হত্যা মামলা
এসআই আলতাফ পিটিয়ে হত্যা মামলার আরও ৮ আসামি গ্রেপ্তার
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
তাদের মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে চারজনকে এবং র্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
গত ৫ আগস্ট আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীরা মারধর করছিলেন। আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
র্যাব জানায়, গ্যারেজে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে আলতাফ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরকারীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আলতাফ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
জীবন বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে সেখানে যায় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, আপন কিশোর গ্যাংয়ের একজন দলনেতা এবং মাদক সরবরাহকারী। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
তিনি জানান, হামলার সময় আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফের মাথায় আঘাত করে। আর জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন। ঘটনার সময় সব আসামিই মাদকাসক্ত ছিল।
তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
১ দিন আগে
সাংবাদিক উৎস হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে এ মামলায় মূল অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন।
রায়ে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় মূল অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদককারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
১০ বছর ৯ মাসের বেশি সময় ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলে। এ সময় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ (বুধবার) রায় ঘোষণা করেন আদালত।
এদিকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দাবি করে মামলার বাদী নুর জাহান বেগম জানান, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট না হওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে। অথচ আদালত হত্যাকাণ্ডের সেই মাস্টার মাইন্ডকেই বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এভাবে হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
রায় নিয়ে সাংবাদিক সমাজেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের মতে এই রায় সন্তোষজনক নয়।
৬ দিন আগে
৫ হাজার পোস্টার, লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা; অবশেষে সিআইডির জালে নূরী হত্যা মামলার ৩ আসামি
জামালপুরের ইসলামপুরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক আবু বকর নূরী হত্যা মামলার রহস্য দীর্ঘ আট বছর পর উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তাররা হলেন: ইসলামপুর উপজেলার আগুনেরচর গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে জালাল মিয়া (৪২), উসমান শেখের ছেলে মো. নূর ইসলাম (৩২) এবং মৃত আছান আলীর ছেলে মো. মোজাম্মেল হক (৪৮)।
সিআইডি জামালপুর ইউনিটের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোমবার (৩১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রায় আট বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত, ফরেনসিক যাচাই এবং বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক তদন্ত চালানো হয়। একাধিক অভিযানের পর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আজ সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
যেভাবে হত্যা করা হয়
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে আবু বকর নূরী স্ত্রী মোছা. তাহমিনা বেগমের সঙ্গে খাবার খেয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সেদিন রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন।
পরে ইসলামপুর থানার চুংরাপাড়া গ্রামের পুবেরবন্দ এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তাহমিনা বেগম। সেখানে তিনি মরদেহটি তার স্বামী আবু বকর নূরীর বলে শনাক্ত করেন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধীচক্র মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নূরীকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় নূরীর স্ত্রী বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ইসলামপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ৫ হাজার পোস্টার
সিআইডি তদন্তভার গ্রহণের পর মামলার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে পর্যালোচনা শুরু করে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় জড়িতদের শনাক্তে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নূরীর মোটরসাইকেলে থাকা তিন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পর ওই ছবি থেকে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ছবিগুলো প্রচার করা হয়। এ জন্য জামালপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
এ প্রচারণার পর বিভিন্ন সূত্র থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় সেসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে সিআইডি।
তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে জালাল মিয়া, নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তিনজনকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়
সিআইডি জানায়, গত ২৬ আগস্ট জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার নাপিতের চর এলাকা থেকে জালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং তার অপর দুই সহযোগী নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
জালালের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে পরদিন ২৭ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে নূর ইসলাম এবং গাজীপুর কলেজ রোড এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে রিকশাচালক হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহে অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিন হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাশ (২৫) শহরতলীর মধ্য বাড়েরা এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন: একই এলাকার তোফায়েল আহমেদ নাসিম (২১) ও শাকিল (২২)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫০ হাজার করে অর্থদণ্ড করা হয়। অনাদায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিন নিজের রিকশা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাতে প্রচুর কুয়াশা থাকায় অল্প দূরত্বের পথও দেখা যাচ্ছিল না। ওই সময় আসামিরা নাজিম উদ্দিনের পথরোধ করে তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় নাজিম উদ্দিন চিৎকার করতে থাকলে গ্রামের লোকেরা এগিয়ে যায়। ছিনকাইকারীরা অটোরিকশাটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামি পলাশকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। পরে পলাশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিনের ছোট ভাই নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আক্রাম হোসেন বলেন, মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। তবে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।
বাদী নাসির উদ্দিনও এ রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
৮ দিন আগে
আছিয়া হত্যা মামলা: হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড আজ হাইকোর্ট বহাল রেখেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
গত বছরের ৬ মার্চ বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর মো. হিটু শেখের দ্বারা ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত নিষ্পাপ শিশুটি পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়।
ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তার, তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ এবং তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৩ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম. জাহিদ হাসান আসামি মো. হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন এবং অপর তিন আসামিকে খালাস দেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নিম্ন আদালতের পাঠানো ডেথ রেফারেন্স এবং আসামির দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন।
৮ দিন আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে অভিনেতা ডন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক মজিবুর রহমান ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কী কারণে, কার ইন্ধনে এবং কীভাবে বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে সম্পর্কেও তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
১২ আগস্ট ডনের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন আদালত।
গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন: সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। তবে ডনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ মারা যান। এ ঘটনায় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।
পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। সে সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে, ডনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সালমান শাহর ভক্তরা আজ সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
১২ দিন আগে
বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে: নুসরাতের মা
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে তিনি বিভিন্ন হুমকি, অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শিরিন আক্তার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর অনেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ‘আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’
নিরাপত্তায় নিয়োজিত ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ চন্দ্র রায় জানান, রায় ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বহুল আলোচিত এ মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তারা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন: সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
১৫ দিন আগে
নুসরাত হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দশ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন: সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
অন্যদিকে, মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়িতে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে পরিবারের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নুসরাতের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে আজও আমি পাগলের বেশে আছি। নিম্ন আদালতে বিচার চেয়ে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এখনও আমার ৩ ছেলেকে নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় আছি। পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের কাছেও প্রত্যাশা ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে সহযোগিতা এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আশা করি, উচ্চ আদালতেও আমারা ন্যায় বিচার পাবো।’
নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মো. নোমান বলেন, বাড়িতে আমার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আছেন। বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা ন্যায় বিচার কামনা করছি।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ‘২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর থেকেই তাদের বাড়িতে পরিবারের নিরাপত্তায় প্রতিদিন পুলিশের একটি দল নিয়োজিত ছিল। হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে আরও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার সব নথি হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক (সব নথি) ছাপানোর কাজ শেষ করা হয়। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেছেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আক্তার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার অনুগত কয়েকজন ক্যাডার জনমত গঠন করে অধ্যক্ষ সিরাজকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে।
৩ এপ্রিল খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। পরে ৪ এপ্রিল মাদরাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে পরিকল্পিতভাবে তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
এরপর ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ওই বছরের ৮ এপ্রিল মামলা করেন। মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ফেনী। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়।
১৫ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুনের মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামিরা: পুলিশ
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কড়া পাহারায় তাদের আদালতে নেওয়া হয়। এর আগে গতকাল (রবিবার) ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিদের গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ বলেন, ছাদে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকে হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।
গ্রেপ্তার দুই তরুণ হলেন: মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে তারা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তার মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলার্সে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করেন।
আজ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’
আসামিরা কী স্বীকার করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা।’ ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলার কারণেই কি হত্যা করেন—এ বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এটা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং রিমান্ড চাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তদন্তের সাপেক্ষে বলতে পারব। যেহেতু তারা স্বীকার করেছে, এ জন্য রিমান্ড চাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী স্যার ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তার পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।’
এ ঘটনায় গতকাল রবিববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা মোবাইল ফোনে তার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পূজা আবার তার বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় রাতে স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা।
বাড়িটি তখন অন্ধকার ছিল। ভেতর থেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি দেখেন, জিনিসপত্র এলোমেলো। একইসঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল।
এজাহারে বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
নন্দিনী হত্যা মামলা: বিধানের মৃত্যুদণ্ড, বাবা-ময়ের ৫ বছরের কারাদণ্ড
লালমনিরহাটের আলোচিত সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত নন্দিনী রায় একই গ্রামের নলনী মোহনের ৭ বছরের মেয়ে ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ জুন বিকেলে নিখোঁজ হয় স্কুলপড়ুয়া শিশু নন্দিনী রায়। পরদিন তার বাড়ির পেছনে ভুট্টাখেতের নরম মাটি দেখে সন্দেহ হলে তা খুড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সন্দেহ থেকে স্থানীয়রা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিধান চন্দ্রের বাড়িতে আগুন দেয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর স্থানীয়রা হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ সুপারসহ প্রায় ৩৫ জন পুলিশ আহত হন। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ মোট ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ ঘটনায় ১৬ জুন নিহত নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে বিধান চন্দ্রকে প্রধান আসামি করে তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে অভিযুক্ত করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিধান চন্দ্র হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিধানের মা মমতা রানীকেও এ মামলায় পলাতক অবস্থা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
মামলাটি তদন্ত শেষ করে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো. আইয়ুব তুহিন গত ১৩ আগস্ট আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এরপর ১৬ আগস্ট আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ১৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট ৩ দিনে এ মামলার ২৩ জনের সাক্ষ্য-শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে আজ (রবিবার) আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, আলোচিত নন্দিনী হত্যার দায়ে আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং তার বাবা রণজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলো। আসামিদের হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।
আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি, রায়ে আমরা সন্তষ্ট। তবে এ রায় দ্রুত কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, মাত্র ৬ কার্য দিবসের মধ্যে লালমনিরহাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনায় বিধান আদালতকে জানান, কয়েক বছর আগে তার মা মমতা রানী অন্যের সংসারে যাওয়ায় তাকে তালাক দেন তার বাবা রণজিৎ কুমার। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন রণজিৎ। কিন্তু কিছুদিন পরে বিধান আলোচনা করে মাকে তাদের সংসারে ফিরিয়ে আনেন। এতে সমাজ থেকে তাদের একঘরে করা হয় যা নিয়ে নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহনের সঙ্গে তাদের ঝগড়া-বিবাদ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন বিধান চন্দ্র। সেই ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে নলিনীর পরিবারের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। দীর্ঘ এক বছর আগের ঝগড়ার ক্ষোভ মেটাতে কিছুদিন আগে নন্দিনীর বড় ভাই যোতিষ্ঠিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের কারণে সেটা করতে ব্যর্থ হন বিধান।
প্রতিশোধের দ্বিতীয় পরিকল্পনা মোতাবেক সেদিন বিকেলে নন্দিনী ও অপর এক শিশুকে নিয়ে বাড়ির উঠানে মোবাইল ফোনে টিকটক ভিডিও দেখছিলেন বিধান। তার মোবাইল ফোনে চার্জ শেষ হলে অপর শিশুটি চলে যায়। তখন ফোন চার্জে দিয়ে বিস্কুট মুখে দিয়ে আবার উঠানে আসেন বিধান। এ সময় নন্দিনী তার কাছে বিস্কুট চাইলে তাকে বিস্কুট দিতে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। এরপর শিশুটিকে বিস্কুট খাইয়ে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে রাখেন বিধান।
জবানবন্দিতে বিধান আরও জানান, প্রথমে নিজেদের বাড়ির পাশের পাটখেতে গর্ত করে মরদেহ পুঁতে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। সে সময় স্থানীয়রা কী করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ছাগল মারা গেছে, তা পুঁতে রাখছেন। কিন্তু দুর্গন্ধ হবে বলে স্থানীয়রা তাকে বাধা দেন। পরে তিনি নন্দিনীদের বাড়ির পেছনের ভুট্টাখেতে গর্ত করেন এবং বিকেল ৫টার পরেই নন্দিনীর বাড়ির সামনে দিয়ে তারই বস্তাবন্দি মরদেহ নিয়ে ওই গর্তে পুঁতে রাখেন।
এতসব কাজ করার সময় বিধানের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার বাবা-মা দুজনেই বাড়ির বাইরে থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করেন তিনি।
১৬ দিন আগে