প্রেসিডেন্ট
ছাত্র-আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘোষণা
টানা ১৮ মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি পদত্যাগ করব।’ একই সঙ্গে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয়। ওই রেলস্টেশন দুর্ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীরাসহ বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে যে রেলস্টেশনে ছাউনি ধসের দুর্ঘটনার জন্য নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দায়ী। এরপর চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুচিচ।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেদে সরকারপন্থিদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক সপ্তাহই আমি প্রেসিডেন্ট আছি, এরপর আমি পদত্যাগ করব।’
তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং আগাম সংসদ নির্বাচনে তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) জয়ী করতে তিনি কাজ করবেন বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার প্রস্তাব হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী জোটের নাম হবে “ইউনাইটেড সার্বিয়া”।’
অবশ্য তিনি কবে পদত্যাগ করবেন বা সংসদ ভেঙে দেবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই আগাম সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ভুচিচ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর এর মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিল।
এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক অধ্যায়ের শেষ নয়
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হচ্ছে না। তিনি পদত্যাগ করলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার দল এসএনএস জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অর্থাৎ পদবী যাই হোক না কেন, এসএনএস সরকার গঠন করলে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ভুচিচ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএনএস ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট পদেও নিজের ঘনিষ্ঠ কাউকে বসানোর চেষ্টা করবেন তিনি। এর মাধ্যমে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
এ ব্যাপারে ওয়ারশ-ভিত্তিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভুচিচের রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়। ইতোমধ্যেই তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নয়, বরং তিনি আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।’
তবে শনিবার ভুচিচের পদত্যাগের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তার সরে দাাঁড়ানোর পেছনে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর ভুচিচ সরকারবিরোধী আন্দোলনই সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
কয়েক দিন আগে দেশটির নোভি সাদ শহরে শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেন। এ সময় আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানান তারা। এছাড়া গতকাল (রবিবার) দক্ষিণ-মধ্য সার্বিয়ার ক্রালিয়েভো শহরে আরেকটি ছাত্র সমাবেশ হয়েছে।
ছাত্র নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের কর্মীরা এবং বিরোধী দল উভয়েই জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে ভুচিচ ও তার সমর্থিত দল এসএনএসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়।
ছাত্রসমর্থিত সরকারবিরোধী আন্দোলন ‘মুভ-চেঞ্জ’-এর প্রধান সাভো মানোইলোভিচ বলেন, ‘পদত্যাগ এবং আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভুচিচ তার অনিবার্য পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির জনসমর্থন ছাত্র আন্দোলনের প্রতি।’
রাজনৈতিক সমীকরণ
সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রার্থী দেশ। তবে দেশটির সঙ্গে এখনও রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতায় থাকার পুরো সময়জুড়ে ভুচিচকে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।
সার্বিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো ইইউতে যোগ দেওয়ার আগে দেশটিতে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পররাষ্ট্রনীতি ইইউর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
শনিবার ভুচিচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার দল দুর্নীতির অবসান ঘটাবে। এছাড়া তিনি পেনশন বৃদ্ধি, দরিদ্রদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের সঙ্গে জড়িত। অবশ্য ভুচিচ এবং তার সহযোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৭ দিন আগে
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
১২৪ দিন আগে
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ট্রাম্প-সমর্থিত নাসরি আসফুরা
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত ব্যবসায়ী নাসরি আসফুরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ দমন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্য দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শপথ গ্রহণের পর ৬৭ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের প্রিয় হন্ডুরাসের প্রতিটি প্রান্তে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দিতে যে পূর্ণ অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা নিয়েই আমি দেশ পরিচালনা করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে হন্ডুরাসের এই রক্ষণশীল প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর আসফুরার ক্ষমতায় উত্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। এরপর ফল ঘোষণায় দেখা যায়, খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয় পান আসফুরা। নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আসফুরা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা পান ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। নাসরাল্লা দাবি করে আসছেন, প্রকৃত প্রেসিডেন্ট তিনিই।
মঙ্গলবার আসফুরা বলেন, দক্ষতা বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের আকার ছোট করবেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবেন।
১৫৯ দিন আগে
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার বাতিলের সিদ্ধান্ত রহিত
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কার বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৫ প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করাএকটি প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১০ জনেরও কম: আসিফ নজরুল
এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের যে রায়ের পটভূমিতে ২০১৬ সালে সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে (মরণোত্তর) ২০০৩ সালে প্রদত্ত স্বাধীনতা পুরস্কার বাতিল করে- সেই রায়ে তার স্বাধীনতা পুরস্কার বাতিলের কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাই মুক্তিযুদ্ধে তার অসাধারণ অবদান বিবেচনায় তার স্বাধীনতা পুরস্কার বাতিলের সিন্ধান্ত সরকার রহিত করেছে।
৪৮২ দিন আগে
দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইওলকে গ্রেপ্তার করে তার বাসভবনে তল্লাশির জন্য পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত অফিস (সিআইও), জাতীয় তদন্ত অফিস (এনওআই) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত ইউনিট।
পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেপ্তার কার্যকর করার কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়নি আদালত। তবে দেশটিতে আদালতের এ ধরনের রায় কার্যকর করতে সাধারণত এক সপ্তাহ সময় থাকে।
এই রায়ের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো।
আরও পড়ুন: গ্রেপ্তারের পর আত্মহত্যার চেষ্টা দ. কোরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধানের
যৌথ তদন্ত ইউনিট ইয়ুনকে ১৮, ২৫ ও ২৯ ডিসেম্বর তিনবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলে, তবে অভিশংসিত এই প্রেসিডেন্ট ওই সমন গ্রহণ করতে এবং নিজের জন্য প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগের নথি জমা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর বিদ্রোহ ও অন্যান্য অভিযোগে সিউলের পশ্চিম জেলা আদালতে ইয়ুনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আবেদন করে ইউনিট।
পরোয়ানা জারির অনুরোধের কয়েক ঘণ্টা পরই অবশ্য ইয়ুনের পক্ষ থেকে লিখিত মতামত জমা এবং সিউল আদালতে প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।
৫৫২ দিন আগে
পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইউনূস
পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট রামোস। এরপর প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ড. ইউনূস ও প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা রবিবার দুপুর সোয়া ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হবেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশ ভিসা ছাড় এবং ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকায় অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
চার দিনের সরকারি সফরে শনিবার রাতে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নেচারের শীর্ষ ১০ ব্যক্তির তালিকায় ড. ইউনূস
রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট রামোস হোর্তাকে স্বাগত জানান প্রধান উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় স্যালুট ও গার্ড অব অনার দেয়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
পূর্ব তিমুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রামোস-হোর্তার সঙ্গে রয়েছেন।
রবিবার বিকেলে পূর্ব তিমুরের অনারারি কনসাল কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করবেন রামোস-হোর্তা।
১৬ ডিসেম্বর রামোস-হোর্তা বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় উপলক্ষে আয়োজিত ৫৪তম বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট তার শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে 'সমসাময়িক বিশ্বে শান্তির চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক বক্তৃতা দেবেন।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। তার দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা, জনগণের ভূমিকা এবং পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতা-পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও পূর্ব তিমুরের মধ্যে কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে তার এ সফর।
একই দিন ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা।
আরও পড়ুন: সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে চলতি মাসেই ঘোষণার ইঙ্গিত ড. ইউনূসের
৫৬৮ দিন আগে
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আকস্মিক নেতিবাচক কিছু নেই: অধ্যাপক ইউনূস
ডোনাল্ড ট্রাম্প (নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় হঠাৎ করে কোনো নেতিবাচক বিষয়ের উত্থান দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো সমস্যা নেই।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এমন কিছু নয়, কে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন, যা তার ওপর নির্ভর করে ‘
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রিপাবলিকান পার্টি বা ডেমোক্রেটিক পার্টি এমনকি ট্রাম্পের বিষয়েও তার কোনো সমস্যা নেই।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অতীতে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং উভয় দলেই তার বন্ধু রয়েছে।
অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ জানালেন ড. ইউনূস
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পা রাখবেন। তার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শীর্ষ পদে বহাল থাকবেন।
এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প 'হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত সহিংসতার' নিন্দা জানান, যারা বাংলাদেশে বিক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা আক্রান্ত ও লুটপাটের শিকার হচ্ছে।’
এক টুইটে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমার নজরদারিতে এটা কখনই ঘটত না। কমলা এবং জো বিশ্বজুড়ে এবং আমেরিকায় হিন্দুদের উপেক্ষা করেছেন। তারা ইসরায়েল থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত একটি বিপর্যয় হয়েছে, তবে আমরা আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী করব এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনব!’
এ বিষয়ে আল জাজিরার এক সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এটা মূলত অপপ্রচার- সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার। ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক।’
আরও পড়ুন: সীমাবদ্ধতা সত্বেও একটি মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব: ড. ইউনূস
তিনি বলেন, বেশিরভাগ অপপ্রচারের উৎপত্তি ভারত থেকে। যে কারণেই হোক না কেন- সম্ভবত অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখার জন্য।
'কিন্তু বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই' উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সহিংসতা শুরু হয়েছিল বিপ্লবের সময় হিন্দু বা অন্য ধর্মের কারণে নয়, বরং বেশিরভাগই তারা আওয়ামী লীগার ছিল বলে। হিন্দুদের অধিকাংশই ছিল আওয়ামী লীগার।’
রবিবার(১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংখ্যালঘুরা কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়, তবে তা 'সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত'।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন বাংলাদেশ ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত একটি দেশ। সে সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মূলত রাজনৈতিক কারণে অল্প কিছু সহিংসতার ঘটনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব: অধ্যাপক ইউনূস
৫৯৫ দিন আগে
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় গোপালগঞ্জে ভুরিভোজের আয়োজন
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ভুরিভোজের আয়োজন করেছে স্থানীয় যুবকরা।
বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাতে উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামে এ খিচুড়ি দিয়ে এই ভোজের আয়োজন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লুৎফর রহমান হিমুর অর্থায়নে দুই শতাধিক লোকের জন্য এই আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: চীন যাচ্ছেন বিমান বাহিনী প্রধান
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ফ্রেডরিক ট্রাম্পের বন্ধু বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. লুৎফর রহমান হিমু।
এছাড়া হিমু যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের ন্যাশনাল ফাইন্যান্স মেম্বারও।
হিমুর অপর বন্ধু গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন। স্থানীয় যুবসমাজের আয়োজনে গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতেই এই ভোজের আয়োজন করা হয়।
মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমার বন্ধু লুৎফর রহমান হিমু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ফ্রেডরিক ট্রাম্পের বন্ধু। সে আমাকে কথা দিয়েছিল ট্রাম্প জিতলে খিচুড়ি খাওয়াবে। ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এ উপলক্ষে আমার বন্ধু হিমুর অর্থায়নে আমরা যুবকরা এই ভোজের আয়োজন করেছি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে আমরাও আনন্দিত ও গর্বিত।’
প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে এ বিজয় অর্জন করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডারের সাক্ষাৎ
ময়মনসিংহে ১০ মণ নিষিদ্ধ পিরানহা জব্দ
৬০৫ দিন আগে
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্ক্সবাদী দিশানায়েকের জয়
মার্কসবাদী আইন প্রণেতা অনুড়া কুমারা দিশানায়েকে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
রবিবার তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ায় অভিযুক্ত পুরোনো রাজনৈতিক দলকে ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছে।
শ্রমিক শ্রেণির সমর্থন এবং রাজনৈতিক অভিজাতবিরোধী প্রচার তাকে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। বিরোধী নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা এবং বর্তমান উদারপন্থী রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহেকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন দিশানায়েকে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দিশানায়েকে পেয়েছেন ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ১৭৯ ভোট এবং প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ৯০২ ভোট।
দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিপর্যয় থেকে পুনরুদ্ধারে শনিবারের নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
টুইটারে এক বার্তায় দিশানায়েকে বলেন, ‘এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির কাজের ফল নয়, বরং আপনাদের মতো কয়েক লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আপনাদের প্রতিশ্রুতি আমাদের এতদূর নিয়ে এসেছে। এজন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই জয় আমাদের সবার।’
২০২২ সালে খেলাপি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় শ্রীলঙ্কার ঋণ পুনর্গঠনসহ ভঙ্গুর পুনরুদ্ধারে বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বের ওপর ভার্চুয়াল গণভোট ছিল এই নির্বাচন।
৫৫ বছর বয়সি দিশানায়েকে বলেন, কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপকে আরও সহনীয় করতে তিনি আইএমএফ চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করবেন। বিক্রমাসিংহে সতর্ক করে বলেছিলেন, চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো পরিবর্তন করার যেকোনো পদক্ষেপ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের চতুর্থ কিস্তি প্রকাশ করতে বিলম্ব করতে পারে; যা স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এটি দিশানায়েকের শক্তিশালী উত্থান। এর আগে ২০১৯ সালে পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাত্র ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
দিসানায়েকের ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার জোটের নেতৃত্বে রয়েছে জনতা বিমুক্তি পেরামুনা বা পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট। এটি মার্কসবাদী দল যা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের জন্য ১৯৭০ ও ১৯৮০ এর দশকে দুটি সশস্ত্র বিদ্রোহ করে ব্যর্থ হয়েছিল। পরাজয়ের পরে, জেভিপি ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রবেশ করে এবং বেশিরভাগ সময় বিরোধী দলের মূল ভূমিকা পালন করে।
এনপিপি গ্রুপিংয়ে শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের আন্দোলন, শিল্পী, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
দিশানায়েকে ২০০০ সালে প্রথম সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার অধীনে সংক্ষিপ্তভাবে কৃষি ও সেচমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং গোতাবায়া রাজাপাকসের কাছে হেরে যান। রাজপাকসে দুই বছর পরে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রকাশ্য বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হন।
বিক্রমাসিংহের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী সাবরি দিশানায়েককে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি ‘স্বচ্ছতা, সততা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি মঙ্গলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে’ নেতৃত্ব দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাবরি।
৬৫১ দিন আগে
পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ, জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের আশা
কারিগরি সহায়তা, অর্থায়ন ও নীতি নির্দেশনার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ-মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াং।
জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বুধবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এডিবির এই কর্মকর্তা এ আশ্বাস দেন।
এসময় তারা টেকসই পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা, বাতাস ও সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুনীল অর্থনীতির ওপর আলোকপাত করে এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চলমান ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
উভয় পক্ষই এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশের দূষণের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অব্যাহত সহযোগিতার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়ন গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এক্ষেত্রে এডিবির সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে না পারলে উন্নয়নশীল দেশগুলো পিছিয়ে পড়বে: এডিবি প্রেসিডেন্ট
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে আমরা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি তা বিশাল এবং বহুমুখী। আমাদের লক্ষ্য পূরণে বলিষ্ঠ আর্থিক ব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রয়োজন। এডিবির সঙ্গে এই সহযোগিতা আমাদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সংস্থান ও বিশেষজ্ঞ সরবরাহে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।’
বাংলাদেশ ও এডিবির মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বের স্বপ্ন দেখেছেন সাবের। তিনি বলেন, 'একসঙ্গে আমরা উদ্ভাবনী সমাধানগুলো খুঁজে বের করতে পারি, আমাদের অভিযোজিত ক্ষমতা বাড়াতে পারি। আমাদের উন্নয়নের গতিপথ সবুজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উভয়ই নিশ্চিত করতে পারি।’
তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, 'আমরা আপনাদের সমর্থনকে মূল্য দেই এবং একটি টেকসই ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সহযোগিতা গভীর করার প্রত্যাশা করছি।’
মন্ত্রী এডিবির সহায়তার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে এডিবি ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয় বৈঠকে।
আরও পড়ুন: ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে এডিবিকে সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
৭৩৩ দিন আগে