রমজান
কুড়িগ্রামে রমজানে ভেজাল রোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা জেলা প্রশাসকের
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে করণীয় নির্ধারণে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, আরডিসি শেখ মাহবুবে সোবহানী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কুড়িগ্রাম জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে কুদরত-এ-খুদা বলেন, ‘পবিত্র রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এ সময় খাদ্যে ভেজাল, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, বাজার তদারকি জোরদার করা হবে এবং ভেজালবিরোধী অভিযানে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বক্তারা রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজার তদারকি দল সক্রিয় করা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে সুষ্ঠু পরিবেশে রমজান পালনে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়— রমজান মাসজুড়ে নিয়মিত বাজার তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অভিযোগ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রমজান পালন করতে পারেন।
৭ ঘণ্টা আগে
রমজানে অতিরিক্ত মুনাফার প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও ধর্মীয় পরিবেশের পবিত্রতা বজায় রাখতে চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অতিরিক্ত মুনাফা, পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা প্রশাসক।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী।
সভায় মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য বাড়ানো যাবে না। সারা বছর যে দাম ছিল, রমজানেও তা বহাল রাখতে হবে। রোজাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, একজন দোকানি ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। এর বেশি নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার না করে সচেতনভাবে কেনাকাটা করতে হবে। অতিরিক্ত ক্রয় ও মজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।’
এছাড়া রমজানে মসজিদে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সেহরি ও ইফতারের সময় যেসব মসজিদে সাইরেন রয়েছে, তারা ১-২ মিনিট সাইরেন বাজাতে পারবেন। তবে সেহরির আগে দীর্ঘ সময় মাইক ব্যবহার করে বয়ান, গজল বা ওয়াজ করা যাবে না। অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনা করেও এ বিষয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। সভায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারাবি নামাজ আদায়ের বিষয়েও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, রমজান উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় দুটি এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ন্যায্যমূল্যের বিক্রয়কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ডিম, দুধ, মাংস, মুরগি ও ফলমূল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুদুর রহমান সরকার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দীপক কুমার পাল, অহীদ্র কুমার মণ্ডল, জেসমিন আক্তার, শিল্পী মণ্ডল, মোহাম্মদ সুজাত কাজী, নরেশ চন্দ্র পাল, সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।
৮ ঘণ্টা আগে
রমজানে পুঁজিবাজারে লেনদেনে নতুন সময়সূচি
আসন্ন রমজান মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডিএসইর ব্যবস্থাপক (প্রকাশনা ও জনসংযোগ) মোহাম্মদ শাখাওয়াত-ই-এলাহি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ডিএসইর লেনদেন সকাল ১০ টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত।
তবে ডিএসই অফিসিয়াল কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের ছুটির পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অফিস আগের নিয়মে চলবে। স্বাভাবিক সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
এর আগে রমজান মাসের জন্য ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সূচি অনুযায়ী রমজান মাসে ব্যাংকে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর শুক্রবার ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি।
১০ ঘণ্টা আগে
রমজান মাসজুড়ে মাধ্যমিকের ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ
পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম ফয়েজ, অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল ও অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।
ইলিয়াছ আলী মন্ডল বলেন, সরকার মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরো রমজান মাসজুড়ে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮ মার্চ থেকে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ ৭ মার্চ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রেখেছে। একই মন্ত্রণালয়ে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত, এটি বৈষম্যমূলক। আইন সবার জন্য সমান। সে কারণে হাইকোর্ট রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় পুরো রমজান মাসজুড়ে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে, পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট করা হয়। মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডলই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে—এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারা দিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।
১ দিন আগে
রমজানে সুলভমূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করবে সরকার
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ জনগণ যেন সহজেই প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাসব্যাপী সুলভমূল্যে দুধ, ডিম, গরুর মাংস ও ড্রেসড ব্রয়লার বিক্রি করবে সরকার।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মাংস, ডিম ও দুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার, দুধ, ডিম ও গরুর মাংস সুলভমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় ড্রেসড ব্রয়লারের মাংস প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে।
১৩ দিন আগে
রমজানের আগে নির্বাচন সম্ভব: তারেককে ড. ইউনূস
সময় মতো প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন এপ্রিলের পরিবর্তে ২০২৬ সালের রমজানের আগের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, তবে, সেক্ষেত্রে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের বিষয়ে এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রয়োজন হবে।
শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে প্রস্তাব করেছিলেন যে আগামী বছর রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও বিশ্বাস করেন সেই সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান উপযুক্ত হবে।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূস-তারেকের বৈঠক শেষ
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদি সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়, তাহলে ২০২৬ সালে রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, সেক্ষেত্রে সংস্কার এবং বিচারের বিষয়ে এই সময়ের মধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতির প্রয়োজন হবে।’
এতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন তারেক রহমান। দলের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ‘ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য তারেক রহমানকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।’
আরও পড়ুন: ইউনূস-তারেকের সাক্ষাৎ: আলোচনার এজেন্ডা ও ফলাফল কী হতে পারে?
২৪৮ দিন আগে
তাপমাত্রা ৪০ ছুঁই ছুঁই, চুয়াডাঙ্গায় বসন্তেই গ্রীষ্মের আঁচ
চলছে বসন্ত; গ্রীষ্ম আসতে এখনও বাকি অন্তত দুই সপ্তাহ, এর মধ্যেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৩টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১৮ শতাংশ থাকায় গরমের অনুভূতি আরও বেড়েছে।
রমজানের শেষ পর্যায়ে এসে এমন তীব্র গরমে নাকাল জেলার সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে রোজাদারদের কষ্ট বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। কেউ কেউ শরীরে দুর্বলতা অনুভব করছেন, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ভুগছেন বেশি।
চুয়াডাঙ্গা শহরের বাসিন্দা নাসির উদ্দীন বলেন, ‘রোজা রেখে এই গরম সহ্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দুপুরের পর বাইরে বের হওয়া যায় না। গরমে মাথা ঘুরছে, শরীরও দুর্বল লাগছে।’
নিম্ন-আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের কষ্ট আরও বেশি। চুয়াডাঙ্গা শহরের চৌরাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা নাম না প্রকাশ করতে চাওয়া এক রিকশাচালক বলেন, ‘কাজ না করলে খাবার জুটবে না, কিন্তু এই গরমে রোজা রেখে রিকশা চালানো খুব কষ্টকর; গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে পারদ বেড়ে যাচ্ছে।’
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে, গরমের কারণে শহরের রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা। অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে দিনমজুর, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রোদ-গরম উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলার কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা হাসান আলী বলেন, ‘বাজারে ক্রেতা কম আসছে। প্রচণ্ড গরমে মানুষ বের হচ্ছে না। আমরা তো ঘরে বসে থাকতে পারি না, বিক্রি না করলে সংসার চলবে কীভাবে?’
প্রচণ্ড রোদের মধ্যে বাস ও রেল স্টেশনেও যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
৩২৫ দিন আগে
রাজধানীতে মধ্যবিত্তের পছন্দ বেইলি রোডের ইফতার আইটেম
রাজধানীতে উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশের পছন্দ বেইলি রোডের সারি সারি রেস্টুরেন্টে সাজানো নানা পদের ইফতার আইটেম। সরেজমিনে ইফতারের আগ মুহূর্তে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ইফতার পণ্যের দোকান গড়ে উঠেছে বেইলি রোডে।
দশ টাকার চপ থেকে শুরু করে এই এলাকার ইফতারির দোকানগুলোতে হাজার টাকার ওপরে অহরহ ইফতার আইটেম বিক্রি হচ্ছে। নামজাদা রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে একেবারে স্ট্রিট কার্টের খাবারেও মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
বেইলি রোডের নওরতন কলোনির বাসিন্দা রোহান বলেন, এই এলাকার রেস্টুরেন্টগুলো মূলত মধ্যবিত্তের জন্য। মধ্যবিত্ত যেমনি ১০ টাকার পেঁয়াজু বা আলুর চপ খায়, আবার হাজার টাকার বাকলাভাও ভালোবাসে, তাদের এই পাঁচমিশালি চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এ এলাকায় রমজানে রেস্টুরেন্টগুলোতে ইফতার আইটেমগুলো সাজানো হয়।
৩৩৪ দিন আগে
রমজানে ফল আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে সরকার
পবিত্র রমজান মাসে দাম সহনীয় রাখতে টাটকা ফলের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ১৬ মার্চ জারি করা দুটি প্রজ্ঞাপনে আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১০ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনে ফল আমদানির ওপর অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। ফলে মোট শুল্ক কমানো হয়েছে ১৫ শতাংশ।
এতে বলা হয়, রমজানে মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বৃহত্তর জনস্বার্থে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের দাবি, বৃহত্তর জনস্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত কয়েক মাসে ভোজ্যতেল, চিনি, আলু, ডিম, পেঁয়াজ, চাল, খেজুর, কীটনাশকসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণ শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, অগ্রিম করের উল্লেখযোগ্য অংশ অব্যাহতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: রমজানে বাজার নিয়ে স্বস্তিতে চাঁদপুরবাসী
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কর অব্যাহতিসহ সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে এ বছর পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।’
বৃহত্তর জনস্বার্থে বহুল ব্যবহৃত গণপরিবহন মেট্রোরেলের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার।
বইয়ের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরবরাহ ও আমদানি উভয় পর্যায়ে ই-বুক সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হজযাত্রীদের খরচ কমাতে সরকার হজের টিকিটের ওপর আবগারি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে এবং জনস্বার্থে বিভিন্ন কর অব্যাহতি দিয়েছে।
৩৩৫ দিন আগে
‘মেইড ইন জিনজিরা’ ট্যাং-জুস-গ্লুকোজে সয়লাব রমজানের বাজার
জিনজিরা; ঢাকার উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের এই স্থানটির খ্যাতি এক বিশেষ কারণে—নকল পণ্য উৎপাদনে এই জায়গার জুড়ি মেলা ভার। মেশিনারি, গাড়ির যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে প্রসাধনী, নকল খাদ্যসামগ্রী—কী উৎপাদন হয় না সেখানে! স্থানটির এতই খ্যাতি যে, দেশে নকল কোনো পণ্য বোঝাতে ‘মেইড ইন জিনজিরা’ ট্যাগ লাগিয়ে দেন অনেকে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পবিত্রে রমজান মাসে জিনজিরায় তৈরি নকল ট্যাং, জুস ও গ্লুকোজে ইতোমধ্যে সয়লাব হয়ে গেছে বাজার। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার আশায় নকল ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেসব সরবরাহ করছে। মফস্বল পর্যায়ের গ্রাহকরা এসব নকল খাদ্যসামগ্রী কিনে প্রতারিত হচ্ছেন, পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
চিকিৎসকদের মতে, এসব ভেজাল পণ্য পাকস্থলি ও ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি জেনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, মান্দাইল, আমিরাবাগ, বোরহানিবাগ, শুভঢ্যা, আগানগর, কালীগঞ্জ ও কাজিরগাঁও এলাকায় রমজান মাসে সৃষ্ট চাহিদার কথা মাথায় রেখে নকল ও ভেজাল অরেঞ্জ ও ম্যাংগো ড্রিঙ্কস পাউডার (ট্যাং) এবং বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির মোড়ক নকল করে কিটক্যাট, মিমিসহ বিভিন্ন ধরনের চকলেট তৈরি ও বিক্রি চলছে দেদারসে।
বিগত সময়ে র্যাবের পক্ষ থেকে বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করায় এই সমস্ত ভেজাল খাদ্য উৎপাদন কারখানা প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর র্যাবের পক্ষ থেকে ভেজালবিরোধী তৎপরতা একেবারেই নেই। এই সুযোগে আসাধু ব্যবসায়ীরা আবার জেগে উঠেছে নতুন রূপে।
সরজমিনে উপজেলার গদাবাগ, মুক্তির বাগ, আমিরাবাগ, নেকরোজ বাগ, খোলামোড়া, জিয়ানগর ও তেঘরিয়া, শুভঢ্যা, আগানগর কালীগঞ্জ, কাজিরগাঁও ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল ও নকল শিশুখাদ্য তৈরি করে অতি চতুরতার সঙ্গে সেসব বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে।
মুক্তিরবাগ এলাকায় একটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক হাত দিয়েই বোতলে ভরছেন ভেজাল জুস। এই কাজে হাতে গ্লাভস পরার প্রয়োজনীয়তাও মনে আসেনি তাদের। মাথায় চুলের জাল (হেয়ারনেট) না পরেই অরেঞ্জ ড্রিংকস বোতলজাত করছেন তারা। আবার অরেঞ্জ ড্রিংকস পাউডার মোড়কজাত করার সময় বাতাসে তা যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না যায়, সেজন্য ফ্যান বন্ধ করে কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে করে তারা ঘেমে একেবারে কর্দমাক্ত হয়ে যাচ্ছেন।।
সেখানে কথা হয় কারখানাটির ম্যানেজার শাকিল আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের বিএসটিআই ও পরিবেশ ছাড়পত্র আছে। তবে দেখতে চাইলে সেগুলো দেখাতে পারেননি তিনি।
ল্যাব আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অকপটে ল্যাব না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের কাছে রেসিপি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা ড্রিংকস পাউডার প্রস্তুত করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাই। পরে আমাদের বিক্রয়-প্রতিনিধি পণ্যগুলো বিভিন্ন দোকানে দোকানে বিক্রি করেন।’
এ সমস্ত ভেজাল ও কৃত্রিম রং মিশ্রিত অরেঞ্জ ড্রিংকস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া খুবই ভালো। এখানে সবকিছুই হজম হয়ে যায়। কয়েক বছর যাবত তো এই প্রোডাক্ট মার্কেটে বিক্রি করছি; কোথাও থেকে কখনও কোনো দুঃসংবাদ এখনও পাইনি।’
তবে এসব ভেজাল খাদ্যসামগ্রী স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আমিন।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনায় মুখ থুবড়ে পড়েছে নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরী
তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম রং মিশ্রিত ভেজাল ড্রিংকস স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব ড্রিংকস সবচাইতে বেশি লিভার ও কিডনিকে আক্রান্ত করে এবং শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।’
এই চিকিৎসকের মতে, ‘ছোট শিশুদের জন্য এগুলো আরও বেশি ভয়াবহ, কারণ এতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।’
৩৪৬ দিন আগে