খুলনা
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
খুলনার পূর্ব রূপসায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবুর সহযোগী রাজু মোড়ল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে তাকে উপজেলার রামনাগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের ইমান আলী মোড়লের ছেলে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গ্রেপ্তার রাজু মোড়ল খুলনার একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্য। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আসে। এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, ‘গ্রেপ্তার রাজু মামুন মীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি। আমরা তাকে খুঁজছিলাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজু মোড়ল খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী ‘‘গ্রেনেড বাবুর’’ অন্যতম সক্রিয় সদস্য। তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।’
৯ দিন আগে
খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম
খুলনায় ছিনতাইকারীদের ধারালো চাপাতির কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন শাহ আলম (৪৩) নামে এক পুলিশ পরিদর্শক।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে মহানগরীর সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে তিনজন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তার দুই হাতের কব্জির ওপর চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তারা।
তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
৯ দিন আগে
চাঁদাবাজির অভিযোগে খুলনায় পিস্তল-ককটেলসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে লবণচরা থানার রূপসা সেতুর নিচে জালালের তুষ মিলের পাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও তিনটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা জুট মিল এলাকার মো. আল আমিন (২৩), রূপসা মডার্ন সীফুড এলাকার মো. রনি মোল্লা ওরফে কসাই রনি (২৮) ও রূপসা স্ট্যান্ড ডাক্তার গলির স্বরন জোমাদ্দার ওরফে সজল জোমাদ্দার (২৬)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, খুলনার দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তার আসামিরা বিভিন্ন সময়ে ঘাটের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না দিলে বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতিও দেখানো হতো।
এসব অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাত ১০টার দিকে রূপসা সেতুর উত্তর পাশে যায়। এ সময় গ্রেপ্তার আসামিরা হেলমেট, মুখোশ ও গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে ঘটনাস্থলে আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বালুর মধ্যে পড়ে যান। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পিস্তল, গুলি ও ককটেল উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৮ দিন আগে
খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
খুলনার পূর্ব রূপসায় বাপ্পি (২৩) ওরফে কলম বাপ্পি নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের মোমিনবাগ এলাকায় বিপ্লব পালের ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বাপ্পি আলাইপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, মরদেহে গুলি ও অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
২০ দিন আগে
খুলনা নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার দুই
খুলনা নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাদের দুইজনকে খুলনা সদর ও হরিণটানা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামির হলেন লবণচরা থানার হরিণটানা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওলিয়ারের ছেলে আবিদ হাসান রানা এবং দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডের সাব্বিরের বাড়ির ভাড়াটিয়া সৈয়দ চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন আহমেদ।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি রিভলবর, একটি রিভলবারের কার্তুজ, ১৬টি পিস্তলের কার্তুজ এবং ২৪টি শর্টগানের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে সদর থানা এলাকায় বিশেষ ডিউটি করছিলাম। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টুটপাড়া সার্কুলার রোড হতে সালাউদ্দিনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে লবণচরা থানার হরিণটানা হতে রানার শয়ন কক্ষের বিছানার নিচ হতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা শীর্ষ সন্ত্রাসী রফিক বাহিনীর সহযোগী বলে জানায়। এ ছাড়াও তারা খুলনা মহানগরীতে তাদের সহযোগীদের বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র প্রদান করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহায়তা করত বলে তারা জানায়।
এ ঘটনায় লবণচরা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
২৩ দিন আগে
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আরও এক আসামি গ্রেপ্তার
খুলনার চাঞ্চল্যকর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবির খুলনা ও বরিশাল ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিফাত সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ষোড়শ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
এসআরবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রিফাত ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা এসআরবির সদস্যরা তার অবস্থান নিশ্চিত করেন। পরে সোমবার রাতে খুলনা ও বরিশাল এসআরবির যৌথ অভিযানে কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আজমুল হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে এসআরবির সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিফাতকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২৬ দিন আগে
খুলনায় হোটেল কক্ষ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
খুলনা নগরীর আবাসিক হোটলের কক্ষ থেকে সোহেল রানা ওরফে বাবু নামের এক যুবককের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের কথিত স্ত্রী ফাতেমাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সদর থানার খানজাহান আলী রোডের কপোতাক্ষ আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার ১০ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক লবণচরা থানার হরিণটানা অটোস্টান্ড রোডের লোকমান ফকিরের ছেলে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গেল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাবু ও ফাতেমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে অবস্থান করেন। তাদের উভয়ের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন ফাতেমা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অন্যদিকে, ফাতেমাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন বলেন, বাবুর আরেকজন স্ত্রী রয়েছেন। তিনি ঢাকায় থাকেন। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না বাবুর। ফাতেমার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ফলে ফাতেমা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল (রবিবার) রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে বলে ফাতেমা প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এরই জেরে তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওসি।
২৭ দিন আগে
যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় খুবির ৪ শিক্ষার্থী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে খুবির চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টায় নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শুক্রবার রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং পরে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছিল, যার প্রমাণ ঘটনাস্থলেই মিলেছে। পরে ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ওই এলাকার মসজিদ গলির মেসে ভাড়া থাকতেন।
এদিকে আজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা সবাই খুবির শিক্ষার্থী। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মধ্যে আগে থেকেই ঝামেলা ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়ে তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন।’
গতকাল (শনিবার) রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান ওসি।
২৮ দিন আগে
খুলনায় ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যু বেড়ে ৭৭, আক্রান্ত ২১,৭৬১
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ হাজার ৭৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে বিভাগে ডেঙ্গু ও হামে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত সর্বশেষ আলাদা দুটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭১৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪৫ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
জেলা-ভিত্তিক হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনায়। জেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগেরহাটে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। যশোরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৯৬২ জন (মৃত্যু ২ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৬২ জন (মৃত্যু ১ জন), নড়াইলে ৩৫৭ জন, ঝিনাইদহে ২০২ জন, মাগুরায় ২০১ জন, কুষ্টিয়ায় ২০৮ জন এবং মেহেরপুরে ১৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলায় ২২০ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর নতুন রোগী ভর্তির হিসাবেও খুলনা এগিয়ে রয়েছে। এ সময়ে খুলনা জেলায় ৩৯ জন, বাগেরহাটে ১৩ জন, মেহেরপুরে ৭ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ৬ জন, যশোরে ৬ জন, নড়াইলে ৬ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অপরদিকে, খুলনা বিভাগে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৪২ জনে। এর মধ্যে ৩৭৩ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত। এ সময়ে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪২টি শিশু।
জেলা-ভিত্তিক তথ্যে জানা যায়, খুলনা জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগী ২ হাজার ৪৩ জন (নিশ্চিত ৪৭ জন, মৃত্যু ২২টি শিশু), কুষ্টিয়ায় ২ হাজার ৭৯১ জন (নিশ্চিত ২৩ জন, মৃত্যু ১৩ জন), ঝিনাইদহে ৯৭৯ জন (নিশ্চিত ১৭ জন, মৃত্যু ৫ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৫৭৭ জন (মৃত্যু ১ জন) এবং মেহেরপুরে ৬৭৫ জন (নিশ্চিত ১০ জন, মৃত্যু ১ জন)।
এছাড়া যশোরে ৮৭৪, নড়াইলে ৮৪০, বাগেরহাটে ৭৮১ এবং সাতক্ষীরায় ৩৪৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
২৯ দিন আগে
খুলনায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
খুলনায় চুরির অপবাদে আজমল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে ভর্তির সময় তার পরিচয় হিসেবে নাম আজমল, বাবার নাম কুতুব এবং ঠিকানা গল্লামারি, হরিণটানা, খুলনা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ওয়ার্ডবয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজমলকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা জানান, চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য ছিল, চুরি করতে গিয়ে খুলনার একটি ভবনের চারতলা থেকে আটকের ভয়ে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আজমলকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করা হয়। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর কথা জানার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজমলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে বিভিন্ন দাগ ছিল। এছাড়া তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব আলামতকে ঘিরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
খুলনার হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।
২৯ দিন আগে