হত্যা মামলা
ফরিদপুরে ইজিবাইকচালক হত্যা মামলায় অজ্ঞান পার্টির ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ফরিদপুরে চেতনানাশক দিয়ে ইজিবাইকচালককে অজ্ঞান করে রাস্তার পাশে ফেলে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
গ্রেপ্তার মুরাদ শেখ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাইকারী সুমন আহমেদ নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৪ অক্টোবর রাতে ফরিদপুর শহরের ফলপট্টি এলাকা থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে পাঠানো হলে তিনি ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই আরও জানায়, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২০০ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে।
ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে চক্রের সদস্যরা রুমালের মধ্যে চেতনানাশক মিশিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারকে অজ্ঞান করেন। সে সময় তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা।
পরে স্থানীয়রা বিশ্বনাথকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের মামলা করেন।
মামলার তিন মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের হুটের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর একে একে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
২ দিন আগে
ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সোহেল হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা দায়রা জজ আদালতের চতুর্থ অতিরিক্ত বিচারক ফারজানা আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল সাত্তার বেপারী, তার দুই ছেলে আলমগীর হোসেন আলম বেপারী ও রনি বেপারী এবং আশিকুর রহমান আশিক। আব্দুল সাত্তার রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ত্রিশালের কাঁঠিহারী ইউনিয়নের বাগাদাড়িয়া গ্রামের সোহেলের পরিবারের সঙ্গে আব্দুল সাত্তারের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তার জেরে ২০১১ সালের ২৮ মে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামিদের সঙ্গে সোহেলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সোহেলের ওপর হামলা চালান।
স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ৩০ মে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল সালাম বেপারী ২০১১ সালের ২ জুন ত্রিশাল থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত চার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করলেন।
৩ দিন আগে
নীলফামারীর হত্যা মামলার ৩ আসামি সিলেটে গ্রেপ্তার
নীলফামারীর ডোমারে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা মামলার পলাতক তিন আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-৯-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা বাজার এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন নীলফামারীর ডোমার থানার হংসরাজ গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়ার ছেলে মো. আবুল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী মোসা. আমেনা বেগম (৩৫) এবং তাদের ছেলে মো. হৃদয় ইসলাম (১৯)।
এসআরবি জানায়, ডোমারের হংসরাজ গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের (৪০) সঙ্গে তার ভাই-বোন ও ভাতিজাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৫ জুন সকালে দেলোয়ারের আবাদি জমির আইল কেটে নিজেদের সীমানায় নেওয়ার চেষ্টা করেন আসামিরা।
এ সময় তাদের বাধা দিলে এক নম্বর আসামি আবুল হোসেনের নির্দেশ ও নেতৃত্বে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও কোদাল দিয়ে দেলোয়ারের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেলোয়ারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১৪ জুন তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় দেলোয়ারের স্ত্রী বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারদের ডোমার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৯।
৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), আইন উদ্দিন (৬৮) ও তার ভাই আকতার হোসেন (৪৩), সাবু (৪১), সোহাগ (৩৮), শরিফুল ইসলাম (৪৩), বিপুল (৩৪), বদর উদ্দিন (৬৮), আফসার শেখ (৬৫), সুমিন (৩৮), সেলিম (৪১) ও আবু (৩৭)।
এছাড়া জুলু (৩৮) ও তার ভাই রাহুলকে (৩৪) দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন সাতজন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে কুমারখালী উপজেলার চর-চাপড়া গ্রামে একটি কলাবাগানের পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আহম্মদ আলী ওরফে আকম আলী কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ (মঙ্গলবার) এ মামলার রায় হলো। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
৫ দিন আগে
দর্শনা ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশত্যাগের সময় হত্যা মামলার আসামি আটক
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশত্যাগের সময় হত্যা মামলার আসামি মো. মাহবুব আলমকে (৪৯) আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।
দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব আলম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া দরগাপাড়া এলাকার আনসার শেখের ছেলে। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা।
দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া জানান, কুষ্টিয়া সদর থানায় করা একটি মামলায় তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
৯ দিন আগে
কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষককে হত্যার দায়ে তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বাবাসহ আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন নান্দাইলের চর লক্ষীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক (৭১) ও তার আরেক ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), রুবেল (২৯), পারভেজ (৩১), মোফাজ্জল হোসেন (৫৬), কাশিদ (৫৯), আল-আমিন (৩১), সুমন মিয়া (৩৬), নয়ন মিয়া (২৯) ও আসাদুল (২৯)।
আসামিদের মধ্যে রিপন মিয়া ও আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভেলামারীর হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন শফিকুল। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।
১১ দিন আগে
আবরার ফাহাদ হত্যার ৭ বছর পরও রায় কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পরও তার পরিবার মামলার রায় কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষায করছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার একটি আদালত দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্টও ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ সাজা বহাল রাখেন।
তবে আপিল বিভাগে আসামিদের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
আবরারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আদালতের একের পর এক রায় এলেও তাদের অপেক্ষার শেষ নেই। বিশেষ করে রায় কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে তারা এখন হতাশ।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও নাড়া দিয়েছিল। আবরারকে হত্যার পর মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তার প্রভাব ছিল বলে তিনি মনে করেন।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সূত্রপাত হয়েছিল আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যাদের কারণে আজ পরিবর্তন এসেছে, তাদের হত্যার বিচারই এখনও শেষ হয়নি।
ফাইয়াজ জানান, ২০২৫ সালের মার্চে হাইকোর্ট রায় দেওয়ার পরও তারা রায় কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও তাদের বলা হয়, মামলা সিরিয়াল অনুযায়ী এগোবে।
তার অভিযোগ, সিরিয়াল এগিয়ে আনা যায়। কিন্তু তারা সিরিয়াল এগিয়ে আনতে দ্বিধাবোধ করছেন।
ফাইয়াজ বলেন, ‘আমরা যেখানে যেখানে যোগাযোগ করা দরকার, করেছি। এখন অপেক্ষা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। রায় কার্যকর করতে বাধা কোথায়, সেটা আমাদের পরিবারের জানা নেই। এখন মনে হচ্ছে এটা অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।’
১১ দিন আগে
প্রেমিকাকে হত্যা ও পোড়ানোর দায়ে প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে হাছিনা বেগম সুমি নামের এক নারীকে হত্যা ও দেহ পোড়ানোর মামলার আসামি মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক এ রায় দেন। এ সময় মামলার একমাত্র আসামি উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের মার্চে প্রেমের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমিকে কাপ্তাইয়ের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান মহিবুল্লাহ। এ সময় তিনি হাছিনার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। পরে আলামত নষ্ট ও দেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তা স্কুলের পরিত্যক্ত টয়লেটে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন।
পরবর্তীতে সুমির মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে র্যাব ও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও সার্বিক প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, আসামির স্বীকারোক্তি, সুরতহাল ও মেডিকেল প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি দোষী সাব্যস্ত হন। দণ্ডবিধি ৩০২ ও ২০১ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
১২ দিন আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ডনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আবেদনে তাকে নির্দোষ দাবি করে সাতটি যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী।
এর মধ্যে মামলার দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা ও রাসায়নিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হয়।
জামিন আবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং তাকে অহেতুক হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে আইন অনুযায়ী জামিন পাওয়ার দাবিও জানানো হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডন শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না। আদালতে উপযুক্ত জামিনদার দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
আসামিপক্ষের আবেদনে শুনানির সময় অন্যান্য বক্তব্য মৌখিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের কথা উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ডনের জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
১৩ দিন আগে
এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল
ঢাকার আদাবর থানা এলাকায় পোশাককর্মী রুবেল হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এ আদেশ দেন।
গত বছরের ২৫ জুন জনগণের ‘ভোট ছাড়াই’ নির্বাচন সম্পন্ন করা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিএনপির করা মামলায় কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।
পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত জামিন দিলে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক এ সিইসি।
এর মধ্যেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর রুবেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ ছাত্র-জনতা আদাবরের রিং রোড এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালান। এতে গুলিবিদ্ধ রুবেলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
১৪ দিন আগে