হত্যা মামলা
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় মঙ্গলবার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। ঘটনার মাত্র চার মাসের মাথায় মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে, মাত্র ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে।
নিহত জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটমচালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল ইরা।
ঘটনার পর গত ৩ মার্চ কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনির পরিবারের পাশের একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।
তদন্তে জানা যায়, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।
সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পাহাড়ে গলাকাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় শিশুটি। পরে তাকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ স্বীকার করেন, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং শিশুটি বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখালে তিনি চাকু দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ইরা মনির মা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
৩ দিন আগে
পাঁচ মাস পর খুলনার বিএনপি নেতা কচির মরদেহ উত্তোলন
খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচি (৬৩) নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবার কচির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পাঁচ মাস পর আদালতের নির্দেশে সোমবার (৬ জুলাই) মহানগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।
খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় টুটপাড়া কবরস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে কচির মৃত্যু হয়। তিনি খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর পর কেন্দ্রের ভেতরে পুকুরপাড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিলেন। এর প্রতিবাদ করলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কচির ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে মাদরাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার তার গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তৎকালীন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, হামলার কারণেই কচির মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কচি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে বড় ধরনের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরাও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হাতাহাতির ঘটনা তাদের নজরে না আসার কথা জানিয়েছিলেন।
নিহতের পরিবার শোকাহত থাকায় ঘটনার কিছুদিন পর খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন মজনু খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা ওই মামলায় আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।
সোমবার মরদেহ উত্তোলনের সময় মামলার বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেন, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে তিনি হট্টগোল দেখতে পান। তার দাবি, কচির ওপর হামলা হয়েছিল এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্যই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান তিনি।
মজনু বলেন, মহিবুজ্জামান কচি খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এক পক্ষ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও অন্য পক্ষ হৃদরোগে স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলে আসছে। এ অবস্থায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং তদন্তকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে পিবিআই মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করেছে।
৩ দিন আগে
স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা: স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করার দায়ে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামি শিল্পী গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ।
একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা এবং কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরে পৃথক স্থানে মরদেহের মাথাও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পী পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ, অর্থ নিয়ে বিরোধ এবং স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ ছয় টুকরা করে বিভিন্ন ব্যাগ ও একটি পানির ড্রামে ভরে রাখেন।
পরে ১ হাজার ৩০০ টাকায় একটি রিকশা ভাড়া করে মরদেহের মূল অংশ মহাখালীর আমতলী এলাকায় ফেলে দেন। পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে যান। এরপর মরদেহের মাথা গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে ডিবির পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর শিল্পীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলার আসামিকে সংঘবদ্ধ পিটুনি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আদালত চত্বরে হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে মারধর করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, আজ (মঙ্গলবার) চাঁনমারী এলাকার ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে ওঠানো হয়। এ সময় তাকে কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেওয়ার পথে নিহত মো. নাছির উদ্দিনের এলাকার মানুষজন পুলিশের সামনেই হামলা করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আসামি শরীফ আদালতের দরজার সামনে পড়ে যায়। আর এতেই বিক্ষুদ্ধ জনতা শরীফকে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে।
পরে আরও পুলিশ ও অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, এ হত্যা মামলার আসামি অনেক বড় অপরাধী। এলাকাবাসী তার ওপর অনেক ক্ষুদ্ধ। তাই তাকে সরাসরি দেখে বিক্ষুদ্ধরা নিজেদের ঠিক রাখতে না পেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে আমরা আইনজীবীরা ও পুলিশ বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।
আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে একটি পক্ষ হামলা করার চেষ্টা করেছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রেখেছি।
গত ১৪ মে চাঁনমারী মাউড়াপট্টি এলাকার ফ্রেন্ডস ক্যাবল অফিসে মো. নাছির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় ফতুল্লা থানায় শরীফকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে।
৯ দিন আগে
হত্যা মামলায় হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরু
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
গতকাল (সোমবার) টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে দাবি করেন, মামলার কোনো আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান নেই। পাশাপাশি তদন্তেও নানা ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে, সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম। এর আগে, ২৮ জুন তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
গত ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।
এর আগে, গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন। এদিন, ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।
মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন— সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। তবে গতকাল ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ মামলায় হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। তারও দুই দিন আগে ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন আদালতে ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে দ্বিতীয় অভিযোগে।
এ ছাড়াও, মামলার তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার দায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
দুই হত্যা ও এক হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ
দুই হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৯ জুন) মমতাজের করা আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী খায়রুন্নেসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার কোতোয়ালি থানার একটি হত্যা মামলা এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তিনি জামিন পেয়েছেন।
পৃথক তিনটি মামলায় এর আগে জারি করা রুল মঞ্জুর করে আদালত এ জামিনের আদেশ দেন।
আইনজীবী সাজু জানান, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার তিনটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
এর আগে আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা, একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে মমতাজকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন।
তবে পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর চেম্বার আদালত আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। ফলে এসব মামলার কারণে সাবেক এই সংসদ সদস্য এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।
লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমণ্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
১০ দিন আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলিসহ ২ জনকে হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক হাবিবুর রহমান ছাড়াও পুলিশের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও পলাতক আসামি, পুলিশের সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও একমাত্র গ্রেফতার আসামি সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাই আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী মামলাগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়, যেটা রায় পর্যন্ত গড়ালো। সেই সঙ্গে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি পঞ্চম রায়।
বরাবরের মতোই রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এছাড়া এ রায়ের মাধ্যমে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মামলার পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় চঞ্চল চন্দ্র সরকার ছাড়া অন্য চার আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন: ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
চলতি বছরের ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স (তথ্যপ্রমাণ) জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর রায়টি পিছিয়ে যায়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবন বাঁচলেও গুরুতর আহত হন তিনি।
একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও এখনও কথা বলতে পারছে না শিশুটি।
১১ দিন আগে
জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্য হত্যা: আসামি আইয়ুব আলী গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক র্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আইয়ুব আলী প্রকাশ বাবুল সওদাগরকে (৫৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লয়েল রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-৭।
গ্রেপ্তার আইয়ুব আলী প্রকাশ বাবুল সওদাগর উপজেলার ছিন্নমূল ৮ নম্বর সমাজের বাসিন্দা।
র্যাব-৭-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্য নিহতের মামলার আসামি আইয়ুব আলী চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লয়েল রোড এলাকায় অবস্থান করার খবর পাওয়া যায়। পরে সেখানে নবী মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, ১৮ জুন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে অপর আসামি মো. ইমরানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৭।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। হামলায় একই সময়ে তিন র্যাব সদস্য আহত হন।
এই র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা হয়। এতে মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, অজ্ঞাত আসামি করা হয় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
১৭ দিন আগে
কালীগঞ্জের শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: আসামির মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, হত্যার পর মরদেহ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এর ফলে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম মূলত মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে ছিল। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত।
আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তাবাচ্ছুম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন।
গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ (সোমবার) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, ‘মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হলো।’
অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা ও মা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
১৭ দিন আগে
বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা মামলা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
বগুড়ায় ৮ বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই অপরাধের সময় আরও ৫ আসামি নাবালক হওয়ায় তাদের ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শাজাহানপুরের খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম । এদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আছেন।
আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। এরাও খাদাস গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিফাত শাজাহানপুরের খাদাস হাটখোলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে ছিল। আসামিরা সবাই নিহতের পরিবারের প্রতিবেশি ও পরিচিত। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে আসামিরা। পরে মরদেহের সন্ধান পেয়ে ১৮ জুলাই শাহাজানপুর থানায় মামলা করেন এনামুল হক।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, এনামুল হক প্রবাসী ছিলেন। দেশে আসার পর তার কাছে থেকে বিভিন্ন সময় প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ টাকা চাইতেন। ঘটনার দিনও এনামুলের কাছে ১ লাখ টাকা ধার হিসেবে দাবি করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ, কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করেন এনামুল। এরপর সেদিন বিকেল থেকে এনামুলের বড় ছেলে রিফাত হোসেনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এর ৩ দিন পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের স্বামীর মাধ্যমে এনামুল জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী পোয়ালগাছা গ্রামের একটি সেতুর নিচে একটি শিশুটির মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে রিফাতের পরিবার তার মরদেহ চিহ্নিত করে। পরে নিহত রিফাতের বাবা শাজাহানপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আজগার আলী জানান, মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তবে মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় মামলা থেকে তার নাম বাদ পড়েছে। এর আগে সব আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
১৮ দিন আগে