হত্যা মামলা
মাগুরায় অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, আটক ৪
মাগুরায় ১৬ বছর বয়সী এক অটোরিকশাচালককে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই যুবককে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও মাগুরা সদর সার্কেলের পুলিশ সুপার দীপঙ্কর রায়।
আটকরা হলেন— মো. ফেরদৌস হোসেন (২৪), মো. তাজুল ইসলাম (২৩), মো. শাকিব শেখ (১৯) এবং মো. তারিকুল ইসলাম (২৬)।
পুলিশ জানায়, গত ৩ এপ্রিল রাতে মাগুরা সদর থানাধীন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শ্রীপুর (মৌপাড়া) এলাকায় একটি কলাবাগান থেকে সুমন মোল্লা (১৬) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সুমনকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ গোপন করতে কলাবাগানে ফেলে রাখা হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার দীপঙ্কর রায় জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৪ দিন আগে
এএসপি ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর রামপুরা থানার আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. শফিকুল ইসলাম বাদশা ওরফে গুজা বাদশাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে র্যাব-৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা থানার মাতুয়াইল এলাকার নিউ টাউন আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘ড্রিম হাউজ-১৮’ ভবনের আটতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাদশা রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা এবং তিনি ‘গুজা বাদশা’ নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার বাবা মৃত ওয়াজেদ আলী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডের নিজ বাসার তৃতীয় তলায় সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন গুজা বাদশা।
র্যাব আরও জানায়, হাতিরঝিল ও রামপুরা এলাকায় গুজা বাদশার নাম শুনলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় র্যাব-৩-এর গোয়েন্দা টিম তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৪ দিন আগে
রায়ে অসন্তোষ, সব আসামির ফাঁসি চান আবু সাঈদের বাবা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেছেন, আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় যারা নির্দেশ দিয়েছেন, সেই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা বিচারের বাইরে থেকে গেছেন। এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেন তিনি ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের (সাজার) রায় হয়েছে।’ তবে এই রায় কার্যকর করতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘রায় কার্যকর হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে।’
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু রায়হান বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত, সবার ফাঁসি কার্যকর চাই। তাহলেই ভাই হত্যার সঠিক বিচার হবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছিল। গত বছরের ৩০ জুন আইসিটি সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। আইসিটির তদন্ত সংস্থা একই বছরের ২৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
১০ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
অন্য দণ্ডিতদের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক সহকারী উপকমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং সাবেক উপপরিদর্শক বিভূতি ভূষণ রায় মাধবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মন্ডল, আরএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আরএমপির সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান তুফান, ইমরান চৌধুরী আকাশ, মাসুদুল হাসান মাসুদ, এ কে এম আমির হোসেন আমু এবং ড. সারোয়ার হোসেন চন্দনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিন বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, মাহফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বি, আখতার হোসেন, সেজান আহমেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, নূর আলম মিয়া এবং মাহবুবুর রহমান বাবু। আসামিদের মধ্যে আনোয়ার পারভেজকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিতদের মধ্যে ৫ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
কারা হেফাজতে রয়েছেন— আমির হোসেন, সুজন চন্দ্র, শরিফুল ইসলাম, ইমরান চৌধুরী এবং রাফিউল হাসান রাসেল। এছাড়া আনোয়ার পারভেজও কারাগারে ছিলেন।
এর আগে, গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছিল। গত বছরের ৩০ জুন আইসিটি সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। আইসিটির তদন্ত সংস্থা একই বছরের ২৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
১০ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালযয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আইসিটি-২ গত ৫ মার্চ এই মামলার রায়ের তারিখ ৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছিলেন।
২০২৫ সালের ৩০ জুন আইসিটি এই মামলার অভিযোগ আমলে নেয়। মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন পদের দায়িত্ব), প্ররোচনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন আইসিটির তদন্ত সংস্থা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল।
মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ৬ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যারা কারা হেফাজতে রয়েছেন তারা হলেন— সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি ছাত্র আন্দোলনকে তীব্রতর করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
১০ দিন আগে
ময়মনসিংহে আলামিন হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলামিন হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের সেনের চকপাড়া গ্রামের রশিদ (৪১), জসিম উদ্দিন (৫০) ও তার স্ত্রী হুরেনা খাতুন, তাদের ছেলে রিয়াদ (২৫) এবং জোনাকি আক্তার (৩৮)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই গ্রামের হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে জসিম উদ্দিনদের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২৩ সালের ১৯ জুন দুপুরে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা হাফিজুলের স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে মারধর করেন।
ঘটনার সময় হাফিজুল ইসলামের ভাই আলামিন হামলা ঠেকাতে গেলে আসামিরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পর নিহতের চাচা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত ৫ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।
১১ দিন আগে
রংপুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে খুন: গ্রেপ্তার ২
রংপুরের মিঠাপুকুরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে নিহতের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী। ঢাকার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মিঠাপুকুর উপজেলার শালমারা লফিতপুর এলাকার মহুবার রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং ইকবালপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে মোহন মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মিঠাপুকুরের আবুল কাশেমর সঙ্গে প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আসামিরা গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লাঠি, লোহার রড ও ছুরি নিয়ে আবুল কাশেমের স্ত্রীর পথরোধ করে তাকে শ্লীলতাহানি করেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর চুল ধরে মুখমণ্ডলে চড়-থাপ্পড় দেন তারা। ওই সময় তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়।
খবর পেয়ে মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছেলে নুরুজ্জামান। এরপর জাহাঙ্গীর আলমের লোকজন তাকেও এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তারা নুরুজ্জামানের অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারেন, সেইসঙ্গে তাকে গুরুতর জখম করে তারা চলে যান। পরে এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মিঠাপুকুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। কয়েক ঘণ্টা পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে (৩১) মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে মিঠাপকুর থানায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে গত ৩১ মার্চ রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম ও অপর আসামী মোহন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৮ দিন আগে
ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লাকে (৩০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় ওই ব্যক্তিকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, আসামি উভয় ধারার সাজা এক সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজার এলাকার বাসিন্দা। নিহত জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মেয়ে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে রাশেদ ও জোসনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাশেদ যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার দাবির মুখে তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জোসনার স্বর্ণের হার ও কানের দুল বিক্রি করে আরও টাকা দেওয়া হয় যা রাশেদ মাদক সেবনে ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তারপরও থেমে থাকেনি নির্যাতন। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পুনরায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ঘরের ভেতর জোসনা বেগমের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাশেদ মোল্লার পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী রতন জানান, মামলার শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামি রাশেদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং এটি সমাজে যৌতুকের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।
২০ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে ৯ এপ্রিল।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ সিদ্ধান্ত জানায়।
এর আগে ২৭ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল।
রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ৩০ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির মধ্যে মামলার গ্রেপ্তার ৬ আসামি হলেন— বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ।
মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে বলে দাবি প্রসিকিউশনের। তাই সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে তারা।
৪৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ‘হত্যা মামলা তুলে না নেওয়ায়’ সাক্ষীর ওপর হামলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার সাক্ষী আসমত গাইন (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বুধবার ছাতারপাড়া বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন আপন দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় আরও দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আসমত গাইনও ছিলেন।
নিহতরা হলেন— হামিদুল ইসলাম (৪৮) ও তার ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (৪৫)। তারা ছাতারপাড়া এলাকার বেগুনবাড়িয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে ছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গাইন বংশের লোকজন কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় পেয়াদা বংশের লোকজন তাদের ওপর ২০২৪ সালে হামলা চালান। এতে গাইন বংশের আপন দুই ভাই নিহত হন। সেই জোড়া হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে সম্প্রতি বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিপক্ষের লোকজন মামলার সাক্ষী আসমত গাইনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত আসমতের ভাতিজা সজিব হোসেন বলেন, ‘ইফতারের আগে আমাদের বাড়িতে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে আমার চাচা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমাদের গ্রামে আপন দুই ভাইকে হত্যার ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন। তিনি ওই হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, আগের জোড়া হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
৫৬ দিন আগে