ভারত
ভারতে চার বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন দম্পতি
ভারতে চার বছর কারাভোগ শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে শিশুসন্তানসহ দেশে ফিরেছেন এক দম্পতি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান।
এর আগে গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ধরাদোয়া গ্রামের আল আমিন শেখ (৩২) ও তার স্ত্রী জোসনা আক্তার (২৭) এবং তাদের ছেলে আরমান শেখ (২)।
ওসি সাইফুর জানান, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই দম্পতি ও তাদের শিশুসন্তানকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যশোর কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজার মুহিত হোসেন জানান, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে সাত বছর আগে অবৈধভাবে ভারতের কেরালায় যান এই দম্পতি। সেখানে আল আমিন শেখ শ্রমিক হিসেবে এবং তার স্ত্রী জোসনা আক্তার বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।
পরে ভারতের পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে আদালত তাদের চার বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজা ভোগের পর ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের একটি শেল্টার হোমে রাখে।
মুহিত হোসেন আরও জানান, দুই দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে সোমবার রাতে তারা দেশে ফেরেন। বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে তাদের গ্রহণ করে শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
১ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিতে নিহত যুবকের মরদেহ দেশে ফিরল
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে গুলিতে নিহত যুবক খালেদ আহমদের (২৩) মরদেহ দেশে এনেছেন তার স্বজনরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের আকুয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তার মরদেহ নিয়ে আসেন।
নিহত খালেদ কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে ভারতের অভ্যন্তরে আকুয়া সীমান্ত এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ জনের একটি দলের সঙ্গে দনা সীমান্তের ১৩৩৩ নম্বর মেইন পিলার-সংলগ্ন মিকিরপাড়া এলাকা দিয়ে ভারতের আকুয়া এলাকায় যান খালেদ। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এ সময় দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
আহত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাজিম উদ্দিন জানান, ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে খালেদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের অভ্যন্তর থেকে খালেদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসেন।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া এক যুবকের মরদেহ দেশে এনেছেন তার স্বজনরা। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর কানাইঘাট উপজেলার সোনারখেওড় সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহিন আহমদ নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়।
১১ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা: মুশফিকুল
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক আলোচনায় অতিথি বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার প্রতিপাদ্য ছিল পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও চীন-ভারত ভূরাজনীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ভারতকে আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়া জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব একটি দেশের জনগণের সঙ্গে গড়ে তুলতে হয়; তা কোনো একজন নেতা বা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
১৭ দিন আগে
হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনতে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ভারত ত্বরান্বিত করবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও সমান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় তো রয়েছেই, তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, তা যেন আরও দ্রুত সম্পন্ন হয়—ভারত সরকার সেই দিকে নজর দেবে বলেই আমরা আশা করি।’
দুই দেশেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং ভারত সরকারেরও একই ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।
প্রত্যর্পণ চুক্তির কাঠামোর আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ করা অবশ্যই সম্ভব এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল (শনিবার) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আপনাদের সরাসরি উত্তর দিতে গেলে, ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় আইনি বিষয় জড়িত, আর এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া। সুতরাং সেই দিক থেকে প্রক্রিয়াটি চলমান।’
বিষয়টি আদালত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকায় চলমান বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনেরর অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হাইকমিশনার।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার প্রতিটি সমস্যারই সমাধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো গোপন করে রাখার কোনো মানে নেই, আর বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো মানে নেই।’
বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ, পরিবহনসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের আলোচনা করা প্রয়োজন।
দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে, তবে তা থেমে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে যথাযথ ফোরামে সংলাপ হতে হবে। আর সেই সংলাপ হতে হবে ধারাবাহিক।’
ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়ায় কোনো বিরতি নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্বাস করুন, এর সমাধান হতে হবে এবং সমাধান হবেই।’
২৩ দিন আগে
হাসিনাকে ভারতীয় বিমান বা সেনাবাহিনী ভারতে আনেনি: ত্রিবেদী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।
বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’
সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।
হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।
২৫ দিন আগে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্কের জেরে দেশেটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ শুক্রবার মুম্বাইয়ে নতুন করে আন্দোলন করেছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
একই দাবিতে দিল্লির বিখ্যাত প্রতিবাদ কেন্দ্র ‘যন্তর মন্তরে’ ছাত্র ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর পূর্বঘোষিত এক সমাবেশ রুখে দিয়েছে পুলিশ। পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলার পাশাপাশি সেখান থেকে বেশ কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা পাইয়ে দিতেই কমিশনারদের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার উভয় পক্ষই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
নির্বাচন কমিশনে অভ্যন্তরীণ বিরোধ
গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি তুলেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই দুই কমিশনার কয়েকটি সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাদের উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেন। উল্লেখ্য, ভারতের আইন অনুযায়ী তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
তবে নির্বাচন কমিশন এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, বিষয়টি কমিশনারদের মধ্যকার ভিন্ন মতামত ও পারস্পরিক আলোচনার অংশ, কোনো লিখিত আনুষ্ঠানিক আপত্তি নয়।
২৬ দিন আগে
নয়াদিল্লিতে ইলিশ ফেস্ট
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ণাঢ্য ‘ইলিশ ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মৈত্রী মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবে ভারতীয় রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
ঢাকায় পাওয়া হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাদ্যরসিকতার অন্যতম অনুষঙ্গ ইলিশকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসব অতিথিদের মধ্যে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার এক অনন্য আবহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে ইলিশের নানা পদ পরিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়।
অতিথিরা বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা দিক উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এম জে আকবর, সাবেক কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ মণি শংকর আইয়ার, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজচিন্তক সাইদা হামদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রনেন সেন, বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। ইলিশ ফেস্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ভারতের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ভারতীয় নাগরিকরা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘এ ফিশ কলড হিলসা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
উন্মোচন শেষে হাইকমিশনার মু রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, প্রকৃত অর্থে ইলিশ বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইলিশ বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতির সঙ্গে মিশে আছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইলিশ মাছের পাঁচটি অভয়াশ্রম রয়েছে। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ইলিশের সংরক্ষণ ও উৎপাদন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
৩১ দিন আগে
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সিলেটে আটক ৭
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটকদের সিলেট আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. সাইফুল (২১), খুলনার দিগলদিয়া থানার বাগমারা গ্রামের মো. রাব্বি শিকদার (১৭), কাজিগঞ্জ মোগলা গ্রামের মো. কাউছার (১৬), বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. ওমর ফারুক (১৮), মোড়লগঞ্জ থানার নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. পারভেজ হাসান (২১), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ভমবাগ গ্রামের শম্পা (২৪) ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মুন্নি (১৬)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, অজ্ঞাত এক দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সিলেটের জাফলং এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারীকে ভারতে বাসাবাড়িতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা এবং পাঁচ যুবককে বিভিন্ন কোম্পানিতে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরবর্তীতে মিজান নামের এক ব্যক্তি তাদের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, উচ্চ বেতনের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ওই সাতজন নলজুরি বড়ইতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
৩৪ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু্র উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: রেলমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের (কুষ্টিয়া-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন আসছে এবং ৪২টি খালি রেক ফেরত যাচ্ছে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, রহনপুর, দর্শনা ও বেনাপোল ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং খালি রেক ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়া মন্ত্রী জানান, রাজশাহী-কলকাতা-রাজশাহী রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুনের (জামালপুর-৫) আরেকটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বর্তমানে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পগুলো হলো—মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ; শেরপুর-রৌমারী রেল যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, রেলওয়ে সম্প্রসারণে তিনটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা; নেত্রকোনার ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।
রবিউল আলম বলেন, ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে আরও প্রকল্প নেওয়া হবে, যাতে দেশের সব জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যায়।
৪৯ দিন আগে
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন দুই তরুণী
ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ভ্রমণ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরেছেন নড়াইলের দুই তরুণী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা দুই তরুণী হলেন: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ঘাঘা গ্রামের লাবনী বিশ্বাস ও একই উপজেলার মহিষখোলা গ্রামের মনি বিশ্বাস।
লাবনী বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে তারা সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। সেখানে বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পরে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে দেশটির আদালত তাদের দুই বছর সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।
পরবর্তীতে কারাভোগ শেষে বেঙ্গালুরুর ‘বালামন্দির চাইল্ড হোম’ দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টার হোমে রাখে। এরপর উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ভ্রমণ অনুমতি মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা দেশে ফেরেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারত ফেরত দুই তরুণীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
এ বিষয়ে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ফিল্ড ওয়ার্কার শফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা দুই তরুণীকে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। আজ (বুধবার) তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৪৯ দিন আগে