হাতি
শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আবারও সাফারি পার্কে ফেরানো হলো দুটি হাতি
শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে মালিকদের কাছ থেকে দুটি হাতি আবারও বন বিভাগের হেফাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনের জন্য হাতি দুটি নেওয়া হয়েছে গাজীপুর সাফারি পার্কে।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান জানান, ‘নিহার কলি’ নামের মাদি হাতিটিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং ‘সম্রাট বাহাদুর’ নামের পুরুষ হাতিটিকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল (সোমবার) রাতে সেখান থেকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাতি দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত কয়েকটি শর্তে হাতি দুটি মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে জিম্মা গ্রহীতারা শর্ত ভঙ্গ করায় হাতি দুটি পুনরায় বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
এর আগে, ২০২৪ সালে হাতি ‘সম্রাটের’ পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যান মাহুত নজরুল ইসলাম। এছাড়া হাতি দিয়ে টাকা তোলা ও হাতিগুলোকে নির্যাতনেরও অভিযোগ ওঠে জিম্মা গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পর হাতি দুটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় বন বিভাগ। পরে পুনর্বাসনের জন্য আনা হয় গাজীপুর সাফারি পার্কে।
মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ আগস্ট বেশ কয়েকটি শর্তে হাতি দুটি তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয় বন বিভাগ। তবে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় হাতি দুটি আবারও বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান।
১ দিন আগে
হাতির আবাসস্থল রক্ষা হলে মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।
তিনি বলেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ বছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘ব্রিঙ্গিং দ্য ওয়ার্ল্ড টুগেদার টু হেল্প এলিফ্যান্টস’ যার বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, হাতি রক্ষার সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা গেলে শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীই রক্ষা পাবে না, একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্যহাতির সংখ্যা ২৬৮টি, পরিযায়ী বন্যহাতি ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। ২০২৭ সালের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম
হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী জানান, হাতি সংরক্ষণে ‘বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজাভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে ১৫৯টি ইআরটি
মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে।
এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, প্রাণীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না,’ বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার সংসদীয় আসনের এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষা হলে এর সুফল কতটা বিস্তৃত হবে, তা সাধারণভাবে অনুধাবন করা কঠিন। ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
গারো পাহাড়ে বাড়ছে হাতির সংখ্যা, বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বও
আজ ১২ আগস্ট, বিশ্ব হাতি দিবস। শেরপুরের গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে বন্যহাতির সংখ্যা বাড়লেও সংকুচিত হচ্ছে তাদের বিচরণক্ষেত্র। অবাধে গাছ কাটা, অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন, বন দখল করে বসতি স্থাপন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরণা শুকিয়ে যাওয়ায় হাতির আবাসস্থল ও খাদ্যভান্ডার কমে গেছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে হাতির নেমে আসার ঘটনা বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের অসচেতনতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বও।
এই দ্বন্দ্বে যেমন মানুষের হতাহত ও সম্পদহানি ঘটছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যহাতির জীবনও। গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিংবা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে হাতি মারা পড়ছে।
একসময় ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের জঙ্গল থেকে সীমান্ত পার হয়ে শেরপুরের বনাঞ্চলে বিচরণ করত বন্যহাতির দল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শেরপুর অঞ্চলে বিচরণকারী হাতির দল এখন আর ভারতের জঙ্গল থেকে থেকে আসা ‘পরিযায়ী’ হাতি নয়। বেশকিছু হাতি স্থায়ীভাবেই এখানে বসবাস ও বিচরণ করছে। এজন্য বন্যহাতি সুরক্ষায় শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে হাতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হাতি দিবস। আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক প্রচারণার এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টিকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এবারের প্রচারণাটি বন্য পরিবেশে হাতিদের প্রদর্শিত মৌলিক গুণাবলি, যেমন: সহমর্মিতা, প্রজ্ঞা, দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, সহনশীলতা এবং সচেতন ও দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান নিজ জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
গারো পাহাড় অঞ্চলে বন্যহাতি সুরক্ষা, সংরক্ষণ, মানুষ-হাতি সহাবস্থান ও সংঘাত নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদের তিন উপজেলায় আজ (বুধবার) নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ, শ্রীবরদীর বালিজুড়ি রেঞ্জ এবং নালিতাবাড়ীর মধুটিলা রেঞ্জে ‘হাতির খবরাখবর ও সচেতনতা’ গ্রুপ, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, বনবিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
১৪ দিন আগে
চট্টগ্রামে হাতির আক্রমনে নারী নিহত
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বন্যহাতির আক্রমণে হালিমা খাতুন (৬০) নামে এক নারীরর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার বটতলী পুরাতন আশ্রয়ণ প্রকল্পের পেছনের পাহাড়ে নিহতের বৃদ্ধার শরীরের খন্ড খন্ড অংশ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে কোরিয়ান ইপিজেডে হাতির সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
এর আগের সোমবার (২১ অক্টোবর) রাতে বন্যহাতির আক্রমণের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
নিহত হালিমা খাতুন উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া গ্রামের মৃত ছৈয়দ নুরের স্ত্রী৷ ৭ ছেলে নিয়ে জীবনযাপন করতেন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, হালিমা সোমবার রাতে আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে বন্যহাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় তার। তবে ঘটনাস্থল নির্জন জায়গায় হওয়ায় হাতির আক্রমণে মৃত্যুর কথা কেউ জানেনি। দীর্ঘরাত পেরিয়ে সকালে স্থানীয়রা পাহাড়ের পাশে তার শরীরের টুকরো টুকরো অংশ দেখে সন্তানদের জানায়।
নিহতের বড় ছেলে মো শাহাব উদ্দিন বলেন, হাতির আক্রমণে আমার মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। রাতে হাতির মারাত্মক আক্রমণে শরীর টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তবে রাতে মায়ের মৃত্যু হলেও আমরা জেনেছি সকালে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, ‘হাতির আক্রমণে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুসারে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু অর্থায়নকে ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত: পরিবেশ উপদেষ্টার
৬৭৩ দিন আগে
হাতি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নেবে সরকার: পরিবেশ উপদেষ্টা
হাতি সংরক্ষণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল উন্নয়ন, নিরাপদ প্রজনন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হাতির সংখ্যা নিরূপণ ও গবেষণা এবং মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও, হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। হাতি বসবাসের এলাকা চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পবিষয়ক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা। সভায় তিনি হাতি সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকার নদী ও খালগুলোকে বাঁচাতে হলে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, বন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন এ বিশেষ কর্মসূচির আওতায় হাতির খাদ্য উপযোগী গাছের বাগান সৃজন, জলাধার খনন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ চালিত বেড়া নির্মাণসহ বেশ কিছু কার্যক্রম নেওয়া হবে। এছাড়াও, হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে বায়োফেন্সিং নির্মাণ, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন এবং হাতি পর্যবেক্ষণের জন্য টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, হাতি সংরক্ষণ দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে মানুষের জানমাল সুরক্ষার পাশাপাশি হাতির অস্তিত্বও টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বন সংরক্ষক, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ক্লিন এয়ার প্রকল্পে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
৬৭৮ দিন আগে
বাচাঁনো গেল না চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হাতি শাবকটিকে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জ সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত বাচ্চা হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।
ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা জুলকার নাইন বলেন, আহত হওয়ার পর থেকে হাতিটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কম ছিল। তাছাড়া মাথায় আঘাত লেগে কান ও শুঁড় দিয়ে রক্তপাতও হয়েছে। পেছনের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ায় দাঁড়াতে পারছিল না হাতিটি। গতকাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল কিন্তু তেমন একটা উন্নতি হয়নি। পরে বিকেলে হাতিটি মারা যায়।
আরও পড়ুন: ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত বন্য হাতি
ময়নাতদন্তের পর হাতিটি পুঁতে ফেলা হবে বলে জানান তিনি।
জুলকার নাইন আরও বলেন, হাতিটির চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চেষ্টার পরও গুরুতর আহত হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকামুখী কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন চুনতি বন্যহাতি চলাচলের জন্য নির্মিত ওভারপাস অতিক্রম করছিল। এ সময় একটি বন্যহাতির পাল ওভারপাসের উত্তর পাশে রেললাইন পার হচ্ছে দেখে ট্রেনটির গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সব হাতি পার হতে পারলেও আনুমানিক ১০ বছর বয়সী একটি হাতি শাবক রেললাইনে থেকে যায়। সেই হাতিটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয়।
আরও পড়ুন: বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হাতির চিকিৎসা চলছে
৬৭৯ দিন আগে
গোপালগঞ্জে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মাহুতের মৃত্যু
গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক মাহুতের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পোলসাইর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত নজরুল কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে হাতি দিয়ে চাঁদা তুলে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যু
স্থানীয় জানায়, সকালে টাকা তোলার সময় হঠাৎ মাহুতকে শুর দিয়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে হাতিটি। আছাড় মারার পর হাতিটি একাধিকবার মাহুতের বুকের ওপর পাড়া দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্থানীয়রা হাতি ও হাতির অপর মাহুতকে আটক করে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক হাতি ও অপর মাহুতকে আটক করে।
তিনি আরও বলেন, নজরুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বন্য হাতির আক্রমণে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু
৭০১ দিন আগে
টেকনাফে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যু
কক্সবাজারের টেকনাফে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একটি বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া কোনাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
হাতিটির বয়স আনুমানিক ৫০ বছর এবং এটি একটি পুরুষ হাতি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে হাতির আক্রমণে যুবক নিহত
তিনি জানান,পাহাড়ে খাদ্যের অভাবে কিছুদিন ধরে বুনো হাতি লোকালয়ে নেমে আসছে। আজকেও লোকালয়ে আসলে স্থানীয় মো. হোসাইন নামে একজনের ভিটাবাড়িতে থাকা গাছপালা নষ্ট করে খাদ্য খুঁজছিল,এসময় হাতিটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে গেলে এটির মৃত্যু হয়।
স্থানীয় মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, খাবার সন্ধানে হাতিটা আমার ঘরের পাশে চলে আসে। হাতিটা খাবার না পেয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে। এসময় আমার ঘরের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে গেলে এটির মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে মহাসড়কের পাশ থেকে মৃত হাতি উদ্ধার
৭৪০ দিন আগে
হাতি তাড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল যুবকের
শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও এলাকার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উসমান আলী নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার(৩০ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতি তাড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
নিহত উসমান আলী নাকুগাঁও গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা এবং জামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদল বন্যহাতি নাকুগাঁও পাহাড় থেকে পাশ্ববর্তী এলাকায় নেমে আসলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের খেত বাঁচাতে বন্যহাতিদের তাড়া করলে একপর্যায়ে বন্যহাতির দল পাল্টা তাড়া দিলে উসমান আলীসহ অন্যরা দৌঁড়ে পালানোর সময় পা পিছলে খেতের আইলে পড়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক জেনারেটরের খোলা তারে জড়িয়ে তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল আলম ভুইয়া বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
৮৭৯ দিন আগে
বগুড়ায় মৃত হাতি উদ্ধার
বগুড়ায় সড়কের ধারে পড়ে থাকা একটি মৃত হাতি উদ্ধার করা হয়েছে।হাতির মালিক বা মাহুতকে না পাওয়ায় হাতিটি কোথা থেকে এসেছে তা স্থানীয়রা বলতে পারছেন না।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের বগারপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শোলাগাড়ী মোড়ে মৃত হাতিটি পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ‘পাহাড়ের ঢালু থেকে পড়ে’ হাতি শাবকের মৃত্যু
জানা গেছে, স্ত্রী প্রজাতির এই মৃত হাতিটি বান্দরবান এলাকার আজগর নামের এক ব্যক্তির। হাতিটির বয়স প্রায় ৮০ বছর। বগুড়ার নামুজা এলাকার এনামুল নামে এক ব্যক্তি হাতিটির মাহুত হিসেবে কাজ করতেন।
হাতিটি বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় সার্কাসে ব্যবহার হতো। এ ছাড়াও হাতিটিকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দোকান, যানবাহন ও মানুষের কাছে টাকা তুলতেন মাহুত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল হোসেন জানান, সকালে দুপচাঁচিয়া সড়কে শোলাগাড়ী মোড়ে স্থানীয়রা হাতিটিকে দেখতে পায়। তাদের কাছে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসি। পরে পুলিশ, বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে রাতের বেলায় গাড়িতে করে নিয়ে এখানে ফেলে রেখেছে।
বগুড়া সদর থানা উপপরিদর্শক (এসআই) নুর জাহিদ সরকার জানায়, হাতির আসল মালিক আসগরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। পার্বত্য এলাকার কারণে এখনও কথা হয়নি। তবে মহাস্থানগড় এলাকায় মমতাজ নামে আসগরের এক ভাতিজা বসবাস করেন।
হাতিটিকে দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলার অনুষ্ঠানে ভাড়া হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এর আগে থেকেই হাতিটি অসুস্থ ছিল। গতকাল সোমবার ট্রাকে করে হাতিটিকে বগুড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছিল।
পথে সম্ভবত মারা যাওয়ার কারণে রাতে শোলাগাড়ী এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।
এসআই নুর জাহিদ আরও বলেন, হাতিটির বয়স অনেক। অসুস্থও ছিল। হাতির মাহুত ও মালিকের ভাতিজাকে ডাকা হয়েছে। ঘটনাস্থলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা আছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনে হাতির মৃত্যু
শিগগিরই শেষ হচ্ছে না হাতিরঝিলে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি
১১০৭ দিন আগে