মানবতাবিরোধী অপরাধ
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় মঙ্গলবার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
১০ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধে এবার আসামি হচ্ছেন মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি জানান, এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি, বর্তমানে তা পর্যালোচনা চলছে। এরপর ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও আছেন সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
এর আগে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত শেখ হাসিনার মামলায় সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফাঁসি দেয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন শেখ হাসিনা।
৪৯ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আবেদন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যান তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়াস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
৬০ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫৯ জনের সাজা, ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড: আইনমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বাকি আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। অন্য ৫১টি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭৪ জন। পলাতক রয়েছেন ২৮৮ জন। এ ছাড়া একজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
৯৫ দিন আগে
মেনন-কামরুলের বিচার শুরু, নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় আজ (বৃহস্পতিবার) মেনন ও কামরুলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন শুরুতেই আসামিপক্ষের অব্যাহতি আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক। এরপর কাঠগড়ায় থাকা কামরুল ও মেননকে অভিযোগ স্বীকার করবেন কি না জিজ্ঞেস করা হয়।
এ সময় মেনন দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি নির্দোষ; ন্যায়বিচার চাই। অপরদিকে, এ অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন কামরুল। একইসঙ্গে তিনিও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
পরে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর এ মামলায় সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে আজ উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উসকানি দিয়েছেন কামরুল ও মেনন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। ফলে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জন নিহত হন।
১৪৭ দিন আগে
মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পেলেন খান আকরাম
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরামকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ।
এর আগে গতকাল একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া খান আকরাম হোসেনের আপিলের ওপর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
২০১৫ সালের ১১ আগস্ট এ মামলায় বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ও খান আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রায়ে বলা হয়, এই মামলার আসামি তিনজন। এর মধ্যে সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি এবং আকরামের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হয়েছে।
প্রমাণিত হওয়া পাঁচ অভিযোগেই সিরাজকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ফায়ারিং স্কোয়াডে বা ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
আর প্রমাণিত হওয়া এক অভিযোগে আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খান আকরাম হোসেন।
এ মামলার আরেক আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এরপর শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও আকরাম হোসেন আপিল বিভাগে আপিল করেন।
প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ জানান, আপিল বিচারাধীন অবস্থায় শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ মারা গেছেন। আর খান আকরামের আপিল মঞ্জুর করলে আপিল বিভাগ তাকে খালাস দিয়েছেন।
২১০ দিন আগে
একজন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তকে রক্ষা করতে পারবে না ভারত: শফিকুল আলম
ভারত যেন বিবেক ও নৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করে—এ আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে আর রক্ষা করার সুযোগ ভারতের নেই।
বুধবার (৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ভারতের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন বিবেক ও নৈতিক স্পষ্টতা নিয়ে কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের যে আইনগত অনুরোধ জানিয়ে আসছে, তা মেনে নিতে ভারত অস্বীকার করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থান আর গ্রহণযোগ্য নয়। আঞ্চলিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত হিসাব কিংবা কোনো রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—কোনো কিছুই বেসামরিক নাগরিকদের পরিকল্পিত হত্যার অজুহাত হতে পারে না।’
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে প্রেস সচিব বলেন, ‘যখন বিবিসির মতো একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধ উদ্ঘাটনে তাদের পূর্ণ তদন্ত সক্ষমতা কাজে লাগায়, তখন বিশ্বকে তা আমলে নিতেই হয়।’
তিনি জানান, বিবিসির ইনভেস্টিগেশন ইউনিট বিবিসি আই এরইমধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত অনুসন্ধানে যে অডিও প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, তা ২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভ দমন অভিযানে শেখ হাসিনার ভূমিকার ‘চূড়ান্ত সত্য’ প্রকাশ করেছে বলে উল্লেখ করেন শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে—এটি এক বিষয়; কিন্তু বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত, সম্পদসমৃদ্ধ এবং ফরেনসিক দক্ষতায় পারদর্শী বিবিসির মতো একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যখন স্বাধীনভাবে তদন্ত করে এসব অভিযোগ অকাট্যভাবে তুলে ধরে, তখন তা ভিন্ন মাত্রা পায়।’
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং, যা বিশ্বমানের অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা যাচাই করেছেন, তা প্রমাণ করে যে এ সহিংসতা ছিল না তাৎক্ষণিক বা দুর্ঘটনাবশত। এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, অনুমোদিত হত্যাকাণ্ড।’
তিনি বলেন, ‘এখন আর প্রমাণ শুধু গল্পনির্ভর বা পক্ষপাতদুষ্ট নয়। এটি ফরেনসিক, যাচাইযোগ্য এবং উপেক্ষা করার মতো নয়।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘যুক্তরাজ্য—যাদের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এসব বর্বরতা উন্মোচন করেছে—বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমরা চাই, ভারত এই মুহূর্তটির গুরুত্ব অনুধাবন করুক এবং ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাক।’
‘বাংলাদেশের মানুষ ন্যায়বিচার দাবি করে, আর ভুক্তভোগীরা প্রত্যাশা করে বিচারিক সমাপ্তি। বিশ্বকে এখন দেখাতে হবে, কোনো নেতা—তিনি যতই ক্ষমতাশালী হোন না কেন—আইনের ঊর্ধ্বে নন,’ বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
৪৪২ দিন আগে
আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন জামায়াত নেতা আজহার
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।
এ সময় আদালতে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
এর আগে, গত ২২ এপ্রিল আজহারুল ইসলামের করা রিভিউ আবেদন শুনানি ৬ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা-হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুসারে, রংপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ হাজার ২৫৬ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ এবং ১৩ নারীকে ধর্ষণের দায়ে তাকে ‘দোষী সাব্যস্ত’ করা হয়।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতা আজহারের আপিলের রায় মঙ্গলবার, খালাসের প্রত্যাশা আইনজীবীর
উল্লিখিত ৯টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারুল ইসলাম। শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর তা পুনর্বিবেচনা চেয়ে ওই বছরের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন আজহারুল ইসলাম। এরপর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ রিভিউ শুনে ফের আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত দেয়। এটিই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, যা রিভিউ পর্যায়ে আসার পর ফের আপিল শুনানির অনুমতি পায়।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে আজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই কারাগারে রয়েছেন এই জামায়াত নেতা।
৪৮৫ দিন আগে
হাসিনা যেখানেই থাকুক, তার বিচার হবে: প্রধান উপদেষ্টা
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘হাসিনা যেখানেই থাকুক না কেন; তার বিচার হবে।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। বুধবার (৫ মার্চ) তার এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে।
স্কাইনিউজের খবর বলছে, শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকাকালে বহু মানুষকে গুম করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার সরকারের বিরুদ্ধে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এসব ঘটনার বিচার হবে। কেবল তারই (শেখ হাসিনা) না, যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও—তার পরিবার সদস্য, অনুসারী ও সহযোগী।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গেল ৫ আগস্ট পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ‘আয়নাঘরের’ মতো গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা করতেন তিনি, যেখানে ভিন্নমতের লোকজনকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও হত্যা করা হতো।
আরও পড়ুন: 'বেওয়ারিশ লাশমুক্ত' মানবিক সমাজ গড়ার আহ্বান ড. ইউনূসের
‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ নামে তিনি এসব করতেন। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাকে ফেরত দিতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হলেও তার কোনো জবাব মেলেনি।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সশরীরে উপস্থিত থাকুক কিংবা ভারতে পালিয়ে থাকুক, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জোর দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। সম্প্রতি ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন জেলখানা পরিদর্শন করেছেন তিনি। সেখানে যা দেখেছেন, তা ‘ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য’ বলে বিবরণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
‘এটি ছিল খুবই বিভৎস দৃশ্য। না-দেখলে যা আপনি অনুভব কিংবা বিশ্বাস করতে পারবেন না,’ বলেন তিনি।
স্কাই নিউজের খবর বলছে, হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করেছেন তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। আট শতাধিকের মতো গোপন বন্দিশিবির নিয়ন্ত্রণ করা শেখ হাসিনার সহযোগীদের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
কী পরিমাণ লোক এতে জড়িত ছিল, তাদের শনাক্ত করতে সময় লাগছে জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এতে সবাই জড়িত ছিল, পুরো সরকার জড়িত ছিল। কাজেই কারা ইচ্ছাকৃত ও আগ্রহের সাথে এটা করেছে, কারা আদেশ মানতে বাধ্য হয়ে এটা করেছে এবং এসবে পুরোপুরি সমর্থন না দিয়েও চাপে পড়ে করেছে—তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
ভুক্তভোগীদের পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সেই প্রত্যাশার চাপ রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর। যাতে এই সরকার থাকতেই বিচার করা যায়; সেই চেষ্টা করছেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের কেউ সাজা পাবেন, কেউ বিচারাধীন থাকবেন, কেউ কেউ ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন।’
দেশের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূসকে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনার আমলের দুর্নীতির তদন্তও রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন এরইমধ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাদের মধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও আছেন, যিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নি।
ইউনূস সাক্ষাৎকারে বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘গুরুতর’। দেশে তার ‘বিপুল সম্পদসহ সবকিছুই’ খতিয়ে দেখা হবে।
আরও পড়ুন: জার্মানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চান ড. ইউনূস, ডিসেম্বরে হতে পারে নির্বাচন
বাংলাদেশে দুদকের তদন্তে নাম আসার পর লন্ডনে বেশ কয়েকটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলো টিউলিপ ও তার পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন।
এ নিয়ে ব্যাপক শোরগোলের মধ্যে গত জানুয়ারিতে সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ।
লন্ডনে তার একজন মুখপাত্র স্কাই নিউজকে বলেছেন, দুদক অভিযোগের বিষয়ে টিউলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আর তিনি সেসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৫৬৮ দিন আগে
আইসিসিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিচার চাইবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় 'গণহত্যা' এবং গুমের হাজার হাজার ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইসিসির প্রসিকিউটর করিম এ এ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে অধ্যাপক ইউনূস এ কথা বলেন।
আইসিসির প্রসিকিউটর বলেন, তারা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সহযোগিতা করতে চান। আদালতটি এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমার পরিস্থিতি, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক প্রচেষ্টা এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশেষ বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানকে সমর্থন করেন করিম খান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালে সম্মেলন আয়োজনে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, এই সম্মেলন থেকে সংকটের টেকসই সমাধানের নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনের স্থান, তারিখ এবং পদ্ধতিগুলোর বিষয়ে ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সম্মেলন রোহিঙ্গা সংকট, বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও তাদের ছোট শিশুদের দুর্দশার টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সকল অংশীজনদের এক টেবিলে নিয়ে আসবে।
ক্যাম্পে ভবিষ্যতের আশা ছাড়াই বেড়ে ওঠা তরুণদের কথা উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে এটি পরিব্যপ্ত না হয়।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল এবং মিয়ানমারের সর্বশেষ ঘটনাবলী বাংলাদেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন:জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা নিয়ে ইউনূস-আইসিসির আলোচনা
প্রধান উপদেষ্টা বাস্তুচ্যুত লোকদের সহায়তা এবং চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার তার সাম্প্রতিক আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘জোনের নিরাপত্তা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা উচিত। যুদ্ধ বন্ধ হলে নিরাপদ এলাকায় বসবাসকারী লোকজন সহজেই নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন।
প্রসিকিউটর প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন যে, তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণের বিষয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমার সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলিউর রহমান, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান প্রসিকিউটর খান ও তার আইসিসি প্রতিনিধিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।
রহমান বলেন, 'আইসিসি প্রতিষ্ঠার জন্য রোম সংবিধিতে প্রথম এশীয় সইকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং আমরা আগামী দিনগুলোতে আমাদের সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যাশায় রয়েছি।’
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু ও হামাসের নিহত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
৬৬৫ দিন আগে