ঈদ
ঈদের প্রধান জামাতে ফিলিস্তিন-ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া
ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ-জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজের পর খুতবা শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আবদুল মালেক।
জামাতে নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঢাকাস্থ বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিকসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
জামাত শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়।
পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে মহামারি হামের ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে সবার গুনাহ মাফ ও মৃতব্যক্তির কবরের আজাব মাফ চাওয়া হয়েছে। বিশ্বশান্তির জন্য দোয়া করা হয়।
এর আগে, জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের খুতবায় ‘মনের পশুকে জবাই’ করার আহ্বান জানিয়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আবদুল মালেক।
এবার জাতীয় ঈদগাহের ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করা হয়। নারীদের জন্য রাখা হয় আলাদা প্রবেশপথ, ওজুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাতার রাখা হয়েছিল। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।
সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য জায়গা রাখা হয়েছিল। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের জায়গার ব্যবস্থা করা হয়।
২ দিন আগে
ঈদে সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। অতীত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ‘ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ঈদের সাত দিন আগে থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত দেশের মহাসড়ক, পশুর হাট, যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ সব এক্সপ্রেসওয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকবে। পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি যেসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা কম হয়েছে। যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগই অসচেতনতা ও ব্যক্তিগত গাফিলতির ফল। নওগাঁয় লোহার রডবাহী ট্রাকে ছাদে যাত্রী বহনের ঘটনায় দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাড়া বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সময় নিরাপদ যাতায়াতে জনগণকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমোদনহীন কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি মিরপুরে মেট্রোরেল লাইনের নিচে বসা একটি অবৈধ পশুর হাট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে বিভিন্ন পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ তৈরির অপচেষ্টা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ওই এলাকায় পুলিশ অ্যাকাডেমি, র্যাব অ্যাকাডেমি, পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং কারাগারসহ সমন্বিত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ম্যানুয়াল টোল আদায়ের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে ডিজিটাল অটোমেশন চালুর জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হবে। গাড়িতে কার্ডভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় পদ্ধতি চালু এবং ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
সাভারে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আহ্বান করে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক চক্র ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
উচ্চ হাসিল ও রাখার বিড়ম্বনায় খামারমুখী কুমিল্লার ক্রেতারা
গরুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল, নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত ও পশু রাখার বিড়ম্বনা এড়াতে খামারমুখী হচ্ছেন কুমিল্লা নগরীর কোরবানিদাতারা। খামার মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরাসরি খামারে গিয়ে কোরবানির পশু কেনার এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
সরেজমিনে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কমলাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা-সুয়াগাজী সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ‘ফরিদ অ্যাগ্রো ফার্ম’। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে এখানে গরু পালন করা হচ্ছে। খামারটিতে বর্তমানে বিক্রির উপযোগী প্রায় ৩০টি গরু রয়েছে, যার সবগুলোই দেশি শাহীওয়াল জাতের।
এই খামারটিতে ৩ লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজাবাবু’। ১ হাজার কেজিরও বেশি ওজনের এই গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। মূলত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু পালন ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে খামারটি সহজেই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
ফরিদ অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক খালেদ মনসুর ইমন বলেন, নগরীর বাসা-বাড়িতে গরু রাখা ও খাবারের ব্যবস্থা করা বেশ কঠিন। এই ঝক্কি এড়াতেই ক্রেতারা খামারের দিকে ঝুঁকছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে কোনো গরু ঈদের আগের দিন, আবার কোনোটি ঈদের দিন বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে জেএইচ অ্যাগ্রো পার্কের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক লিটু বলেন, সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলায় আমাদের খামার। গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের খামার থেকে গরু বিক্রি অনেক বেড়েছে। এর প্রধান দুটি কারণ হতে পারে—প্রথমত, কোরবানির আগে পশু রাখার সমস্যা এবং দ্বিতীয়ত, খামারে সুস্থ ও রোগমুক্ত পশুর শতভাগ নিশ্চয়তা।
সরাসরি খামার থেকে পশু কেনা কুমিল্লা ক্লাবের সেক্রেটারি আহমেদ শোয়েব সোহেল নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটে গিয়ে দেখেশুনে পশু কিনতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। অনেক সময় হাটে অসুস্থ পশুও গছিয়ে দেওয়া হয়। এর বাইরে শহর এলাকায় গরু এনে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের একটা বড় সমস্যা তো আছেই। তাই ঝামেলার অবসান ঘটাতে একটি খামার থেকে আগেভাগেই পশু কিনে রেখেছি। তারা ঈদের দিন সকালে সরাসরি আমার বাসায় গরু পৌঁছে দেবে।’
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন জানান, পশুর হাটে যাতে কোনোভাবেই অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি হতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। এবার জেলার চার শতাধিক হাটে মোট ৮৫টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
হাটের অতিরিক্ত ভিড় ও কোলাহল এড়াতে সৌখিন ক্রেতারা সরাসরি খামার থেকে পশু ক্রয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাল নোটের কারবার প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও মহাসড়কের পাশে কোনো পশুর হাট না বসাতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাটে নির্ধারিত মূল্যের বেশি হাসিল আদায় করা যাবে না। কেউ এই নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
ঈদে হাসপাতালগুলোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ নির্দেশনা
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি চলাকালীন দেশের হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটিকালে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে এ নির্দেশনা জারি করেছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটার, ল্যাব, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।
ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে জনবলকে ছুটি দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জনস্বার্থ ও জরুরি চিকিৎসাসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবাও চালু রাখতে হবে।
বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল ও বিকালে দুই বেলা রাউন্ড দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ছুটি শুরুর আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্টোর কিপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফকে নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখা, হাসপাতালের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগাম চিঠি দিয়ে অবহিত করা এবং অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন। ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
বহিঃবিভাগ একটানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ২৬ মে ও ৩০ মে হাসপাতাল চালু রাখা যেতে পারে এবং এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ ও হাম ওয়ার্ড চালু রাখতে বলা হয়েছে। রোগী স্থানান্তরের (রেফার) আগে প্রাথমিক ও যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং এসব রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পশুর হাটসংলগ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমে জানাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১১ দিন আগে
ঈদের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত
ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার খুলেছে সরকারি অফিস ও আদালত। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ছুটি শুরু হয়েছিল।
রমজানে সরকারি অফিস ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। তবে আজ (২৪ মার্চ) থেকে রমজানের আগের সময় অনুযায়ী, অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে অফিস, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
মঙ্গলবার অফিস ছাড়াও উচ্চ ও নিম্ন আদালত, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারবাজার খুলেছে।
গত ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয় টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। গত ১৬ মার্চ ছিল ঈদুল ফিতরের আগে শেষ কর্মদিবস।
১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি এবং ঈদের ৫ দিনের ছুটির মাঝখানে ১৮ মার্চ এক দিন অফিস খোলা ছিল। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এতে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি পান সরকারি চাকরিজীবীরা। আর গণমাধ্যমকর্মীরা ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি পেয়েছিলেন পাঁচ দিন।
গ্রামের বাড়িতে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রেল, সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ছেড়েছেন অসংখ্য মানুষ। কর্মজীবী মানুষ ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন। এতে করে রাজধানীর লঞ্চ, রেল ও বাসস্টেশনে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে।
তবে মঙ্গল ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অফিস খোলা থাকার পর বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। এর পর শুক্র ও শনিবার (২৭ ও ২৮ মার্চ) আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী একেবারে ২৯ মার্চ (রোববার) থেকে অফিস শুরু করবেন। তাই আপাতত অফিস খুললেও উপস্থিতি থাকতে পারে অনেকটাই কম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাভাবিকভাবে অফিস চলবে মূলত আগামী সপ্তাহ থেকে।
৬৭ দিন আগে
ঈদে খাগড়াছড়ির বিনোদনকেন্দ্রে স্থানীয়দের ভিড়, পর্যটক উপস্থিতি কম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও বহিরাগত পর্যটকদের সংখ্যা অন্য বছরের তুলনায় এবার কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে। পাহাড়, মেঘ আর ঝরনায় ঘেরা এই জনপদে ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই স্থানীয়দের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আলুটিলা, হর্টিকালচার পার্ক ও রিসাং ঝরনাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেককে ঘুরতে দেখা গেছে। ঈদের দিন থেকেই এসব স্থানে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়, তবে ভিড়ের বড় অংশই ছিল স্থানীয় বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির হোটেল ও রিসোর্টগুলোর ওপর। গত বছরগুলোর তুলনায় এবার হোটেল-রিসোর্টে বুকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
তবে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখনও আশাবাদী। তারা মনে করছেন, পর্যটকরা সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করতে পারেন। ফলে ছুটির শেষ দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
৬৯ দিন আগে
ঈদের নামাজের স্থান নিয়ে কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষ, আহত ১৩
ঈদের নামাজ মসজিদে হবে নাকি ঈদগাহ মাঠে—এ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষের কারণে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—রুবেল হোসেন (৩০), গফুর (৪০), আলম (৪৫), শাকিল (২৫), রিপন (২৬), সরোয়ার (৪৫), আশরাফুল (৩৫), শাহিন (৩৫), জিয়া (৩৭), মুসা (৪৫), মন্টু (৫৫), জুয়েল (২৭) ও ফিরোজা খাতুন (৩৩)। তারা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর চরে অবস্থিত এই গ্রামে প্রায় ১২০টি পরিবারে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের জন্য একটি জামে মসজিদ ও একটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ কমিটি সকাল সাড়ে ৮টার পরিবর্তে সাড়ে ৯টায় জামাত নির্ধারণ করে।
এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একপক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে অপরপক্ষ তাদের ঈদগাহে যাওয়ার আহ্বান জানায়। এ সময় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
সংঘর্ষে আহত রুবেল হোসেন অভিযোগ করেন, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তার মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল বলেন, মসজিদে নামাজ শেষে খুতবা চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি, তার বাবা ও স্বজনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত কয়েকজনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা গেছে, যাদের হাত, মুখ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এরপর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, ‘নামাজ নিয়ে রাস্তায় মারামারির পর আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।’ অন্যদিকে ছারা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলের অটোরিকশা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের কারণে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নামাজের স্থান নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নামাজ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।’
ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করা হলেও একপক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে প্রায় ৪৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নামাজের স্থান নিয়ে বিরোধে দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
৭০ দিন আগে
পাঁচ লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে শোলাকিয়ায় উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত
প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত।
নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই হয়েছে ঈদের জামাত। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
এবারের ঈদ জামাতে বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলমসহ কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ ও জেলা প্রশাসক এবং মাঠ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা মাঠে নামাজ আদায় করেন।
আগত মুসল্লিদের প্রত্যেককে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করানো হয়। জেলার স্থানীয় মুসল্লিসহ দেশ-বিদেশের পাঁচ লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগেই পুরো মাঠটি মুসল্লিতে ভরে যায়। পরবর্তীতে আগত মুসল্লিরা মাঠে জায়গা না পেয়ে পাশের রাস্তায়, বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনায় নামাজ আদায় করেন।
এ সময় নিরাপত্তার জন্য ১১০০ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। সেই সঙ্গে ছিল সেনাবাহিনী ৪ প্লাটুন, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবিসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা। মাঠের ভেতরে নির্মিত ৬টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিকক নজরদারি করে পুলিশ প্রসাশন।
এই জামাতে অংশ নেওয়ার সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি স্পেশাল ট্রেন দিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে মুসল্লিদের সংকেত দিতে শটগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। ৩টি গুলি করা হয় জামাত শুরুর ৫ মিনিটি আগে, ২টি ২মিনিট আগে এবং শেষটি জামাত শুরুর ১ মিনিট আগে।
৭০ দিন আগে
রাতভর বৃষ্টিতে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গোর এ শহীদ ময়দানে লাখো মুসল্লির ঢল
দিনাজপুরের গোর এ শহীদ বড় ময়দানে প্রায় লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে আদায় করা হয়েছে ঈদুল ফিতরের নামাজ।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তর এই ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে ছুটে আসেন আশপাশেরসহ দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা।
নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমি। অংশ নেন স্থানীয় এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
ঈদের নামাজ উপলক্ষে ময়দান ও আশপাশজুড়ে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। গতরাতে দিনাজপুরে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সঙ্গে ঝড়ো বাতাসের কারণে আজ সকালে নামাজ আদায় নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন মুসল্লিরা। সকালেও মাঠজুড়ে ছিল বৃষ্টির পানি। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি শুকিয়ে যায় মাঠে জমে থাকা পানি স্তরও।
প্রতিকূল আবহাওয়ার পরেও বৃহৎ এই জামাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি মুসল্লিরা।
৭০ দিন আগে
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশবাসীর সহযোগিতা থাকলে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে সরকার।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুবছর পর দেশের মাটিতে দেশের মানুষের সঙ্গে স্বপরিবারে ঈদ করতে পারায় আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি বলেন, এবার যেমন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও দেশবাসী আরও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
এ সময় তিনি ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, এই ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
দেশবাসীর সহযোগিতা থাকলে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন প্রথমে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রায় বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে এ কর্মসূচি।
এ সময় তিনি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর আগে, সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে অংশ নেন তারা।
এই জামাতকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই ঈদগাহ ময়দান মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এখানে জড়ো হন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদগাহে পৌঁছান। এসময় পুরো এলাকা জুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।
ঈদের এই প্রধান জামাতে আরও অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয় এবং দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত।
মোনাজাত শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান। পরে তারা নিজ নিজ বাসভবনের উদ্দেশে ঈদগাহ ত্যাগ করেন।
৭০ দিন আগে