খুলনা
খুলনায় ছিনতাইকারীর গুলিতে প্রাণ গেল আরেক ছিনতাইকারীর
খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় এক ছিনতাইকারীর ছোড়া গুলিতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক ব্যবসায়ী।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার স্টিমারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়াড়া এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) সাইকেলে চড়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমারঘাট-সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করেন। ছিনতাইকারীরা তাহিদুলের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেন তাহিদুল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোড়েন। এতে তাদের নিজেদের এক সহযোগী সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাগরের বাড়ি দিঘলিয়ার দেয়াড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত তাহিদুল বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গুলিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ খুমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
২ দিন আগে
খুলনায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন
খুলনার কয়রা উপজেলায় স্বামীকে শ্বাসরোধ ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যা করেছে স্ত্রী।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন স্ত্রী খুকুমনি।
নিহত ফজলু গাজী জোড়শিং গ্রামের মৃত ফকির গাজীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর জোড়শিং গ্রামের ফজলু গাজীর (৬৬) সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী খুকুমনির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর অণ্ডকোষ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়রা তাকে গ্রাম্য চিকিৎসকের নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর পাশ্ববর্তী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা খুকুমনিকে বিয়ে করেন ফজলু গাজী।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে তদন্ত ও অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
৫ দিন আগে
খুলনায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
খুলনায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর সাড়ে ৪ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে হরিণটানা গেট-সংলগ্ন একটি ফাঁকাস্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি নগরীর লবনচরা থানাধীন রায়পাড়া কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা শাহাজালালের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে শিশুটি বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট মামার বিয়ের দাওয়াত খেতে সাচিবুনিয়া মোহাম্মাদপুর এলাকায় যায়। সেখানে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নেন। এর মধ্যে মেয়ের ফিরে আসতে দেরি দেখে তার মা তাকে ফোন দেন। তখন বিপরীত থেকে তাকে জানানো হয়, মাওয়া আইসক্রিম খাচ্ছে; ওর যেতে দেরি হবে। এরপর থেকে পরিচিত ওই ব্যক্তির ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, দুপুরের পর থেকে মাওয়াকে ফিরে পেতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকেন, কিন্তু না পেয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর রাত ২টার দিকে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হরিণটানা গেটসংলগ্ন একটি ফাঁকা স্থান থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
লবনচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান বলেন, মরদেহের পাশে একটি দড়ি ছিল। সেটি দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
৫ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা এলাকার বাসিন্দা শরীফুল আনামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাশু রাজনীতির পাশাপাশি কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের পাশে ইট বালুর ব্যবসা করতেন। সোমবার সকালে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে একটি গুলি মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
১৪ দিন আগে
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় হানিফ শেখ নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে নগরীর জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হানিফ শেখ নগরীর ৪ নম্বর ঘাট এলাকার বাসিন্দা আজিজ শেখের ছেলে। পেশায় তিনি রিকশাচালক ছিলেন।
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত রিকশা চালিয়ে ভোরে ভৈরব নদে গোসল করে বাড়ি ফিরতেন হানিফ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে নদীতে নেমে তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের সদস্যরা নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেন। ওই দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও স্থানীয় ডুবরিরা ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাকে না পেয়ে সন্ধ্যায় অভিযান শেষ করেন। তার ৩ দিন পর আজ (শনিবার) সকাল ৬টার দিকে জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘাট এলাকার স্থানীয়রা জানান, আজ সেহরির কিছুক্ষণ পর নদীতে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা। এরপর স্থানীয় থানায় খবর দিলে থানা থেকে নৌপুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নৌপুলিশ খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার বলেন, ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে হানিফ শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিবারকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
পাশাপাশি কবরে শায়িত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। আর কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই সেতু এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, ৪ নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ। এছাড়া তার এক পুত্রবধু পুতুল বেগম নিহত হন। কয়রা উপজেলার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজায় অংশ নেন মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক জানাজায় অংশ নেয়।
মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোরভাবে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালের তার নিজ বাড়িতে।
১৬ দিন আগে
এক ট্রেনেই চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রুট, ট্রেন বাড়ানোর দাবি
একটি মাত্র ট্রেন দিয়ে চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রেলপথের যাত্রীসেবা। একই ট্রেন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন নামে চলাচল করায় দিনে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া যাতায়াতের সুযোগ নেই। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হয় নড়াইল জেলা। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে একটি মাত্র ট্রেন ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘জাহানাবাদ’—এই দুই নামে ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল এবং খুলনা রুটে চলাচল করছে।
‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটি সকাল ৬টায় খুলনা থেকে ছেড়ে সকাল সোয়া ৭টায় নড়াইলে পৌঁছায়। একই ট্রেন বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নামে বিকেল ৩টায় ছেড়ে নড়াইলে আসে বিকেল পৌনে ৫টায়। নড়াইল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানো যায়। তবে রাতে রাজধানীতে যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
রেলযাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘নড়াইল থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম এখন রেলপথ। কিন্তু সকাল ও বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
আরেক যাত্রী আ. আল-মারজান বলেন, ‘কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যোগাযোগের সুবিধা হয়েছে ঠিকই, তবে মাত্র একটি ট্রেন দুটি নামে চলায় আমরা পুরো সুবিধা পাচ্ছি না। নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
আমেনা বেগম বলেন, ‘রেল চালু হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। সকালে নড়াইল থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারি, আবার রাতে বাড়ি ফিরি। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে যাতায়াত আরও সহজ হবে।’
নড়াইল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চালুর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, ‘ঢাকা–নড়াইল–খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ট্রেন চালুর মাধ্যমে। তবে চাহিদা অনুযায়ী রেলসেবা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করেছে ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং বাকি ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা দিয়েছে চীন।
১৭ দিন আগে
খুলনা-বাগেরহাটে মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২
খুলনা, ১২ মার্চ (ইউএনবি)— বাগেরহাটের খুলনা- বাগেরহাট মহাসড়কে নৌবাহিনীর বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের গোনাইব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া নিহতদের ১০ জন একই পরিবারের সদস্য।
রামপাল রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ৮টি মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এবং বাকি মরদেহগুলো বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
আহত কয়েকজনকে খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৭ দিন আগে
খুলনায় শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে (৫৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে মহানগরীর ডাকবাংলোর মোড়ের বাটার শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ডাকবাংলা মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী মাসুমকে ভাড়ায় খুন করতে আসে। কে কত টাকা পাবে, তাদের মধ্যে তা হিসাব করা ছিল। ৭ জন মিলে মাসুমকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক পুলিশের একজন পরিদর্শক অশোক ঘোষকে কোমড়ে পিস্তল রাখতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করেন। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এ অপারেশনে ৭ জন জড়িত ছিল। তাদের কাছে নানা ধরনের ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ছিল।
খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম জানান, মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাসুমের রাজপথে ভূমিকা ছিল।
২৫ দিন আগে
খুলনায় যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদ খান (৪৫) নামে এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সেনহাটীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুরাদ উপজেলার হাজীগ্রামের খান মুনসুর আলীর ছেলে। তিনি দিঘলিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য ও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মুরাদ খান খুলনা থেকে তার হাজীগ্রামের নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে সেনহাটী মিয়া পাড়া মসজিদের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করেন। এ সময় তিনি দৌড়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিলে অস্ত্রধারীরা সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে অস্ত্রধারীরা চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মুরাদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। কারণ উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
৩০ দিন আগে