হত্যা মামলা
কিশোরগঞ্জে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার (২৭) হত্যা মামলায় স্বামী ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই ঝর্ণা আক্তারকে তার স্বামী নির্যাতন করতেন। ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঝর্ণা আক্তার তার বাবার বাড়িতে রান্না করার সময় স্বামী ইসমাইলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইসমাইল তাকে ছুরিকাঘাত করেন।
পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণা আক্তারকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা জাহেরা বেগম বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামি ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
৪ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতারপ্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে (২৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিলন নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী।
আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রায়ের পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়। তার স্ত্রী চম্পা খাতুন ও তার দুই শিশুসন্তান এ সময় উপস্থিত ছিল।
মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছোট্ট দুই শিশুসন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন কেউ নেই।’
নিহত রুনার ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতেন। বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিতে আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম।
জানা যায়, পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমানের নতুন বাড়িতে ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেয়ে সিনহা আক্তার (৯) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে হুসাইনকে নিয়ে স্ত্রী রুনা খাতুন ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে ছেলে হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুজন পালিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়।
পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের ভাই রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে সেদিন মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত ও অজ্ঞাত দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিলনসহ একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে।
৫ দিন আগে
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
খুলনার চাঞ্চল্যকর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবির খুলনা ও বরিশাল ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিফাত সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ষোড়শ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
এসআরবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিফাত ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা এসআরবির সদস্যরা তার অবস্থান নিশ্চিত করেন। পরে সোমবার রাতে খুলনা ও বরিশাল এসআরবির যৌথ অভিযানে কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আজমুল হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে এসআরবির সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিফাতকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় খুবির ৪ শিক্ষার্থী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে খুবির চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টায় নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শুক্রবার রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং পরে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছিল, যার প্রমাণ ঘটনাস্থলেই মিলেছে। পরে ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ওই এলাকার মসজিদ গলির মেসে ভাড়া থাকতেন।
এদিকে আজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা সবাই খুবির শিক্ষার্থী। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মধ্যে আগে থেকেই ঝামেলা ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়ে তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন।’
গতকাল (শনিবার) রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান ওসি।
৮ দিন আগে
সাথী হত্যা: সাবেক স্বামীসহ ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে পোশাককর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্বামীসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তার বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের সুজন মিয়া (২০)।
মামলার নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহের নান্দাইল আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হকের মেয়ে রুনা আক্তার সাথী গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের সহকারী নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয়। এরপর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে ওই সন্তানকে নাজমুল তার বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টেসে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে যান তিনি।
পরদিন দুপুরে তাকে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে নিহতের বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আল আসলাম মুমিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ফারহানা হাবিব চৌধুরী।
১১ দিন আগে
লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আফাজ উদ্দিন (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মো. হবিবর রহমান ওরফে গোদা (৪০) নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হবিবর রহমান পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা (প্রধানপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ মার্চ রাতে পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর এলাকায় আফাজ উদ্দিন স্থানীয় বাজার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাঁচা রাস্তায় ওঁৎ পেতে ছিলেন আসামি হবিবর রহমান। এ সময় আকস্মিকভাবে তিনি হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আফাজ উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রমজান আলী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই ন্যায়বিচার সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
১২ দিন আগে
রাজধানীতে শিক্ষিকা হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) নিহতের ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, রনজিলার লুণ্ঠিত ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। রাজিবের কাছ থেকে ৬২২টি ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ডিবি জানায়, গত ২৯ আগস্ট সকালে রনজিলা তার স্বামী মো. আব্দুল মতিনের সঙ্গে রিকশায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পূর্বপ্রান্তে ১২ নম্বর গেট পার হয়ে খেজুরবাগানমুখী সড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা খোকন ও রাজিব তাদের অনুসরণ করতে থাকে।
খেজুরবাগানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা খোকন রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেন। এতে ভারসাম্য হারিয়ে রিকশা থেকে পাকা সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিলা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির তেজগাঁও বিভাগ ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকা, সাভার ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোকন ও রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার কথা জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের মধ্যে রনজিলার কাপড়, একটি টিকিটের অংশ, চশমার কেস ও কিছু ওষুধ ছিল।
পরে মিরপুর-১-এর কো-অপারেটিভ মার্কেট এলাকা থেকে রনজিলার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাজিব মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। ডিবি জানায়, মোটরসাইকেলটি রাজিবের নিজের, ভাড়া করা নয়।
এছাড়া খোকনের পরনে থাকা শার্ট, হাতে থাকা ঘড়ি ও মাথায় থাকা ক্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, রনজিলার ব্যাগ, মোবাইল ফোন, কাপড়, ওষুধ ও টিকিটের অংশ গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রনজিলার স্বামী ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে অল্প সময়ের জন্য দেখেছিলেন। পরে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুজন শুধু এ ঘটনায় জড়িত, নাকি তারা নিয়মিত ছিনতাইকারী দলের সদস্য এবং ঢাকার অন্য কোনো ঘটনায়ও জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডিবি আরও জানায়, রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনে করা মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। খোকনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ছিনতাই ও রনজিলা নিহতের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১২ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশু পার্কের কর্মচারী হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুর শিশু পার্কের অস্থায়ী কর্মচারী হাসান শেখকে (৩৫) পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার দায়ে ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় দেন।
এছাড়া একই মামলার অপর ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: শাহজাহান মাতুব্বর (৩৬), ফারুক শেখ (৩৫), চান্দু শেখ (২২) ও ফরিদা বেগম (৩০)। তাদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। আসামিরা সবাই জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। পরে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসান ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী শাহজাহান কাকা ডেকেছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে তিনি সারা রাত বাড়িতে না ফেরায় সকালে তাকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানিয়ে একটি জিডি করা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর ঝাউখোলা এলাকার একটি আখখেত থেকে হাসানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে হাসানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকজন যুবকের গণ্ডগোল হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিসি বৈঠক বসে। সেখানে হাসানকে মারধরের ঘটনায় তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। ওই ক্ষোভ থেকেই সেদিন রাতে হাসানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়।
স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু জানান, হাসান শেখ নৃশংস হত্যাকাণ্ড মামলার ঘটনায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক আজ এ রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
১২ দিন আগে
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন: আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গেল সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে প্রৌঢ়কে হত্যা মামলায় ছেলে-ভাইপোর মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির সাজেকে শান্তি লাল চাকমা (৫৬) নামে এক প্রৌঢ়কে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তার ছেলে সোহেল চাকমা (২২) ও ভাইপো আলোময় চাকমাকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে উভয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তি লাল চাকমাকে ডেকে বের করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে তাকে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে এবং ধারালো দা দিয়ে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন তারা। হত্যা নিশ্চিত করার পর তারা নিহতের মরদেহ পাশের গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেন। ঘটনার নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে পুলিশ শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার বা তার আত্মসমর্পণের পর এ রায় কার্যকর হবে। অন্যদিকে, কারাগারে আটক থাকা আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৩ দিন আগে