে জায়দুল তাদের গ্রামের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে একা পেয়ে গতিরোধ করে কিছু লোক। এক পর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৭ দিন আগে
টাঙ্গাইলে বরখাস্ত আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত আনসার সদস্য হানিফ খানকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হানিফ হাবলা উত্তরপাড়ার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার আলী খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে হানিফ বিলপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে এলাকার লোকজন তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে হানিফ খান নামে এক আনসার সদস্যকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৬ দিন আগে
সৎ মাকে হত্যার ১০ বছর পর আপন মাকেও ‘কুপিয়ে হত্যা’ করল যুবক
ফরিদপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন মাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ১৬ বছর আগে একইভাবে তার সৎ মাকেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর বায়তুল আমানের রহমত মোল্যারডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
নিহত নারী ওই এলাকার মৃত শেখ আকবরের স্ত্রী সামেলা বেগম (৬০)। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। ছোট ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রাহিম শেখ মানসিক বিকারগ্রস্ত ও মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তুচ্ছ কারণে মাঝেমধ্যে তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো। কয়েকদিন আগেও তিনি তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এর জের ধরে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যরা না থাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাকে কোপাতে থাকেন। এতে তার মায়ের মাথা কেটে মগজ বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ২০১৬ সালে সৎ মাকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন রহিম। ওই ঘটনায় প্রায় ৬ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে তার বাবা তাকে জামিনে বের করে আনেন। এরপরও তিনি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। তার থাকার ঘরে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের মেয়ে কাকলি আক্তার বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে আমি কাজে চলে যাই। আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় আলাদা ঘরে থাকতে দেওয়া হতো। আমি যখন বেরিয়ে যাই, তখন তিনি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুপুরে মাকে মেরে ফেলছে শুনে বাড়িতে ছুটে আসি।’
ঘটনাটি নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ছেলেটি তার মাকে কোনো কিছু দিয়ে উপুর্যপুরি আঘাত করে পালিয়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা মরদেহ দেখতে পাই। প্রায় ১০ বছর আগে অভিযুক্ত তার সৎ মাকে হত্যা করে ৬ বছর কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে তার পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছে।’
তার থাকার ঘর থেকে উদ্ধার করা মাদক সেবনের সরঞ্জাম আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫৭ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযানে ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা তিনজন ‘পেশাদার খুনিকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের কামালপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত হয়েছেন জাহাঙ্গীরের সহযোগী মোহাম্মদ আলীর ছেলে বিএনপি নেতা হাদিস মিয়া (৩৮)।
গ্রেপ্তাররা হলেন— বরগুনা জেলার বামনা থানার চালিতাবুনিয়া গ্রামের হেলাল এবং মহিউদ্দিন ও জাকির।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর কামালপুর এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে পৌঁছালে জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় তিন দুর্বৃত্ত। ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে আহত দুজনকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বাছেদ শিকদার জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পরপরই তিনজন হামলাকারী জাহাঙ্গীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি তাকে কোপাতে থাকে। হামলা ঠেকাতে গেলে হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে মিঠামইনে এসেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পুরো এলাকায় জেলা পুলিশের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনাকারী এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
৭১ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরে দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, পিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীসহ তার মা ও ছোট বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদার নামের এক যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। তাদের সংঘবদ্ধ পিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় ঘটনাটি ঘটে। তবে কী কারণে ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা বলতে পারেনি কেউ।
সংঘবদ্ধ পিটুনিতে আহত হয়ে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছে।
নিহতরা হলেন— মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রায়পুরের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অন্তর মজুমদার নামের ঘাতক যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও ঘাতককে আটক করে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, নিহত অন্তর কয়েক মাস আগে একই ভবনের আরেকটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি ফল বিক্রেতা ছিলেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকেও সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল, তবে সেখানে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি।
ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে তা জানা যায়নি। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৯২ দিন আগে
নওগাঁয় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেল স্টেশনের পাশে শিমুলিয়া নামক স্থান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
নিহত নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশিরের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর তার বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন শিমুলিয়া নামক স্থানে নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল রেলওয়ে থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ‘সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
১০০ দিন আগে
চট্টগ্রামে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া বৌদ্ধবিহার মন্দির-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশুটির নাম পিয়াস বড়ুয়া (৫)।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং এক শিশু আহত হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়রাা জানান, পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম শহরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।
প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া জানান, রাতে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গিয়ে তারা দেখতে পান, ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াস রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত দেহ।
স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। আহত পিয়াসকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। তার ধারণা, ওই লেনদেন-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে হামলা করে থাকতে পারে।
সুজন বড়ুয়া বলেন, আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।
তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র নাম উল্লেখ করেছিলেন।
১০৩ দিন আগে
ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে ‘হত্যা’, আটক ১
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৭) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গফরগাঁও পৌর শহরের শিলাসী মাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি যুবলীগ নেতা তাজমুল গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নাহিয়ান রবিন তার বাবার একমাত্র সন্তান। গতকাল (সোমবার) রাতে তিনি উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বন্ধুদের নিয়ে জন্মদিন পালন করেন। অনুষ্ঠান শেষে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে বাসায় ফিরছিলেন।
বাসায় ফেরার পথে শিলাসী মাজার রোড এলাকায় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা মুখোশধারী অজ্ঞাত ৫-৬ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সে সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
১০৮ দিন আগে
যশোরে নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ইমামুল হোসেন (৫৫) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমামুল হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, কিছুদিন আগে ইমামুল হোসেনের নাতনিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ইভটিজিং করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গতকাল (সোমবার) রাতে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমামুল হোসেনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাহুল দেব ঘোষ জানান, ইমামুল হোসেনের পিঠের ডান পাশে গুরুতর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, রবিউল, হোসাইন, রাকিব, মেহেদী ও রাব্বির নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
১০৮ দিন আগে