প্রয়াণ
সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম আজাদ জানান, তার মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
মিজানুর রহমান সিনহার মেয়ে তাসনিম সিনহাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই পোস্টে তিনি তার বাবার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ সালে সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ওই আসন থেকে বিএনপি তাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকায় পরে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন এনে তার পরিবর্তে দলটির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়কও ছিলেন।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার বাবা হামিদুর রহমান সিনহা এবং মা নূরজাহান সিনহা।
শৈশবের একটি অংশ কলকাতায় কাটানোর পর তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে পরিবার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মুন্সীগঞ্জের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
১১ দিন আগে
পান্না কায়সারের প্রয়াণ বাঙালির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পান্না কায়সার একাধারে লেখক ছিলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে থেকে তিনি সেটাকে শাণিত করেছেন।
তিনি বলেন, পান্না কায়সারের প্রয়াণ বাঙালির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
আরও পড়ুন: আ. লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসাধ্য সাধন করতে পারে: তথ্যমন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তর সালের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গিয়েছিল, অবদমিত করা হয়েছিল, সেই প্রতিকূল সময়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শাণিত করেছিলেন।
রবিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পান্না কায়সারের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবার নিয়ে পান্না কায়সারের সংগ্রামের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসার গড়ার দুই বছরের মধ্যে স্বামীকে হারিয়েছেন। তারপরও তিনি সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।
সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে তিনি সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে থেকেছেন। আমি ধারণা করিনি যে, এতো তাড়াতাড়ি তিনি আমাদের মাঝ থেকে হঠাৎ করে চলে যাবেন। আমরা তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
তিনি বলেন, তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি, স্রষ্টা যেন তাকে চিরশান্তিতে রাখেন।
গত শুক্রবার (৪ আগস্ট) ৭৩ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর ছায়াকেও ভয় পেতেন খুনিরা: তথ্যমন্ত্রী
তারেক-জুবাইদার বিচারের রায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
১০২৫ দিন আগে
একজন অভিভাবকের প্রয়াণ
সকালে ঘুম ভাঙল একটি ফোনের কলে। বড় ভাই ওপার থেকে বলল, জামিল আর নেই। আমি তখনও বুঝতে পারিনি, কোন জামিলের কথা বলছেন বড় ভাইয়া। এরপর বিস্তারিত শুনে আকাশ থেকে পড়লাম। মাথার উপরে বটবৃক্ষহীন আমি, এটা তো ভাবাই যায় না। কী করব আমি, কাকে ফোন দেব, কিছুই বুঝতে পারছি না। ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে। দেশের এ দুঃসময় যেন আমাকে আর স্পর্শ করছে না। সাহস করে বাড়ির নিচে দাঁড়ালাম। শুনশান রাস্তাঘাট। ঢাকার পথঘাট এত ফাঁকা আগে কোনো দিন চোখে পড়েনি। তার চেয়েও বেশি ফাঁকা আমার বুকের ভেতরটা। একটু হেটে যেতেই রিকশা পেলাম। রওনা হলাম আমার জামিল ভাই, জেআরসি স্যারের বনানীর বাসায়।
২২২০ দিন আগে