খুলনা
খুলনায় শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে (৫৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে মহানগরীর ডাকবাংলোর মোড়ের বাটার শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ডাকবাংলা মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী মাসুমকে ভাড়ায় খুন করতে আসে। কে কত টাকা পাবে, তাদের মধ্যে তা হিসাব করা ছিল। ৭ জন মিলে মাসুমকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক পুলিশের একজন পরিদর্শক অশোক ঘোষকে কোমড়ে পিস্তল রাখতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করেন। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এ অপারেশনে ৭ জন জড়িত ছিল। তাদের কাছে নানা ধরনের ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ছিল।
খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম জানান, মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাসুমের রাজপথে ভূমিকা ছিল।
৪ দিন আগে
খুলনায় যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদ খান (৪৫) নামে এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সেনহাটীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুরাদ উপজেলার হাজীগ্রামের খান মুনসুর আলীর ছেলে। তিনি দিঘলিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য ও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মুরাদ খান খুলনা থেকে তার হাজীগ্রামের নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে সেনহাটী মিয়া পাড়া মসজিদের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করেন। এ সময় তিনি দৌড়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিলে অস্ত্রধারীরা সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে অস্ত্রধারীরা চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মুরাদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। কারণ উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
৯ দিন আগে
খুলনায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
খুলনায় শেখ সোহেল (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন আফিল গেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প-সংলগ্ন গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন মাসুম।
তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত কোনো বিষয় এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
১১ দিন আগে
রাতে শপিং মলে আগুন, খুলনায় পুড়েছে পাঁচ দোকান
খুলনা নিউমার্কেট-সংলগ্ন বায়তুন নুর শপিং কমপ্লেক্সে আগুন লেগেছে। আগুনে ওই মার্কেটের ৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যসহ স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।
ফায়ার সার্ভিসের খুলনা বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল মালেক বলেন, বায়তুন নুর শপিং সেন্টারে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বয়রা থেকে ৪টি এবং টুটপাড়া থেকে ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে। এ ঘটনায় ওই মার্কেটের ৫টি দোকানে ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২টি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মার্কেটের সামনে বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেটের তার পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি প্রাথমিকভাবে নিজের ধারণার কথা বলেছেন। তবে ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
১৩ দিন আগে
খুলনা খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির কর্মবিরতি, অচল হয়ে পড়েছে খাদ্য সরবরাহ
ট্রাক মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক বিভাগ) ঠিকাদার সমিতির কর্মবিরতিতে খাদ্য সরবরাহ অচল হয়ে পড়ছে। এতে সরকারের জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক। খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি, ৪ নম্বর ও ৭ নম্বর ঘাট অঞ্চলের ট্রাক লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে।
২৭০ জন ঠিকাদার ২০০৫ সালে খাদ্য পরিবহন (সড়ক বিভাগ) ঠিকাদার সমিতিতে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর নানা কারণে আর টেন্ডার না হওয়ায় ২০০৫ সালের রেটে এখনো ব্যবসা করে যাচ্ছেন তারা।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, এ অনির্দিষ্ট কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে অচল হয়ে পড়বে জরুরি সেবা। কর্মহীন হয়ে পড়বে খুলনার ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক। ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
ঠিকাদার সমিতির সভাপতি এস এম আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, আমরা যারা খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা খাদ্য বিভাগে কাজ করি, সকলের সরকারের লাইসেন্সকৃত পরিবহন আছে। এই পরিবহনের কাছে ট্রাক ভাড়া করার স্বাধীনতা আমাদের আছে। যেকোনো ট্রান্সপোর্ট থেকে আমরা সুবিধামতো গাড়ি নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারি। এক জায়গায় গাড়ি না পেলে, অন্য জায়গা থেকে গাড়ি নিতে পারি। কিন্তু খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটে বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন সমিতির গাড়ি ভাড়া করার স্বাধীনতা নেই।
স্বাধীনতা কেন নেই, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কারণ উল্লেখ করে বলেন, খুলনার জয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের গাড়ি নিতে বাধ্য করা হয়। এখানে একতরফা তাদের সিন্ডিকেট সচল। বিগত সরকারের আমলেও তারা আমাদেরকে বাধ্য করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে কিছুদিন শিথিল ছিল, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর তা আবার সচল হয়ে উঠেছে। ট্রাক মালিকদের এই সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের পক্ষে এখন ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
১৮ দিন আগে
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় চাকরিজীবী নিহত
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামের একজন চাকরিজীবী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা রুপসা সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর বাগেরহাটের সরুয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (সোমবার) সকালে খুলনা থেকে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে রুপসা সেতুর পূর্ব পাশে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা ট্রাকের চাপায় জাহাঙ্গীর নিহত হন।
হরিণটানা থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক ইমরান হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
২১ দিন আগে
খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে বিকেলে মাল্যদান, রাতে আগুন
খুলনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্যদান ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আ.লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন বিকেলের দিকে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় কার্যালয়ে তারা জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
এদিকে, আ.লীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে রবিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র খুলনার ওই কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেন। এছাড়া কার্যালয়ের কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আ.লীগের এক কর্মী বলেন, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রবিবার বিকেল ৪টার দিকে আমরা কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছবিতে পুষ্পমালা দেওয়া হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা দিয়েছি। কার্যালয় তালা মারা ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে আ.লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমালা দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন ছাত্র ওই কার্যালয়ে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিল। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিকেলের ওই ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র কার্যালয়ে এসে আগ্নিসংযোগ করে। টাঙানো দুটি ছবি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২১ দিন আগে
খুলনার রূপসায় কুড়াল দিয়ে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী পলাতক
খুলনার রূপসা উপজেলায় কুড়াল দিয়ে গলা কেটে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৭টার দিকে উপজেলার জয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, প্রায় ২২ বছর আগে দাকোপের বাজুয়া এলাকার মুরারি (৪৫) হিন্দু থেকে মুসলমান হয়ে মোহর আলী নাম গ্রহণ করেন। তারপর রূপসার জয়পুরের হোসনেআরাকে বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করছিলেন। মুরারি মিষ্টির দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের ছেলে শিমুল হোসেন জানান, তার বাবা ডুমুরিয়ার কৈয়া বাজারে মিষ্টির দোকানের কারিগর ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি দোকান থেকে বাড়িতে আসেন। তার বাবা-মা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। খুব ভোরে তার মা ঘরের দরজায় কড়া নাড়েন।
শিমুল ঘুম থেকে উঠলে তাকে ঘরের দরজা খোলা রাখার কথা বলে তার মা বের হয়ে যান। এরপর কিছুক্ষণ মায়ের জন্য অপেক্ষা করে তিনি পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার দুলাভাইয়ের চিৎকার শুনে তিনি এসে দেখেন, তার বাবার রক্তাক্ত নিথর দেহ। এ সময় তার মাকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাওয়া যায়নি। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন।
তিনি আরও জানান, বাবাকে হত্যা করে তার মা হোসনেআরা বেগম নিজের প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাকে মোবাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রাজ্জাক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। হত্যার কারণ উদঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৪ দিন আগে
খুলনায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনার মধ্যে বিএনপি নেতার মৃত্যু
খুলনা সদরের আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের হট্টগোলের মধ্যে মহিবুজ্জামান কচি নামে খুলনা মহানগর বিএনপির এক নেতার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে তার বাড়ি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৮টায় আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, ‘আলিয়া মাদরাসায় জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচি নিহত হয়েছন। আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহাবুবের গ্ৰেপ্তারের দাবি জানাই।’
তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাঁধা দেই। তখন তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদরাসার সিসি ক্যামেরা আছে, চেক করলে সব ধরা পড়বে।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত খুলনা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি সবুরণনেসা কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি প্রবেশ করছিলাম। তখন দেখি কয়েকজন মহিলাদের বের করে দিচ্ছে। আমি সবাইকে যেতে বলি। কাউকে ধাক্কা দেইনি।’
খুলনা-২ আসনে জামায়তের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। এখানেও জামায়াতকে জড়ানো দুঃখজনক। অধ্যক্ষ জামায়াতের কেউ নন।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। এটি আমার বিষয় নয়।
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) খান ফয়সাল রাফি বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেই। তখন একজনকে সিএনজিতে করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পার্থ রায় বলেন, ‘মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।’
২৫ দিন আগে
প্রথমবার ভোট দিতে পেরে আনন্দিত যোবায়ের
জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে পেরে খুশি খুলনার যোবায়ের নামের এক তরুণ। তিনি শহরের আলিয়া মাদরাসার আরবি বিভাগের ছাত্র।
খুলনার মৌলভীপাড়ারএ বাসিন্দা এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। খুলনা ২ নম্বর আসনের ভোটার তিনি। খুলনা মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ভোটকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে খুলনা ওই ভোটকেন্দ্রের তৃতীয় তলায় ভোট দেন যোবায়ের। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে তার এক প্রতিবেশী তাকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
জীবনে প্রথম ভোট দিতে পেরে এবং ভোটার হতে পেরে যোবায়ের বেশ খুশি। কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। এটাই জীবনের প্রথম ভোট। আমার কিছু বন্ধুও এবার নতুন ভোটার হয়েছে। ওদের সঙ্গে এই ভোটটা উদযাপন করব।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। আশা করি আমার প্রার্থী জয় লাভ করবে।’
২৫ দিন আগে