ভারী বৃষ্টি
জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনাবাসী, ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল কোথায়
আকাশ থেকে ভারী বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মিলছে না খুলনা নগরবাসীর। খুলনায় ভারী বৃষ্টির কারণে মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কোথাও হাঁটুজল, কোথাও কোথাও তারও বেশি।
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কর্মব্যস্ত নগরবাসী, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, রিকশা ও ইজিবাইকচালকসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল খুলনার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্প ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়েছেন— ‘এই জলাবদ্ধতা হতে তারা স্থায়ী সমাধান পাবেন কবে?’
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ৫১ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮৪ মিলিমিটার। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, এ সময় স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিপাত হয়। সারা দেশের মতো খুলনায়ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খুলনা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। তবে সচেতন মহল বলছে, বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু পরিকল্পিত ও উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে খুলনায় সামান্য বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে সাতটি খাল খনন ও দুই শতাধিক ড্রেন নির্মাণ-সংস্কার করা হলেও মিলছে না সমাধান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নগরীর সামগ্রিক জলপ্রবাহ, খালের ধারণক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যাপ্ত গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে অনেক স্থানে বড় প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে।
খুলনা নগরীর মুজগুন্নি এলাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এছাড়া রয়্যাল মোড়, টুটপাড়া, জিন্নাহনগর, দৌলতপুর, আটরা, গিলাতলা, দিলখোলা, বানরগাতি ও শেখপাড়া এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। অনেকের ঘরেও ঢুকেছে পানি।
মুজগুন্নি এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এই মোড়টিতে হাঁটুজল জমে। জলাবদ্ধতায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত দুদিনের বৃষ্টিতেই এখানে হাঁটুজল জমেছে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কেসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পাবলা কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হামিম জানান, একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যতবার বৃষ্টি হচ্ছে, ততবারই আমাদের বাড়ির নিচতলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আগেও বৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়তাম, কিন্তু এক দিনে পানি সরে যেত; এখন বিপদ হয়েছে অন্য রকম, আমাদের এলাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই।
তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে কবীর বটতলা থেকে কারিগরপাড়া পর্যন্ত আমাদের এলাকার সড়ক ও পাশের ড্রেন প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাড়িঘর থেকে ওই ড্রেনে বৃষ্টির পানি যাওয়ার কোনো কার্যকর সংযোগ রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির উঠান ও নিচতলা পানিতে তলিয়ে যায়।
পাবলা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা অনুপ কুমার জানান, খুলনার জলাবদ্ধতার মূল কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেন নয়, এটি একটি পরিকল্পনাগত সংকট। গত কয়েক বছরে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ দুটোই কমে গেছে। একই সঙ্গে নদী-খালের সঙ্গে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করে টাকার অপচয় করলে হবে না, প্রাকৃতিক খালের ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু ও নদী-খালের সঙ্গে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে খুলনার জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে না।
বাস্তহারা এলাকার বাসিন্দা রাজীব জানান, আকাশ থেকে সামান্য পানি পড়লেই আমাদের এলাকায় হাঁটুজল পানি জমে। গত দুদিনের বর্ষায় গোটা এলাকা তলিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। আমরা এই জলাবদ্ধতার একটা স্থায়ী সমাধান চাই।
ইজিবাইকচালক হাফিজ জানান, দুদিন ধরে বর্ষা। ঘরে বসে থাকলে তো আর পেটে ভাত যাবে না। মুজগুন্নি রাস্তায় হাঁটুপানি। অনেকে রাস্তায় জাল ফেলে মাছ ধরছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুপানি জমে।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা-ড্রেন বানাচ্ছে, কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ কমছে কই?’
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র অনুসারে, নগরীতে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার। খুলনা সিটি করপোরেশনের ‘খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় গত কয়েক বছরে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ হয়েছে।
এই প্রকল্পের পরিচালক কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যাসার্ধের ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬৯টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এর সবগুলোই ঢাকনাযুক্ত ড্রেন।
কেসিসির প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আমরা আপাতত এই কাজ বন্ধ রেখেছি। কারণ ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন নির্মিত ঢাকনাযুক্ত ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি বা বিশেষায়িত মেশিন সিটি করপোরেশনের কাছে নেই। ফলে শ্রমিকরা ভারী স্ল্যাব একটা একটা করে খুলে পরিষ্কার করেন। এটা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। অনেক স্থানে আবর্জনা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে চলমান প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ময়লা পরিষ্কার করার যন্ত্র কেনার ব্যবস্থা রাখা আছে। যন্ত্র এলে পরিষ্কার করার কাজটা আরও সহজ হবে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মূলত শহরের পানি রূপসা নদীতে নামত, এখন সেটি নামছে না। বিগত সরকারের সময়ে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের কাজ সময়মতো শেষ না করা, রূপসার পাম্প হাউজ বন্ধ ও স্লুইস গেটগুলো অকেজো থাকায় নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, জোয়ারের সময় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাগুলো ডুবে যাচ্ছে। ড্রেন আগে যেভাবে ছিল, সেভাবে নেই। ড্রেনগুলোর বেড উঁচু করে ফেলায় বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ও বাড়ির মধ্যে পানি প্রবেশ করছে এবং মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মাত্র তিন মাস দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যেই আমরা দিন-রাত এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। পানি নিষ্কাশনের বাধা দূর করছি, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সব চেষ্টা করছি এবং সমাধানের পথ খুঁজছি।
এ সময় নগরবাসীকে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানের ডাস্টবিনে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
৫ দিন আগে
পাহাড়ি ঢলে কাঁপছে ফেনীর তিন নদী, নির্ঘুম রাতে লাখো মানুষের চোখ বেড়িবাঁধে
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর তিন নদী—মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনীয়ায় এখন প্রলয়নাচন। প্রতিবছর এই তিন নদী তীরবর্তী মানুষের বুকে যে আতঙ্কের ক্ষত তৈরি হয়, তা যেন আরও একবার তাজা হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানির তোড়ে রাত পোহালেই তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় এখন নির্ঘুম রাত কাটছে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীপাড়ের লাখো মানুষের। তাদের চোখ এখন ত্রাসের কারণ হয়ে ওঠা বেড়িবাঁধের দুর্বল পয়েন্টগুলোতে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
৭ দিন আগে
টানা ভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা, জনজীবন বিপর্যস্ত
তিন দিনের টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলজটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল এবং কমে গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গন্তব্যস্থলে যেতে বাধ্য হওয়া চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অফিসগামী অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। পানিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের মাঝপথে আটকে পড়ে, ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। এদিকে গণপরিবহন স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় বিভিন্ন বাসস্টপে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
দুদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পর গতকাল রাত থেকে টানা ভারী বর্ষণ চলছে চট্টগ্রামে। তবে গত দুদিন দলবদ্ধতার সৃষ্টি না হলেও গতরাতে ভারী বর্ষণের কারণে আজ সকাল থেকে বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকা কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।
৯ দিন আগে
চীনে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১২ জন নিহত
চীনে চলতি সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন অংশে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বুধবার (২০ মে) জানিয়েছে, মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শিমেন কাউন্টিতে প্রবল বৃষ্টির পর ৫ জন নিহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কাউন্টিটিতে মোট ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি শহরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশে কিছু রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের আটকে পড়া বাসিন্দাদের সাহায্য করতে ফোলানো নৌকা ব্যবহার করতে হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বা ধসে পড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সিসিটিভি মঙ্গলবার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুইঝোউ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ৪ জন নিহত এবং আরও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কিছু এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলে, একটি এলাকায় ৩ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চীনে বন্যাজনিত হতাহতের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। গত জুলাইয়ে বৃষ্টি ও বন্যায় বেইজিংয়ে শ’খানেক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
৫৭ দিন আগে
ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে শিশুসহ নিহত ৪
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্নামবুকো অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
পার্নামবুকোর প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্গত আরও অন্তত দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের রাজধানী রেসিফেতে চিকিৎসা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দইস উনিদোস এলাকায় পাহাড়ধসে এক নারী ও তার ছয় বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পার্নামবুকোর কাছের শহর ওলিনদায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে আলতো দা বন্দাদে এলাকায় ভূমিধসে ২০ বছর বয়সী এক নারী ও তার ছয় মাস বয়সী ছেলে মাটিচাপা পড়ে মারা যান। ওই স্থান থেকে আরও ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ।
ভারী বৃষ্টির কারণে রেসিফে মহানগর এলাকা ও বিভিন্ন পৌর এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্নামবুকোতে জন্ম নেওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাঠপর্যায়ে স্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ফেডারেল সরকার আর্থিক সহায়তা পাঠাবে।
এদিকে, ঝড়বৃষ্টির কারণে রেসিফের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল।
পার্নামবুকোর পানি ও জলবায়ু সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্নামবুকোর অভ্যন্তরীণ শহর গোইয়ানা। সেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সরকারি স্কুলগুলোতে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
৭৪ দিন আগে
ঘূর্ণিঝড় ‘দানার’ প্রভাবে দেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-তে পরিণত হয়ে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় (১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক শূন্য ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।
এটি আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে
৬৩১ দিন আগে
ভারী বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে ঢাকাবাসী
শনিবার সকালে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াসহ ভারী বর্ষণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঢাকার বাসিন্দাদের।
বৃষ্টির কারণে রাজধানীর নিচু এলাকা ও বেশ কিছু গলি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সকালে বের হওয়া মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা স্বাভাবিক হতে থাকে।
দুর্গাপূজার ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ অফিস বন্ধ থাকলেও জলাবদ্ধতা ও কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে মন্দিরমুখী হিন্দু ভক্তরা সমস্যায় পড়েন।
কিছু বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় পরিবহন সংকটের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অফিসগামীদের।
আরও পড়ুন: ঢাকার বাতাসের মান 'মাঝারি' পর্যায়ে
বৃষ্টি সকাল ৬টার দিকে শুরু হয়ে তা সকাল ৭ টা পর্যন্ত চলে।
আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাত কমেতে পারে। তারপর আবার বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বৃষ্টিপাত হতে পারে: আবহাওয়া অধিদপ্তর
৬৪২ দিন আগে
বসনিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১৪ জনের মৃত্যু
বসনিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত এবং দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
শুক্রবার রাতভর বৃষ্টিপাত হয় ও প্রচন্ড ঝড় আঘাত হানে দেশটিতে।
বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় স্বেচ্ছাসেবক ও সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাবলানিকার স্থানীয় প্রশাসনের মুখপাত্র ডার্কো জুকান জানিয়েছেন, অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জুকান হেলেজ এন১ আঞ্চলিক টেলিভিশনকে বলেছেন, সৈন্যদের সহায়তার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে এবং হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
হেলেজ বলেন, 'ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমরা নতুন আক্রান্তের খবর পাচ্ছি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবাইকে পাঠিয়েছি। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে ভূমিধসের কারণে যেসব মানুষ জীবিত আছেন ও মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে তাদের উদ্ধার করা।’
জাবলানিকা ও কিসেলজাক শহরের উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, সারারাত বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল এবং সেলফোন সেবা বন্ধ ছিল। মোবাইল ফোন সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জাবলানিকা ফায়ার স্টেশন জানিয়েছে, রাস্তা ও ট্রেনলাইন বন্ধ থাকায় শহরটি পুরোপুরি দুর্গম হয়ে পড়েছে।
প্রদেশের উদ্ধারকারী সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘পুলিশ আমাদের জানিয়েছে রেলপথও অবরুদ্ধ করে হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে আপনি জাবলানিকার ভেতরে বা বের হতে পারবেন না। ল্যান্ডলাইন ফোন কাজ করছে, কিন্তু মোবাইল ফোনের কোনও নেটওয়ার্ক নেই।’
আরও পড়ুন: সিসিলি উপকূল থেকে ৬ ‘অভিবাসনপ্রত্যাশীর’ লাশ উদ্ধার
এই এলাকার জনগণকে প্লাবিত রাস্তায় বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বসনিয়ার গণমাধ্যমে প্রচারিত ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে গ্রাম ও শহরগুলো পুরোপুরি পানির নিচে ডুবেছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাদা ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থা দেখা গেছে।
দেশটির নাগরিক সুরক্ষা পরিষেবা বলছে, ‘ব্যাপক পানি ও ভূমিধসের কারণে বহু মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এতে ভুক্তভোগী এবং অনেক আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে।’
কর্তৃপক্ষ লোকজনকে উপরের তলায় থাকার আহ্বান জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ভবনগুলোর নিচতলায় পানি দ্রুত ভরে যাওয়ায় গৃহপালিত পশু ও গাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
তুমুল বাতাসের কারণে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের দক্ষিণ উপকূলে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ক্রোয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম হুমকিতে পড়েছে।
বসনিয়ার দক্ষিণে মন্টেনিগ্রোতেও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে কিছু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্পেন যাওয়ার পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাডুবি, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪৮
৬৫০ দিন আগে
ভারী বৃষ্টিতে ঢাকার বাতাসের মানের উন্নতি
ভারী বৃষ্টিতে ঢাকার বাতাসের মানের উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী শহরের বাতাস এখন ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৬৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৩১।
অন্যদিকে পাকিস্তানের লাহোর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা যথাক্রমে ২২০, ১৭৯ ও ১৬০ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে।
সাধারণত, একিউআই স্কোর ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘মাঝারি’ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে বাতাসের মান 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলা হয় এবং ৩০১+ একিউআই স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ু দূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।
৬৫২ দিন আগে
একাধিক মাস্টারপ্ল্যান, ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও ডুবছে ঢাকা
দুই থেকে তিন ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হলেই ঢাকার সড়কগুলো যেন পরিণত হয় জলাশয়ে। দীর্ঘ সময়ের জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। কোথাও হাঁটুপানি-কোথাও বা কোমর পানি মাড়িয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে হয়। রাজধানীর বাসিন্দা হলেও অনেকের ঘর-বাড়িতে ঢুকে যায় বৃষ্টির পানি।
প্রায় চারদিকেই নদীবেষ্টিত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত ৪-৫ বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাতে নিয়েছে একাধিক মহাপরিকল্পনা। খাল ও ড্রেনেজ সিস্টেম সংস্কারে ব্যয় করেছে ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু যার কোনো ইতিবাচক ফল দেখা যায়নি। বরং জলাবদ্ধতার মাত্রা বাড়ছে দিনকে দিন।
টানা কিছু সময় বৃষ্টি হলে শহরের বুকে জলাবদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত হয় অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থার বিপর্যয়। যানবাহনের অভাব, জলাবদ্ধ রাস্তায় গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া, বৃষ্টি ও পানির অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়াসহ নানা দুর্ভোগে নাজেহাল হতে হয় ঢাকাবাসীকে।
আরও পড়ুন: ভারী বৃষ্টিপাতে ঢাকায় জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার মূল সমস্যা মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ না করা। বিশেষ করে যথাযথভাবে ড্রেনেজ, খাল ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার না করায় এসব আটকে নালা ও ড্রেনেজ সিস্টেমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলোও সুপরিকল্পিতভাবে হয়নি। আর বিভিন্ন কার্যক্রমে সিটি করপোরেশন ও সরকারের অন্য সংস্থার মধ্যে তেমন সমন্বয়ও থাকে না। ফলে জলাবদ্ধতার জন্য একে অন্যকে দায়ী করেই বছরের পর বছর পার করছে সংস্থাগুলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাল সংস্কার, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ করার পর তা মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। কিন্তু সিটি করপোরেশন কাজ শেষ হওয়ার পর তা আর রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে খাল ও ড্রেনের মুখ আবার ভরাট হয়ে যায়। তাই কাজ বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণ ও জবাবদিহি থাকা দরকার।’
আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘আমরা নিজেরা নদী ও খালগুলো গলা টিপে হত্যা করেছি। প্রাকৃতিকভাবে আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল খালগুলো। তা আমরা ভরাট করেছি বক্স কালভার্ট বানিয়ে। এখন আবার খাল উদ্ধার নামে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। শুধু প্রকল্পের মাধ্যমে টাকার অংক বাড়ালেই জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানায়, বিভিন্ন সময় খাল ও ড্রেনেজ সংস্কার বাবদ প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি বাজেটে ড্রেনেজ সংস্কার ও ময়লা পরিস্কারে আরও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সমাধান হয়নি জলাবদ্ধতার। সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা দ্রুত সময়ে নিষ্কাশন করার সক্ষমতা রয়েছে কিন্তু এর বেশি বৃষ্টি হলে নিরুপায় সিটি করপোরেশন।
আরও পড়ুন: ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসির ৫ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১০ কিউআরটি
পানি নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তারপরও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। খরচের মধ্যে খাল সংস্কার, ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি নগরবাসীর।
ডিএসসিসি কর্মকর্তারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এমন ১৩৬টি পয়েন্টের মধ্যে ১০৪টি পয়েন্টের কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির খালগুলো সংস্কারের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সৃষ্টি করা গেলে ঢাকার জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষা মৌসুমের আগেই ড্রেনেজ পরিষ্কার করা হয়। তারপরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হলে জলাববদ্ধতা তৈরি হয়। এর মধ্যে অনেক স্থানে ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করেই জলাবদ্ধতা নিরসন করা হয়েছে। এছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক পয়েন্টের কাজ শেষ হলে আবার নতুন পয়েন্ট যুক্ত হয়। তাই ঢাকার খালগুলো সচল না হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেই। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের খাল ও ড্রেনেজ সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু খরচ হয়েছে আরও কিছু বাকি আছে।
২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চারটি খালের সৌন্দর্যবর্ধনে ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন পায়। ৮৯৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা দক্ষিণের জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিরসন হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: স্পঞ্জ সিটি: ঢাকা ও অন্যান্য শহরে বন্যা-জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান
৬৬৪ দিন আগে