পর্যটন খাত
জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা পর্যটনমন্ত্রীর
বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান মাত্র ৩ শতাংশ। একে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
সোমবার (৪ মে) জেলাপ্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহার দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। আর এ যাত্রায় জেলাপ্রশাসকগণ মাঠ পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আফরোজা খানম বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান মাত্র তিন শতাংশ। তিনি একে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৪২টি পর্যটন স্পট আছে। অর্থাৎ দেশের প্রত্যেকটি জেলায় পর্যটন স্পট রয়েছে। দেশের পর্যটনখাতের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। জেলাপ্রশাসকদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি যোগ করেন।
এ সময় মন্ত্রী মানিকগঞ্জে অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এবং তেওতা জমিদার বাড়িতে পর্যটক আকর্ষণে উন্নয়ন করার জন্য সম্মেলনে উপস্থিত সংস্কৃতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলাপ্রশাসকগণ নিজ নিজ জেলায় পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে পারেন। একটি নতুন পর্যটন স্পট, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ এবং সৃজনশীল উদ্যোগই পারে একটি জেলার অর্থনীতি বদলে দিতে। বাংলাদেশকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরার যাত্রা শুরু হবে তাদের হাত ধরেই।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
রাজনৈতিক অস্থিরতায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পর্যটন খাত
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশের পর্যটন খাতের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটাসহ দেশের বেশিরভাগ জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে দর্শনার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে।
দেশব্যাপী বিএনপি ও সমমনা বিরোধী দলগুলোর চলমান অবরোধ ও হরতালের কারণে ৯০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং বাতিল হয়ে যায়। একসময়ের ব্যস্ত হোটেল-মোটেলগুলো নজিরবিহীন শূ্ন্য হয়ে পড়েছে।
পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং বাতিল হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহে দেড় হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে।
হোটেল-মোটেল মালিকরা জানান, অক্টোবরের আগে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ প্রতিদিন বুকিং হতো।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পর্যটকদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে নেমে মাত্র ৫-১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই মূলত স্থানীয়। কুয়াকাটা ও সেন্টমার্টিনেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন: পর্যটন শিল্পের বিকাশে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি: সেমিনারে বক্তারা
হোটেল ও মোটেল মালিকরা তাদের কর্মচারীদের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কর্মী ছাঁটাই বাধ্য করে এবং বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংকট তৈরি করে।
কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, রাঙ্গামাটি ও কুয়াকাটার মতো পর্যটন স্পটগুলোতে এর প্রভাব নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশি।
তিনি বলেন, 'পর্যটন খাতের জন্য সংকটময় সময় এখন। নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বুকিং বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, সিলেট, রাতারগুল, জাফলং-তামাবিল, রাঙ্গামাটি ও পতেঙ্গা সৈকতে এই সময় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেগুলো এখন ফাঁকা।
তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনে তার একটি হোটেল থাকলেও এর ৯০ শতাংশ কক্ষ এখন খালি পড়ে আছে।
তিনি বলেন, 'পর্যটন মৌসুম সাধারণত অক্টোবরে শুরু হয় এবং নভেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে এই মাসে প্রায় খালি রয়েছে হোটেল ও মোটেল। অবরোধের কারণে বুকিং বাতিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদেশি পর্যটকদের জন্য আমাদের দেশের ভিসা পদ্ধতি সহজ করা উচিত: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ জানান, লাগাতার অবরোধের কারণে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল এখন খালি পড়ে আছে।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ রোড হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খান বলেন, দীর্ঘ অবরোধের কারণে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে।
পর্যটন খাতকে বাঁচাতে পর্যটকবাহী যানবাহন হরতাল ও অবরোধের আওতার বাইরে রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একই সুরে কথা বলেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণে যেতে চায় না। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিপুলসংখ্যক বুকিং বাতিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পর্যটন পরিকল্পনার বড় অংশ হচ্ছে চাঁদপুর আধুনিক নৌবন্দর: দীপু মনি
৯০২ দিন আগে
পর্যটন খাতের পুনর্জাগরণে স্থানীয় পর্যায়ে যেতে হবে: বিশেষজ্ঞরা
কোভিড মহামারি বিশ্বব্যাপী পর্যটন এবং হোটেল ব্যবসা খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে সঠিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এর প্রভাব উল্টে দিতে পারে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
১৯৪০ দিন আগে
বিশ্ব বাণিজ্যকে সুসংহত করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম শুক্রবার বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সহায়তায় এশিয়া সহযোগিতা সংলাপের (এসিডি) অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে টেকসই এবং স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বিশ্ব বাণিজ্যকে আরও সুসংহত করতে হবে।
১৯৪১ দিন আগে
‘ট্যুর ফর সোশ্যাল গুডস’ পর্যটন খাতকে জাগিয়ে তুলবে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী
নিরাপদ ভ্রমণ প্রচারের মাধ্যমে ‘ট্যুর ফর সোশ্যাল গুডস’ পর্যটন খাতকে জাগিয়ে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
১৯৭৫ দিন আগে
জলবায়ুবান্ধব পর্যটন খাত পুনর্নির্মাণের আহ্বান জাতিসংঘ প্রধানের
পর্যটন খাতকে ‘বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত’ হিসেবে অভিহিত করে এর স্থিতিশীল ও কার্বন-নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই ও সবুজায়ন বিকাশে প্রত্যেকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস।
২০৯১ দিন আগে