ত্রাণ
সীমিত সক্ষমতা নিয়েই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি: প্রতিমন্ত্রী হাবিব
ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, সীমিত সক্ষমতা নিয়েই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সবার অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৯ আমাদের একটি পরিবার। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সীমাবদ্ধ সক্ষমতা দিয়ে সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের এই কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা রয়েছে, তার সর্বোচ্চটুকু ব্যবহার করতে চাই।’
এ সময় বৃষ্টির মধ্যেও দেশের মানুষের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এই সরকার অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশে থাকার এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছেন। আমরাও ঢাকা-৯ পরিবার হিসেবে আপনাদের পাশে আছি, থাকব। আপনাদের নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাব।’
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিজিবি মোতায়েন
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম রবিবার (১২ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা দুর্গত মানুষের মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা প্রদান করছেন।
এছাড়া বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের বাহিনীটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।
বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে বাহিনীটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সদর দপ্তর।
২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে কৃষি সহায়তায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, বঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারঘোষিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে কিছু জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজন, অকৃষক, প্রবাসী, এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে কৃষকদের মধ্যে।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত হওয়ায় প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে তাদের পছন্দের ব্যক্তি ও স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায়ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বাদ পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
এছাড়া কৃষি সহায়তার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে প্রকাশিত ৪৮০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আত্মীয়স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় গ্রাম পুলিশ, প্রবাসী এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাজমুল মিয়া ঢাকায় কর্মরত থাকলেও তাকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের ছেলে মৃদুলের নামও তালিকায় রয়েছে, যদিও তাদের পরিবার হাওরে কোনো জমি চাষ করেনি। ইউপি সদস্য মাসুম আহমদের ভাই জাবেদ আলীর নামও তালিকায় রাখা হয়েছে, অথচ তাদের কোনো জমি তলিয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের অন্তত ২০-২৫টি নাম তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত অনেকেই কৃষি পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।
স্থানীয় কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, আমার সাত কেয়ার জমি তলিয়ে গেছে, অথচ আমার নাম তালিকায় নেই। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের নাম দিয়েছেন। যাদের জমিই তলিয়ে যায়নি, তারাও সহায়তা পাচ্ছেন।
এদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সবুজ মিয়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছয়ফুজ্জামান ও মহিলা সদস্য আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৭ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ৪০ জন কৃষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, শাল্লা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় দুই মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তারা হলেন— বাহাড়া ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের রনু রঞ্জন সরকার ও সুধীন চন্দ্র দাস।
স্থানীয়রা জানান, রনু রঞ্জন সরকার গত বছর মারা গেছেন এবং সুধীন চন্দ্র দাস মারা গেছেন প্রায় ছয় মাস আগে, অথচ তাদের নামও সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মিহির চৌধুরী বলেন, আমার তালিকা অন্যরা করেছেন। তালিকায় কিছু মৃত ব্যক্তির নাম আসতে পারে। এগুলো বাদ দেওয়ার বিষয়ে পরিষদে আলোচনা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, তালিকায় মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য কারও নাম পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, সুনামগঞ্জে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অকৃষকদের নাম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তা বাদ দেওয়া হবে।
৫৩ দিন আগে
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার।
রবিবার (৩ মে) লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহিদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ‘বিদ্যানন্দ আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্প ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় লাখ লাখ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।
তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে সহায়তা পাবেন।
আগামী ৬ মে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য সুনামগঞ্জ সফরে যাবেন মন্ত্রী।
এদিকে, অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০১টি অসহায় পরিবারের মাঝে আয়বর্ধক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল দোকানের মালামাল, ভ্যানগাড়ি, গরু এবং সেলাই মেশিন।
৭২ দিন আগে
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ত্রাণ নিয়ে মিয়ানমার গেল বাংলাদেশি জাহাজ
সম্প্রতি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারের উদ্দেশে ত্রাণ, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ 'বানৌজা সমুদ্র অভিযান' চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করেছে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে জাহাজটি প্রায় ১২০ মেট্রিক টন ত্রাণসহ মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এতে বলা হয়, আশা করা হচ্ছে, জাহাজটি আগামী ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন বন্দরে পৌঁছাবে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক তত্ত্বাধানে এই সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, সেনা কল্যাণ সংস্থা এবং রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় প্রাপ্ত ১২০ টন ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৭৭ মেট্রিক টন শুকনো খাবার, ৯ টনেরও অধিক তাবু এবং ব্যবহারযোগ্য বস্ত্রাদি, ২৯ টন বিশুদ্ধ খাবার পানি, ৪ টন হাইজিন কিট এবং প্রায় ১ টন প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সংঘটিত ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে দুই ধাপে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমানের মাধ্যমে ৩১ দশমিক ৫ টন ত্রাণ সামগ্রী, উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তাকারী দল পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের ভূমিকম্পের পর ৮৯ আফটারশক অনুভূত
৪৬৩ দিন আগে
মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় পাঠানো হলো ত্রাণ, ওষুধ ও উদ্ধারকারী দল
মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় জরুরি ওষুধ, চিকিৎসক দল, ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ও বিমান বাহিনীর দুটিসহ মোট তিনটি পরিবহন বিমান উদ্ধার সরঞ্জামাদিসহ একটি উদ্ধারকারী দল, জরুরি ওষুধ সামগ্রীসহ একটি চিকিৎসক দল এবং ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোর উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে নিহত বেড়ে ২ হাজার, ধীর গতির উদ্ধার অভিযান
৩৪ জন উদ্ধারকারী ও ২১ জন চিকিৎসাকর্মী মিলিয়ে মোট ৫৫ জনের একটি দল এই মিশনে অংশ নিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর কর্নেল মো. শামীম ইফতেখারের নেতৃত্বে মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করবে দলটি।
উদ্ধারকারীদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২১ জন, নৌবাহিনীর দুজন, বিমানবাহিনীর একজন ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১০ সদস্য রয়েছেন। চিকিৎসা সহায়তা দলে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১০ জন, নৌবাহিনীর একজন, বিমানবাহিনীর দুজন ও অসামরিক ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় দফায় পাঠানো ১৫ টন ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, তাঁবু, স্বাস্থ্যবিধি পণ্য ও ঔষুধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী।
আরও পড়ুন: জুমার নামাজের সময় ভূমিকম্প, মিয়ানমারে নিহত অন্তত ৭০০ মুসল্লি
এর আগে, রবিবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে প্রথম দফায় মিয়ানমারে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়। সেই মিশনে ওষুধ, তাঁবু, শুকনো খাবার ও একটি মেডিকেল টিম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গত শুক্রবার দিনের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে মিয়ানমারে। এরপর থেকে সেখানে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির সামরিক সরকার। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ হাজার ৯০০ মানুষ। ধ্বংসস্তুপের নিচে আরও প্রায় ২৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
৪৬৯ দিন আগে
উত্তর-ময়মনসিংহের বন্যার্ত কৃষকদের ত্রাণ সহায়তা চেয়েছে বিএনপি
সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে কৃষকদের ত্রাণ সহায়তা, প্রণোদনা ও সুদমুক্ত ঋণসহ সার্বিক সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
রবিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, বন্যা দুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার এখনও দৃশ্যমান কোনো ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় গত মাসের শেষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ভারী বন্যায় প্লাবিত হয়। লাখ লাখ মানুষ বন্যায় অসহায় হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক বিএনপির
বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে এই বিপর্যয়কর বন্যার জন্য মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি ঢলকে দায়ী করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় আমন ধান চাষি, সবজি চাষিদের পাশাপাশি মাছ ও পোল্ট্রি খামারের মালিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রিজভী বলেন, দেশের পূর্বাঞ্চলে বন্যার সময় যে ব্যাপক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে তা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনের জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে। বাজারে চাল, ডাল, শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে অবশ্যই সক্রিয় হতে হবে। কৃষকদের সার, কীটনাশক এবং বীজের প্রাপ্যতা বাড়ানো বা প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া উচিত।
বন্যায় যাদের ফসল ও জমির ক্ষতি হয়েছে তাদের সঠিক তালিকা তৈরি করে পরবর্তী ফসল কাটার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ত্রাণ সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরবর্তী ফসলের জন্য বিনা সুদে কৃষি ঋণ, বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করা। পরবর্তী ক্রমবর্ধমান মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য তাদের রবি ফসল উৎপাদনের বীজও পাওয়া উচিত।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর খামারের তালিকা তৈরি করে খামার পুনঃস্থাপনে সুদমুক্ত ঋণ ও অন্যান্য অতিরিক্ত সহায়তা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: যোগ্য ইসির অধীনে জাতীয় ঐক্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান গণফোরামের
৬৩২ দিন আগে
টিএসসির ত্রাণের ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে বন্যার্তদের পুনর্বাসনে
আগস্ট মাসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য টিএসসিতে সংগ্রহ করা ত্রাণের তহবিল থেকে আট কোটি টাকা সরবরাহ করা হবে।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত টিএসসিতে সংগ্রহ করা ত্রাণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।
পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, গণত্রাণ কর্মসূচিতে মোট ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪২০ টাকা জমা হয়। সংগ্রহ করা এসব অর্থ থেকে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ২০৭ টাকা। বর্তমানে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা জমা রয়েছে।
অডিট ঘোষণা করেন পি কে এফ আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের পার্টনার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অডিটর গোলাম ফজলুল কবির।
আরও পড়ুন: বন্যার্তদের সহায়তায় নগদ ২০ কোটি টাকা ও ত্রাণ সংগ্রহ বিএনপির
অডিট অনুযায়ী আয়ের উৎস:
নগদ প্রাপ্ত ৯ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার ৭২৫ টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায় ৭৮ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং এ প্রাপ্ত ৯৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। ডলার, স্বর্ণ, প্রাইজবন্ড ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি বাবদ পাওয়া যায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার ১১০ টাকা। সর্বমোট আয় ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪২০ টাকা।
ব্যয়ের খাত:
রিলিফ কেনা বাবদ ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯২ হাজার ১৩০ টাকা। অন্যান্য সংগঠনকে ডোনেশন বাবদ ১২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। পরিবহন খরচ বাবদ ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ভলান্টিয়ারদের পেছনে খরচ বাবদ ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৭ টাকা। প্যাকেজিং পণ্য কেনা বাবদ ১১ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। অন্যান্য খরচ ৩ হাজার ১২০ টাকা।
এতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে মোট ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ২০৭ টাকা। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা।
এ বিষয়ে অডিটর গোলাম ফজলুল কবির বলেন, ‘আমাদের গত ১০ সেপ্টেম্বর অডিটের জন্য ডাকা হয় যা আমরা ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ করি। সব মিলিয়ে ২০ দিন সময় লেগেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বিশেষ প্রয়োজনে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়েছিল। পরে অফিসিয়াল যৌথ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে ট্রান্সফার করা হয়। এছাড়া ২ লাখ টাকার কয়েন আমাদের হিসাব করতে হয়, এরপর স্ক্র্যাপ, স্বর্ণ বিক্রি করেও অর্থ পাওয়া যায়। যা পরে যোগ হয়। আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ করতেই মূলত হিসাব দিতে দেরি হয়েছে।’
আয়-ব্যয়ে গড়মিল ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু খুঁজে পাইনি যেটা নিয়ে প্রশ্ন করব। তাদের আয়-ব্যয় হিসাব স্বচ্ছ ছিল।’
সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা তহবিলের এই অর্থ সরকারের ত্রাণ মন্ত্রালয়ের মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেব। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য ব্যয় করা হবে আর এর বাইরে যে টাকা সেটা দিয়ে উত্তরবঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত ৪ তারিখ ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করার পরও তহবিলে টাকা যুক্ত হয়েছে। কিছু চেক যেগুলো শুরুতে কোনো কারণে ক্যাশ করা যায়নি সেগুলো পরে ক্যাশ করা হয়েছে। যেমন আমাদের প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না। সেকারণে চেকগুলো ব্যবহার করা যায়নি। কিন্তু পরে যখন অ্যাকাউন্ট করা হয় তখন সেগুলো ব্যবহার করা যায়। এজন্য আমাদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব করতে একটু সময় লেগেছে।’
হিসাব প্রকাশে দেরির বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য হিসাব প্রকাশে সময় নেওয়া হয়েছে। খুঁটিনাটি প্রতিটি বিষয়ের হিসাব এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের অনেকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়েছিল সেগুলোও এই হিসাবের আওতায় আনা হয়েছে। এই ২০ দিনে প্রতিটি দোকানে কখন কত টাকার জিনিস কেনা হয়েছে, কোথায় কত টাকার জিনিস দেওয়া হয়েছে, ভলান্টিয়ারদের পেছনে কত খরচ হয়েছিল, কতটি কয়েন ছিল, কত টাকার গহনা ছিল সব উঠে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে একটা টাকাও এদিক সেদিক হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা এতদিন অনেক সমালোচনা শুনলেও প্রতিক্রিয়া দেখাইনি কেবল আজকের এই দিনের অপেক্ষায়।’
উত্তরবঙ্গের বন্যার স্থায়ী সমাধান চেয়ে সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু খসড়া-দলিল পত্রে নয় এর স্থায়ী সমাধান চাই।’
আরও পড়ুন: বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর দাতা সংস্থাগুলো পুনর্বাসনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে: ত্রাণ উপদেষ্টা
৬৫০ দিন আগে
গবাদিপশুর জন্য ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় বাকৃবি শিক্ষার্থীরা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুই জেলা ফেনী ও মৌলভীবাজারে গবাদিপশুর জন্য ত্রাণ হিসেবে প্রায় ৬ টন পশুখাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদ ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৩১ আগস্ট) বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী ও গবাদিপশুর ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়ক রাকিব রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসময় রাকিব রনি বলেন, আমরা মোট ৬ টন পশুখাদ্য সংগ্রহ করছি। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের একটি দল শুক্রবার (৩০ আগস্ট) আড়াই টন পশুখাদ্য নিয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গিয়েছে। এছাড়া গত ২৮ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল ৩ টন পশুখাদ্য নিয়ে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়ায় গিয়েছে। এছাড়া বাকি আধা টন পশুখাদ্য দেশের অন্যান্য বন্যাকবলিত অঞ্চলে দেওয়া হবে।
গবাদিপশুর ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়ক আরও বলেন, বাকৃবির শিক্ষার্থী হিসেবে শুধু মানুষ নয়, আমরা প্রাণীদের পাশেও দাঁড়াব। সেক্ষেত্রে আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছি।
আরও পড়ুন: দিনব্যাপী আয়োজনে বাকৃবির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
জরুরি ভিত্তিতে বন্যাকবলিত এলাকায় ৪টি সেবা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা
১. অসুস্থ প্রাণীগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া।
২. যেসব প্রাণীর ডায়রিয়া, ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি, পুষ্টি সমস্যা তাদের রুচিবর্ধক এবং ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লাই দেওয়া।
৩. পশুখাদ্য সরবরাহ করা।
৪. পরে খামারিদের কোনো সমস্যা হলে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া।
ত্রাণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে জানা যায়, সংগৃহীত পশুখাদ্যের সবচেয়ে বড় যোগানদাতা সিপি বাংলাদেশ।
ইনোভা, মিনার এগ্রো ও লোকাল কিছু পেট কোম্পানি পশুখাদ্য পাঠিয়েছে। স্কয়ার, একমি, এসিআই, এসকেএফ ও বায়োল্যাব ওষুধের যোগান দিয়েছে।
টেলিমেডিসিন সেবা সম্পর্কে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মাশশারাত মালিহা বলেন, খামারিদের ভেটেরিনারিয়ানদের নাম্বার দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে গবাদি পশুগুলো যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় তবে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে খামারিরা আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবে।
ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যাকবলিত। সেখানে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুগুলোও দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। প্রচুর পোলট্রি ফার্ম, এ্যানিমেল ফার্ম ধ্বংস হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে তারা সমাজের সেবা করার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ফেনীতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেনীর ৩টি বন্যা দুর্গত এলাকা ফুলগাজী, পশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলাযর প্রায় ৯০০ খামারিদের মাঝে পশুখাদ্য, ওষুধ ও কয়েকটি খামার পরিদর্শন ও বিভিন্ন টেকনিকেল পরামর্শ দেওয় হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রথম নারী পরিচালক পেল বাকৃবির আইকিউএসি
উক্ত এলাকাগুলোর বেশিরভাগ জায়গায় মানুষের খাদ্যের অপর্যাপ্ত না হলেও, পশুখাদ্যের অপর্যাপ্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপস্থিত খামারিরা ও ফেনীর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।
ফেনী জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোজাম্মেল হক ইউএনবিকে বলেন, বাকৃবির শিক্ষার্থীরা ফেনী জেলার বন্যাদুর্গত ৩টি উপজেলায় প্রাণীদের পশুখাদ্য, চিকিৎসা ও ওষুধ সেবা প্রদান করেছে। শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমে ওই এলাকার খামারিরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।
৬৮২ দিন আগে
বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজে ভলান্টিয়ারদের যা জানা জরুরি
গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান বন্যার করাল গ্রাসে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল। এর মধ্যে সবচেয়ে সংকটময় সময় পার করছে ফেনী, কুমিল্লা, এবং নোয়াখালীবাসীরা। সেনাবাহিনী ও নানা সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের পাশাপাশি দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরাও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে বিশাল পরিসরে। তবে হেলিকপ্টার ও স্পিড বোট ব্যবহারের পরেও সমন্বয়হীনতার কারণে এই সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক অসহায় মানুষ। একই সঙ্গে ভলান্টিয়ারদেরও পড়তে হচ্ছে নানাবিধ বিড়ম্বনা ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে। এই প্রতিকূলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে তরুণ ভলান্টিয়ারদের কিছু ব্যাপারে দূরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন। চলুন, বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ ও নিরাপদ উদ্ধার কাজে অপরিহার্য বিষয়গুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
বন্যার্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী
তৈরি খাবার
বুক সমান পানিতে এ সময় প্রাণ বাঁচানোই দায় হয়ে পড়ে। বহু কষ্টে কোনো শুকনো জায়গায় আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হলেও সেখানে রান্নার চুলা খোঁজা চিন্তারও অতীত। এ রকম অবস্থায় থাকা অসহায় মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হচ্ছে তৈরি খাবার। তাই চাল, ডাল, তেল বা চিনির বদলে দেওয়া উচিত মুড়ি, চিড়া, খেজুর, রুটি, গুঁড় ও সিদ্ধ আলু। এছাড়া বিস্কুট, বাদাম, ওট্স বার, বা কেকের মতো মিষ্টি জাতীয় খাবার অনেকক্ষণ দেহে শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। সম্ভব হলে খিচুড়ি ও ভাত ভর্তা নেওয়া যেতে পারে।
বিশুদ্ধ খাবার পানি ও পানি-বিশোধন ট্যাবলেট
বন্যাকালে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করে। তাই উত্তম হচ্ছে বোতলজাত খাবার পানি নিয়ে যাওয়া। এর বিকল্প হিসেবে পানি-বিশোধন ট্যাবলেট বা ফিটকিরি নেওয়া যেতে পারে। এতে বিশেষ করে গৃহবন্দি মানুষেরা উপকৃত হবে, কেননা এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই পানি বিশুদ্ধ করে নিতে পারবে।
শিশুর খাবার ও পরিধেয়
নবজাতক থেকে শুরু করে বাড়ন্ত বয়সিসহ প্রতিটি শিশুই প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে বন্যার সময়। তাই অন্যান্য খাবার ও পানির সঙ্গে শিশুদের খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এই তালিকায় থাকতে পারে গুঁড়া দুধ, সিরিয়াল, ল্যাক্টোজেন, সুজি, জুস, প্যাকেট স্যুপ ও চিপ্স। এছাড়া ভেজা বা ঠান্ডা থেকে রক্ষা এবং অপরিষ্কারজনিত স্বাস্থ্য জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে শুকনো পোশাক ও প্যাম্পার্স নিতে হবে।
আরো পড়ুন: বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতা করার উপায়
ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম
পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ঠাণ্ডা লাগা বা জ্বর, কাশি ও মাথা ব্যথার ওষুধগুলো সংগ্রহে রাখতে হবে। বিশেষ করে এ সময়ের সাধারণ ব্যাধি ডায়রিয়ার জন্য স্যালাইন সঙ্গে রাখা আবশ্যক। নানা ধরনের ক্ষত নিরাময়ের জন্য দরকার হবে ব্যান্ডেজ ও স্যাভ্লনের মতো প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।
সাপ, মশা ও পোকামাকড় নিরোধক
প্লাবনের সময় সাপ, মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। সাপকে দূরে রাখার জন্য গাঁদা ফুল, কৃমি কাঠ, রসুন, লবঙ্গের তেল বা ভিনেগার নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মশা ও পোকামাকড়ের জন্য কয়েল, স্প্রে, ত্বকে লাগানোর লোশন ও কিলার ব্যাট নিতে হবে।
এগুলো সরবরাহের সময় অবশ্যই ব্যবহারের শর্তগুলোও জানিয়ে দেওয়া জরুরি। কারণ স্প্রে নবজাতকদের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া এ সময় গ্যাস পাইপ লিক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এর মাঝে কয়েল জ্বালাতে গেলে তা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে।
ভেজা অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় পরিধেয়
একদিকে মাথার ওপর দিনভর বৃষ্টি, অন্যদিকে নিচে বুক সমান পানি। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে ভেজা অবস্থায় থাকায় শরীর ব্যথা, ঠান্ডা, কাশি বা জ্বর দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় শুকনো পোশাক, ছাতা, ও রেইন কোট অনেক উপকারে আসতে পারে। এছাড়াও লাইফ জ্যাকেট এবং নারীদের জন্য স্যানিটারি প্যাড নেওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং মোবাইল সংরক্ষণের জন্য ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ বা ফোল্ডার, প্লাস্টিকের জিপার কিংবা নিদেনপক্ষে পলিথিন দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বেই যেসব খাবার সংরক্ষণ করা জরুরি
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী
বন্যার দূষিত পানি ও আর্দ্র পরিবেশে জন্ম নেওয়া জীবাণু থেকে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দরকার হবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ডিশ ওয়াশিং পাউডার বা ভীম বার।
ব্যাটারিসহ টর্চ লাইট
প্লাবনের আগ্রাসনে বিশাল এলাকা জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। সন্ধ্যার নামার পরে সেসব এলাকা হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। এক্ষেত্রে উপযুক্ত উপায় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত টর্চ লাইট ব্যবহার। মোমবাতি বা দেওয়াশলাই না ব্যবহার করাই ভালো। কারণ এ সময় গ্যাস পাইপ লিকেরও ভয় থাকে।
পশুর খাদ্য
বন্যা-দুর্গতদের মধ্যে একটা বিরাট অংশের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায় গবাদি পশু। অনেকেই তাদের গৃহস্থালি গরু বা ছাগল নিয়ে পানির মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এই পশুগুলোর জন্য আলাদাভাবে কিছু খাবার (যেমন ভুষি, লবণ, বা খৈল) সংগ্রহে রাখা উচিত।
এছাড়া রাস্তার কুকুর-বিড়ালও মানুষের মতোই বিপন্ন হয়ে আশ্রয় ও খাবারের সন্ধান করছে। তাই খাবার সরবরাহের সময় এদের দিকেও খেয়াল রাখা দরকার।
আরও পড়ুন: বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগ থেকে সতর্ক থাকার উপায়
৬৮৬ দিন আগে