খুলনা
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার
খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬ খুলনার এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ । এর আগে গতকাল (রবিবার) রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আরমান দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, একাধিক হত্যা মামলার আসামি আরমান গত কয়েকদিনের পুলিশের তৎপরতার কারণে খুলনা ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবস্থান করছিলেন। রবিবার রাতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভৈরব নদ থেকে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ঘাউরা রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মামলার এজাহারনামায় আরমান দুই নম্বর আসামি।
এদিকে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরমান একসময় দৌলতপুর থানা এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী হুমার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই বাহিনী গঠন করে প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দৌলতপুর থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
১ দিন আগে
খুলনায় হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড
খুলনার হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে হোটেলের ৫ তলার দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষে আগুন ও ধোয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তারা সোনাডাঙ্গা থানাকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করে পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমজাদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থালে ছুটে আসি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত থেকে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকি। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। হোটেলের পঞ্চম তলার দক্ষিণ পাশের ওই কক্ষ যিনি ভাড়া নিয়েছিলেন, তার ব্যাগটি আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া আর কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, আমরা ৯টা ১০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাই। এরপর আমাদের ২টা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, হোটেলকক্ষের এসির ইনডোর থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহাতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
মিড ডে মিল অনুগ্রহ বা দয়া নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার: ববি হাজ্জাজ
মিড ডে মিল কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, এটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুদের সুস্থতা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও শেখার সক্ষমতা বাড়ানো স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনায় একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’ ও ‘প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে’ —প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করছে, যা শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষায় বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা, তার পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
খুলনায় মাঝনদীতে ফেরির সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবি
খুলনার জেলখানা ঘাটের মাঝনদীতে ফেরি ও ট্রলারের সংঘর্ষের একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলাবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলখানা ঘাটে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলখানা ঘাট থেকে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার সেনেরবাজারের দিকে রওনা হয়। বিপরীত দিক থেকে একটি ফেরি খুলনার দিকে আসতে থাকে। একপর্যায়ে মাঝ নদীতে ফেরি ও ট্রলারের সংঘর্ষ হয়। এ সময় চলন্ত ফেরি বন্ধ করে দেন চালক। তবে সংঘর্ষের ফলে ট্রলারটি ডুবে গেলেও কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
যাত্রীদের উদ্ধারে স্থানীয়দের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, ট্রলারে ৩০-৩৫ জন যাত্রী ছিল। মাঝনদীতে ফেরির সঙ্গে ট্রলারের ধাক্কা লাগে। এরপর যাত্রীরা নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয় মাঝিরা বিষয়টি টের পেয়ে আরেকটি ট্রলার নিয়ে মানুষ উদ্ধারে ছুটে যান। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
রূপসা নৌ-ফঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমাদের সঙ্গে উদ্ধার কর্মকাণ্ডে যোগ দেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয় ডুবুরিদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরাও যোগ দেন। সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো নেখোঁজের খবর কেউ দেয়নি। তবে ট্রলারটি উদ্ধার করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
৬ দিন আগে
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে একটি করে ট্যাব এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান।
তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একসঙ্গে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছিল। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ের মতো বিভাগ চালুর আগে প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা উচিত। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগের ক্ষেত্রে ল্যাব সুবিধা ও দেশে বিদ্যমান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা জরুরি।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় চালু করতে হবে। এ সময় তিনি এআই কোর্স চালুর আবেদন দুই বছর ধরে ইউজিসিতে আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, এই বিনিয়োগের যথাযথ ফল নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোথায় চাকরি করছেন এবং কর্মজীবনে তাদের অবস্থান কী — অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের অংশ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পাওয়া উচিত।
কুয়েট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর কুয়েট দিবস বা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়। ২০০৩ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠানটি বিআইটি থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, প্রদর্শনী, বিভিন্ন বিভাগের প্রজেক্ট উপস্থাপন, ল্যাব উন্মুক্তকরণ, ক্রীড়া, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
৭ দিন আগে
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে পর্যটক ও সুন্দরবননির্ভর মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বাওয়ালীরাও বনবিভাগের কাছ থেকে বৈধ পাস নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে ঢুকতে পারবেন।
দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার পর সুন্দরবন খোলার খবরে বননির্ভর পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে জীবিকার নতুন প্রত্যাশার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাদের মধ্যে। স্থানীয় বনজীবীদের অভিযোগ, দস্যুদের চাঁদাবাজি, নৌকা থামিয়ে হয়রানি ও অপহরণের আশঙ্কা রয়েছে।
বনজীবীদের দাবি, সরকারি নিবন্ধনের আওতায় থাকা মানুষের বাইরেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।
সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন নদীঘাট ও জেলে পল্লীতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। কোথাও পুরোনো নৌকায় আলকাতরা লাগানো হচ্ছে, কোথাও ছেঁড়া জাল মেরামত করা হচ্ছে। কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুতের পাশাপাশি ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন জেলেরা।
বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় বনে প্রবেশ এবং মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। চলতি বছরও তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোকে বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
দীর্ঘ তিন মাস কর্মহীন থাকার পর অনেক বনজীবী এখন ঋণ পরিশোধের চাপের মধ্যেও নতুন করে জীবিকার সন্ধানে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা। সুন্দরবন ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জাহাজ ও লঞ্চ পর্যটকদের বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হাসানুর রহমান জানান, তিন মাস সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছগাছালির বৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির সংখ্যাও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।
৭ দিন আগে
খুলনা নগরীর ১১৭ স্পটে মাদকের কারবার, শনাক্ত ২৭২ ব্যবসায়ী
খুলনা নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসার বিস্তার বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১১৭টি মাদক বিক্রির স্পট চিহ্নিত করে এর সঙ্গে জড়িত ২৭২ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনাও চেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়েও তালিকাটি পাঠানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা ও যশোর থেকে সড়ক ও রেলপথে ফেনসিডিল ও ইয়াবা খুলনায় আসে। পণ্যবাহী পরিবহনে করে এসব মাদক পথের বাজার ও জিরো পয়েন্ট দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে। এছাড়া বেনাপোল থেকে আসা কমিউটার ট্রেনেও ফেনসিডিল ও ইয়াবা আসে। এসব মাদকবাহী ট্রেন থেকে ব্যবসায়ীরা দৌলতপুর ও খুলনা স্টেশনে নেমে যায়।
তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে মাদক বিক্রির স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদনে নগরীর উল্লেখযোগ্য মাদক বিক্রির স্পট হিসেবে টুটপাড়া, গাছতলা, মহিরবাড়ি খালপাড়, ৫ নম্বর ঘাট, গ্রিনল্যান্ড বস্তি, জোড়াগেট, ১০ তলার পেছন, ৪ ও ৬ নম্বর ঘাট, হাসপাতাল রোড, নিক্সন মার্কেট, দারোগার বস্তি, বার্মাশীল রোডের পানির ট্যাংকির মোড়, নিরালা আবাসিক এলাকা, হাজীবাড়ির মোড়, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, লবণচরা, জিরো পয়েন্ট, কৈয়া বাজার, ইসলামনগর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস, গিলেতলা, কুয়েট রোড, আটরা পালপাড়া, দৌলতপুর, খালিশপুর ও মহেশ্বরপাশা কালীবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কেউ কেউ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক বিক্রেতাদের পুঁজি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসার বিনিময়ে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও ছিল। সে সময় গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও কোডিন ফসফেটের কারবার হতো। প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হতো বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকারীদেরও পরিবর্তন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, গত মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় খুলনা জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই মাসে ১৩৭ জনের ডোপ টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে আটজনের ফল পজিটিভ আসে। তাদের অধিকাংশ মরফিন ও গাঁজা সেবন করেন বলে তিনি সভায় জানান।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মণ বলেন, নগরীকে মাদকমুক্ত করতে প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা পলাতক থাকলেও তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। নগরীতে মাদকসেবীদের মধ্যে ইয়াবার চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।
৯ দিন আগে
খুলনায় মাদরাসার পাশ থেকে মাটিচাপা দেওয়া কাটা পা উদ্ধার
খুলনা নগরীর লবণচরা থানার মাদানী নগর এলাকায় একটি মাদরাসার পাশ থেকে মাটিচাপা দেওয়া মানুষের একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কুকুর মাটি খুঁড়ে পায়ের অংশটি বের করে আনলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে রাস্তার পাশের একটি গর্তে কুকুরের খোঁড়াখুঁড়ি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে সেখানে ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় মানুষের পায়ের অংশ দেখতে পান তারা। পাটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাটি উদ্ধার করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান। তারা আলামত সংগ্রহ ও বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার হওয়া পাটি একজন পুরুষের এবং সেটি কোনো বয়স্ক ব্যক্তির হতে পারে। পাটি ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় ছিল।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, পাটি অনেক আগে কাটা হয়ে থাকতে পারে এবং দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকায় তাতে পচনের লক্ষণ দেখা গেছে। তবে পাটি কার, কীভাবে সেটি সেখানে এল এবং কে বা কারা মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফরেনসিক টিম, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা গিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাংগ্রিন, ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগের কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাটি কেটে ফেলা হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পা কাটার পর সেটি বর্জ্য হিসেবে অনিরাপদভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে বা অন্য কোনোভাবে সেখানে রাখা হয়েছে, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা এলাকায় অযথা চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। উদ্ধার হওয়া পাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’
এর আগে, খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ময়ূর ব্রিজ এলাকার নিচ থেকেও একটি কাটা পা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
১৩ দিন আগে
পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে ট্যাংকলরি রেখে খুলনায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে খুলনায় মহাসড়কে ট্যাংকলরি রেখে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন জ্বালানি তেল পরিবহন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খুলনা-যশোর মহাসড়কের ফুলতলা থেকে পথের বাজার পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় শ্রমিকরা ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন না করে খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিন শ্রমিকরা প্রথমে ফুলতলা থানার সামনে কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা খানজাহান আলী থানার পথের বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এনাম মুন্সীর সভাপতিত্বে সমাবেশে জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা মীর মোকসেদ আলী এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজিম বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কাগজপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন রাস্তায় ট্যাংকলরি থামিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি করছেন।
তারা বলেন, জ্বালানি তেল পরিবহনের আগে টার্মিনালেই ট্যাংকলরির কাগজপত্র যাচাই করার নিয়ম রয়েছে। তাই মহাসড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা উচিত নয়।
তারা বলেন, মহাসড়কে ট্যাংকলরি থামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ প্রতিটি ট্যাংকলরিতে প্রায় ৯ হাজার লিটার দাহ্য পদার্থ থাকে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি ও হয়রানি করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
১৪ দিন আগে
খুলনায় মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে একই স্থানে ২ যুবক খুন
খুলনায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) ও নাজমুল ইসলাম (১৮) নামের দুই যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর লবণচরা থানাধীন আশিবিঘা কালভার্ট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মঞ্জুরুল ইসলামকে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি আশিবিঘা কালভার্ট এলাকার খোকন সানার ছেলে এবং পেশায় সেন্টারিং মিস্ত্রি ছিলেন।
ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই একই এলাকায় নাজমুল ইসলাম নামের আরেক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নাজমুল একই এলাকার মনির শেখের ছেলে।
তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে হত্যার ঘটনায় খুলনা নগরীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া, গত আট দিনের ব্যবধানে খুলনায় পাঁচজন নিহত ও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসব ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মঞ্জুরুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে জখম করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় মঞ্জুরুলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের দাবি, মঞ্জুরুলের সঙ্গে কারও কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবেই তার পরিচিতি ছিল।
মঞ্জুরুলের বাবা খোকন ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে খুমেক হাসপাতালে ছুটে যান।
এদিকে, মঞ্জুরুল ইসলামকে গুলি করার কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় ১৮ বছর বয়সী নাজমুলকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে কী কারণে এবং কারা তাকে গুলি করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লবণচরা থানার শিশু বাগান এলাকায় নাজমুলের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। দ্রুত আসামিদের ধরতে আমরা তৎপর রয়েছি।
১৯ দিন আগে