ঠিকাদার
গ্রামীণ সড়কের মান নিশ্চিতে ৩ বছরের ওয়ারেন্টির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদের স্থায়ী কমিটি।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারের ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।
এছাড়া কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে গৃহীত অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মো. রফিকুল ইসলাম খান বৈঠকে অংশ নেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, সাপাহার হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্ভোগে রোগীরা
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে বহির্বিভাগের আশপাশে মল-মূত্র ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দুর্গন্ধে রোগী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই তিনি চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া টয়লেটের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আর সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে আউটলেট ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বহির্বিভাগের সামনে পৌঁছানোর পরই তাদের নাকে রুমাল চাপা দিতে হচ্ছে। টিকিট কাটা থেকে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা—পুরো সময়ই তাদের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
হাসান আলী নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম। এসে দেখি টয়লেটের দুর্গন্ধ পুরো চত্বরে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে! দ্রুত এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করা দরকার।’
আরেক রোগীর স্বজন সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে একটু স্বস্তি পেতে, কিন্তু এখানে এসে দেখছি উল্টো ভোগান্তি। টয়লেটের মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষের কি এদিকে কোনো নজরই নেই?’
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এমনিতেই কষ্টকর, তার ওপর এই পচা গন্ধের চোটে এখানে এক মুহূর্তও টিকতে পারছি না। ডাক্তার দেখানোর আগেই বমি আসার মতো অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে।’
কাজ ফেলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, ‘শুধু রোগ নির্ণয় বা ওষুধ লিখে দেওয়াই চিকিৎসা নয়; সবার সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ঠিকাদারের এ ধরনের অসমাপ্ত কাজ চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেবার মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘রোগী ও স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আমরা একাধিকবার লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি।’
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), রাজশাহী থেকে করা হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে রেখেছে। ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় রোগীসহ সেবা গ্রহীতারা চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, পুরোনো ঠিকাদারকে দিয়ে হোক অথবা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেই হোক, অতি দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কেন ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছেন এবং কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে—এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
১৮ দিন আগে
‘ঠিকাদারের গাফিলতিতে’ দেড় বছর ধরে ভুগছে চাঁদপুরের ১০ গ্রামের মানুষ
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতিতে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ‘লাওকোরা মুক্তিযোদ্ধা সড়ক’ সংস্কারের কাজ। সাড়ে ৫ কিলোমিটারের এই সড়কের কার্পেটিং কাজ মাঝপথে থেমে থাকায় হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি—এই তিন উপজেলার অন্তত ১০-১২টি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো কর্ণপাত না করায় ইতোমধ্যে ব্যাংকে সিকিউরিটি মানি জব্দের চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), চাঁদপুর জেলা কার্যালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের উয়ারুক স্টেশন থেকে লাওকোরা বটতলী পর্যন্ত এই সড়কটি ওই এলাকার অন্তত দুই লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইভি ওয়াই কনস্ট্রাকশন’। পরবর্তীতে কাজটি ‘ভায়া’ হিসেবে নেন চাঁদপুরের অপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘আফজাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না করে সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। সড়কের কার্পেটিং তুলে রাখায় পুরো এলাকা ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বালু-ধুলায় বিবর্ণ হয়ে গেছে।
হাটিলা টঙ্গিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা বাবলু পাটোয়ারী ও আ. জলিলসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, এমন একজন ঠিকাদার কাজটা নিয়েছেন যিনি খুব খারাপ লোক। আজ থেকে দেড় বছর আগে তিনি রাস্তাটি খুঁড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রেখেছেন। মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নাই। রাতের বেলায় এই পথে চলাচলের কথা তো বলাই যায় না।
অটোরিকশাচালক ইব্রাহিম বলেন, এখান থেকে স্টেশনে আপ-ডাউন করলে কাপড়-চোপড় পুরো নোংরা অইয়া যায়। আবার ধোয়া লাগে, নাহয় এসব গায় দেওয়া যায় না। বালু-ধুলায় এই রাস্তার পাশের দোকানপাট, বাড়িঘর সব লাল অইয়া যায়।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নবীর হোসেন ও খোরশেদ মিয়া বলেন, রাস্তাটা উল্টানোর পর বলছিল, কিছুদিন পর কাজ করবে, কিন্তু কাজটা করে নাই। খারাপ রাস্তার কারণে গাড়িগুলা ভাইঙ্গা যায়।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ফারাজ হোসেন ভূঁইয়া ও কয়েকজন পথচারী জানান, ধুলোবালির কারণে ১০ হাত দূরের কিছু দেখা যায় না। রাস্তার কার্পেটিং না থাকায় জনসাধারণের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে মুখে মাস্ক পরে চলতে হয়। শিশু থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ এখন বিভিন্ন ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া।
লাওকোরা গ্রামের ইউপি সদস্য রহমত উল্ল্যাহ বলেন, রাস্তাটির উন্নয়ন ও সংস্কার আমাদের সবার জন্য অতীব জরুরি। দীর্ঘ দেড় বছর আগে থেকে ঠিকাদার এই রাস্তাটি খুঁড়ে রেখেছেন। আমরা তার সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের সঙ্গে কয়েকবার কাজ শুরুর ওয়াদাও করেছেন, কিন্তু কথা রাখেননি। আমি চাঁদপুর জেলা এবং হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন এই কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. তাহসিনুল হোসেন মুকুল বলেন, ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিবার লিখিত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা এবং ব্যাংকের সিকিউরিটি জব্দ রাখার জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে। জুনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে জরিমানা আদায় করে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার কাজ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সংস্কার কাজটি ২০২৪-২৫ সালে ‘জেবু মেইনটেন্যান্স’ থেকে করা হয়েছিল এবং ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। আইভি কনস্ট্রাকশন নামক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবৎ কাজটি ফেলে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে দপ্তরে আগেও অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানান তিনি।
১৬১ দিন আগে
ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিন: ডিএসসিসি মেয়র
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাস্তবায়িত জলাবদ্ধতা নিরসনসহ চলমান অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছ থেকে যথাযথভাবে কাজ আদায় করে নিতে কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে নগর ভবনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মিলনায়তনে করপোরেশনের দ্বিতীয় পরিষদের অষ্টাদশ বোর্ড সভায় তিনি কাউন্সিলরদের প্রতি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আবারও বর্ষা মৌসুম সমাগত। জলাবদ্ধতা নিরসন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল কর্মযজ্ঞ। গত বছর আমরা অনেক সফলতার পরিচয় দিয়েছি। এ বছর আমাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খালগুলো পরিষ্কার করার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। যার যার এলাকায় খাল আছে-আপনারা দয়া করে আপনাদের চাহিদা দিয়ে, একটু নজরদারি করে সেগুলো পরিষ্কার করিয়ে নেবেন। সেজন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা আছে। কিন্তু কিছু সময় হয়তো অবহেলা হয়। ঠিকাদাররা এক থেকে দুই দিন কাজ করলো আবার হয়তো পরের দিন কাজ করলো না-এ ধরনের বিষয়ও মাঝে মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং আপনাদেরকে একটু নজরদারি বাড়িয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতে হবে।
আরও পড়ুন: দিনে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য না ফেলার অনুরোধে ডিএসসিসি মেয়র
জলাবদ্ধতা নিরসনের সুফল ভোগ করতে নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির ওপর জোর দিয়ে তাপস বলেন, আমরা সকল নর্দমা পরিষ্কারে ঠিকাদার নিয়োগ করেছি। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে শুরু হয়ে তা এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে। আপনারা অবশ্যই আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার ওয়ার্ডের নর্দমাগুলো পরিষ্কার করিয়ে নেবেন। কোথায় কোথায় বর্জ্য জমে ভরাট হয়ে গেছে তা আপনাদের নখদর্পনে আছে। অবশ্যই সেগুলো পরিষ্কার করিয়ে নিতে হবে। কারণ জলাবদ্ধতা নিরসনে নর্দমাগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
খাল ও নর্দমা পরিষ্কার ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে চলমান সকল উন্নয়ন কার্যক্রম যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সব কাউন্সিলরকে সজাগ থেকে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ আদায় করিয়ে নেয়ার তাগাদা দিয়ে মেয়র বলেন, এতে করে ঢাকাবাসীকে সেবা দেয়ার যেন মহত ব্রত আমাদের রয়েছে, তা পূর্ণতা পাবে।
এছাড়াও আজকের বোর্ড সভায় দুই বছর ছয় মাসের মেয়াদকাল অতিক্রম করায় স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশনের আইন, ২০০৯ এর ৫০(১) ধারা অনুযায়ী অর্থ ও সংস্থাপন বিষয়ক স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
সভায় মেয়র সাধারণ আসনের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিমকে সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সুলতান মিয়া, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওমর বিন আব্দাল আজিজ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল বাশার, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদল সরদার এবং সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ১৪ নম্বর আসনের লাভলী চৌধুরী, ২০ নম্বর আসনের নাছরিন আহমেদ ও ১৭ নম্বর আসনের সাথী আক্তারকে পুনর্গঠিত কমিটির সদস্য হিসেবে নাম প্রস্তাব করলে কাউন্সিলররা তা একযোগে অনুমোদন দেন।
বোর্ড সভায় করপোরেশনের কাউন্সিলররা ছাড়াও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক মো. হায়দর আলী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সোমবার থেকে মাঠে থাকার ঘোষণা ডিএসসিসি মেয়রের
রাজধানীর খাল-কালভার্ট পরিষ্কারের কাজ অত্যন্ত দুরূহ: ডিএসসিসি মেয়র
১৩৩৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ঠিকাদারকে কুপিয়ে হত্যা
জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ক্লিনিক পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কামাল হোসেন (৬৩) জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ক্লিনিক পাড়ার মৃত জাহান মাস্টারের ছেলে।
জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ ক্লিনিকপাড়ায় প্রতিজ্ঞা নার্সিং হোমের পাশে গুরুতর জখম অবস্থায় কামাল হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কামাল হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রতিজ্ঞা নার্সিং হোমে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনিত হলে তাঁকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। রাত ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আহসানুল হক বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে গুরুতর জখম অবস্থায় এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে পুলিশ। আমরা অবশ্য তাঁকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাঁর বাম পায়ের হাঁটুর নীচে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আব্দুল আলিম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পৌঁছে গুরুতর জখম কামাল হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা অভিযোগ পেয়েছি স্বাধীন নামের এক যুবকের সাথে জমি নিয়ে তাঁর দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরেই হয়ত তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্তকে আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন: চৌদ্দগ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩
১৬১৭ দিন আগে
নির্মাণ কাজ ঠিক না হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী বরখাস্ত
স্থানীয় সরকারের অধীন সকল নির্মাণাধীন বা নির্মিতব্য কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের জোড়ালো নির্দেশের প্রেক্ষিতে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকৌশলী টিম সারাদেশের প্রকল্পগুলো পুনঃমূল্যায়ন এবং পরিদর্শন করছে।
২২৬৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জে কোটি টাকার রাস্তার কাজ চলছে দায়সারাভাবে
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কোটি টাকা বাজেটের রাস্তা সংস্কার কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
২৪৫৩ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ৯ মাসেই কোটি টাকার রেলস্টেশন ভবন ঝুঁকিতে
কুড়িগ্রাম, ০৩ অক্টোবর (ইউএনবি)- এক কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্যনির্মিত কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন ভবন হস্তান্তরের মাত্র নয় মাসেই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
২৫৬৭ দিন আগে