ভারত
ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৭
পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ডে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। সি-৯০ নামে উড়োজাহাজটির মালিক রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড।
উড়োজাহাজটিতে করে গুরুতর দগ্ধ এক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়া দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল। তার সঙ্গে ছিলেন একজন চিকিৎসক, একজন জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের দুই সদস্য।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কীর্তিশ্রী জি জানান, ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা সবাই মারা গেছেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
রাজ্যের বিমানের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহের মধ্যে পড়ে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর একটি দল পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তারপর ঘন বনাঞ্চল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
ভারতে ছোট শহরগুলো থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত হাসপাতালে নিতে প্রায়ই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়।
দুর্ঘটনাটি প্রতিকূল আবহাওয়ায়, বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কিছুদিন আগে, পশ্চিম ভারতে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে বহনকারী একটি বেসরকারি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর পুনরায় এ দুর্ঘটনা ঘটল।
১ দিন আগে
ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার আসামি দুই ভাই বেনাপোলে গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জ জেলার হত্যা মামলার আসামি আপন দুই ভাই সাদিকুর রহমান শামিম (৩৬) ও সাজিদুর রহমানকে (৩২) ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাদিকুর রহমান শামিম ও সাজিদুর হালুরগাঁন এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
শামিম হোসেন বলেন, তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পারিবারিক মারামারির একটি মামলা রয়েছে তাদের নামে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রেপ্তার দুই ভাই বেনাপোল ইমিগ্রেশন ডেস্কে তাদের পাসপোর্ট জমা দিলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাদের নামে হত্যা মামলা পাওয়া যায়। এছাড়া কালো তালিকায় তাদের দুই ভাইয়েরই নাম রয়েছে। পরে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জ জেলা থেকে আসা দুই ভাইকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা দুই ভাই হত্যা মামলার আসামি। সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে আসামিদের তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৭ দিন আগে
দেশে ফিরল ভারতে পাচার হওয়া ২৮ শিশু-কিশোর
ভারতে পাচার হওয়া ২৮ বাংলাদেশি শিশু-কিশোরকে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। এদের মধ্যে ১৭ জন শিশু ও ১১ জন কিশোর।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভারত-ফেরত ২৮ শিশু-কিশোর বিভিন্ন সীমান্তপথে বাবামায়ের সঙ্গে, কেউ আবার দালালের মাধ্যমে ভারতে যায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি বেসরকারি এনজিও তাদের নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। এরপর আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরেছে।
তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে রাইটস, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এবং মহিলা আইনজীবী সমিতি নামে তিনটি এনজিও তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করবে।
৭ দিন আগে
তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভূমিধ্বস বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক্সে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক বিজয়ের অভিমুখে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
‘এই ফলাফল আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আমাদের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।
অন্যদিকে, ভারতের বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও নির্বাচনে জয়লাভ করায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হ্যান্ডেলে তিনি এ শুভেচ্ছা বার্তা জানান।
অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে অত্যন্ত গভীর যোগসূত্র রয়েছে।’
কংগ্রেস সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তির স্বার্থে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সকল ভারতের সকলের সমর্থন সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
১২ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীসহ নিহত ৫
ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ব্যক্তিগত বিমানটিতে থাকা আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি দলীয় র্যালিতে যোগ দিতে ব্যক্তিগত বিমানে করে মুম্বাই থেকে নিজ শহর বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। মুম্বাই থেকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে তাতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। টেলিভিশনের ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের (ডিজিসিএ) প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, মাঝারি আকারের লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটিতে ছিলেন পাওয়ারের দুই স্টাফ সদস্য ও দুই ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের অংশ হিসেবে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্যের চিনি উৎপাদন অঞ্চলে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। গ্রামীণ ভোটারদের সংগঠিত করার সক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাওয়ারকে একজন নিবেদিতপ্রাণ জনসেবক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি বলেন, ‘প্রশাসনিক বিষয়ে তার গভীর উপলব্ধি এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়নে তার আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। তার অকালমৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শোকের। তার পরিবার ও অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে আমার সমবেদনা।’
২৮ দিন আগে
ভারতের পার্লামেন্টে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো হবে
বাংলাদেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদায় জিয়াকে স্মরণ করবে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা। আজ বুধবার দেশটির রাজ্যসভায় এই শ্রদ্ধা জানানো হবে।
রাজ্যসভার বুধবারের (২৮ জানুয়ারি) কার্যসূচিতে দেখা যায়, অধিবেশনে প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়াসহ মোট তিনজনের জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হবে।
কার্যসূচি অনুযায়ী, ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর আধা ঘণ্টা পর সম্প্রতি প্রয়াত হওয়া নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করবেন।
ভারতীয় পার্লামেন্টে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক মর্যাদা এবং দায়িত্বকালীন সময়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার ভূমিকার স্বীকৃতি প্রতিফলিত করে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
২৮ দিন আগে
আইসিসির সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাবে বিসিবি
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ দলের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বিসিবির শঙ্কা সমাধানে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক এই সংস্থা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইসসির কাছ থেকে জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আইসিসি তাদের বার্তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উত্থাপিত উদ্বেগ নিরসনে বিসিবির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিসিবির মতামত ও পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে এবং তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।’
মঙ্গলবার রাতে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা শঙ্কা আর ভারতে খেলতে না যাওয়ার অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি আইসিসি। বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বলা হয়েছে। নাহলে পয়েন্ট হারানোর আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
তবে এই খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে বোর্ডকে আল্টিমেটাম (চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে) দেওয়া হয়েছে, যা বিসিবির নজরে এসেছে। বিসিবি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং আইসিসির কাছ থেকে পাওয়া বার্তার ধরন বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নির্বিঘ্ন ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বোর্ড আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশাদারভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যেখানে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই সহযোগিতামূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সব সময়ই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
৪৯ দিন আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাবে না বাংলাদেশ
আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’
গতকাল উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। মূলত এ কারণেই ভারতে দল না পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কেও জানিয়েছে বিসিবি।
আজ এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসিকে বিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের ভেন্যুগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে সেখানে বাংলাদেশ দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে বোর্ড।
চিঠিতে বিসিবি আরও উল্লেখ করে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আগ্রহী থাকলেও খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ অবস্থায় বিকল্প কোনো দেশে ম্যাচগুলো আয়োজনের সুযোগ থাকলে সে বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড।
এর আগে, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার জেরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন বিসিবির পরিচালকেরা। গতকাল রাতেও অনলাইনে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবশ্য অধিকাংশ পরিচালক ‘এখনই কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার’ পক্ষে মত দেন। তবে পরবর্তীতে সরকারের হস্তক্ষেপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অবস্থান বদলায় বোর্ড।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারায় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতে। ওই সময়ে লিটন-মোস্তাফিজদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা—সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
৫১ দিন আগে
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও শেষকৃত্যে অংশ নিতে বুধবার ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এস জয়শঙ্কর ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মাও উপস্থিত ছিলেন।
২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ভারত সফর করেন খালেদা জিয়া।
তার আগে, বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সর্বশেষ সরকারি ভারত সফর ছিল ২০০৬ সালেল মার্চে। সে সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের আমন্ত্রণে ২০ থেকে ২২ মার্চ তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে অবস্থান করেন।
ওই সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ বিষয়াবলি নিয়ে ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিস্তৃত আলোচনা হয়। একইসঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও মতবিনিময় হয়।
এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মোদি লেখেন, ‘ ‘ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এই বিয়োগান্তক ক্ষতি সয়ে নেওয়ার জন্য তার পরিবারকে ধৈর্য দান করুন।’
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘তার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও আমাদের পথ দেখাবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন স্থানে আজ দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
খালেদা জিয়ার দাফনের সময় জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সেইসঙ্গে দাফনে উপস্থিতদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারত্বকে পথ দেখাবে: মোদি
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এই শোক প্রকাশ করেন তিনি।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এই বিয়োগান্তক ক্ষতি সয়ে নেওয়ার জন্য তার পরিবারকে ধৈর্য দান করুন।’
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘তার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও আমাদের পথ দেখাবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’
৫৭ দিন আগে