অগ্নিকাণ্ড
বিহারে মন্দিরে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক, পদদলিত হয়ে নিহত ৭
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে আজ সোমবার পদদলনের ঘটনায় সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বিহারের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের তীর্থযাত্রীদের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরের কাছে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার হাজার হাজার ভক্ত প্রার্থনা করতে ওই মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রাবণ মাসটি শিবের উপাসনার জন্য উৎসর্গীকৃত এবং এ সময় উপবাস, প্রার্থনা ও বর্ষাকালীন বিভিন্ন উৎসব পালিত হয়।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু মানুষকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র কুমার। তিনি বলেন, পদদলনের কারণ এখনও তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে ভক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।
শৈলেন্দ্র কুমারের বরাতে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) খবরে বলা হয়, হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে আসা মানুষের চাপে ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে অনেকে পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়ে যান এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরনগরী তারাপীঠে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চারতলা একটি হোটেলের নিচতলায় আগুন লাগে। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে পিটিআই।
খবরে বলা হয়, হোটেলের অনেক অতিথিই তারাপীঠে প্রার্থনা করতে আসা তীর্থযাত্রী ছিলেন। সেখানে একটি বড় মন্দির কমপ্লেক্সে শিবের একটি মন্দিরও রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেখান থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, অন্যরা ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ ও শ্বাসরোধজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সংস্থাটিকে জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বৈদ্যুতিক উপাদানে আগুন লাগার পর অভ্যর্থনা এলাকার কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ধর্মীয় উৎসবের সময় ভারতে এ ধরনের পদদলনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ। বড় বড় ধর্মীয় সমাবেশে কখনো কখনো লাখ লাখ মানুষ সীমিত জায়গায় জড়ো হন, যেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে না।
গত বছরের জানুয়ারিতে মহাকুম্ভ উৎসবের সময় নদীতে স্নান করতে গিয়ে পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। মহাকুম্ভকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৩ সালে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রীরা একটি সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় পদদলিত হয়ে এবং নিচের নদীতে ডুবে অন্তত ১১৫ জন নিহত হন।
২ দিন আগে
বাগেরহাটে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক দগ্ধ
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল চত্বরে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক দগ্ধ হয়েছেন। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ায় হুড়োহুড়িতে রোগীসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে পাশে থাকা ৯টি মোটরসাইকেলও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের কাছে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
অগ্নিদগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদ হোসেনকে (৬৮) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগুনের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুল আলম এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে থাকা ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স বাগেরহাট জেলা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ফটকে আসে। তবে রোগী ওঠানোর আগেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে থাকেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সচালক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
৭ দিন আগে
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার সোফা কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর নিহত আরও ৩ জনের পরিচয় মিলেছে। এ নিয়ে ওই সোফা কারখানায় নিহত ১৬ জনের মধ্যে নওগাঁর ১৩ জনের পরিচয় মিলেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল (রবিাবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি এ ঘটনায় নিহত নওগাঁর ১০ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেন।
পরিচয় পাওয়া ১৩ জন নিহতের মধ্যে আত্রাই উপজেলার ১২ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজন প্রবাসী রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বোয়ালা গ্রামের মিনহাজুল ইসলাম, একই গ্রামের হৃদয় হোসেন ও নওগাঁ সদর উপজেলার পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার মজনুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ শাহিন হোসেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাচুপুর ইউনিয়নের পারকাসু্ন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন, বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদল হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন, ডুবাই গ্রামের সাগর হোসেন, চঞ্চল হাসানের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মাধবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মজিদুল ইসলাম, কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গোফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামানিক, জাননার হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন, ফজলু প্রামাণিকের ছেলে কলি উদ্দিন প্রামানিক এবং সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ। নিহতদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, নওগাঁর বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদের মানফুয়া এলাকার ওই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন তারা। রবিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের খোরদাম শহরের ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ অগ্নিদুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আত্রাই উপজেলার ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’
নিহতরা সবাই জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন। অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রবাসের মাটিতে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের দগ্ধ ৩
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৩ সদস্য গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সদর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
দগ্ধরা হলেন— মাইদুল (২৪), তার স্ত্রী বিউটি (২৪) ও তাদের ছেলে মারুফ (৮)। তারা সবাই নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার বাসিন্দা।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আজ (শুক্রবার) সকালে দগ্ধদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। তাদের তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে মাইদুলের শরীরের ৮৫ শতাংশ, বিউটির ৮০ শতাংশ ও মারুফের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১২ দিন আগে
সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
সাতক্ষীরা জেলা শহরের বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোরের অ্যাক্সিজেন লাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চেষ্টায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ হাসপাতালটির ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুর নেভানোর চেষ্টা করে। এ অবস্থায় হাসপাতালের রোগীদের বের করে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, ব্লিস হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোরের অ্যাক্সিজেন লাইন থেকে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। এরপর বিকেল তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের উদ্ধার করে আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
১৪ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত, ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন হাইকমিশনার
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের নিকটবর্তী সমো টাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং অপরজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সমো টাউনের একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং গুরুতর আহত বাংলাদেশি নাগরিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।
হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুইন্সটাউনের সমো টাউনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সফরকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন তার ইউনিয়নের বাসিন্দা।
তিনি বলেন, ‘খবরটি শুনে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের মধ্যে চারজন আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের ইউনিয়ন বক্তাবলীর এবং আরেকজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা। সবাই একে অপরের আত্মীয়।’
তবে এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো বার্তা পাইনি। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।’
একই তথ্য জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
২১ দিন আগে
সাভারে কেমিক্যাল গুদামে আগুন, আহত ৬
সাভারের হেমায়েতপুরে একটি কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্যসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৬ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকার শহিদুল্লা হাউজিংয়ের একটি ছয়তলা ভবনে থাকা ওই গুদামে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর আজ (সোমবার) সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কারখানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস অফিস সূত্র জানায়, কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগার পর স্থানীয়রা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তারা আরও জানায়, আগুন নেভানোর সময় গুদামে কেমিক্যালভর্তি ড্রামে ঘন ঘন বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্য ও ২ জন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলে— ফায়ার ফাইটার মো. শামীম, মো. উজ্জ্বল, মো. ওমর ফারুক, টিম লিডার মনোয়ার হোসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান ও জনি। গুরুতর আহত মশিউর রহমানকে (৪০) সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
সাভার ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মনোয়ার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। রাত ১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত একটানা চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, কেমিক্যাল গুদামে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুনের সময় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চার ফায়ার ফাইটার আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
২৩ দিন আগে
সাভারে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী
সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। ঘরে জমে থাকা গ্যাসে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পৌনে রাত তিনটার দিকে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধরা হলেন— কায়সার (২৮) ও তার স্ত্রী রুবি বেগম (২৪)।
দগ্ধ কায়সারের বাবা মো. সীমান শেখ জানান, সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় নূর মোহাম্মদের দুইতলা ভবনের নিচতলায় তার ছেলে কায়সার ও পুত্রবধূ রুবি বেগম ভাড়া থাকতেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টার দিকে তারা ঘরে মশার কয়েল জ্বালাতে দিয়াশলাই জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়লে তারা দুজনই গুরুতর দগ্ধ হন। পরে খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার রিয়াজউদ্দিন মাতোপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তারা সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড়ে মসজিদবাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। কায়সার ও তার স্ত্রী দুজনেই গার্মেন্টসকর্মী।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত রাতে সাভার এলাকা থেকে দগ্ধ এক দম্পতিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে কায়সারের শরীরের ১০০ শতাংশ ও তার স্ত্রী রুবির শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তারা দুজনই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২৫ দিন আগে
নরওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক বাড়ি ভস্মীভূত
নরওয়েতে স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ নরওয়ের ড্রামেন শহরের একটি টাউনহাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার (২১ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। শনিবার সকালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
নরওয়ের বেসামরিক সুরক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আধুনিক সময়ে এ ধরনের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড এটি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে শত শত মানুষকে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাসিন্দা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
৩১ দিন আগে
ব্যাংককের মিউজিক বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৩০
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আগুন লাগার কারণ এবং বারটি নিরাপত্তাবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত রবিবার গভীর রাতে থাই রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ‘রং বিয়ার না লাডফ্রাও’ বারে আগুন লাগে। ১৭ বছরের মধ্যে এটিই ব্যাংককের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগে।
থাই ভাষায় ব্রুয়ারি বা বিয়ার হল নামে পরিচিত এই বারটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আগুন লাগার সময় সেখানে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে বারটিতে আগুন লাগার কারণ এবং বারটি নিরাপত্তাবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতদের বেশিরভাগের মরদেহ জানালাবিহীন বাথরুমে পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, আগুন থেকে বাঁচতে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
৩৫ দিন আগে