হত্যা মামলা
খুলনায় রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
খুলনার বটিয়াঘাটায় রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—খুরশিদ আলম, আব্দুস সালাম ও খায়রুল শেখ। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় রেজাউলের ছোট ভাই তাদের ঠেকাতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে রেজাউলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার আব্দুস সালাম, মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও তার ভাই মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার এরশাদকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে খুরশিদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটা দিয়ে রেজাউল শেখের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২ দিন আগে
কক্সবাজারে একরামুল হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাউন্সিলর ও টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আলোচিত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান (বদি), পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার লতিফ খান, র্যাবের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, র্যাবের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে একই বছরের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনবারের কাউন্সিলর একরামুল হক। ওই ঘটনার পর ‘ঠান্ডা মাথায়’ একরামুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম।
ওই বছরের ৩১ মে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। সেই সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের সময় মুঠোফোনে রেকর্ড করা কথোপকথনের কিছু রক্ত হিম করা অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমকর্মীদের দিয়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে একটি রেকর্ডে বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ শোনা যায়। তার পরপরই গুলির শব্দ ও তারপর একজন মানুষের আর্তনাদের আওয়াজ পাওয়া যায়।
৩ দিন আগে
সিলেটে আদলত চত্বরে হত্যা মামলার আসামির ওপর ফের হামলা
সিলেটে আদালত চত্বরে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবারও হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা এ সময় জাকিরকে মারধর করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে জাকিরকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে, ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধর করেন ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অপেক্ষায় ছিলেন শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা। প্রিজন ভ্যান থেকে জাকিরকে আদালত ভবনে নেওয়ার সময় তারা সংঘবদ্ধ হামলা চালান। এ সময় পুলিশের হেফাজতে থাকা জাকিরকে মারধর করেন তারা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।
তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহিমার এক চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায়বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
বারবার আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশি পাহারার মাধ্যমেই আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে ছিল।
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে ভোর ৪টার দিকে ফাহিমার মরদেহ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির। পরে মরদেহ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি মরদেহটি পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।
তবে, সম্প্রতি আদালতে তোলার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জাকির অভিযোগ করেছেন, পুলিশ জোর করে তার জবানবন্দি আদায় করে।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এ সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত জাকির।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
৬ দিন আগে
ফরিদপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে অটোরিকশাচালক নাঈম শেখ হত্যা মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলার আরেক আসামি আশিক শেখের শিশু আদালতে বিচার চলছে ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ (পারিবারিক আপিল আদালত) আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: আসমত শেখ ও সাগর মোল্লা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অটোরিকশাচালক নাঈম শেখকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
ওই ঘটনার পরদিন ২২ এপ্রিল নিহতের ভাই রাসেদ শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসমত শেখ, আশিক শেখ ও সাগর মোল্লাকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৫ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান বলেন, আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসমত শেখ ও সাগর মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। অপর আসামির বয়স কম হওয়ায় শিশু আদালতে তর বিচার চলছে।
তিনি বলেন, ‘এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে সমাজে অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।’
৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় আলোচিত শিশু মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন ওরফে ফটিক জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বড় মসজিদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম খাতুনসহ কয়েকটি শিশু হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় আবুল হোসেন শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে মরিয়মকে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যান এবং অন্য শিশুদের অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মরিয়ম ফিরে না আসায় অন্য শিশুরা গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ভুট্টাখেতে গিয়ে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার চলাকালে আসামি চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় তার ধর্ষণের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।
মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বুধবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয় এবং আদালত ২০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।
৯ দিন আগে
মাগুরায় শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরায় রাজিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় হাসান শেখ (২৮) নামে এক আসামিকে আজ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টায় মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান শেখ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের কুমার নদের তীরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড় থেকে রাজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা মিকিজ শেখ ২০২২ সালের ১৯ মার্চ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মা ছবিরন নেছা জানান, রাজিয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি জমিতে রসুন দেখতে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পরে এই মামলার রায় হলো।
মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে কিশোরীর মা এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখ দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, রায়টি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বাবলু জানান, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।
৯ দিন আগে
রায় কার্যকর নিয়ে সংশয়ে শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা
আজ ইতিহাসের অনন্য অধ্যায় রচনার ১৬ জুলাই। ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ।
এই দিনে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিও ও ছবি দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। পতন হয় এ দেশে ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের । এর মধ্যে দিয়ে দেশ ফিরে পায় এক গণতান্ত্রিক ধারা । সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন মুক্তির আনন্দে মেতে উঠে ।
তবে দেশ গণতন্ত্র ফিরে পেলেও আজও শহিদ আবু সাঈদ হত্যার প্রধান আসামিগুলোকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি সরকার। আর এজন্য সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধার এখন হতাশ। তাদের প্রশ্ন—বিচার কি আদৌ বাস্তবায়ন হবে?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। এই রায় দ্রুত কার্যকর চান শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘ছেলেটা নাই। খুব দেখতে ইচ্ছে করছে, আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে।’ এভাবেই বলেই হু হু করে কেঁদে ওঠেন তিনি।
চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। ওর হত্যার ঘটনায় আদালত যে রায় দিয়েছে, সেই রায় যদি বেঁচে থাকতে দেখতে পেতাম, তাহলে একটু হলেও মনটা সান্ত্বনা পেত।’ এ সময় তিনি মামলার সকল আসামির দ্রুত ফাঁসি দাবি করে রায় কার্যকর চান।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রত্যেকদিন বাবাটার কবরের কাছে যাই, বাবাটার মুখটা খালি ভাসি ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় গেইলে যে কয়দিন আইসে (আসত) না, সেই কয়দিন সকাল-সন্ধ্যা ফোন দিত। এখন আর কেউ ফোন করে বলে না, “মা কেমন আছো।” আদরের ছাওয়া (ছেলে) নাই, বুকে কষ্ট চাপা দিয়া আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাবাটা সংসারের হাল ধরার কথা ছিল, মোর (আমার) বাবাটা অনেক বড় চিন্তা থাকি (থেকে) দেশের জন্য জান দিছে। বাবাটাকে যারা মারি (মেরে) ফেলাইছে, সবার ফাঁসি চাই।
গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে বাঁচাতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসা সিয়াম আহসান আয়ান আক্ষেপ করে বলেন, তিনি সংসারের কথা, বাবা-মা, ভাই-বোনের কথা চিন্তা না করে, নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করলেন। অথচ তার মামলার রায় হতে অনেক সময় লাগল। সেই রায় দ্রুত কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। রায়টা দ্রুত কার্যকর হোক—এই প্রত্যাশা করি সরকারের কাছে।
শহিদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছরপূর্তিতে এসেও প্রথম শহিদের মামলার রায় কার্যকর হয় না। রায় হয়েছে, রায়টা দ্রুত কার্যকর হোক—এই কামনা করি।
মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আবু সাঈদ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে এতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে।
রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় আবু সাঈদ একাই অবিচল দাঁড়িয়ে তা মোকাবিলার চেষ্টা করেন।
পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দেওয়া আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। একসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
১৩ দিন আগে
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বিহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’, অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর সামরিক ট্রাইবুনালে জিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ১৮ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে ১৩ জন মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।
অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত একটি অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এসেছে।
সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১৩ দিন আগে
পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০১৫ সালের একটি হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পিরোজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমান এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক ছিলেন। একই মামলায় অন্য আরেক আসামি মো. ইউসুফ আকনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলে— মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মো. ইউনুস আকনের ছেলে মো. কামরুল আকন ও চরকখালী গ্রামের মো. টুকু মিয়া হাওলাদারের ছেলে মো. সোহাগ হাওলাদার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৭ মে বিকেলে পূর্বশত্রুতার জেরে কামরুল, সোহাগ, ইউসুফসহ আরও ২-৩ জন মঠবাড়িয়া পৌর এলাকার মো. হালিম কাজীর ছেলে রাকিবুলকে বেতমোর বাজারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ওই দিন মঠবাড়িয়া থানায় কামরুল আকন, সোহাগ হাওলাদার ও ইউসুফ আকনসহ আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করে। এরপর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত কামরুল আকন ও সোহাগ হাওলাদারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আকন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।
১৪ দিন আগে