ভারত
ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে রবিবার: হাইকমিশনার
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত।
বৃহস্পতিবার (২৫) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী এই ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, দেশের পাঁচটি কেন্দ্রের মাধ্যমে এই ভিসা সেবা দেওয়া হবে। সেগুলো হলো: ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা।
এর আগে, দিনেশ ত্রিবেদী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন।
আজ দুপুরে বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিচয়পত্র পেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তার কর্মকাল বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সব ধরনের ভিসা সীমিত করে ভারত। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ট্যুরিস্ট ভিসা। এর মধ্যে কেটে গেছে প্রায় দুই বছর।
এরপর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ভারতে দেশটির নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসছিল না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছিল, নিরাপত্তা উদ্বেগ, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এরই মধ্যে নতুন হাইকমিশনার আসার পর ট্যুরিস্ট ভিসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আলোচনা ছিল।
১ দিন আগে
নওগাঁ সীমান্তে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ৯ জনকে ভারতে 'ফিরিয়ে নিয়েছে' বিএসএফ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে নওগাঁ-১৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনটি শিশু ছিল। সংবাদ পাওয়ার পর আদাতলা সীমান্তে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তারপর ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয়, বিকেলের দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরে বিকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৯ জনকে প্রশ্নের চেষ্টার প্রতিবাদে এবং পুশইন ঠেকাতে সন্ধ্যার দিকে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে কোম্পানি কমান্ডার বা ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
ভারতীয় অংশে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের অংশে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শূন্যরেখায় ওই ৯ জন তপ্ত রোদের মধ্যে দিনভর মানবেতর জীবনযাপন করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জন চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে।
নওগাঁ সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর বিএসএফ তাদের তিনটি সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে সীমান্ত এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।
তারা জানান, গতকাল রাত ১০টার পরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ তাদের সীমান্তে সার্চলাইটগুলো পুনরায় জ্বালিয়ে দেওয়ার পর সেখানে ওই ৯ জনকে আর শূন্যরেখায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে রাতের আঁধারে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ভারতীয় অংশে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯জন আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে সেখানে আর দেখা যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ গতকাল দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, পুশইন এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
গত ৫ জুন সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্ত, ৮ জুন পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত এবং সর্বশেষ ২৪ জুন সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের তিনটি পুশইন মিশন ব্যর্থ হয়।
১ দিন আগে
লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৪
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
সোমবার (২২ জুন) লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি ভবনে আগুন লাগে। ভবনটির নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান ও পশু চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ওপরের তলাগুলোতে একটি কোচিং সেন্টার ও অ্যানিমেশন স্টুডিও ছিল।
দুর্ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে একজনকে ওপরের তলা থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বেঁচে গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ভবনের পেছনের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ধোঁয়া অপসারণে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা হয় এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও শৌচাগারে জীবিতদের অনুসন্ধান করেন।
অ্যানিমেশন স্টুডিওর কর্মী মোহাম্মদ আসিন জানান, দুপুরের খাবারের বিরতি শেষে কর্মীরা কাজে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই আগুন লাগার খবর পান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটি ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড, কিন্তু বের হওয়ার চেষ্টা করার আগেই কক্ষ ও চলাচলের পথ ধোঁয়ায় ভরে যায়।’
ভারতে প্রায়ই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দেশটিতে ভবন নির্মাণ আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাতা ও বাসিন্দাদের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়।
গত ৩ জুন দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
৪ দিন আগে
ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ৬ নারী
ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি ৬ নারী।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফেরত আসারা হলেন— নুসরাত মন্ডল, ফাতেমা জিন্নাত, মিম আক্তার, সাদিয়া আক্তার, রিপা খাতুন ও আরোহী মন্ডল। তারা যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।
ফেরত আসা ফাতেমা জিন্নাত বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে তারা ২০২৩ সালে সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের হায়দারাবাদ গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা-বাড়িতে এবং বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় সেদেশের ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের তিন বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা আজ (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে দেশে ফেরেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মুর্তজ আলী জানান, ভারত ফেরত ছয় নারীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম কর্মকর্তা মুহিত হোসেন বলেন, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি: উপদেষ্টা জাহেদ
দিল্লী বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারত এ ঘটনায় সতর্ক হবে, তবে ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলেও জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
গত রবিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। তিনি ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট আইওআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। শুরুতে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসেন।
দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটনার বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, পত্র-পত্রিকায় যা যা দেখছেন, নানান সূত্র থেকে বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার মিডিয়াতে যা যা এসেছে, আসলে ঘটনাগুলো ঠিক এই রকমই ঘটেছে। আমি ওখানে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, আমি এই সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি, এই রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে ওখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো যে আমাদের ইনস্ট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সেই কারণেই আমি আসলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, 'যদিও আপনারা মিডিয়াতে দেখেছেন, একপর্যায়ে তারা খুবই চেষ্টা করেছেন আমি যেন ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার নিয়মিত যে কর্মকাণ্ড, সেটায় অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আমি সেটা আর করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে, এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে মনে করেছি তা না, আমি মনে করেছি এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে, তখন আমার মনে হয়েছে এই রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার।
‘আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ এবং এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটা সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারকে দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে সব জায়গায়, সেটা মাথায় রেখেই চলতে হয়। একই সঙ্গে অন্যদেরও সেই জিনিসটা আমলে নিতে হয়। সেই কারণেই আসলে এই কাজটা করা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত না শুধু, অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো এনগেজমেন্টে (সম্পৃক্ততায়) আমাদের একটা সুস্পষ্ট নীতি আছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না, কোনো দেশের সঙ্গে খুব খারাপ কোনো পরিস্থিতি হোক, কোনো শত্রুতা তো দূরেই থাকুক।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে, আমাদের স্লোগানের মধ্যে আছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মানে আমরা বাংলাদেশকে রাখব, তার মাধ্যমে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনগেজমেন্ট হবে। এবং সেটা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে বা আমার ক্ষতি করে কাউকে কোনো সুবিধা দেওয়া, এই নীতিতে এই সরকার কোনো দেশের সঙ্গে, আমি আবারও বলছি এটা শুধু ইন্ডিয়া না, কোনো দেশের সঙ্গে এই সরকার যাবে না।’
এ ঘটনা দু-দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করবে কি না, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত না। আমি ইতোমধ্যে বলেছি যে এখানে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আমি মনে করি, আমাদের জায়গা থেকে এর পরবর্তীতে যা যা হচ্ছে, এখন আমরা আর কী করব না করব, সেই ব্যাপারে আমি আসলে বলব না, বলছি না। কারণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এটা চলে গেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার যা যা করণীয় তা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন হাইকমিশনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন। এটা তারা আসলে বলবেন, এই সরকার কতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিন্তু আমি আশা করব, এই ঘটনায় দুই দেশের ভবিষ্যতের এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে যাতে প্রভাব না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, দুই ঘণ্টার মাথায় আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘ইটস টু মাচ’ আমি আসলে আর থাকব না। এই সময়টাও যে আমি এই রাষ্ট্রের একটা পদে আছি, সেই পদের প্রতি যে সৌজন্য সেটার অভাব রয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে, সে কারণেই আমি এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এরপর আমার পাসপোর্ট ফেরত চাইলাম। আর যখন আমি পাসপোর্ট ফেরত চাইলাম, তখন তাদের দিক থেকে খুবই আন্তরিকতাপূর্ণভাবে আমাকে অনুরোধ করেছেন।
বলা হচ্ছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সবকিছুর মূল কারণ না। আমি যদি কোনোদিনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট নাও নিই, আমার কি বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হবে? আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে কিন্তু বাধ্যও নই। এটি এমন একটি সুবিধা যা আমি গ্রহণ করতে পারি। আমি আমার জায়গা থেকে এটা আমি নিতে পারি চাইলে। কিন্তু, এটা আমাকে নিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে পাসপোর্ট কারণ ছিল। আসলে পাসপোর্ট কারণ ছিল না। অন্য কারণ ছিল যেগুলো ইন্ডিয়ান মিডিয়াতেও আসলে কম বেশি এসেছে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চাইনি ইমিগ্রেশনের সিলটা নিতে, যে আমি ওখানে প্রবেশ করিনি, এটার একটা সই থাকা দরকার। এ কারণে আমার কিন্তু ফেরাটা জটিল হয়েছে, নাহলে এটা সহজ হতে পারত। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি এই সিলটা এবার নেব না।’
তিনি বলেন, 'গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তি মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কথা আছে, আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। অভিন্ন আরও ৫৩টা নদী আছে। ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি, সেটা আমি লুফে নেব।
‘আমি এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, সেই আচরণের জন্য আমি যা করেছি, এটা ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, ভারত তার এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসবে।’
এ ঘটনার জন্য ভারতের বাংলাদেশের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত কি না— এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে এই জবাব নেই। আমাদের রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কী পদক্ষেপ নেব, কীভাবে নেব, এটা এখন আমাদের পররাষ্ট্রকে জিজ্ঞাসা করুন, যেহেতু প্রতিনিধি ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তারা আলোচনার মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলে কী করবেন তা ঠিক করবেন।
১০ দিন আগে
পুশ ইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতকে সতর্কবার্তা আলালের
ঢাকা, ১৪ জুন (ইউএনবি)— পুশ ইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে।
রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসার জায়গা হচ্ছে সীমান্তে বিজিবির যদি পাঁচজন সদস্য থাকেন, বাংলাদেশের পাঁচ হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে পুশ ইন প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী) সঙ্গে কোনো ভারতীয় নাগরিককে দেখা যায় না। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ এই পুশ ইন প্রতিরোধ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভারতকে অবিলম্বে এটা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতিথিপরায়ণ। কেউ এ দেশে এলে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। তবে কেউ যদি দীর্ঘদিন থাকতে চায়, তাহলে তাকে বিদায় করার উপায়ও এ দেশের মানুষ জানে।
ভারতের উদ্দেশে আলাল বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করে। তবে ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়া টিকে থাকতে পারেনি। বাংলাদেশে ঢোকা অত্যন্ত সহজ, বাংলাদেশ থেকে বের হওয়া এর চেয়ে কষ্টকর।
সীমান্তে ‘পুশ ইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যদি এত আগ্রহ থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে, কারণ তার বাড়ি বরিশালে। তাকে সম্মানের সঙ্গে আতিথ্য দেওয়া হবে। আমরা আপনাদের মতো আচরণ করি না।
ভারতে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আপনারা ওখানে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর যে অত্যাচার আপনারা করছেন, এটা সারা বিশ্বে আজ নিন্দিত হচ্ছে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে বলে উল্লেখ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে, অগ্রগণ্য রেখে, সম্মানের সঙ্গে। তারপর হবে বন্ধুত্ব। এটা শুধু ভারত নয়, পৃথিবীতে যত দেশ আছে, সবার ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের মর্যাদা সামনে রেখে তারপরে কূটনীতি পরিচালিত হবে। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারক রহমান বারবার সব জায়গায় বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ সবার আগে যদি বাংলাদেশ হয়, তাহলে আজ যারা বিভিন্নভাবে নানা রকমের চক্রান্ত, বুদ্ধি, দুর্বুদ্ধি, কুবুদ্ধি করছে, সেটা সফল হবে না।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ।
১২ দিন আগে
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৫
ভারতের আসামে দেশটির বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ধরে যায়।
দেশটির বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি। তারা হলেন—স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।
দুর্ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে আইএএফ জানায়, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে একটি নিয়মিত উড্ডয়নের সময় আইএএফের একটি এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই প্রাণহানিতে বিমানবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবতরণের সময় বিমানটি জোরহাট বিমানঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি সেবাদানকারী দল মোতায়েন করা হয়।
১৩ দিন আগে
সীমান্তে পুশ-ইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাংলাদেশকে চাপে রাখতে নয়: তথ্য উপদেষ্টা
সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এটি তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে করছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে, আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন লক্ষ করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল এটা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা চাপ তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল এটা।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) একটা রাজনীতি আছে, সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসছে তার সঙ্গে ভারতের সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছে, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চান। সেটটা দুই দেশই চায়। সেজন্য আমি মনে করি যে সংকটটা প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এটার একটা সমাধান দ্রুত হবে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই তারা ইনটেনশনালি (ইচ্ছাকৃতভাবে) বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন এরকম আমি মনে করি না।’
১৭ দিন আগে
ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৯১ মৎস্যজীবী
সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশের মালিকানাধীন চারটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৯১ জন মৎস্যজীবীকে গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যথাযথ দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকার সবসময় সহায়তা দিয়ে থাকে।
মৎস্যজীবীদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
১৯ দিন আগে
বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না।
বুধবার (৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোলের সাদিপুরে ভারত থেকে পুশইনের প্রতিবাদে সীমান্ত পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ রাতের আঁধারে চুপিসারে কাঁটাতারের বেড়া খুলে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা শুনতে পারছি সীমান্তের ওপারে অনেক মানুষকে তারা সমবেত করেছে। আমরা সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না এবং পুশইন বন্ধে সরকারকে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তারা এখানে তাদের প্রবেশ করালো কীভাবে? যেখানে সরকার পতাকা বৈঠক করেছে, সেখানে কোনো সমাধান আসেনি। সরকারের যে পররাষ্ট্রনীতি এবং স্বরাষ্ট্রনীতি আছে, সেটা আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়েছে; তা ভঙ্গুর নীতি, এটি বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপদ করতে পারছে না।
তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আরও বলেন, যেখানেই সীমান্ত হত্যা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা আছি। আপনারা বিজিবির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। দলমত নির্বিশেষে আপনারা পুশইনের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্তে নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে যেকোনো সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শোয়েব মিয়া।
২৩ দিন আগে