খুলনা
খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ
শর্তহীনভাবে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় কাজ হারানো শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা।
আন্দোলনের সমর্থনে আজ বিপুলসংখ্যক নারীও রাজপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টা থেকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের রেলিগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়।
এ সময় সড়কে কাঠের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর থেকে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক প্রেস ও বেলিং শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
তারা বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থসংকটে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, খুলনার দৌলতপুর পাট রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং এ এলাকায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বসবাস। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় ১৭ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি সম্ভব নয় বলে জানায়। এর প্রতিবাদে দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
৯ দিন আগে
কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ
অনতিবিলম্বে কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
বুধবার (২০ মে) সকল সোয়া ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকরা নগরীর রেলিগেট থেকে দৌলতপুর মুহসিন মোড় পর্যন্ত সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে।
একই দাবিতে গতকাল (মঙ্গলবার) দৌলতপুর বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (১১৫৫)'র শ্রমিকেরা।
রেলিগেটে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন শ্রমিক নেতা মো. উজ্জল, সুজ্জল, ডালিম কাজী, মো. জামাল উদ্দিন, আনোয়ার হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদার, কালাম হাওলাদার, দেলোয়ার মাস্টার, কালাম সরদার, আলমগীর মোল্লা, বাবুল সিকদার, মো. বাবুল হোসেন, আব্দুল আজিজসহ দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দেশের ৪০ টি জুটপ্রেস হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খুলনাঞ্চলের জুট প্রেসের ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে যায়। ৯ মাস কোনো কাজ না পেয়ে তারা অর্ধাহারে, অনাহারে মানবেতার জীবনযাপন করছেন।
৯ দিন আগে
খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত
বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন।
মহাসড়কের চুলকাঠি এলাকার ভট্ট বালিঘাটায় বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে আব্দুল কাদের নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার জাড়িয়া ভবনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। অন্য দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, মোংলা থেকে মোটরসাইকেলে তিন আরোহী খুলনার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত দুজনকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দুই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রাশিদ বলেন, আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
১০ দিন আগে
উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমেই বাড়ছে সুপেয় পানির জন্য হাহাকার, আশা জাগাচ্ছে বৃষ্টির পানি
বসন্তের শেষ, গ্রীষ্মকাল শুরু। খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গৃহিণী আম্বিয়া খাতুনের প্রতিটি সকাল শুরু হয় এক কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ঘুম থেকে উঠেই তার প্রথম চিন্তা পরিবারের জন্য খাবার পানি সংগ্রহ করা।
প্রতিদিন দূরের গভীর নলকূপ থেকে পানি আনতে তাকে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। এতে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কখনও অসুস্থও হয়ে যান তিনি। আর যদি কোনোদিন সেই দূরের নলকূপে যাওয়া সম্ভব না হয়ে ওঠে, তখন বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হয় পুকুরের অনিরাপদ পানি। অথচ শুষ্ক মৌসুমে সেই পুকুরও শুকিয়ে যায়।
নদী ও খালের পানিও এ সময় অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে ওঠে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এমন দিনও আসে যখন পানির অভাবে রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন বেড়াতে এলে মিষ্টি বা উপহারের বদলে কয়েক বোতল মিনারেল ওয়াটার নিয়ে এলে উপকূলের মানুষ যেন বেশি খুশি হয়।
সুপেয় পানির জন্য এই হাহাকার শুধু খুলনার উত্তর বেদকাশীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের সমগ্র দক্ষিণ উপকূলজুড়ে এটি আজ এক ভয়াবহ বাস্তবতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সব পানির উৎসে লবণাক্ততার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের লোনা পানি নদী ও খালে প্রবেশ করে সেগুলোকে লবণাক্ত করে তোলে। ফলে নিরাপদ ও সুপেয় পানির সংকট দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র
‘অ্যা-ক্রসসেকশনাল ভিউ অব দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার সিনারিও ইন আ ক্লাইমেট-স্ট্রেসড সেটিং: কেস স্টাডি ফ্রম সাউথওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র।
ওই গবেষণা অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলের একজন নারীকে প্রতিদিন শুধু এক কলস বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের জন্য পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। বছরের চার থেকে সাত মাস পর্যন্ত এই সংকট স্থায়ী থাকে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ অঞ্চলের প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিবারের নিজস্ব কোনো নিরাপদ পানির উৎস নেই। ফলে তাদের নির্ভর করতে হয় বাইরের উৎসের ওপর যা অনেক সময় দূরবর্তী, অনিরাপদ কিংবা ব্যয়বহুল।
বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দশকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ভূপৃষ্ঠই নয়, ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্ততার প্রভাব ভয়াবহভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে উপকূল থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার উজান পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে স্বাদু পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নিরাপদ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।
বাতায়নের তথ্য বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিই এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। সমুদ্রের লোনা পানি ধীরে ধীরে ভূখন্ডের ভেতরের দিকে প্রবেশ করায় লবণাক্ততার বিস্তার বাড়ছে, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের নিচে থাকা স্বাদুপানির মজুতও যাচ্ছে কমে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মোট আবাদি জমির প্রায় ৩০ শতাংশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত, যার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ জমি সরাসরি লবণাক্ততার শিকার। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২৮ দশমিক ৬ লাখ হেক্টর উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ১০ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সংকুচিত হচ্ছে জীবিকা এবং মানুষ বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছে।
সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী
জলবায়ুগত এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। উপকূল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া পরিবারগুলোও বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা পায় না। উপকূলের অধিকাংশ গ্রামে বর্তমানে সুপেয় পানির প্রধান ভরসা গভীর নলকূপ বা ডিপ টিউবওয়েল। প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে লাখ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হলেও ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে অনেক জায়গায় সেই পানিও নিরাপদ থাকছে না। ফলে উপকূলের বহু পরিবার এখন টাকা দিয়ে বিশুদ্ধ পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা বাধ্য হয়েই লবণাক্ত পানি পান করে জীবনযাপন করছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, অর্থনৈতিক চাপও তীব্র হচ্ছে।
গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানির উৎসগুলোতে লবণাক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে প্রতি বছরই দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। যারা বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে পারে, তারা শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা স্বস্তিতে থাকে। কিন্তু যাদের সেই সুযোগ নেই, তাদের খাওয়া-দাওয়াসহ দৈনন্দিন প্রায় সব কাজে বাধ্য হয়ে লোনা পানিই ব্যবহার করতে হয়।
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ১৯টি জেলায় প্রায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ মানুষের বসবাস। সম্ভাবনাময় ও সম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চল আজ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার বিস্তার উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ক্রমাগত সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর উপকূলের প্রায় সব মিঠা পানির উৎস লোনা পানিতে দূষিত হয়ে পড়ে। পুকুর, খাল, নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎসগুলোতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাওয়ায় ফসলের স্বাভাবিক উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিঘ্নিত হচ্ছে প্রকৃতির সাম্যাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানি ও ভূগর্ভস্থ মিঠা পানির মধ্যে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য বিদ্যমান থাকে। বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে জলাশয় ও মাটির নিচে স্বাদুপানির মজুত তৈরি হয়। অন্যদিকে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার প্রভাবে লোনা পানি ভূমির অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যেই একটি সাম্যাবস্থা বজায় থাকে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সেই ভারসাম্য এখন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সমুদ্রের লোনা পানি ধীরে ধীরে লোকালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে মিঠা পানির উৎসগুলোকে দূষিত করছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সব পানীয় জলের উৎসই আজ ঝুঁকির মুখে।
বর্তমানে উপকূলের লবণাক্ত এলাকাগুলোতে নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মিঠা পানির পুকুর, সংরক্ষিত বৃষ্টির পানি, গভীর নলকূপ, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানি, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) এবং রিভার্স ওসমোসিস বা আরও প্ল্যান্ট। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ নিরাপদ পানি উত্তোলনের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গভীর নলকূপ। তবে উপকূলের অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপে এখন আর পানি ওঠে না। আবার কোথাও কোথাও পানি উঠলেও সেটি লবণাক্ত হয়ে থাকে। শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বা ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে সরবরাহ করা হলেও সেই পানি সবসময় নিরাপদ ও মানসম্মত হয় না। ফলে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হয়ে উঠছে।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: হতে পারে কার্যকর ও টেকসই সমাধান
উপকূলীয় অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩ হাজার মিলিমিটারেরও বেশি। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ মাটির পাত্র, মটকা বা ড্রামে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে আসছে। বর্তমানে ঘরের চাল বা ছাদ থেকে পাইপের মাধ্যমে ট্যাংকে পানি জমিয়ে রাখার পদ্ধতি ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই পানি কয়েক মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব।
সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা অসচ্ছল পরিবারগুলোকে পানির ট্যাংক সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন বৃহৎ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন।
উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এগুলো হলো বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন খাসপুকুর খনন ও পুরোনো পুকুর পুনর্খনন, পুকুরে লবণপানি প্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরাপদ গভীর নলকূপ স্থাপন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পানি ব্যবস্থাপনার টেকসই মডেল গড়ে তোলা।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বরং মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে এই সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। এখনই কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে উপকূলের মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সুপেয় পানির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা তাই শুধু একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়, এটি উপকূলবাসীর বেঁচে থাকার অধিকার। বাংলাদেশের উপকূলের জন্য নিরাপদ পানির একটি বৃহৎ ও টেকসই প্রকল্প সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
লেখক: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ
১১ দিন আগে
খুলনায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা, স্বামী নিহত
খুলনার কয়রায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা (৩৭) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য মহেশ্বরীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ভবতোষ মৃধা স্থানীয় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। একই ইউনিয়নের গিলাবাড়ি বাজারে তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভবতোষ মৃধার মাটির ঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। শব্দ পেয়ে ভবতোষ জেগে উঠে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রী বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, কয়রায় গত কয়েক মাস ধরে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। সংঘবদ্ধ চক্র ঘরে চেতনানাশক জাতীয় পদার্থ স্প্রে করে অচেতন করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের কাছে রাতের নিরাপত্তা জোরদার ও টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
১২ দিন আগে
খুলনায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত
খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
খুলনার তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, আজ (শনিবার) সকালে আমজাদের বাড়ির সামনে একটি জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শহীদুল ও সাইফুল মোড়লের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দুপুরে আহত নুর আলমের মৃত্যু হয়। বাকিরা খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৩৪ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক পরিবারের ৩ জন আহত, আটক ১
খুলনায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সুমন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রিনল্যান্ড আবাসিক এলাকার একটি বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ঝুমুর আক্তার (২৬), হাসিব শেখ (২০) ও আসলাম গাজী (৩৫)। তারা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, খুলনার জোড়াগেট গ্রিনল্যান্ড আবাসিক এলাকার সূর্যগাছের বাড়িতে সকাল ৭টার দিকে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রসহ প্রবেশ করে। এ সময় তারা ওই বাড়ির তিনজনকে প্রথমে মারধর করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। এর আগে অবশ্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনকে আটক করে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার ঘটনায় ফারুখ শিকদার ও জিম সাদী নামে আরও দুই জন জড়িত রয়েছেন। তারা একাধিক মামলার আসামি। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাদের নেতৃত্বে এলাকায় প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এর আগে এসব ঘটনা পুলিশকে জানানো হলেও তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
খুলনার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাত্তার জানান, এ হামলার ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হামলার সঙ্গে যারা জড়িত আছেন তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
৩৯ দিন আগে
খুলনায় ‘চোখ বেঁধে’ যুবককে গুলি
খুলনার চোখ বেঁধে মো. ইমরুল (৩০) নামে এক যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গুলিবিদ্ধ ইমরুলের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ভবের চাকা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত কামাল শেখ।
আহতের চাচা বিল্লাল হোসেন বলেন, গতকাল (শনিবার) দুপুরে কাজে যাওয়ার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ইমরুলের চোখ বেঁধে পেটের ডান পাশে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কে বা কারা এ কাজটি করেছে তার কিছুই আমরা জানি না।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, গতকাল রাত দেড়টার দিকে পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হলে ভর্তি দেন চিকিৎসক। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
৪১ দিন আগে
খুলনায় ১০ টির মধ্যে ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানির সংকটে ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে খুলনাঞ্চলের শহর ও গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে ছোটবড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এনএলডিসি থেকে বিদ্যুতের চাহিদা পাচ্ছি না। আমাদের হাতে কোনো জ্বালানি নেই। জ্বালানি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা কেন্দ্রটি চালাতে প্রস্তুত আছি।
এদিকে, বিদেশি ঋণ সহায়তায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গেলেও তা পুরো অঞ্চলের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো অপচয় রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
চলমান সংকটকে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইরান- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো একটি আমদানিনির্ভর দেশে।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের এলএনজি আমদানির ৬৮-৭৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়ে।
ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি হলেও সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় ৯ টাকা। এ বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর না ঘটালে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ৪ কোটির বেশি পরিবারের ছাদের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি কৃষিখাতে সৌর সেচ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সৌর সরঞ্জামে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার, বাড়িভিত্তিক সৌর প্যানেলে ভর্তুকি, দ্রুত সৌর পার্ক অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকেন্দ্রীকরণের মতো পদক্ষেপ।
গৌরাঙ্গ নন্দী বলেছেন, সময়মতো নীতিগত পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নির্ভরতা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তাই তেলের জালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর শক্তি নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর দাবি জানান তিনি।
৪১ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
খুলনার ফুলতলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে সাব্বির (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় অপর এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাব্বির ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে সাব্বির। আহত নিরব একই এলাকার বাসিন্দা। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবীর সিদ্দিকী শুভ্র জানান, হামলাকারী এবং যারা হতাহত হয়েছেন তারা একে অপরের বন্ধু। ৪–৫ দিন আগে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধের জের ধরে আজ এ ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো যাবে বলে জানান তিনি।
৪২ দিন আগে