বরগুনা
বরগুনা-১-এ হাতপাখা ও বরগুনা-২-এ ধানের শীষের বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা।
বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ৪ হাজার ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে পোস্টালসহ সব কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ১৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯১টির ফলাফলই প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪০ হাজার ২৯১টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ১৪৫টি ভোট। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলিউল্লাহ ৪ হাজার ১৪৬টি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত বরগুনা ১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। এ আসনে ৩৭ হাজার ৯৬০ জন নতুন ভোটার হয়েছেন। এছাড়াও বরগুনা ১ আসনে ৬ হাজার ২৯৮ জন পোস্টাল ভোটার রয়েছেন।
এদিকে বরগুনা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম মনি।
নির্বাচনে পোস্টালসহ সব কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৩টির ফলাফলই প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬৪৩টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা: সুলতান আহম্মেদ পেয়েছেন ৮৫,২৪৭ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি ৫ হাজার ৩৯৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
বরগুনা-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪। মোট পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৫ হাজার ৪ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন।
৩ দিন আগে
১৫ বছরেও ভাঙা হয়নি আমতলীর পরিত্যক্ত আদালত ভবন, প্রাণের ঝুঁকিতে বিচারপ্রার্থীরা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসির অর্ধশত বছরের পুরনো পরিত্যক্ত দুটি দোতলা ভবনের কারণে বরগুনার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২০ হাজার বিচারপ্রার্থীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
ঝুঁকি নিয়েই তারা পরগাছা গজানো ভবন-সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে আদালতে যাওয়া-আসা করছেন। জীর্ণ ভবনটির ইট-পলেস্তারা খসে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত ভবন দুটি অপসারণের দাবী জানিয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
জানা গেছে, মেশিনারি যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি মজুদ রাখার উদ্দেশ্যে আমতলী উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ১৯৭৫ সালে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ দুটি দোতলা ভবন নির্মাণ করে। ভবন দুটি ১৫ বছর আগেই উপজেলা প্রশাসন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। এত বছরেও ভবন দুটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বরগুনা জেলা বার কাউন্সিলের সদস্য ও অতিরিক্ত প্রকিসিউটর অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবন দুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেগুলোর মাঝখান দিয়ে আদালতের প্রবেশদ্বার। সেখান দিয়ে প্রতিদিন বিচারকাজে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আদালতে আসা-যাওয়া করছেন। ভবন দুটি এতই ঝুঁকিপুর্ণ যে, যেকোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ভবনগুলোতে পরগাছা জন্মে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায়ও ভবনের ভেতরে মানুষ প্রবেশ করতে ভয় পায়। তাই ভবন দুটি যত দ্রুত সম্ভব অপসারণের দাবি তুলেছেন আদালতের বিচারপ্রার্থীরা।
সরেজমিনে আদালত চত্বর ঘুরে দেখা যায়, দুটি ভবনেরই কিছু কিছু স্থান থেকে ইট, পাথর ও বিম খসে পড়েছে। ভবনে পরগাছা জন্মে ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভগ্নদশা ওই ভবন দুটির মাঝখান দিয়েই আদালতে যাওয়া-আসা করছে অসংখ্য মানুষ। এই অবস্থায় যদি ভবন ধ্বসে পড়ে, তাহলে বিচারপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী আব্দুল মাজেদ মাস্টার বলেন, আদালতের সামনে এভাবে দুটি পরিত্যক্ত ভবন দেখতে যেমন অসুন্দর, তেমনি জীবনের ঝুঁকিও অনেক। দ্রুত ভবন দুটি অপসারণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এত ঝুঁকিপুর্ণ ভবন আদালতের যেমন ভাবমুর্তি বিনষ্ট করছে, তেমনি আদালতের প্রবেশদ্বার দিয়ে চলাচলকারী মানুষের জন্যেও বেশ ঝুঁকি রয়েছে।
আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের পেশকার মো. আবুবকর বলেন, আদালতের প্রবেশপথের দুই পাশে দুটি দ্বিতল ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এগুলো ধসে পড়লে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুহু-উল আলম নবীন বলেন, বিএডিসির পরিত্যক্ত ভবন দুটি বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আদালতে প্রবেশপথে কখন কী হয়ে যায়, আল্লাই জানে!
আমতলী উপজেলা বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, মেশিনারিজ যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি মজুদ রাখতে ভবন দুটি নির্মাণ করা হয়। ওই ভবন দুটি অনেক আগেই উপজেলা প্রশাসন পরিত্যক্ত ঘোষণ করেছে। কিন্তু কেন সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য নয়।
বরগুনা জেলা বার কাউন্সিল সদস্য ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পরিত্যক্ত ভবন দুটি অপসারণ করতে উপজেলা প্রশাসনকে বেশ কয়েকবার অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ভবন দুটি অপসারণ করে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জীবনের ঝুঁকি লাঘবের দাবি করেন তিনি।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, আগের পরিত্যক্ত তালিকায় ওই ভবন দুটি থাকতে পারে। তবে খোঁজ খবর নিয়ে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ওই পরিত্যক্ত ভবন দুটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত অপসারণ করা হবে।
৫২ দিন আগে
বরগুনায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলায় আওয়ামীপন্থী ১২ আইনজীবী কারাগারে
বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় বরগুনা আইনজীবী সমিতির আওয়াপন্থী ১২ আইউনজীবীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনা বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুর রহমানের আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
আসামিরা হলেন- মাহবুবুল বারী আসলাম, মজিবুর রহমান, এম মজিবুল হক কিসলু, হুমায়ুন কবির, হুমায়ুন কবির পল্টু, সাইমুল ইসলাম রাব্বি, জুনায়েদ জুয়েল, আমিনুল ইসলাম মিলন, নুরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন মোল্লা, ইমরান হোসেন, আব্দুর রহমান জুয়েল।
মামলা সূত্র জানায়, দুই বছর আগে ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা জেলা আওয়ামী লীগের অফিস কার্যালয়ে কেক কেটে শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করেন। পরে সেখান থেকে সবাই একত্রিত হয়ে লোহার রড, জিআই পাইপ, বগি দাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে বরগুনার বিএনপিকে উৎখাত করতে মিছিল সহকারে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন তারা।
মামলার পর ১২ আসামি চলতি বছরের ২ জুলাই হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন নেন এবং ২১ জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিননামা দাখিল করেন। পরে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ২৪ জুলাই তারা আবারও জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেদিন নথি তলব করে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুল মোতালেব মিয়া ও মো. হাবিবুর রহমান আকন বলেন, ‘আমরা আবারও জামিনের জন্য আবেদন করব। আসামিরা প্রত্যেকেই কোর্টে নিয়মিত কর্মরত, পালানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া, মামলাটি দুই বছর আগের ঘটনা নিয়ে করা হয়েছে এবং অনেক আসামি আওয়ামী লীগের সদস্যও নন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের পিপি মো. নুরুল আমীন বলেন, ২০২৩ সালে ১৭ মার্চ বরগুনা জেলা বিএনপির অফিস ভাঙচুর ও শহীদ জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর করেন তারা। এ ঘটনার মামলায় ১২ জন আইনজীবী আসামি ছিল। আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগের পদধারী।
১৬৭ দিন আগে
বরগুনায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম. বালিয়াতলী ইউনিয়নে একটি পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাতাকাটা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।নিহত শিশু দুজন হলো, পাতাকাটা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জুনায়েদ (১০) ও রাসেল হোসেনের ছেলে ইয়াসিন (৯)। তারা প্রতিবেশী এবং সমবয়সী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জুনায়েদ ও ইয়াসিন বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে খেলছিল। খেলার সময় হঠাৎ জুনায়েদ পুকুরে পড়ে গেলে ইয়াসিন তাকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। উভয়েই পানিতে তলিয়ে যায়।
দীর্ঘক্ষণ তাদের খোঁজ না পেয়ে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা খুঁজতে শুরু করে। পরে পুকুর থেকে দুজনকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করে লাশ পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন: মাগুরার পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
২৩০ দিন আগে
বরগুনায় চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২, নিখোঁজ ৪
বরগুনার পাথরঘাটায় সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে দুটি ট্রলিং ট্রলার আটক, চাঁদা দাবি, আহরিত মাছ ছিনতাইসহ মৎসজীবীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই মৎসজীবী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও ট্রলার থেকে খালে পড়ে ৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পাথরঘাটার মৎসজীবীরা।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটার বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর ভাড়ানি খালে কোস্টগার্ডের বোর্ট কূলে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় আলম কোম্পানি ও মাসুম কোম্পানির দুটি মডিফাইড ট্রলিং ট্রলার আটক করে কোস্টগার্ড।
আটক হওয়া একটি ট্রলারের মালিক ও বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আকন জানান, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরার জন্য যান উপকূলের হাজার হাজার মৎসজীবীরা।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আমার একটি ট্রলার ঘাটের দিকে আসে। এ সময় কোস্টগার্ড ট্রলারটি আটক করে। এর পরপরই আলম কোম্পানি আরেকটি ট্রলার আটক করে কোস্টগার্ড।’
মাসুম আকন অভিযোগ করেন, ‘ট্রলার আটক করার পর আমাদের উপস্থিতিতে কোস্টগার্ড সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তখন আমরা বৈধ কাগজপত্র দেখালেও তা গ্রহণ না করে ট্রলার ধ্বংসের চেষ্টা করেন তারা। এ সময় পাথরঘাটা মৎস্য কর্মকর্তা আমাদের বৈধ কাগজপত্র ও হাইকোর্টের আদেশ দেখে ট্রলার ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে চলে যান।’
তবে কোস্টগার্ড সদস্যরা বিষয়টি না মেনে মঙ্গলবার রাতে ট্রলার ধংস করা শুরু করেন বলে জানান তিনি।
মাসুম আরও বলেন, ‘ট্রলার ধংস করা শুরু করলে মৎসজীবীরা আপত্তি জানান। তখন দুজন মৎসজীবীকে মারধর করা হয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।’
এ ঘটনায় ২ জেলে আহত হয়েছেন এবং আরও ৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান তিনি।
মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরও জানান, ঈদের ছুটির আগেও কোস্টগার্ড কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। ঈদের ছুটির পর বাড়ি থেকে এসে আবারও তাদের স্টেশনে ডেকে নিয়ে ট্রলিং ট্রলারের তালিকা চাওয়া হয়। সেই তালিকা থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা। এর আগেও কয়েক দফা টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উত্তেজনার একপর্যায়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা মৎসজীবীদের লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মৎসজীবীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ ছাড়াও আটক ট্রলারে থাকা মৎসজীবীদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যা: ঢাবির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, তারা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
২৪৩ দিন আগে
শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ে ছাই বরগুনায় দুই বসতবাড়ি
বরগুনা সদর উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা।
শনিবার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের টিলাবাড়ী গ্রামের (৪ নম্বর ওয়ার্ড) মৃত সেন্টু মিয়ার বসতবাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পাশেই সেন্টু মিয়ার ভাতিজা মো. মোতালেব মিয়ার বাড়িতে।
বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তবে এলাকাটির দুর্গম হওয়ার কারণে ফায়ার ট্রাক সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে পানি এনে রাত ৯টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আগুনে দুটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। মারা গেছে তিনটি গৃহপালিত ছাগল। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬-৭ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।’
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ঝুট গুদামে আগুন
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মোতালেব মিয়া (৪৫) বলেন, ‘হঠাৎ করে বিদ্যুতের তার থেকে আগুন বের হয়ে পুরো ঘরটাকে ঘিরে ফেলে। কিছুই বাঁচাতে পারিনি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জেনেছি।
স্থানীয়দের দাবি, এমন ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
২৪৬ দিন আগে
বরগুনায় একদিনে ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু
বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) দুপুরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চান মিয়া ফকির (৭৫) এবং সন্ধ্যায় গোসাই দাস (৭০) নামের এই দুজনের মৃত্যু হয়।
চান মিয়া সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং গোসাই দাস বরগুনা পৌরসভার শহীদ স্মৃতি সড়কের বাসিন্দা ছিলেন।
চান মিয়ার মেয়ে কুলসুম জানান, ‘তিনদিন আগে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে প্লাটিলেট পরীক্ষায় দেখা যায় তা ৬৪ হাজারে নেমে এসেছে। দুপুরেই বাবা মারা যান।’
বরগুনা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, ‘রেফার করার পরও স্বজনরা রোগীদের বরিশালে না নিয়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং মৃত্যু হয়।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ‘দুজনই বয়স্ক ছিলেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে বরিশালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা এখানেই থেকে যান।’
আরও পড়ুন: করোনার চোখ রাঙানি: পর্যটকপ্রিয় রাঙ্গামাটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক প্রস্তুতি
বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৭২ জন, যার মধ্যে ৩১ জন শিশু।’
বরগুনাবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই পরিস্থিতিকে ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় ঝরে পড়ছে মূল্যবান প্রাণ।
২৪৯ দিন আগে
নিদ্রা সৈকত: অপার সম্ভাবনার এক নিসর্গ ভূমি
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রা সমুদ্র সৈকত, যা স্থানীয়ভাবে ‘নিদ্রার চর’ নামেও পরিচিত। অপরূপ এই সৈকতটি বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই সৈকতটির একদিকে সাগর, অন্যদিকে নদী এবং মাঝখানে কেওড়া ও ঝাউবনে ঘেরা সবুজ পরিবেশ। এখানকার জোয়ার-ভাঁটার খেলা, সবুজ ঘাসের বিস্তীর্ণ প্রান্তর এবং শ্বাসমূলের সমারোহ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমান বলেন, নিদ্রা সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য পর্যটকদের সহজেই আকর্ষণ করতে সক্ষম। এখানে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা গেলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, নিদ্রা সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা এবং সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
নিদ্রা সৈকতের কাছেই রয়েছে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, যেখানে প্রতি বছর জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি, ফাতরার চর ও সোনাকাটা ইকোপার্কও এই এলাকায় অবস্থিত। সব মিলিয়ে নিদ্রা সৈকত ও এর আশপাশের এলাকা পর্যটকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: বৈশাখী মেঘের ডাকে মাটি ফুঁড়ে ‘মে বলের’ হাতছানি
সার্বিকভাবে, নিদ্রা সমুদ্র সৈকত তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশ এবং আশেপাশের পর্যটন স্থানের সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
২৮২ দিন আগে
বরগুনায় মাজার ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, আহত ২০
বরগুনার আমতলীর ইসমাইল শাহ মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সোলায়মান, রেজাউল, বাদল মৃধা, দুলাল মৃধা, আবু বকর, আবুল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. মামুন, আবুল কালাম, জোবায়ের ও ফজলুল করিমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানন, বরগুনার আমতলীর ইসমাইল শাহ মাজারে ২৮তম ওরশ গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শুরু হয়। ওইদিন রাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সমর্থক ও জনতা এসে মাজার কর্তৃপক্ষকে মাজার পুজা ও গান বাজনা বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু মাজারের প্রধান খাদেম মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ওরশ বন্ধে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলাকালীন এক পর্যায় তার সমর্থক ও কিছু জনতা লাঠিসোটা নিয়ে মাজারে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই ওরশে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত পৌনে তিনটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে মাজার ভাংচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন
খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে মাজারের দুইটি বৈঠকখানা ও মাজারের মধ্যে সামিয়ানা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাসেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী শাখার সভাপতি ওমর ফারুক জেহাদী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোঠা নিয়ে এসে মাজার ভাঙচুর করে। পরে মাজারে আগুন দেয়।
ইসমাইল শাহ মাজারের প্রধান খাদেম মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের দাবী, মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও গাজী বায়েজিদের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সমর্থক লাঠিসোঠা নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে মাজারে হামলা চালায় ও আগুন দেয়। এতে মাজারের ভেতরের গিলাব ও দুটি বৈঠকখানা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা ভক্তদের মারধর ও মাজারের বাক্সে থাকা টাকা পয়সা লুটপাট করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী বায়েজিদ বলেন, ‘মুফতী মাওলানা ওমর ফারুকসহ আমাদের বেশ কিছু সমর্থক ও বিক্ষুব্ধ জনতা গিয়ে মাজারের প্রধান খাদেমকে পবিত্র রমজান মাসে মাজার পূজা ও গান-বাজনা করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি তা মানতে নারাজ। এক পর্যায় তার ভক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদীর গায়ে হাত তুলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মাজারটিতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৩৬ দিন আগে
বরগুনায় নিহত মন্টুর ১৮ মাসের শিশুর দায়িত্ব নিলেন জামায়াত আমির
বরগুনায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার পর হত্যার শিকার মন্টু চন্দ্র দাশের ১৮ মাস বয়সী শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১৭ মার্চ) সকালে পৌরশহরের কালিবাড়ী কড়ইতলায় মন্টু দাশের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এসময় মন্টু চন্দ্রের স্ত্রীর সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন দুঃখ-কষ্টের কথা শোনেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান এসময় নিহতের পরিবারকে বিভিন্ন রকমের ফল ও ঈদ সামগ্রীসহ নগদ টাকা উপহার দেন।
আরও পড়ুন: আজহারকে মুক্তি না দিলে নিজেকে গ্রেপ্তারের আর্জি জামায়াত আমিরের
নিহত মন্টু দাসের দেড় মাসের ছোট শিশু কন্যাটিকে কোলে নিয়ে তিনি বলেন, এই কন্যা শিশুটির বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের সকল ধরনের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা আমরা করব। আপনাদের সব রকম সহযোগিতা করার জন্য আমরা আপনাদের পাশে থাকব।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে নেমে নিহত মন্টু দাস ও ধর্ষিতা নন্দিনী দাসের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে যান।
পরে বরগুনা শহীদ মিনার চত্বরে পথসভায় তিনি বলেন, বরগুনার আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও তার বাবাকে হত্যার এ ঘটনায় মামলার রায় ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। কিন্তু সতর্ক করে দিতে চাই, এটা ৯১ দিন হলে আমরা মানব না।
বরগুনা ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবাকে হাড়ানো শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জমায়াত প্রধান।
এ সময় তিনি তাদের মেয়েদের লেখাপড়া এবং সংসারের অন্যান্য খরচের ব্যবস্থা করাপর জন্য কিছু সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এ জন্য মন্টুর স্ত্রী শিখা রানী দাশকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, অ্যাডভোকেট. মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বরগুনা জেলা জামায়াতের আমির মো. মহিবুল্লাহ হারুনসহসহ অন্যান্য নেতারা।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত
উল্লেখ্য, ১১ মার্চ রাতে বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ি স্টাফ কোয়ার্টার দীঘির দক্ষিণ পাশে ঝোপঝাড় থেকে মন্টু চন্দ্র দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা করেন।
মন্টু চন্দ্র বরগুনা বাজারের একটি মুরগির দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তার পরিবারে দেড় মাসের এক কন্যা শিশু, চার বছরের এবং ১২ বছরের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
মন্টুর পরিবারের দাবি, তার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ এনে মন্টু বরগুনা থানায় মামলা করার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মন্টুর স্ত্রী আরেকটি মামলা করেছেন। অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত সৃজীব চন্দ্র রায়, তার সহযোগী কালু ও রফিক কারাগারে আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
৩৩৬ দিন আগে