খুলনা
জলাবদ্ধতায় কাজে আসেনি ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প, ডুবছে ভবদহ
খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ভবদহ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বরং অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জোয়ার-ভাটার নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ রুদ্ধ করে খননকাজ পরিচালনা করায় খর্ণিয়া থেকে ভাটি অঞ্চলের প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি সাগরে পৌঁছাতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রীনদীর প্রায় সাড়ে ৮১ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ গত ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, খর্ণিয়া সেতুসংলগ্ন এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে এক্সকাভেটর দিয়ে নদী খনন করায় জোয়ারের পানির সঙ্গে আসা বিপুল পলি নদীর তলদেশে জমতে থাকে। এতে খর্ণিয়া থেকে তেলিগাতি পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যে নদীর গভীরতা এক বছর আগেও প্রায় ৩০ ফুট ছিল, বর্তমানে তার অনেকাংশই প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এর ফলে খর্ণিয়ার বিল, বিল সিঙ্গা, ডোমবার বিল, বিল তাওয়ালিয়া, আগরঘাটি, ভায়না, বরুনা, সালাতিয়া, দহকুলা, নাদিয়া, জোয়ারেরডাঙ্গা, বামুন্দিয়া, গোনালীসহ যশোর ও খুলনা অঞ্চলের অন্তত ৩০টি বিল ও অর্ধশতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও গ্রামীণ সড়কও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক ওহিদ শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদী খননের নামে যে ক্ষতি হয়েছে, তা অন্য কোনো দুর্যোগেও হতো না। ‘জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে নদী খননের এমন উদাহরণ আগে দেখিনি। এর মাশুল এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।’
৬ দিন আগে
খুলনায় দাদিকে হত্যার দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
খুলনায় দাদিকে হত্যার দায়ে মো. খলিল মোড়ল ওরফে ইরফান (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইরফান পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকন্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্র জানায়, আসামি ইরফান খুলনা ব্রজলাল (বিএল) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। নিহত নুর জাহান ওরফে খানো বিবি আসামির দাদি। ইরফানের মা ফাতেমা খাতুন প্রায়ই নুর জাহানের সম্পত্তি তার নাতির নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে তাদের পারিবারিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ইরফান ছাত্র অবস্থায়ই অসাধু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই দাদিকে মারধর করতেন। ইরফানের মা ফাতেমা নেশার জন্য ছেলেকে টাকা দিতেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে দাদির ওপর চলত অমানবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে ইরফানকে পুলিশে ধরিয়ে দেন তার বাবা। পরবর্তীতে আসামির মা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনেন।
২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে নেশার টাকার জন্য বাড়িতে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন ইরফান। তখন তার দাদি তাকে বাধা দেন। নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ডাব পাড়তে গাছে উঠলে ইরফানকে বাধা দেন ওই বৃদ্ধা। সেদিন দুপুর দেড়টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ইরফান। এতে ঘটনাস্থলেই নুর জাহানের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর-অপারেশন) দেবাশীষ দাশ ইরফানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল।
৭ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে শিবলী হোসেন রুবেল (৪৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহদুজ্জামান মিয়া।
গ্রেপ্তার রুবেল রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ৪ আগস্ট ভোর পৌনে ৪টার দিকে নগরীর দোলখোলা মোতলেবের মোড়ে আব্দুল হক হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনার সূত্র ধরে নগর গোয়েন্দা পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযু্ক্তির সহায়তায় রুবেলকে নিরালা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় তার শয়নকক্ষ থেকে শপিং ব্যাগের মধ্যে প্যাচানো অবস্থায় একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার রুবেল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও আশিক গ্রুপের সদস্য। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘খুলনায় কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। গ্রেপ্তার রুবেল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও অপর সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপের সদস্য। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
১২ দিন আগে
খুলনায় গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী ও শ্বশুর আটক
খুলনা নগরীতে মিতা (১৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে খানজাহান আলী থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গিলাতলা গফফার ফুড মোড় এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—গৃহবধূর স্বামী মাজহার ও শ্বশুর বাবা সাইফুল ইসলাম।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাসার বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সাইফুল ইসলামের পুত্রবধূ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল। ঘটনাটি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে গুঞ্জন শুনতে পেয়ে তার স্বামী ও শ্বশুরকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত না করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
১৩ দিন আগে
খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
পুলিশ পরিচয়ে এক ডিম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় ৬ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহআলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো. লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শামীম বিশ্বাসকে দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় মো. লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার কর্মচারী সঙ্গে ছিলেন।
তারা দুজন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত ও বাকি তিনজন সিভিল পোশাকে এসে তাদের গতিরোধ করেন।
এরপর তারা রবিউল ইসলামকে জানান, তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে। পরে তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা দেন তারা।
তখন রবিউল ইসলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে হত্যার ভয় দেখান। পরে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে চলে যান।
ঘটনার পরের দিন রবিউল পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মো. শাহজুল ইসলাম ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১৪ দিন আগে
খুলনায় ট্রাকচাপায় এক পরিবারের ৩ জন নিহত
খুলনার দিঘলিয়ায় ট্রাকচাপায় একটি পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের ডোমরা এলাকায় এ দুর্ঘটনটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সিহাব শেখের স্ত্রী ফারজানা খাতুন (২৬), তার মেয়ে মায়মুনা (২) ও ফারজানার বোন রুবিয়া খাতুন (১৬)। আহত ব্যক্তি ফারজানার স্বামী মোটরসাইকেলচালক সিহাব শেখ।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ্র প্রকাশ বলেন, একটি ভারী ট্রাক উপজেলার গাজীরহাট থেকে খুলনার রূপসার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে রূপসা হয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে শিহাব শেখ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নড়াইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাইড নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মোটরসাইকেলচালককে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৭ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার শাজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ইসমাইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
১৮ দিন আগে
খুলনায় দিনে-দুপুরে যুবককে গুলি
খুলনা নগরীতে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে খুলনার লবণচরা এলাকার রূপসা রিভারভিউ ইকোপার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আরিফ শিকদার লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম শিকদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে আরিফসহ আরও দুই যুবক ইকোপার্কের পাশে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এসে ছয়জন দুর্বৃত্ত আরিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় একটি গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়। এরপর হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে একাধিক আঘাত করে।
দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা আরিফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা এ চালিয়েছে, তা কেউ বলতে পারেননি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, বর্তমানে আরিফ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২২ দিন আগে
খুলনায় রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
খুলনার বটিয়াঘাটায় রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—খুরশিদ আলম, আব্দুস সালাম ও খায়রুল শেখ। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় রেজাউলের ছোট ভাই তাদের ঠেকাতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে রেজাউলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার আব্দুস সালাম, মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও তার ভাই মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার এরশাদকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে খুরশিদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটা দিয়ে রেজাউল শেখের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২২ দিন আগে
মেয়েদের হলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে খুবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনিক ভবনে তালা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী শৌচাগারে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার পর সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুবির সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিজয় ২৪ হলের নারী শৌচাগারে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ওই ক্যান্টিনের মালিকের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতেন তার স্ত্রীও।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান।
যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ এনে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাতেই প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এছাড়া অতীতে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোতেও কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হবে।’
২৬ দিন আগে