নির্বাচন কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অপ্রতুল, অংশগ্রহণ মাত্র ৪.০৪ শতাংশ
দেশের নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি বহুদিনের হলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরছে। ব্যালটে নারী প্রার্থীর উপস্থিতি এবারও উদ্বেগজনকভাবে কম।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ৩০টির বেশি দল কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, যা জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোট ২ হাজার ৫৬৮ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, যা মোটের মাত্র ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ হাজার ৮৪২ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৭৭৯ জন ও নারী প্রার্থী ৬৩ জন। সে হিসাবে নারী প্রার্থী মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
পরবর্তীতে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করার পর ৪১৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গত ২০ জানুয়ারি ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৮০, অর্থাৎ মোট প্রার্থীর ৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, দলবদ্ধ প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ ১০ শতাংশ।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মান নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ ও ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
জুলাই সনদ ও পূর্ববর্তী নির্বাচন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ধারা ২২(খ)-(ঘ) অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু জুলাই সনদ যেহেতু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তাই কার্যত সেই নিয়মও এখন অচল।
অথচ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৫টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নবম, দশম, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণের হার উল্লেখ করা হয়েছে।
তাতে দেখা গেছে, পুরুষ প্রার্থীদের তুলনায় নবম (২০০৮) নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের হার ছিল তিন দশমিক ৫১ শতাংশ বা ৫৫ জন, দশম (২০১৪) নির্বাচনে পাঁচ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৩০ জন এবং একাদশ (২০১৮) নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র মাত্র দশমিক ৮১ শতাংশ বা ৭৩ জন।
মানবপাচার, অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা কমছে
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০ জন নারী, যা মোট নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ৬.৬৭ শতাংশ। এই হার ছিল পূর্বের চারটি সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
নবম জাতীয় সংসদে নারী সদস্য ছিলেন ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, দশম জাতীয় সংসদে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও একাদশ জাতীয় সংসদে মাত্র ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
দলভিত্তিক পর্যালোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে খুব কম দলই নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বোচ্চ ১৫টি আসনের জন্য নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল, কিন্তু যাচাই প্রক্রিয়ার পর বৈধ নারী প্রার্থী মাত্র ১১। নাটোর-৩ থেকে ফাতেমা খানামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়ন যাচাই হয়নি।
অন্যান্য দল থেকে মনোনীত নারী প্রার্থীরা হলেন: বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-মার্ক্সবাদী: ৯, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসড) ও ইনসানিয়ত বিপ্লব বাংলাদেশ: ৬, গণসম্মতি আন্দোলন ও জাতীয় পার্টি: ৫, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: স্বপ্ন নাকি অধরা বাস্তব?
বাকি দলগুলোর মধ্যে এবি পার্টি, গন ফোরাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশ (সিপিবি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, আমজনতার দল, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক পার্টি ১ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন নারী প্রার্থী প্রার্থিতা হারিয়েছেন। ৩৭ জন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ জন বৈধ মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন: সাবিনা ইয়াসমিন (নাটোর-২), ডা. তাসনিম জারা (ঢাকা-৯), মেহেরজান আরা তালুকদার (জামালপুর-৪), অখতার সুলতানা (ময়মনসিংহ-৬), তাহমিনা জামান (নেত্রকোনা-৪) ও রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)।
এ দিকে জামায়াতে ইসলামী (২৭৬ প্রার্থী), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৬৮), জাতীয় পার্টি (২২৪), গণঅধিকার পরিষদ (১০৪), খেলাফত মজলিশ (৯৪) এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো, যেগুলোর প্রার্থী সংখ্যা ৪০-এর কম, কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।
এর সম্ভাব্য প্রভাব কী
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল ১ জনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, এমন তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির এক রিপোর্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের ইতিহাসে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনেও নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। তবুও দেশের নারীরা এখনও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ।
বিশ্ব সঙ্গীতশিক্ষাকে গুরুত্ব দিলেও উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ
নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ফোরাম ফর উইমেন্স পলিটিকাল রাইটস (এফডব্লিউপিআর) বলেছে, দলগুলোকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। তাদের মতে, নারীর মনোনয়ন প্রতীকী উদ্যোগ নয়, সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নারী প্রার্থী মনোনয়নের সংকট: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধান এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণের অত্যন্ত কম হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঋতু সাত্তার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন, কিন্তু তারা সংসদে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সামিনা ইয়াসমিন বলেন, নারীর ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি। তিনি বলেন, ‘৫১ শতাংশ ভোটারকে বাদ দিয়ে ৪৯ শতাংশের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যাওয়া কি সম্ভব? এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন।’
সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
সামিনা আরও জানান, ফোরাম নারীদের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা পর্যবেক্ষণ করছে নারীরা কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে তা মোকাবিলা করছেন এবং ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধানের পথ কী হতে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, নারীর অধিকার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার পরও এই নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম রয়েছে, যা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
এ দিকে, নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক ৭১টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’।
কুকি-চিনের উত্থান বনাম বান্দরবানের পর্যটন: ক্ষতির পাহাড়
সমাজে নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি যেভাবে চলমান, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে শঙ্কা বোধ করছেন দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি সমাজে পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্রের প্রতিফলন এবং একই সঙ্গে পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতি টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল।
নির্বাচন ও রাজনীতিতে নারীর দৃশ্যমান অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বলছে, একটি গণতান্ত্রিক, সমতাপূর্ণ সমাজ কাঠামো তৈরি করতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তফসিল অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় নির্বাচনী প্রচরণা, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
২ দিন আগে
নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যখন বাছাই হয়, তখন কিছু সমস্যা থাকে; এটা নতুন কোনো ব্যাপার না। আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি যে, মোটামুটিভাবে তারা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টাv দিকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের যে সমস্যাগুলো দুই-একটা আমরা মনে করেছি, সেটা আমরা গতকাল তার (সিইসি) সামনে তুলে ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।’
ভোটে সমান সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের নেই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ আমরা কবর জিয়ারত করতে এসেছি, শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। একইসঙ্গে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
‘তার পাশেই শুয়ে আছেন আরেকজন ক্ষণজন্মা অপরাজেয় মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি তার সারাটা জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অমর নাম। যে নাম প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করতে হয়। যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনর্প্রবর্তন করেছিলেন; সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেছিলেন।
‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটা বটোমলেস বাস্কেট (তলাবিহীন ঝুড়ি) থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আমরা বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর স্মরণ করি, তার অনুসৃত যে পথ, সেই পথে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে শপথ গ্রহণ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যখন ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে, একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে; তখন আবার নতুন করে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমরা আজকে এখানে শপথ নিয়েছি।
‘এই শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি এবং এর সমস্ত অঙ্গসংগঠন শহিদ জিয়ার সেই আদর্শকে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করব, এই শপথ আমরা এখানে নিয়েছি।’
বেলা ১১টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে তারা জিয়াউর রহমান এবং পাশে শায়িত সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজ আলী, হেলেন জেরিন খান, শাহ নেছারুল হক, এসএম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
৬ দিন আগে
দ্বিতীয় দিনের মতো ইসির সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতদুষ্টতা বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো এই কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মী অবস্থান নিয়েছেন। ইসির নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রাস্তায় বসে পড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এ সময় তাদের ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্রদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসি কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য আমরা সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী জেতার জন্য এক এলাকার ভোটারকে অন্য এলাকায় পাঠিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ গোষ্ঠীর নাম বলব না। তাদের নাম বলে হাইপ তুলে দিতে চাই না। তারা ইসির কিছু লোককে ব্যবহার করে অনিয়ম করার চেষ্টা করছে।’
ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ‘ডাকসু, রাকসুসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি দল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ভোটে কারসাজি) মাধ্যমে কুক্ষিগত গত করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা একই কায়দায় ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে, একই দাবিতে গতকাল রোববারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পরে বিকেলে সংগঠনটির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসি কার্যালয় প্রবেশ করে।
ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি ইস্যু নিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন সেই বক্তব্য শুনেছে। বিষয়গুলো তারা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো।’
৬ দিন আগে
পক্ষপাতসহ তিন অভিযোগে নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর থেকে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ইসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা পুলিশের বাধার মুখে সেখানে বসে পড়েন।
পূর্বনির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে’ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসিরসহ কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান জানান।
তাদের অভিযোগগুলো হলো— পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। ছাত্রদলের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার। ছাত্রদল মনে করে, এই প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।
নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের এই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা দেখলাম ব্যালট পেপার নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর যারা এখানে (ইসি) বসে আছেন অবশ্যই তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে বলে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। তারপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন এবং হল নির্বাচন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনের মতো আবারও আমাদের এখানে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও তারা (ইসি) ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়টি হলো বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ইচ্ছার প্রতিফলন।
ইসিতে শুনানি চলছে
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল ও ফিরিয়ে দিতে নবম দিনের শুনানি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনারও আছেন।
গত আট দিনে ৪০০ জনের মতো প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৭ দিন আগে
ইসির বিতর্কিত ভূমিকা সত্ত্বেও বিএনপি ধৈর্য দেখাচ্ছে: তারেক রহমান
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথরুদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা অবস্থান দেখেছি। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। কিন্তু, ইসি কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, অপহরণ, মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতা-কর্মীও রাজপথ ছাড়েনি।
‘কোনো পরিবারের এক ভাই নির্যাতিত হলে আরেকজন রাজপথে নেমে এসেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত রূপ ধারণ করেনি বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাই ভবিষ্যতে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী প্রজন্মের উচিত শহিদ এবং যারা গুম হয়েছেন ও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের জন্য তাদের পরিবার এখনো অপেক্ষা করছে—তাদের ত্যাগ থেকে প্রেরণা গ্রহণ করা।
শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান দলের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, জনগণের সমর্থনে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রাষ্ট্রীয় প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম শহিদদের নামে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের গর্বের সঙ্গে স্মরণ করতে পারে। তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।
তারেক রহমান আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর যথাযথ রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রকে সাধ্যমতো এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সামনে এখন একটি মানবিক ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
‘আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন; সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন- তারা যাতে সফল না হয়।’
অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া, করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহিদ—সেই শহিদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে।’
অশ্রুসিক্ত হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোর স্বজনরা জানান, বিগত দিনে বাসা-অফিস বা রাস্তা থেকে তাদের স্বজনদের তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে, তা তারা জানে না। অনেক সন্তান তার বাবার ছবি নিয়ে এসেছেন। তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। তাকে জড়িয়ে ধরেন। তারেক রহমানও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্বজনরা বাদেও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ ও আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা রশিদুজ্জামান মিল্লাত, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
৮ দিন আগে
দ্বিতীয় দিনের শুনানির প্রথমার্ধে ২৭ আপিল মঞ্জুর, নামঞ্জুর ৫টি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের পর গতকাল শনিবার থেকে শুনানি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুনানির দ্বিতীয় দিনের প্রথমার্ধে মোট ৩৫ জন প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন, ৫ জনের আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে, এছাড়া ৩ জন প্রার্থীর আপিল বিবেচনাধীন রয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে শুনানি চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও অংশ নিয়েছেন।
আজ (রবিবার) দুপুর ১টা পর্যন্ত মোট ৩৫টি আপিল শুনানি হয়। এর মধ্যে ২৭টি মঞ্জুর, ৭টি বাতিল এবং বাকি ৩টি বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। ইসি দিনের বাকি অংশে আরও ৭০টি আপিল শুনানি করবে।
আজকের শুনানিতে জামালপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুজিবুর রহমান আজাদ এবং বগুড়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরীফুল ইসলাম জিন্নাহ মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) শুনানির প্রথম দিন ৬৭ জন আপিলকারীর মধ্যে ৫১ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পান। গতকালের শুনানিতে প্রার্থিতা ফেরত পাওয়া নামগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা এবং কক্সবাজার-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছিল। আপিল গ্রহণ শুরু হয় ৫ জানুয়ারি এবং ৯ জানুয়ারি শেষ হয়।
২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৩০০টি আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই প্রক্রিয়ায় ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং ৭২৩টি বাতিল করেছেন।
এরপর মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সময় ছিল গত ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। তারপর গতকাল (১০ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে আপিল শুনানি, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এরপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
১৪ দিন আগে
নির্বাচনি তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণে দায়িত্বে ১০ কর্মকর্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন-ইসির ১০ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়
দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দীন আহমদ (মোবাইল: ০১৭১২৫৯১১৪৪, ইমেইল: [email protected])।
ফরিদপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঞা (মোবাইল: ০১৭১১৩৬৯৯৭৬, ইমেইল: [email protected])।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার (মোবাইল: ০১৭১২০৪৪১৮৮, ইমেইল: [email protected])।
বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আল-মামুন (মোবাইল: ০১৯৩৭৬৩৮০৩৫, ইমেইল: [email protected])।
সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসির সহকারী পরিচালক মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ (মোবাইল: ০১৭১৭২৪৪০৭৮, ইমেইল: [email protected])।
ঢাকা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির মাহ্মুদ (মোবাইল: ০১৭১৮৫৬৪৬৩৫, ইমেইল: [email protected])।
রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ (মোবাইল: ০১৮১৮২৬৮০৮২, ইমেইল: [email protected])।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাঃ সরওয়ার হোসেন (মোবাইল: ০১৭১৭৪০৫৫৯৪, ইমেইল: [email protected])।
রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোঃ মমতাজ-আল-শিবলী (মোবাইল: ০১৬৭৬৩২৪৬০৯, ইমেইল: [email protected])।
কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো: ইকরামুল হাসান (মোবাইল: ০১৭৯৭১৮৫১২৩, ইমেইল: [email protected])।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের দুটি ই-মেইলে নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ পাঠানো যাবে ([email protected], [email protected])।
নির্বাচন কমিশন গত ১৪ ডিসেম্বর ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কাছেও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা যাবে।
১৯ দিন আগে
তারেক-জাইমার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত রবিবার
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে রবিবার সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আখতার আহমেদ বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনরে (ডিএনসিসি) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই ওয়ার্ডে ভোটার হতে আবেদন করেছেন তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। তাদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোটার নিবন্ধন আইন ২০০৯-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক, ভোটার হতে সক্ষম ব্যক্তিকে ভোটার করার এখতিয়ার কমিশনের আছে। তাদের (তারেক ও জাইমা) আবেদন আগামীকাল (রবিবার) কমিশনে পেশ করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এর আগে, আজ দুপুর ১টার দিকে আগারগাঁও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হন তারেক রহমান। সেখানে প্রথমে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ প্রদান করে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তিনি। এসময় তার মেয়ে জাইমা রহমানও ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
২৯ দিন আগে
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাবেন তারেক রহমান: ডিজি
ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করার ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এস এম হুমায়ুন কবীর।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি, তিনি অনলাইনে ফরম পূরণ করেছেন। এখন আমাদের কাছে এসে কেবল আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যান দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। এরপর সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার তথ্য সার্ভারে অনুসন্ধান করে দেখবে, সেটি কারও সঙ্গে মিলছে কি না। না মিললে ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে। এটি আমাদের হাতে নেই।
মহাপরিচালক বলেন, তিনি আমাদের কাছ থেকে এনআইডি বা স্মার্ট কার্ড যে কোনোটি নিতে পারবেন। আবার তার মোবাইলে এসএমএস যাবে, সেখান থেকেও ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
আজ দুপুরেই তার নিবন্ধন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের সদ্য প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন।
২৯ দিন আগে
নির্বাচন সফল করতে মাঠ প্রশাসনকে দৃঢ় ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে আহ্বান সিইসির
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃঢ় ও সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সমালোচনা ও অপবাদ চলছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায় নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ম্যানেজড ইলেকশন হয়েছে। এই অপবাদ থেকে আমরা মুক্তি চাই। আমরা প্রমাণ করতে চাই— সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব। আর সেটি হবে আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের শাসন মানে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আপনারা যখন আইনের প্রয়োগে সাহসী পদক্ষেপ নেবেন, তখন নির্বাচন কমিশনও আপনার পাশে থাকবে।
প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আমরা একটা যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। দেশের অবস্থা আপনারা জানেন। আমার বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এ ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ওপরে যে দায়িত্ব এসে পড়েছে, যদি সঠিকভাবে সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জবাব দিতে পারব না।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এই সভায়। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেছেন।
এ ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ডিসি ও এসপিদের পাশাপাশি সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।
৩৩ দিন আগে