চাল
বদরগঞ্জে গুদামে নষ্ট হচ্ছে জব্দ হওয়া চাল, ব্যবস্থা নিতে খাদ্য বিভাগের ‘টালবাহানা’
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রায় এক বছর আগে জব্দ করা সরকারি সিলমোহরযুক্ত ১৮৩ বস্তা চাল গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একাধিকবার অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর করেনি খাদ্য বিভাগ। পাঁচ মাস আগে তৎকালীন ইউএনও বদলি হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায়। এদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সরকারি গুদামে অবাধ যাতায়াত এবং চাল রদবদলের নতুন অভিযোগে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জানা গেছে, গত বছরের ২০ মে বদরগঞ্জ সরকারি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে ট্রলিযোগে ১৫৬ বস্তা চাল পাচার করে মধুপুর ইউনিয়নের বোর্ডঘরা এলাকার চাল ব্যবসায়ী বাপ্পী সাহার গদিতে নেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় গদিঘরের উঠানে ট্রলিভর্তি চাল আটক করেন স্থানীয় ছাত্র সমন্বয়ক ও এলাকাবাসী। খবর পেয়ে তৎকালীন ইউএনও মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি সিলমোহরযুক্ত ১৫৩ বস্তা চাল জব্দ করেন।
পরদিন আবারও অভিযান চালিয়ে ওই গদিঘর থেকে আরও ২৭ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়। দুই দিনে জব্দ করা মোট ১৮৩ বস্তা চাল পুনরায় সরকারি গুদামে জমা রাখা হয়। তবে দীর্ঘদিনেও মামলা না হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী।
খাদ্য বিভাগের রহস্যজনক ভূমিকা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন চালকল মালিকের অভিযোগ, চাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা হলে গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকও ফেঁসে যেতে পারেন। মূলত নিজেদের রক্ষা করতেই খাদ্য বিভাগ মামলা করতে টালবাহানা করছে।
তারা আরও জানান, ওই ব্যবসায়ীর দোকান গুদামের পাশেই হওয়ায় তিনি অধিকাংশ সময় গুদামেই অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে, গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার মাধ্যমে গুদামের ভালো চাল বাইরে পাচার করে নিম্নমানের চাল ঢোকাচ্ছেন। এ কারণে ওই ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।
অভিযুক্ত ও কর্মকর্তারা যা বলছেন
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বাপ্পী সাহা অবশ্য দাবি করেছেন, চালগুলো তার নিজের কেনা। তৎকালীন ইউএনও তার কোনো কথা না শুনেই চালগুলো জব্দ করে গুদামে নিয়ে গেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বদরগঞ্জ সরকারি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) রায়হান কবির বলেন, ‘চালগুলো প্রায় এক বছর ধরে গুদামে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। মামলা না হওয়ায় এর কোনো সুরাহা করা যাচ্ছে না।’ তবে ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্যতা বা চাল রদবদলের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিং বলেন, ‘ইউএনও মামলা করতে বললেও চালগুলো বাস্তবে ওই ব্যবসায়ীর কেনা ছিল। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি।’
প্রশাসনের অবস্থান
তৎকালীন ইউএনও মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ‘সরকারি সিলমোহরযুক্ত বস্তা জব্দ করার পর আমি খাদ্য নিয়ন্ত্রককে মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলাম। চালগুলো ব্যক্তিগত নাকি সরকারের, তা আদালতেই প্রমাণিত হতো। কিন্তু খাদ্য নিয়ন্ত্রক কেন মামলা করেননি, তা আমার বোধগম্য নয়।’
বর্তমান ইউএনও আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘আমি এখানে যোগ দেওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিলাম না। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, তিনি জেলায় নতুন এসেছেন এবং বিষয়টি তার জানা নেই। তবে দ্রুতই খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
৪ দিন আগে
১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার, মূল্য নির্ধারণ
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এরমধ্যে ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল, ৫ লাখ টন ধান ও এক লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ মেয়াদে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকিউরমেন্টের জন্য ধান ও চাল সংগ্রহ এবং গম সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের চাহিদার বিপরীতে কী এবং আমাদের লক্ষ্যমাত্রা কী এবং আমরা কী পরিমাণ মজুদ রাখব, কী পরিমাণ নিরাপত্তা মজুদ এবং কী পরিমাণ আমদানি করব—এগুলো এবং তার মূল্য নির্ধারণ, এ সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বোরো ধান ক্রয়ের জন্য আমরা কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দাম নির্ধারণ করেছি, যেটা পূর্বের দাম অর্থাৎ আগে যেভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল তেমনই। সেদ্ধ চালের ক্ষেত্রে ৪৯ টাকা কেজি প্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটাও আগের মতো। আতপ চালের ক্ষেত্রেও তাই, ৪৮ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া গমের কেজি প্রতি আমরা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছি ৩৬ টাকা।
বোরো ধান, চাল ও গম কেনার লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চলতি বছরে বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন, সেদ্ধ চাল ১২ লাখ টন, আতপ চাল ১ লাখ টন ও গম ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৩ মে থেকে ধান ও ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
গম সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে গমের ক্ষেত্রে আমরা প্রকিউরমেন্টটা কখনও সফলভাবে এখানে করতে পারি না। কারণ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টনের মতো হলেও কৃষকরা সাধারণত সরকারের কাছে গম বিক্রি করতে আগ্রহী হন না। দেশের মোট গমের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন, যার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গমের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনটা বাদ দিলে এই প্রায় ৭০-৭২ লাখ টনই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে সরকার ৮ লাখ টনের মতো আমদানি করে, সেটা সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) এবং কোনো কোনো সময় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের ১৭-১৮ লাখ টন চাল মজুদ আছে। এর বাইরেও আমরা এ বছর আরও বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করব বলে আশা করছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বোধ হয় ২৪-২৫ লাখ টন। সে হিসেবে আমাদের এখন মজুদ আছে ১৭-১৮ লাখ টন। এখন আমরা ৫ লাখ টন এই বোরো মৌসুমে প্রকিউর করব এবং সেটা চাহিদা অনুসারে, সময় অনুসারে, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুসারে আমরা সেটা বৃদ্ধি করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।
২৫ দিন আগে
আমদানির বর্ধিত সময়ে বেনাপোল দিয়ে এসেছে ১২৫৯ টন চাল
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সরকারঘোষিত বর্ধিত মেয়াদের ৪০ দিনের মধ্যে তিন কার্যদিবসে ৬টি চালানে মোট ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। সরকারঘোষিত বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পর আমদানি করা এসব চালের চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
গত ১১ মার্চ থেকে সোমবার (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩ কার্য দিবসে এ চাল ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
এসব চালের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ও লাইবা ওভারসিস। আমদানি করা চাল বন্দর থেকে ছাড়করণের জন্য কাজ করেছে মেসার্স রাতুল ইন্টারন্যাশনাল।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চাল আমদানির পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ায় এবং দেশের বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার পুনরায় চাল আমদানির সময় বাড়ায়। গত ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪০ দিন এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এর মধ্যে মাত্র ৩ দিনে ৬টি চালানের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৯ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৫ হাজার ৫ টন।
ওই সময়ে গত ১৮ জানুয়ারি ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১০ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে চাল আমদানি ফলপ্রসূ না হওয়ায় পুনরায় ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল ৪০ দিন সময় বৃদ্ধি করে। এবারও চাল আমদানিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে সোমবার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সময় বৃদ্ধির আর কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিটন হোসেন বলেন, বর্ধিত ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র তিন দিনে ভারত থেকে ৩৪ ট্রাকে ১ হাজার ২৫৯ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, আমদানিকৃত চালের চালানগুলো বন্দর থেকে ইতোমধ্যে খালাস নেওয়া হয়েছে।
২৫ দিন আগে
বোরো মৌসুমে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার
আসন্ন বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার(৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ( এফপিএমসি) কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাড়ে তিন লাখ টন ধান ও ১৪ লাখ টন চাল কেনা হবে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চালের সংগ্রহ মূল্য ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাপতি ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ধান চালের পাশাপাশি ৩৬ টাকা দরে গম কেনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে। বোরো ধান ও চালের উৎপাদন খরচ বাড়ায় গত বছরের থেকে এবার সংগ্রহ মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় যে উৎপাদন খরচ দিয়েছে, তার সঙ্গে লাভ যুক্ত করে ধান ও চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
৪০২ দিন আগে
ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন চাল কিনবে সরকার
দেশের খাদ্য মজুত বাড়াতে ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল (বাসমতি নয়) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ২ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ টন সিদ্ধ চাল আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়।
ভারতের মেসার্স ভগদিয় ব্রদার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই চাল আনা হবে। প্রতি টন চালের দাম ধরা হয়েছে ৪২৪.৭৭ ডলার। সে হিসেবে ৫০ হাজার টন চালের দাম পড়বে ২ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ ডলার।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে এলো আরও সাড়ে ১১ হাজার টন চাল
এর আগে, গত ১৪ মার্চ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের মেসার্স এস পাত্তাভি অ্যাগ্রো ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সে সময় প্রতি টন চালের দাম ধরা হয় ৪২৯.৫৫ ডলার। সে হিসেবে ৫০ হাজার টন চালের দাম ধরা হয় ২ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ ডলার।
তার আগে ২০ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা পর্যালোনচা করে অনুমোদন দেয়। ভারতের এমএস বগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট থেকে এই চাল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ ডলার।
তারও আগে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকে চাল আমদানি অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এর মধ্যে ভারত থেকে দুই দফায় ৫০ হাজার টন করে এক লাখ টন, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে ৫০ হাজার টন করে এবং ভিয়েতনাম থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে চালের মোট চাহিদা ৩৯ দশমিক ৭৮ লাখ টন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ টন।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান থেকে আমদানির ৩৭২৫০ টন চাল দেশে এসেছে
৪১৫ দিন আগে
ভারত থেকে এলো আরও সাড়ে ১১ হাজার টন চাল
ভারত থেকে এমভি ডিডিএস মেরিনা জাহাজটি ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সিদ্ধচাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা, উন্মুক্ত দরপত্রের আওতায় (প্যাকেজ-২) ভারত থেকে সাড়ে ১১ হাজার টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ডিডিএস মেরিনা জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ভিয়েতনাম থেকে দেশে পৌঁছেছে ২৯ হাজার টন চাল
উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ৯টি প্যাকেজে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৮ মার্চ) ভারত থেকে আমদানি করা ৬ হাজার টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি পিএইচইউ থানহ ৩৬ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
৪১৯ দিন আগে
ভিয়েতনাম থেকে দেশে পৌঁছেছে ২৯ হাজার টন চাল
ভিয়েতনাম থেকে ২৯ হাজার টন চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এভি ওবিই ডিনারেস জাহাজ।
শনিবার (২২ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিক্ষপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জি-টু-জি চুক্তির আওতায় তৃতীয় ধাপে আতপ চাল নিয়ে জাহাজটি বন্দরে নোঙর করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় অবৈধ মজুতের ২৩৮ টন ধান-চাল উদ্ধার
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে ভিয়েতনামের সঙ্গে একটি জি টু জি চুক্তি সম্পাদন করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তির আওতায় মোট ১ লাখ টন চাল আমদানির কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি চালানে ৩০ হাজার ৩০০ টন চাল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
৪২০ দিন আগে
ভারত-পাকিস্তান থেকে আমদানির ৩৭২৫০ টন চাল দেশে এসেছে
ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ৩৭ হাজার ২৫০ টন চাল নিয়ে দুটি জাহাজা চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
বুধবার (৫ মার্চ) সকালে এসব চাল দেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলাম।
তিনি বলেন, জি টু জি ভিত্তিতে পাকিস্তান থাকে আমদানির ২৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আতপ চাল নিয়ে এমভি এসআইবিআই এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের (প্যাকেজ-০৫) আওতায় ভারত থেকে আমদানির ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি এইচটি ইউনাইট জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ৫৩ বছর পর মোংলা বন্দরে আসছে পাকিস্তানের চাল
জাহাজ দুটিতে আনা চালের নমুনা পরীক্ষা শেষে আজই খালাসের কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৪৩৭ দিন আগে
৩০ টাকা কেজি দরে চাল পাবে ৫০ লাখ পরিবার: খাদ্য উপদেষ্টা
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৫০ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য এবং ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওএমএস ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আলী ইমাম মজুমদার।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতিবিনিময় সভাটি হয়।
আরও পড়ুন: খাদ্য গুদামে আমন ধান দিচ্ছেন না বাগেরহাটের চাষিরা
উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপহার হিসেবে ১ কোটি নিম্নবিত্ত পরিবারকে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
রমজান মাসে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা চাল যেন সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়— সে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করার জন্য ঢাকা বিভাগের সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেন উপদেষ্টা।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুদ আছে। কোনো ঘাটতি নেই। তবে খাদ্যশস্য বিতরণে কিছুটা শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। এজন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারের সুলভ এবং বিনামূল্যে দেওয়া খাদ্যশস্য সঠিক উপকারভোগীর নিকট সঠিক পরিমাণে পৌঁছানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা মজুমদার।
আরও পড়ুন: গোখাদ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া, চাঁদপুরে কৃষকের মাথায় হাত
এসময় খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগের সব জেলা প্রশাসকসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৪৪ দিন আগে
ভারত থেকে চাল আসছেই, তবুও দাম কমার লক্ষণ নেই যশোরে
ভারত থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় গত তিন মাসে আমদানি করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৮ টন চাল। বেনাপোল দিয়ে চাল আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বেনাপোলসহ যশোরের বাজারগুলোতে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো স্থানীয় বাজারগুলোতে গত সপ্তাহে প্রকারভেদে চালের দাম আগের থেকে কেজিপ্রতি এক-দুই টাকা বেড়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাল আমদানির তথ্য জানানো হয়।
চাল আমদানির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, আমদানির জন্য বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ভারত থেকে চাল আমদানি করতে পারবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. লুৎফর রহমান সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারিভাবে নন-বাসমতি সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে এলসি খোলার সময়সীমা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতে চালের দাম বেশি থাকায় আমদানি করা চালের দাম বেশি পড়ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
অটোরাইস মিলমালিক ও ধান ব্যবসায়ীদের দাবিও এটি।
তবে ক্রেতাদের দাবি, দেশে বর্তমানে ধান-চালের কোনো সংকট নেই। মাসখানেক আগে কৃষকের ঘরে উঠেছে আমন ধান। তারপরও সাধারণ মানুষকে বেশি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে। এতে অনেকে আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
আরও পড়ুন: খুলনায় নাগালের বাইরে চাল ও তেলের দাম
কম দামে চাল না কিনতে পেরে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। সিন্ডিকেট গড়ে ওঠায় দাম কমছে না বলে মনে করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারির ব্যবস্থা না থাকায় দাম বাড়ছে বলে জানান তারা।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, খেটে খাওয়া মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষকে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন নিত্যপণ্যের পাশাপাশি বাড়ছে চালের দামও। বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই যে তার দাম সম্প্রতি বাড়েনি।
আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিন মাসে বেনাপোল দিয়ে ১৩ হাজার ৯৬৮ টন চাল আমদানি হয়েছে। সরকার গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ৯২ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়। এ সময়ের মধ্যে আশানুরূপ আমদানি না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তাতেও দেশের বাজারে চালের দাম না কমায় ভারত থেকে আমদানির জন্য আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত এক মাস সময় বাড়িয়েছে সরকার।
তাই খুব শিগগিরই চালের দাম কমে আসবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকরা।
নাভারণ বাজারের সবচেয়ে বড় চালের আড়ত চৌধুরী রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী রাশেদ চৌধুরী বলেন, ‘মোটা চাল ৫১ টাকা ও স্বর্ণা মোটা চাল ৫৩ টাকা কেজি দরে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে। নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে, আমদানিও স্বাভাবিক রয়েছে; তাই সামনে দাম কমবে।’
এবার অতিবৃষ্টির কারণে ধানের উৎপাদন কমেছে বলে চাল আমদানি করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
সরেজমিনে বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার কয়েকটি রাইস মিলে গেলে মিল মালিকরা জানান, এবার আশানুরূপ ধান কিনতে পারেননি তারা। দাম বাড়ার আশায় কৃষক ধান মজুত করে রেখেছেন। ফলে বিভিন্ন জেলা ঘুরে ধান সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। আর এতে ধানের ক্রয়মূল্য বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে।
তারা বলেন, সব খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি ধান থেকে চাল করতে খরচ পড়ে যাচ্ছে ৫০ টাকার উপরে। চিকন চালের ক্ষেত্রে তা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬৩ টাকা।
৪৫৫ দিন আগে