রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী তিনটি বিশেষ লড়ি সেনাবাহিনীর কড়া প্রহরায় পাবনায় পৌঁছেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছায় গাড়িবহরটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম।
ডিসি আমিনুল বলেন, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়ামের চালান এটি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ (শনিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার পর এটি রূপপুরে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর আজ (শনিবার) সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনটি লরিতে ইউরেনিয়াম ও অপর একটি গাড়িতে অন্যান্য সরঞ্জাম নেওয়া হয়। গাড়িবহরের সঙ্গে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরাও ছিলেন। নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে ইউনিট-১-এর আনুষ্ঠানিক কমিশনিং ধাপ শুরু হয়। ১২ মের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনসহ ৯০টিরও বেশি মৌলিক সিস্টেম পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি ও প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং কাজের জন্য দুটি—সব মিলিয়ে মোট ৯টি চালানে এই জ্বালানি দেশে আনা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো চালান সফলভাবে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। শিগগিরই সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুটি ইউনিটের মাধ্যমে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৩ সালে। রাশিয়ার সহযোগিতায় এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে।
সব প্রস্তুতি সময় মতো সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, বিকল হয়ে যাওয়া ভাল্ব প্রতিস্থাপনের পর গত বুধবার পিওআরভি/পিওএসভি ব্যবস্থার ১৬ মেগা প্যাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী ধাপে শিগগিরই ১৮ মেগা প্যাসকেল চাপে আরেকটি উচ্চচাপ পরীক্ষা চালানো হবে।
তিনি আরু বলেন, পিওআরভি/পিওএসভি হলো পরমাণু চুল্লির একটি অন্যতম প্রধান সুরক্ষাব্যবস্থা, যা প্রাথমিক কুলিং সার্কিটের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে কাঠামোগত ক্ষতি রোধ করে। গত জুলাইয়ের শুরুতে প্রাথমিক পিওআরভি পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ভাল্ব ঠিকভাবে কাজ না করায় ১ নম্বর ইউনিটকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেওয়া যায়নি।
পরে নিয়ন্ত্রণ ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করা হয়। এ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট প্রধান সেফটি ভাল্বের অপারেশন ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার গতি, অ্যালার্ম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্যারামিটার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান ড. জাহেদুল।
তিনি বলেন, অপারেশনের আগে ও চলাকালীন যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও তেজস্ক্রিয়তা সুরক্ষার শর্তগুলোও পুরোপুরি যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষাটি অনুমোদিত পদ্ধতি ও নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে করা হয়েছে। কমিশনিং প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
১৩ দিন আগে
রূপপুরে আরও এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দোরোখিন সের্গেই নামে আরও এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে প্রকল্পের ৫.৭ ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দোরোখিন সের্গেই (৫১) রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে রুশ পারমাণবিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমটেকএনার্জো’-এর কর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সকালে ৫.৭ বিল্ডিংয়ের ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করে মাটিতে ঢলে পড়েন সের্গেই। খবর পেয়ে কোম্পানির চিকিৎসক ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, সের্গেই অসুস্থ বোধ করলে প্রথমে প্রকল্পের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং হাসপাতালে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, আইনগত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। চিকিৎসকের রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত শেষে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এর আগে, গত ১ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নতুনহাট গ্রিন সিটির আবাসিক এলাকায় জিমে ব্যায়াম করার সময় চুরকিন ভ্লাদিমির (২৫) নামে এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়। তিনি চুরকিন রুশ পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটমে’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান অটোমটেক ইনির্গতে কর্মরত ছিলেন। ব্যায়ামের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন তিনি। সে সময় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন চিকিৎসকরা। পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনেও তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারিও রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক গ্রিন সিটির ১৪ নম্বর ভবনের নবম তলার একটি ফ্ল্যাটের শৌচাগার থেকে ইভান কাইটমাজোভ নামে এক রুশ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গলায় রশি লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া গত ৪ জানুয়ারি রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক গ্রিন সিটির চারতলা থেকে পড়ে পোশতারুক কেসেনিয়া নামে এক রুশ নারী কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।
৬৫ দিন আগে
জাতীয় গ্রিডে আসতে চলেছে রূপপুরের বিদ্যুৎ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিরাপদভাবে সঞ্চালনের পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।
সোমবার (২ জুন) দুপুর ৩টা ৩২ মিনিটে ‘রূপপুর-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন’ সফলভাবে চালু হওয়ার মাধ্যমে এই সক্ষমতার মাইলফলক স্পর্শ করে প্রতিষ্ঠানটি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ জানায়, এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হলো।
১৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রূপপুর-গোপালগঞ্জ সঞ্চালন লাইনে রয়েছে মোট ৪১৪টি টাওয়ার। এই লাইনের মাধ্যমে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিরাপদে সরবরাহ সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ ইউনিট
এর আগে, রূপপুর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ নিশ্চিত করতে আরও দুটি হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন চালু করা হয়। এর মধ্যে ২০২২ সালের ৩০ জুন ‘রূপপুর-বাঘাবাড়ি ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন’ এবং ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল ‘রূপপুর-বগুড়া ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন’ চালু করা হয়।
নতুন লাইন চালুর মাধ্যমে রূপপুর কেন্দ্রের জন্য এখন মোট তিনটি সঞ্চালন রুট চালু হয়েছে, যেগুলোর প্রত্যেকটির বিদ্যুৎ পরিবহনের সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াট।
এই তিনটি সঞ্চালন লাইন পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ায় এখন রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের বাস্তবভিত্তিক অবকাঠামো প্রস্তুত। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য।
৫০০ দিন আগে
কাজে ফেরেননি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন প্রকল্পের ভারতীয় কর্মকর্তারা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে বিদ্যুৎ স্থানান্তর করতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব পাওয়া ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখনও কাজে ফেরেননি, যা এই প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, ‘কেইসি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও ট্রান্সরেল লাইটিং লিমিটেডের (টিটিএল) কয়েকজন কর্মী ফিরে এলেও লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড (এল অ্যান্ড টি) বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ এখনও ফিরে আসেননি।’
এই কর্মকর্তা আরও জানান, ফিরে আসা কর্মীদের বেশিরভাগই কেইসির স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অস্থায়ী কর্মী এবং মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা কিন্তু এখনও কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা সাইটে ফিরে আসেননি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে শুধু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই নয়, শান্তিপূর্ণ পরমাণু শিল্পও গড়ে তুলেছে রাশিয়া: পুতিন
তবে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এল অ্যান্ড টির ভারতীয় কর্মীরা ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পগুলোতে পুনরায় যোগ দেবেন বলে আশা করছেন তারা। তিনি বলেন, 'আমরা অপেক্ষা করছি তারা আবার কাজ শুরু করবে।’
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতীয় কোম্পানিগুলোর সব কর্মী বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। এখন তাদের ফিরিয়ে আনতে বিলম্ব হচ্ছে। যার ফলে ভারতীয় ঠিকাদারদের দায়িত্বে থাকা সঞ্চালন প্রকল্পগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে, বাংলাদেশ জুড়ে ১৭টি সঞ্চালন প্রকল্পে দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় কোম্পানিগুলো। দায়িত্বপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে- এল অ্যান্ড টি, ট্রান্সরেল ও কেইসি। এই সঞ্চালন প্রকল্পগুলোর বেশ কয়েকটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের কর্মকর্তা বলেন, 'ভারতীয় ঠিকাদার কর্মীরা আকস্মিক চলে যাওয়ায় এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় অন্যতম শীর্ষ ঠিকাদার লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে পাবনার রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রধান প্রধান চুক্তিগুলো দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছে যেগুলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের গ্রিড সিংঙ্ক্রোনাইজেশন এবং টেস্টিং প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর কাজ ২০২৫ সালের প্রথম দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
প্রাথমিকভাবে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকারের ১ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ১ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা অর্থায়নে সঞ্চালন প্রকল্পটিতে আনুমানিক ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানায়, সঞ্চালন প্রকল্পে পাঁচটি বড় অংশ রয়েছে- ১৩ কিলোমিটার রিভার ক্রসিংসহ ৪৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন; ৭ কিলোমিটার রিভার ক্রসিংসহ ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন; ৪০০ কেভি পাঁচটি বে এক্সটেনশন; ২৩০ কেভি চারটি বে এক্সটেনশন এবং ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রিকোয়েন্সি ড্রপ সুরক্ষা, সুরক্ষা ব্যবস্থা, জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হতে লাগতে পারে আরও এক বছর
৭৫৪ দিন আগে
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের রূপপুর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের খবর উড়িয়ে দিলেন রুশ রাষ্ট্রদূত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নি টিউলিপ ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন- এই সংবাদ নাকচ করে দিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ম্যানটিটস্কি।
রবিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কার্যালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'সত্যি কথা বলতে, প্রথমত এটি একটি গুজব এবং মিথ্যা গুজব। আপনাদের বোঝা উচিত। আমাদের কোম্পানি রোসাটম এরইমধ্যে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধ নবায়নের আশাবাদ ইইউ রাষ্ট্রদূতের
যেখানে নির্মাণ কাজ এখনও চলছে সে অবস্থায় কীভাবে এটি করা যেতে পারে বলে প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ বিলিয়ন ডলার। কল্পনা করুন, এটি একটি বড় অর্থ। যখন নির্মাণ চলমান তখন কীভাবে এত অর্থ কাউকে দেওয়া যেতে পারে? আপনাদের কি মনে হয় আমরা এতই পাগল যে কাউকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেব?’
জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এই গুজব তৈরি করা হয় বলে জানান রুশ রাষ্ট্রদূত।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
৭৮২ দিন আগে
সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে হলেও মানুষ বিদ্যুৎ পাবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে হচ্ছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুৎ পাবে না।
তিনি বলেন, ‘মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আমাদের সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে... আমরা কিছু ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হয়েছি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তা করতে বাধ্য।’
দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) দ্বিতীয় ইউনিটে চুল্লি স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পাবনার উত্তরাঞ্চলের ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়াই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। আর আমরা বাংলাদেশকে আলোকিত করতে সফল হয়েছি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘…পরিবহনসহ সব ক্ষেত্রেই দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে উন্নত দেশগুলো নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের দিকে মনোনিবেশ করেছে। আমরাও পিছিয়ে নেই… বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজ এবং একটি দেশ অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল। সমগ্র বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে, তখন আমাদেরও সেই আঘাত সহ্য করতে হয়।’
তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও এর কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কারণে আরও সমস্যা তৈরির বিষয় উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, রাশিয়ার রোসাটম স্টেট কর্পোরেশনের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জ্যৈষ্ঠ সচিব জিয়াউল হাসান।
অনুষ্ঠানে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
১৪৫৮ দিন আগে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২য় ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও শেষ ইউনিটের চুল্লি (রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেল) স্থাপনের উদ্বোধন করেছেন।
রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেলটি দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) দ্বিতীয় ইউনিটে স্থাপন করা হয়।
পাবনার উত্তরাঞ্চলের ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।
ঈশ্বরদীর রূপপুরে এক হাজার ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেল স্থাপন উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পের রুশ ঠিকাদার রোসাটম জানায়, ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাকটর ভেসেলটি বুধবার স্থাপনের আগে সকল নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা অনুসারে ইনপুট নিয়ন্ত্রণ পাস করেছে।
রোসাটমের কর্মকর্তারা জানান, নকশা পর্যায়ে দ্বিতীয় পাওয়ার ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাকটর ভেসেল স্থাপনের কাজটি বেশ কয়েকটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
একটি লিয়েবয়ার-১১৩৫০ ভারী ক্রলার ক্রেন রিঅ্যাকটর ভেসেলটিকে পাওয়ার ইউনিটের পরিবহন পোর্টালে তুলেছে।
এরপর একটি বিশেষ পরিবহন ট্রলিতে এটিকে চুল্লির বগির কেন্দ্রীয় হলে সরানো হয়। আরও একটি পোলার ক্রেনের সাহায্যে চুল্লি সিলিন্ডারটিকে খাড়াভাবে তোলা হয় এবং রিঅ্যাকটর গহ্বরের একটি রিংয়ে স্থাপন করা হয়।
আরএনপিপির কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ভৌত কাজের ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটে রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পটির মোট ৫৩ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শওকত আকবর মঙ্গলবার ইউএনবিকে বলেন, ‘রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের সঙ্গে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ভৌত কাজ লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ শতাংশের বেশি অর্জিত হবে।’
সরকার ২০০৯ সালে প্রকল্পটি হাতে নেয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি ক্রেডিট চুক্তি সই করে যাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা-রোসাটমকে এর ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
এছাড়াও ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি সই করে।
চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা টিভেল জয়েন্ট স্টক কোম্পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুরো জীবনকালের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটকে প্রতি ১৮ মাস পর পর মোট প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির এক তৃতীয়াংশ পুনরায় লোড করতে হবে এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুনরায় লোড বিনামূল্যে রাশিয়ান ফার্ম প্রদান করবে।
প্রতিটি পারমাণবিক জ্বালানি পুনরায় লোড করতে খরচ হবে ছয় কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ৫৫০ কোটি টাকার সমান।
ড. শওকত আকবর বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটে চুল্লি স্থাপনের পর যে বড় কাজগুলো অসমাপ্ত থাকবে তার মধ্যে রয়েছে প্রি-অপারেশনাল টেস্টিং ও ফুয়েল লোডিং।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি চালু করার আগে আরও কিছু কাজ শেষ করতে হবে। ‘আমরা আশা করছি আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই কাজগুলো শেষ করব।’
তিনি বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিড লাইন নির্মাণ এবং যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে যা রয়েছে তা আগামী ২০২৪ সালের মাঝামাঝি আগে সম্পন্ন করতে হবে।’
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তির জন্য একটি নিবেদিত কোম্পানি নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। এর (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শওকত আকবর বলেছেন, ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালে দ্বিতীয় ইউনিট।
প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২০২২ এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৩ থেকে শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং তারপর লক্ষ্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল।
এনবিসিবিএল-এর কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়া এবং বেলারুশসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ থেকে প্রায় ১৪ হাজার বিদেশি কর্মী এখন বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য ঠিকাদার এবং এর সাব-কন্ট্রাক্টরদের অধীনে এই প্রকল্পে নিযুক্ত রয়েছে।
১৪৫৮ দিন আগে
দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাশিয়ার রোসাটম স্টেট আণবিক শক্তি করপোরেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) অ্যালেক্সি লিখাচেভ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ সহয়তা চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হলে আমরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি নির্মাণ করবো। এই জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন সহায়তা প্রয়োজন।’
এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফ করেন। বাংলাদেশের শক্তি খাতে রাশিয়া সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন রোসাটম মহাপরিচালক।
শেখ হাসিনা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এটি রাশিয়ার সহযোগিতা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যথাযথ নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে রোসাটম মহাপরিচালককে অনুরোধ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার জন্য রাশিয়ার প্রশংসা করেন তিনি।
করোনার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সব দিক দিয়েই করোনা মহামারি কিছুটা কমেছে এবং বাংলাদেশ এ থেকে রিকভার করছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে রুশ ফেডারেশনের সাহায্য ও সহযোগিতা কৃতজ্ঞার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
১৮৩১ দিন আগে
দক্ষিণাঞ্চলে আরেক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে: নৌপ্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ শেষে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অনুরূপ আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
২১৪৮ দিন আগে
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন।
২১৬০ দিন আগে