খুলনা
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত, আহত ৮
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের সঙ্গে দুটি ইজিবাইকের (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খুলনা মহানগরের হরিণটানা থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই উপজেলার হরিদাসকাঠি এলাকার তাপস হোর ওরফে সুনু হোড় (৬০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি ট্রাক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা আরেকটি ইজিবাইকও ট্রাকটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে একটি ইজিবাইক ট্রাকের নিচে ঢুকে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ট্রাকটি সড়কের একপাশে উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক ইজিবাইকচালক ও এক যাত্রী নিহত হন। আহত সাত থেকে আটজনকে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে হরিণটানা ও লবণচরা থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে কেএমপির রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও ইজিবাইক সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে স্কুলছাত্রী আহত
খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইতি (১৭) নামের এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত কিশোরী রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকার জুলফিকার রহমানের মেয়ে। সে রূপসা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
খুলনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তার জানান, আহত ইতি নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি সরাসরি তার পায়ে গিয়ে বিদ্ধ হয়। ঘটনার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
৫ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সুন্দরবনের জলদস্যু আটক
সুন্দরবনের জলদস্যু ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানির অভিযানিক দল। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি ওয়ান শুটার গান এবং ৩৬ রাউন্ড তাজা সিসা বুলেট উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে র্যাব-৬ খুলনার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহান খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি ইউনিয়নের সোনামুকুন্দি মোরলের খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৫ দিন আগে
খুলনায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি
খুলনায় চাঁদা না দেওয়ায় রফিকুল ইসলাম মানিক (৪০) নামের এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (২৮ জুন) রাত ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যবসায়ী এম এ বারি সড়কের বাসিন্দা রস্তুম মাঝির ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোমের সামনে মানিকের ভাঙ্গারি ব্যবসা রয়েছে। রাতে সেখানে অবস্থান করছিলেন তিনি। এর আগে, সায়েল নামে এক ‘সন্ত্রাসী’ তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। সেই দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় মানিককে গুলি করা হয়।
১০ দিন আগে
কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান সই করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পরিপত্রে তাকে ২১ জুনের মধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ। ওই সভায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে এবং তাদের হাতে ৮৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলি ও কুপিয়ে জখমের শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে লবণচরা থানা এলাকায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, মহিরবাড়ি খালপাড় অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত হলেও আতঙ্কের কারণে অনেকেই থানায় অভিযোগ করতে চান না। আবার পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও অপরাধীরা ধরা পড়ে না।
সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় অভিযোগ করেন, তথ্য দিলে তা পুলিশ থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তারা আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজেদের আচরণ ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন।
এর জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলায় পিটাবো।’
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে। ভবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
১৮ দিন আগে
‘নব্য ফ্যাসিবাদকে’ বিদায় জানাতে আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি বলেছেন, ‘যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানেই আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব। দেশের মাঠে-ময়দানে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।’
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুব সমাজের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানেই আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলব। দেশের মাঠে-ময়দানে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্বল করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।
বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না।’
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে তিনি বলেন, এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়; বরং দুর্নীতি, বৈষম্য, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
একটি দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ এবং মাওলানা মামুনুল হক।
সমাবেশে অতিথি হিসেবে এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
খুলনা নগরীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
সোমবার (১৫ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার মুন্সিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তাররা হলেন: রায়েরমহল মুন্সিপাড়ার বিল্লাল সিপাই ওরফে বিল্লু (২৬) এবং তার সহযোগী একই এলাকার রবিউল ইসলাম রনি ওরফে হৃদয় (২১)।
র্যাব-৬-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল রায়েরমহল মুন্সিপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া বিল্লাল সিপাইয়ের শয়নকক্ষের কার্নিশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র্যাব। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, বিল্লাল সিপাই ওরফে বিল্লুর বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা ও হরিণটানা থানায় অস্ত্র আইন এবং হত্যাচেষ্টা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
২৪ দিন আগে
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি, গুলিবিদ্ধ ২
খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদে দুর্বৃত্তদের দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন—মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং আলম মন্ডল (৫৫)। লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে। আলম মন্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ফজরের নামাজ আদায়ের সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী মসজিদে প্রবেশ করে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পাশে থাকা মুসল্লি আলম মন্ডলও গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিতে লোকমানের মাথায় আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’
২৫ দিন আগে
চার দশকের সাধনায় আইনজীবী শাহাদাতের ‘আমের স্বর্গরাজ্য’
পেশায় আইনজীবী হলেও হৃদয়ে তিনি কৃষক। আদালতের ব্যস্ততার পাশাপাশি গত চার দশক ধরে আম চাষকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছেন অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা সদরের দেবনগর মৌজায় গড়ে তোলা তার ‘ম্যাংগো হ্যাভেন’ এখন স্থানীয়দের কাছে ‘আমের স্বর্গরাজ্য’ হিসেবেই পরিচিত।
পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি ও নিজস্বভাবে কেনা জমি মিলিয়ে প্রায় ৩৯ বিঘা এলাকায় বিস্তৃত এই বাগানে রয়েছে বসতবাড়ি, পুকুর, বাঁশবাগান এবং ১ হাজার ২০০ ফলন্ত আমগাছ। এ বছর প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছে। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাংগো ও কাটিমন জাতের আমে ভরে উঠেছে বাগান।
শাহাদাত হোসেনের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি বজায় থাকলে এ বছর বাগান থেকে প্রায় এক হাজার মণ আম উৎপাদন হবে। এতে বিক্রি হতে পারে প্রায় ২০ লাখ টাকার আম।
এই আইনজীবী জানান, ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। এসএসসি পাসের পর পৈত্রিক জমিতে গাছ লাগানো শুরু করেন। পরে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর আম চাষে আরও মনোযোগী হন।
তিনি বলেন, ‘পুষ্টিকর ও উন্নতমানের আমের আঁটি সংগ্রহ করে চারা তৈরি করতাম। পরে সেগুলো থেকে কাটিং করে গাছ রোপণ শুরু করি। গত ৪০ বছরে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি আমগাছ লাগিয়েছি। এ বছর সব গাছেই আম ধরেছে।’
কৃষিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৮৯ সালে রাষ্ট্রপতি পদক এবং ২০১১ সালে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রী পদক লাভ করেন।
তার বাগানে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের দুটি গাছ রয়েছে যেগুলো প্রায় ৬০ বছর বয়সী। এই দুটি গাছ থেকেই প্রতিবছর প্রায় ২০ মণ আম উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি।
৩৮ দিন আগে
খুলনায় বসতঘর থেকে এক পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ভাড়াবাসা থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং প্রধান আসামি হিসেবে এক ব্যক্তিকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার শরিফুল ইসলামের ভাড়াবাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ।
এছাড়া ডিবি এবং সিআিইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। এরপর মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতে শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন— স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম ব্যাপারীর দুই ছেলে ৪ বছর বয়সী মুস্তাকিম ও ১৩ বছর বয়সী শামিম এবং শাশুড়ি বেবি বেগম (৫৫)।
এ ঘটনায় গতকাল রাতেই সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন মাসুম ব্যাপারী। মামলায় তার সাবেক স্ত্রী ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় ও বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, রফিকুল ইসলাম দুই সন্তানের মা ফাতেমা বেগম মেরীর দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর সঙ্গে ৪ বছর আগে বিচ্ছেদ হওয়ার পর রফিকুলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মেরী। বিয়ের পর তিনি দুই সন্তান নিয়ে প্রায়ই তার মা বেবি বেগমের বাসায় থাকতেন।
সূত্র জানায়, দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল আগের ঘরের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতেন না। ঘটনার দিন শুক্রবার (২৯ মে) রাতে রফিকুল ওই ভাড়া বাড়িতে এসেছিলেন। পরের দিন সকালে বাইরে থেকে তালা দিয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ঘরে তালা দেওয়া দেখে মা ও দুই সন্তানকে ফাতেমা বেগম বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এ ঘটনার এক দিন পর গতকাল (শনিবার) বিকেলে পাশের ঘরে দুর্গন্ধ পেয়ে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মর্গে পাঠায়।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। তিনি নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকায় বসবাস করেন। সেখানে তার প্রথম স্ত্রী এবং ছেলেমেয়ে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাতেমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
৩৯ দিন আগে