অগ্নিকাণ্ড
বাড্ডায় ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি ফার্নিচারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক (মিডিয়া সেল) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের ইউনিট দুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আর প্রয়োজন না থাকায় পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়।
আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২ দিন আগে
ডিআর কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন, নিহত অন্তত ২২
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে অন্তত ২২ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক মেয়র শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কিনশাসার উত্তরে লিংওয়ালা পৌরসভায় একটি ভবনে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা শনিবার ভোর পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সরু করিডোরগুলোতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। পরে কয়েকজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাদের কেউ জীবিত, কেউ মৃত ছিল।
কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে লিংওয়ালার মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২২। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিআর কঙ্গোর উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’
কিনশাসার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব এলাকায় নগর উন্নয়নের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে এবং চলতি বছরও বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
২ দিন আগে
খুলনায় হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড
খুলনার হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে হোটেলের ৫ তলার দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষে আগুন ও ধোয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তারা সোনাডাঙ্গা থানাকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করে পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমজাদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থালে ছুটে আসি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত থেকে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকি। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। হোটেলের পঞ্চম তলার দক্ষিণ পাশের ওই কক্ষ যিনি ভাড়া নিয়েছিলেন, তার ব্যাগটি আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া আর কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, আমরা ৯টা ১০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাই। এরপর আমাদের ২টা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, হোটেলকক্ষের এসির ইনডোর থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহাতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর নিহত ৭ জনের জানাজা সম্পন্ন
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা করেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডোগোলী গ্রামের ৪ জন, বিষা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের একজন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের একজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজনকে বিকেলে গ্রামে গ্রামে জানালা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১১ দিন আগে
রাশিয়ার গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিহত, নিখোঁজ একজন
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে একজন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আজ শুক্রবার পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ জন কর্মী মারা যান।
নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা বাংলাদেশি কর্মী জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন। এ ছয়জনসহ গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোতে নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
দূতাবাস ইতোমধ্যে একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের পাশাপাশি রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
১১ দিন আগে
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে কাল
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশ পাঠানোর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪ টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর ৭ জন হলেন: আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার মার্কাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে আসতে পারে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ দেশে আসছে।
১৩ দিন আগে
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাজুর মরদেহ বাড়ি ফিরলেও রেবতি সরকারের মরদেহ দাহ হয়েছে ভারতে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুইজেনর মধ্যে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ (৪৫) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে এসেছে। তবে নিহত রেবতি সরকারের মরদেহ ভারতে সৎকার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গেল মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন সাজু। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে। এছাড়া একই ঘটনায় তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকারও (৩৭) নিহত হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারা উভয়ই চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। রাতে ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি ৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন সাতক্ষীরার। দুইদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তার করা হয়। এর মধ্যে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
রেবতি সরকারের দেবর সঞ্জয় সরকার জানান, তার ছেলেমেয়ে ভারতে অবস্থান করায় সেখানেই তার মরদেহ সৎকার করা হয়েছে।
ভোমরা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আজ (শনিবার) দুপুর ১২টার পর সাজুর মরদেহ তারা গ্রহণ করেছেন। মাজুর বাড়িতে জানাজা এবং দাফনের সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন নিহতের পরিবার।
১৭ দিন আগে
কলকাতায় নিহত ৫ জনের মরদেহ বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর বিকেলে
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করা হবে। উভয় দেশের দুতাবাসের সহযোগিতায় আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান।
বেনাপোল দিয়ে যাদের হস্তান্তর করা হবে, তারা হলেন: দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ও মোহিনী মিল এলাকার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত, তার শ্বশুর মো. আকরাম আলী ও ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু। তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।
গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুইজন ভারতীয় নাগরিক।
ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও ভারতের স্থানীয় প্রশাসন। আজ শনিবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাঁচজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে।
তবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতাতেই সৎকার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান জানান, কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মরদেহ দেশে আসার খবরে নিহতদের স্বজনরা গতকাল শুক্রবার থেকে বেনাপোলে অবস্থান করছেন।
১৭ দিন আগে
অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষের মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিল এডুকেয়ার স্কুল
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে একা হয়ে পড়েছে। সে কুষ্টিয়ার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। তার ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
গেল মঙ্গলবার মধ্যরাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের সাতজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) রয়েছেন।
এই দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে মহিমা এখন একা হয়ে পড়েছেন। ভারতে যাওয়ার আগে দেবাশীষ তার মেয়ে মহিমাকে কুষ্টিয়ায় ঠাকুরমা ও ঠাকুরদাদার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। এখন বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সেই ঠাকুরমা-ঠাকুরদাদাই তার একমাত্র আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তার এই কঠিন সময়ে মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে স্কুলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেলসহ শিক্ষকরা তার বাড়িতে যান। তারা মহিমার ঠাকুরমা-ঠাকুরদাদার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পড়াশোনার জন্য বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ‘মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বহন করবে। শুরু থেকেই যেন বাবা-মায়ের অভাবে সে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। সকালে আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি।’
মহিমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার ঠাকুরমা-ঠাকুরদাদাসহ পরিবারের সদস্য এবং দেবাশীষের সহকর্মীরা। তারা এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
এর আগে, বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা নিহত দেবাশীষের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা। মঙ্গলবার আত্মীয়স্বজনদের জন্য কেনাকাটা শেষে পরদিন বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যেই কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
একই দূর্ঘটনায় নিহত অন্য বাংলাদেশিরা হলেন: ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু (৪০) এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার।
এছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলো কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৯ দিন আগে
অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে যা যা করার আছে নিশ্চয়ই করব: দীনেশ ত্রিবেদী
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, তাদের ব্যাপারে যা যা করার আছে, তা নিশ্চয়ই করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাইকমিশনার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাই কমিশনার বলেন, ‘খুব দুঃখের কথা। এ ব্যাপারে যা যা করার আছে, আমরা নিশ্চয়ই করব।’
সেখানে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, ঘটনার তদন্ত করা হবে কি না—সাংবাদিকরা এসব বিষয় জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো উত্তর দেননি।
পরে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ। ভারতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ আমি ওঠাইনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়েছেন, এটা শুধু বলেছেন। তারা আশা করছেন তিনি যাবেন।’
১৯ দিন আগে