বিচারবহির্ভূত হত্যা
ছয় মাসে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স দেখিয়েছি। এটি প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া পুলিশ কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে—এমন অভিযোগও নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মার্কিন সংবিধান দিবস ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যা ও প্রায় ৭০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরে মার্কিন সংবিধানের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জনগণকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়নের পথ দেখানোর জন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
দুই দেশের সংবিধানেই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিগুলো রয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, মার্কিন সংবিধান গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মাধ্যমে গৃহীত, অনুমোদিত ও কার্যকর করা হয়েছিল। আমাদের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার কিছু মার্কিন সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবিধান দিবসে উপলক্ষে ঢাবির সিনেট হলে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান, প্যানেল আলোচনা, রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, কীভাবে অব্যাহত বিতর্ক, ঐকমত্যে পৌঁছানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবিধানে নতুন সংশোধনী যুক্ত করার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি দৃঢ় ও টেকসই ভিত্তি পেয়েছে, যা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল হক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
যাতে মানুষ আর বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার না হন: আলী রীয়াজ
এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যাতে মানুষ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) সংসদ ভবনস্থ এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলোচনার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আলোচনার সূচনায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বীর শহীদদের আত্মত্যাগে আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের এই বীর শহীদদের কাছে ঋণ আছে। যে সুযোগ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে তৈরি হয়েছে, তা যেন লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করার কথা উল্লেখ করে আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় সনদে উপনীত হতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বা কোনো নিপীড়নের শিকার না হন।’
‘রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, তা কেবল সরকারের উদ্যোগ নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার ফল,’ বলেন তিনি।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের তাগিদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এসেছে, ছাত্রসমাজের কাছ থেকে এসেছে এবং সর্বোপরি দেশের সকল স্তরের মানুষের কাছ থেকে এসেছে।
আলোচনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদলে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান, এহসান মাহবুব যোবায়ের, সাইফুল আলম খান মিলন, মতিউর রহমান আকন্দ, নুরুল ইসলাম বুলবুল, শিশির মোহাম্মদ মনির ও সরকার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কোনো পরিস্থিতিতেই সংস্কারের সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়: আলী রীয়াজ
উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট মতামত জানাতে অনুরোধ করে সুপারিশগুলোর স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়।
ইতোমধ্যে সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৫টি দলের কাছ থেকে মতামত পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এ পর্যন্ত ১৭টি রাজনৈতিক দল কমিশনের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন হতে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
৫১৬ দিন আগে
‘বিচারবহির্ভূত হত্যার’ কড়া সমালোচনায় বিএনপির ২ এমপি
চলমান ‘বিচারবহির্ভূত’ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সোমবার সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির দুই সংসদ সদস্য।
২২০৮ দিন আগে