কঙ্গো
কঙ্গোয় ইবোলার প্রকোপ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১
কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে ৫১৩ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণের উপসর্গ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
কঙ্গো সরকারের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে বিস্তৃত পরিসরে ইবোলা সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) থেকে জানানো হয়েছে, উগান্ডায় ২ ব্যক্তির শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।
কঙ্গোতে প্রাণঘাতী এই রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সন্দেহভাজন রোগীদের শরীরে ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত করতে কাজ করছে। এ সময় জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দেশটির ইতুরি প্রদেশের নিয়াকুন্ডে, নর্থ কিভুর বুটেম্বো, গোমা শহর ও অন্যান্য এলাকায় ইবোলা শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এদিকে, কঙ্গোতে অবস্থানরত একজন মার্কিন চিকিৎসকেরও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা মেডিকেল মিশনারি গ্রুপ এবং সিডিসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিবিএস নিউজকে তারা জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসকের চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হবে।
আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকের নাম প্রকাশ করেনি সিডিসি। তবে তার সঙ্গে কাজ করা মেডিকেল মিশনারি গ্রুপ সার্জে জানিয়েছে, ওই চিকিৎসকের নাম পিটার স্ট্যাফোর্ড।
সার্জে গ্রুপের আরও দুই চিকিৎসক চিকিৎসার সময় ইবোলা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী ডা. রেবেকাহ স্ট্যাফোর্ডও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে এখনও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এক বিবৃতিতে গ্রুপটি জানায়, তারা সকলে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা মেনে চলছেন।
সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবে অন্তত ৬ জন মার্কিন নাগরিক ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্ট্যাট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কঙ্গোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের একটি ছোট দলকে নিরাপদে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, তাদের জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে।
অপরদিকে, স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে কঙ্গোতে আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানায় সিডিসি।
এ বিষয়ে গত সোমবার সিডিসি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রোগটির প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আক্রান্ত এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। গত ২১ দিনে উগান্ডা, কঙ্গো ও দক্ষিণ সুদানে ভ্রমণ করা অমার্কিন পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ হবে।
সিডিসি জানিয়েছে, তারা এয়ারলাইনস ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাত্রীদের পরীক্ষা করা এবং হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করবে।
এদিকে, কঙ্গো ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে চতুর্থ স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরতদের কঙ্গোতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হলেও এটি এখনও মহামারি আকার ধারণ করেনি। তবে, সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে যে পরিমাণে ইবোলা শনাক্তের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, প্রকৃত পরিস্থিতি তার চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। ফলে কেবল স্থানীয় নয়, আঞ্চলিক পর্যায়ে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
১৯৭৬ সালে আফ্রিকায় সর্বপ্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। তখন ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় গিনি, সিয়েরা লিওন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার ভেতরে ও বাইরে একাধিক দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে ১১ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়।
আফ্রিকা সিডিসির প্রধান জ্যা কাসেয়া বিবিসিকে জানান, কঙ্গোতে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধের অভাব রয়েছে। তাই সেখানকার জনগণকে জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন প্রক্রিয়ায় সতর্কতা মানতে বলা হচ্ছে।
কাসেয়া বলেন, ‘আমরা চাই না দাফন করতে গিয়ে কেউ ইবোলায় সংক্রমিত হোক।’
প্রায় এক দশক আগে আফিকায় ইবোলার বড় প্রাদুর্ভাবের সময় পারিবারিক দাফনে মরদেহ গোসল করানোর কারণে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল।
এদিকে, কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্ক্রিনিং জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও, যাতে ভাইরাসটি পাশাপাশি দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা সীমান্তে স্ক্রিনিং আরও কঠোর করবে। অন্যদিকে, নাইজেরিয়া জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ইবোলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
১৬ দিন আগে
কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব, বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি
কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক রোগীর শরীরে ইবোলার উপসর্গ এবং ৮৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা পরিস্থিতি এখনও কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই এই মুহূর্তে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, রক্ত ও বীর্যের মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে সহজেই অন্য শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল রোগ, তবে রোগটি বেশ গুরুতর। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ডব্লিউএইচও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জন্য বান্ডিবুগি ভাইরাস দায়ী। এই ভাইরাসটি ইবোলার একটি বিরল ধরন। বান্ডিবুগি ভাইরাসের প্রতিরোধে এখনও কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা ও টিকা বের হয়নি। এর আগে, কঙ্গো ও উগান্ডায় ২০ বারের বেশি ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। তবে এবারে তৃতীয়বারের মতো সেখানে বাসিন্দাদের শরীরে বান্ডিবুগি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় সব রোগীই কঙ্গোতে শনাক্ত হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় কেবল দুটি সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে।
১৮ দিন আগে
টিআইবি দুর্নীতি সূচকে ২ ধাপ অবনতি বাংলাদেশের
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বৈশ্বিক দুর্নীতির সূচকে দুই ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো ও ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫১তম স্থানে আছে ঢাকা। গেলো তেরো বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে কম স্কোর অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
গেল বছরে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) বৈশ্বিক ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৪ প্রকাশ উপলক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সারা দেশে সহিংস ভাঙচুর: সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান টিআইবির
দুর্নীতির ধারণা শূন্য থেকে ১০০ টিআই সূচক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যে দেশটির স্কোর থাকবে শূন্য, সেটি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যারা ১০০-তে থাকবে, তাদেরকে বলা হবে সবচেয়ে বেশি সুশাসিত।
২০২৪ সালের দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ এর মধ্যে ২৩। আগের বছরের চেয়ে যা এক পয়েন্ট কম, আর গেল তেরো বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সিপিআই অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্কোর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পরেই। আফগানিস্তানের স্কোর ১৭।
২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিপিআইয়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৫ থেকে ২৮। কিন্তু ২০২৩ সালে এটি কমে গিয়ে চব্বিশে দাঁড়ায়।
২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিপিআই ট্রেন্ড বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর ২৩, গেলে তেরো বছরের গড় স্কোরের চেয়ে যা তিন পয়েন্ট কম।
আরও পড়ুন: বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে ‘আদিবাসী’ গ্রাফিতি বাদ দেওয়ায় টিআইবির উদ্বেগ
গেল বছরের তুলনায় এ বছর ৫৬টি দেশে সিপিআই স্কোর বেড়েছে। ৯৩টি দেশের স্কোর কমেছে, আর ৩১টি দেশের অবস্থা অপরিবর্তিত। স্কোরের মাত্রায় কোনো দেশই নিখুঁত স্কোর অর্জন করতে পারেনি। এ বছরে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ দেশের স্কোর পঞ্চাশের নিচে।
৯০ স্কোর নিয়ে চলতি বছরে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পেয়েছে ডেনমার্ক। এরপর ৮৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ফিনল্যান্ড, আর ৮৪টি নিয়ে তৃতীয় সিঙ্গাপুর।
২০২৪ সালে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, তাদের স্কোর ৮। সোমালিয়া এরপরেই, স্কোর ৯। আর ১০ স্কোর নিয়ে দুর্নীতিতে তৃতীয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা।
এদিকে দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) পাকিস্তানের অবনতি হয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ১৩৩তম, চলতি বছরে সেটা ১৩৫তম।
আরও পড়ুন: সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৪ ভিন্নমত-গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে: টিআইবি
৪৭৮ দিন আগে
কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে বন্যায় একই পরিবারের ১০ জনসহ নিহত ২২
কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় একই পরিবারের ১০ জনসহ কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রদেশের গভর্নর জন কাবেয়া বলেন, কাসাই মধ্য প্রদেশের কানাঙ্গা জেলায় ঘণ্টাব্যাপী বৃষ্টিতে অনেক বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৭ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি মঙ্গলবার আরও ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাবেয়া বলেন, ‘বিকুকুতে দেয়াল ধসে একই পরিবারের ১০ জনের সবাই নিহত হয়েছেন।’
আরও পড়ুন: কালিহাতীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
বেসরকারি সংস্থা দ্য হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফর ইন্টিগ্রাল ডেভেলপমেন্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর নাথালি কাম্বালা জানান, বন্যার কারণে উল্লেখযোগ্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা কঙ্গোর কিছু অংশে, বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘন ঘন ঘটে থাকে। মে মাসে পূর্ব কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশে রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
কাবেয়া বলেন, সর্বশেষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কাঠামোগুলির মধ্যে রয়েছে কানাঙ্গার হায়ার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, পাশাপাশি একটি গির্জা এবং একটি প্রধান সড়ক, যা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জাতীয় সরকারের কাছ থেকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হবে।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসে অন্তত ৪ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ৪
৮৯০ দিন আগে
কঙ্গোতে ভূমি অধিকার ও কর নিয়ে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ১০
ভূমি অধিকার ও কর নিয়ে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বন্দুকধারী ও অস্ত্র সজ্জিত একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী কমপক্ষে ১০ জনকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সহিংসতার ঘটনাটি একটি গভীরতর সঙ্কটের সর্বশেষ চিত্র। যা বিরাট মধ্য আফ্রিকান দেশটির অপর প্রান্তে সংঘাতে ছেয়ে গেছে।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র অ্যাডেলার্ড এনকিসির জানিয়েছে, শুক্রবার রাজধানী কিনশাসা থেকে ২৩০ মাইল (৩৭০ কিলোমিটার) দক্ষিণে ইপঙ্গি গ্রামে মোবন্ডো নামে পরিচিত একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী বেসামরিক লোকদের উপর হামলা করে এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এনকিসি বলেন, মিলিশিয়া সদস্যরা বেশ কিছু লোককে বেঁধে অপহরণ করেছিল, বিশেষ করে যারা ঝোপের মধ্যে পালিয়েছিল। প্রাদেশিক সরকার ওই এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: শান্তিতে নোবেল: ইরাকের নাদিয়া মুরাদ ও কঙ্গোর ডেনিস মুকওয়েজ
২০২২ সালের জুন মাসে কঙ্গোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জমির অধিকার এবং প্রথাগত ট্যাক্স নিয়ে এই অঞ্চলের প্রাচীনতম বাসিন্দা টেক এবং এবং সম্প্রতি কঙ্গো নদীর কাছে বসতি স্থাপনকারী ইয়াকা সহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মুখপাত্র এনকিসি জানায়, ইয়াকা-সংখ্যাগরিষ্ঠ মোবন্ডো মিলিশিয়ার একজন নেতাকে কাছের একটি শহরে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়ার পরে শুক্রবারের এই সহিংসতা শুরু হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, টেকে এবং ইয়াকা সম্প্রদায়ের মধ্যে ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং চাষের জমিতে অধিকার নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে সহিংসতার একটি চক্রের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনা এটি। এই সহিংসতা গুলোতে কমপক্ষে ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: কঙ্গোয় জাতিসংঘের ২ বিশেষজ্ঞ হত্যা মামলায় ৫১ জনের মৃত্যুদণ্ড
একটি আঞ্চলিক নাগরিক সমাজ সংস্থার ভাইস-প্রেসিডেন্ট সিম্ফোরিয়েন কোয়েঙ্গো, দক্ষিণ-পশ্চিম কঙ্গোতে মারাত্মক উত্তেজনা কমানোর জন্য মোবন্ডো মিলিশিয়া ও সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মতে, সারা দেশে একটি পুরনো বৃহত্তর পরিসরের সংঘাতে ২০২২ সালেই কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে (রুয়ান্ডা এবং উগান্ডার সীমান্তের কাছাকাছি ) ১২০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী মূল্যবান খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এবং তাদের কিছু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ঘন ঘন গণহত্যার কারণে বেসামরিক লোকজন দেশত্যাগ শুরু করে। যার ফলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, যৌন সহিংসতা এবং রোগের বিস্তার ঘটে।
আরও পড়ুন: কঙ্গোতে জাতিসংঘবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ১৫, আহত ৫০
১০২৬ দিন আগে
কঙ্গোতে জাতিসংঘবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ১৫, আহত ৫০
মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে জাতিসংঘবিরোধী দুই দিনের বিক্ষোভে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিক্ষোভে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত মরক্কোর একজন, ভারতের দুই পুলিশ সদস্য এবং উত্তর কিভু প্রদেশের বুটেম্বোতে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে মিশরের একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভের সময় সহিংস হামলাকারীরা কঙ্গোলিজ পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং জাতিসংঘের কর্মীদের ওপর গুলি চালায়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বলে জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে বলেছেন।
আরও পড়ুন: কঙ্গোয় জাতিসংঘের ২ বিশেষজ্ঞ হত্যা মামলায় ৫১ জনের মৃত্যুদণ্ড
হক বলেন, মঙ্গলবার ‘শতশত হামলাকারী’গোমা এবং উত্তর কিভুর অন্যান্য অংশে জাতিসংঘ বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালায়। তারা পাথর ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, ঘাঁটি ভাঙছে, লুটপাট ও ভাঙচুর করছে এবং স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
১৪০৮ দিন আগে
কঙ্গোয় জাতিসংঘের ২ বিশেষজ্ঞ হত্যা মামলায় ৫১ জনের মৃত্যুদণ্ড
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের একটি সামরিক আদালত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ মাইকেল শার্প ও জাইদা কাতালানের হত্যা মামলায় ৫১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।
কাসাই অক্সিডেন্টাল মিলিটারি কোর্টের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার মো. জেনারেল জিন-পলিন এনটাশায়োকোলো এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, রায়ে ৫৪ আসামির বাকি তিনজনের একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্য দুইজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে। কারণ ২০০৩ সালে কঙ্গোতে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন নাগরিক শার্প এবং সুইডিশ নাগরিক কাতালানকে ২০১৭ সালের ১২ মার্চ মধ্য কঙ্গোর কাসাই অঞ্চল থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। তারা দুজন দেশটির সরকারি বাহিনী ও মিলিশিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর গণকবরের বিষয়ে তদন্ত করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কঙ্গোর সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল কামুইনা নাসাপু জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ কঙ্গো সরকারের।
আরও পড়ুন: শান্তিতে নোবেলজয়ী ডেসমন্ড টুটু মারা গেছেন
সামরিক আদালত অবশ্য সাংবাদিক ট্রুডন রাফায়েল কাপুকু এবং পুলিশ অফিসার অনারে শিম্বাম্বাকে মুক্তি দিয়েছে। এরা দুজনেই ২০১৮ সালে এই মামলায় গ্রেপ্তার হন।
কঙ্গোতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সিনিয়র গবেষক টমাস ফেসি বলেছেন, রায় দেয়া হলেও এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছর পরেও উত্তরের চেয়ে আরও বেশি প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি এক টুইটে বলেন, শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যাই হোক, তদন্তে সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটন করতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘের সহায়তায় কঙ্গোলিজ কর্তৃপক্ষের উচিত এই হত্যাকাণ্ডে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে তদন্ত করা।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান লিন্ডেও বলেছেন, তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি এক টুইটে লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যক্তিরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে। এতে আরও সত্য উন্মোচন হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। আমরা দেশটির কর্তৃপক্ষকে জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।
আরও পড়ুন: দ. আফ্রিকায় ওমিক্রন ঢেউ শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে
বুরকিনা ফাসোতে জঙ্গী হামলায় নিহত ২০
১৫৮৬ দিন আগে
কঙ্গো বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালিত ডিআর কঙ্গো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরা।
২০৭১ দিন আগে
কঙ্গোতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৬
আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে অন্তত ১৬ জন যাত্রী ও দুজন ক্রু নিয়ে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।
২৩৮৪ দিন আগে
কঙ্গোয় নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ ৩৬
কঙ্গো, ১৭ সেপ্টেম্বর (এপি/ইউএনবি)- আফ্রিকার দেশ কঙ্গোয় নৌকা ডুবিতে ৩৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে।
২৪৫২ দিন আগে