বিচারবহির্ভূত হত্যা
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব বিষয় জেনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর সরকার সফলভাবে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করছে, তদন্ত পরিচালনা করছে এবং বিচার নিশ্চিত করছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা কিংবা হেফাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে একই দিনে নৌ পুলিশ জানায়, ঢাকার তুরাগ নদী থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
ফিরোজ উদ্দিন জানান, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহিনুর জামান জানান, বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। বিষয়টি নৌ পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি নিয়ে গেছেন।
নৌ পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় তাহসিফ সাউরির পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো শার্ট। তার হাতে একটি হাতঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
৬ দিন আগে
বিএনপি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করবে না: ডা. জাহেদ
বিএনপি গত ১৭ বছর গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং সরকার গঠনের পরও সেই অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, কোনো রাষ্ট্র বা সরকার যদি কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটি আর রাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করে না। এটি খুন, যা যেকোনো মানুষই করতে পারে। একটি রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্র হয়ে ওঠে তখনই, যখন সে বিচার করার ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
কোনো গণতান্ত্রিক সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। কিন্তু কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে বিচারব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া যায়। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুযোগ নেই।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, পাঁচ বছর পর রাতের ভোট বা ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার কোনো উদ্দেশ্য এই সরকারের নেই। তাই সরকার এমন কোনো কাজ করবে না, যাতে তার ক্ষতি হয়। বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনায় মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার করা হবে বলে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইজিপি তার পরবর্তী বক্তব্যে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং আগের অবস্থানে অনড় থাকেননি। এছাড়া সাংবাদিকদের বিষয়ে তার বক্তব্যে যে সাধারণীকরণ ও গুরুতর অভিযোগ ছিল, সেখান থেকেও তিনি সরে এসেছেন। তাই তার মতে এটা নিয়ে আর কথা বলা উচিত হবে না।
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে তাকে পদে থাকার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের বিবেচনার। তবে তার মতে, আইজিপি আগের বক্তব্যে অনড় থাকলে সমস্যা হতো।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে বেআইনি কাজের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা করতে বাধ্য নন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে আসতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী হওয়ার কথা জানিয়ে ফেসবুক লাইভ করায় এক নারী উদ্যোক্তাকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই নারী উদ্যোক্তার বক্তব্যের কারণে যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের অবস্থান সঠিক বলে তিনি মনে করেন না।
তবে মানুষের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আরও অনেক ব্যক্তি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই ধরনের বক্তব্য আসলে দেওয়া যেতেই পারে।
আদালতে পাঠানোর পরের বিষয়গুলো বিচার বিভাগের এখতিয়ার উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আদালত সরকার নয়। আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার জবাবদিহি সরকার করবে না। তবে সরকারের দায়িত্ব হলো, পুলিশের তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে হয়, তা নিশ্চিত করা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্তে ওই নারীর বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না। কারণ ওই বক্তব্যে অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে তিনি ইঙ্গিত পেয়েছেন।
রংপুরের পীরগঞ্জে তিনটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান জানান, ঘটনাটি তার নজরে আসেনি। তবে সেখানে পুলিশ মোতায়েন ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রপন্থি কিছু মানুষের আস্ফালনের প্রবণতা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ প্রবণতা বেড়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে থেকে বিচারের বাইরে থাকবেন, এটা হতে পারে না। আমি আপনাকে এটা নিশ্চিত করছি।’
তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশে নিরাপদে বসবাস করতে চান। রাজনৈতিক দলের হাতে দেশের দায়িত্ব থাকলে তাদের কাছেও মানুষের প্রত্যাশা থাকে। বিএনপিকে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
৮ দিন আগে
ছয় মাসে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স দেখিয়েছি। এটি প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া পুলিশ কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে—এমন অভিযোগও নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মার্কিন সংবিধান দিবস ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যা ও প্রায় ৭০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরে মার্কিন সংবিধানের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জনগণকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়নের পথ দেখানোর জন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
দুই দেশের সংবিধানেই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিগুলো রয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, মার্কিন সংবিধান গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মাধ্যমে গৃহীত, অনুমোদিত ও কার্যকর করা হয়েছিল। আমাদের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার কিছু মার্কিন সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবিধান দিবসে উপলক্ষে ঢাবির সিনেট হলে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান, প্যানেল আলোচনা, রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, কীভাবে অব্যাহত বিতর্ক, ঐকমত্যে পৌঁছানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবিধানে নতুন সংশোধনী যুক্ত করার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি দৃঢ় ও টেকসই ভিত্তি পেয়েছে, যা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল হক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৮ দিন আগে
যাতে মানুষ আর বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার না হন: আলী রীয়াজ
এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যাতে মানুষ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) সংসদ ভবনস্থ এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলোচনার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আলোচনার সূচনায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বীর শহীদদের আত্মত্যাগে আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের এই বীর শহীদদের কাছে ঋণ আছে। যে সুযোগ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে তৈরি হয়েছে, তা যেন লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করার কথা উল্লেখ করে আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় সনদে উপনীত হতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বা কোনো নিপীড়নের শিকার না হন।’
‘রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, তা কেবল সরকারের উদ্যোগ নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার ফল,’ বলেন তিনি।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের তাগিদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে এসেছে, ছাত্রসমাজের কাছ থেকে এসেছে এবং সর্বোপরি দেশের সকল স্তরের মানুষের কাছ থেকে এসেছে।
আলোচনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদলে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান, এহসান মাহবুব যোবায়ের, সাইফুল আলম খান মিলন, মতিউর রহমান আকন্দ, নুরুল ইসলাম বুলবুল, শিশির মোহাম্মদ মনির ও সরকার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কোনো পরিস্থিতিতেই সংস্কারের সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়: আলী রীয়াজ
উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট মতামত জানাতে অনুরোধ করে সুপারিশগুলোর স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়।
ইতোমধ্যে সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৫টি দলের কাছ থেকে মতামত পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এ পর্যন্ত ১৭টি রাজনৈতিক দল কমিশনের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন হতে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
৫৫৭ দিন আগে
‘বিচারবহির্ভূত হত্যার’ কড়া সমালোচনায় বিএনপির ২ এমপি
চলমান ‘বিচারবহির্ভূত’ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সোমবার সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির দুই সংসদ সদস্য।
২২৪৯ দিন আগে