জালিয়াতি
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে জালিয়াতি, ‘নির্বিকার’ কুমিল্লা বোর্ড
সাবিকুন নাহার ঝুমা। দশম শ্রেণিতে মেয়েটির রোল ছিল ১২। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী নির্বাচনি পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
ঝুমার বাবা ফার্নিচারের কাজ করেন, মা গৃহিণী। প্রথম সন্তানের ফলাফল আসবে, এ নিয়ে উচ্ছ্বাসের সীমা ছিল না তাদের। তার ওপর সামনের সারির শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ পাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার। কিন্তু বিধি বাম! ঝুমার ফলাফলই আসেনি।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঝুমা আবিষ্কার করে, তার রোল নম্বরের জায়গায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফল এসেছে। তাও তিন বিষয়ে অকৃতকার্য। মুহূর্তেই ঝুমার জীবনে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় পুরো পরিবারের।
এ নিয়ে মতলব দক্ষিণের বাসিন্দা এই শিক্ষার্থীর পরিবারে হাহাকার নেমে এলেও তাদের কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড এখনও নির্বিকার অবস্থায় রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছেন। নামমাত্র তদন্ত কমিটি হলেও তাতে কমিটির সদস্যদের শুধু সই নেওয়া হয়েছে, বিস্তারিত তাদেরও জানানো হয়নি।
তবে ঝুমার পরিবার প্রতিবাদ করতেই বেরিয়ে আসে অন্য গল্প। শুধু ঝুমা নয়, এমন আরও ২০ জনের ফলাফলে গরমিল দেখা গেছে। তারা যে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছিল, সেই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ফল আসে অন্য শিক্ষার্থীদের, যাদের কেউই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
ঝুমার মা শাহিদা আক্তার জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কয়েকবার কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে যান তারা। তদন্ত শেষে ২০ জনের ফল পরিবর্তনও হয়, ফল পরিবর্তন হয়নি শুধু তার মেয়ের।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের একটা বছর নষ্ট হলো। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ল। এর দায় কে নেবে?’
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালে আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের খাদেরগাঁও গ্রামে অবস্থিত। ওই ইউনিয়নের প্রথম বিদ্যালয় এটি। বিদ্যালয়টি নিয়ে গ্রামের সবার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া।
বিদ্যালয়টির দাতা সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, এক একর জমির ওপর এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। আমি এখানে ২২ শতাংশ জায়গা দান করি। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর দারুণভাবে চলছিল। এখানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০২২ সালে যোগ দেন মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। আগে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে ভালোই ছিলেন, তবে প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর তার মাথায় লোভ কাজ করা শুরু করে। তিনি রাত ১১টা পর্যন্ত অফিস কক্ষে বসে থাকতেন। কোনো কাজই অন্যদের দিয়ে করাতেন না।
বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর ঢালীর দাবি, প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে নিয়মিত ২০ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করেননি। তার পরিবর্তে টাকা খেয়ে তিনি অন্য দুর্বল ও অনিয়মিত ২০ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশন করেন। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রকে ফটোশপে এডিট করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় বসিয়ে দেন। এটা দিয়েই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার কারণে ফল আসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা দুর্বল ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই বোর্ডকে জানাই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুবার বোর্ডে যাই। বোর্ড পরবর্তীতে আগের ফল বাতিল করে নতুন ফল দেয়।’
এদিকে, সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সাবিকুন নাহার ঝুমা নয়, খাদিজা আক্তার নামে বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীও জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। তারও ফল শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি।
বিদ্যালয়টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ২০২৫ সালে ৭৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ২০ জনের ফলে এমন গরমিল দেখা দেয়। এবার ৯৯ জন পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ফেরাতে কাজ করছি। এ ঘটনায় বোর্ড একটি তদন্ত করেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে আরও একটি তদন্ত চলছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেরও দায় আছে। এক-দুজন নয়, একই প্রতিষ্ঠানের ২০ জন শিক্ষার্থী অন্যের রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছেন, প্রাথমিক অবস্থায় বোর্ডের তা দৃষ্টিগোচর হয়নি। পুরো বোর্ডে এমন অসংখ্য জালিয়াতি হতে পারে।
তারা আরও বলেছেন, বোর্ড কর্তৃপক্ষ এতবড় জালিয়াতির ঘটনায় কী তদন্ত করেছেন, তদন্তের ফলাফল কী, তা স্পষ্ট করেননি। বোর্ড থেকে ওই বিদ্যালয়ের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি; ফেরত দেওয়া হয়নি বঞ্চিত একাধিক শিক্ষার্থীর ফলাফল।
তাদের দাবি, তদন্ত কমিটিতে যে ছয়জন রয়েছেন, তদন্তের ফলাফলের অনুলিপি তাদের সরবরাহ করা হয়নি। ইংরেজি ‘এস’ অদ্যাক্ষরের দুই কর্মকর্তার এতে যোগসাজস রয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন বলেন, ‘এ ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধান শিক্ষক এমনভাবে জালিয়াতি করেছেন যা কল্পনাকেও হার মানায়। তিনি রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর যেভাবে নকল করেছেন, তা যে কারও পক্ষে ধরা মুশকিল। তারপরও তদন্তের পর যে কয়জনের খাতা পাওয়া গেছে, তাদের ফল সংশোধন করা হয়েছে। যাদের পাওয়া যায়নি, তাদেরটা সংশোধন করা যায়নি।’
৬ দিন আগে
জালিয়াতি ও অর্থ কেলেঙ্কারি: রেলওয়ের দুই কর্মচারীর ‘গুরুদণ্ড’
পরস্পরের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে একই ঠিকাদারি কাজের বিল দুইবার উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের দুই কর্মচারীকে চাকরিবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিন। তারা দুজনই লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) দপ্তরের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
লালমনিরহাট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শাস্তির অংশ হিসেবে তাদের দুজনকেই পাঁচ বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।
রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট স্টেশন থেকে আদিতমারী পর্যন্ত রেললাইনের ‘প্রোটেকশন ওয়াল’ নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স রিচ ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি একটি অর্থনৈতিক কোডের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ভিন্ন অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে একই পরিমাণ অর্থ পুনরায় উত্তোলন করে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যা গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির শামিল।
বিষয়টি উদঘাটন করেন লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) মো. শিপন আলী। এরপর ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীকে (এইএন) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধি দ্বিতীয়বার বিল উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা জানান, তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনের পরামর্শে প্রলুব্ধ হয়ে তারা এ কাজ করেছেন। তবে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রথম বিল প্রক্রিয়াকরণে তারিকুল ইসলাম জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও দ্বিতীয়বার বিল প্রদানের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে দাবি করেন। কিন্তু নথিপত্রে দেখা যায়, দ্বিতীয়বার বিল পাঠানোর ক্ষেত্রেও তার সই রয়েছে।
অন্যদিকে, রইছ উদ্দিন নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বিল প্রক্রিয়াকরণ, রেজিস্টার সংরক্ষণ, অগ্রায়ন পত্র প্রেরণ এবং হিসাব বিভাগের প্রত্যয়ন সংগ্রহসহ পুরো প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রইছ উদ্দিন রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী দপ্তরে কর্মরত অবস্থায়ই নিজের ভাইয়ের নামে লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ করতেন এবং গত পাঁচ বছরে একাধিক টেন্ডার লাভ করেন। এসব কাজ তিনি অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটি সাক্ষ্য, জবানবন্দি ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে দেয়, একই কাজের বিল পুনরায় উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনই মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে ‘রেলওয়ে কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) বিধি, ১৯৬১’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ‘গুরুদণ্ড’ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা প্রায় আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। সব তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি যে অভিযুক্তরা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শিপন আলী বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: ২ জনের কারাদণ্ড
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসকের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন তাদের আটক করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আসাদ আলী (২৫) এবং দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নুর আলম (৩৫)।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নুর আলম অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। অপরদিকে আসাদ আলীকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় আটক করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশাদুল হক। তিনি বলেন, নুর আলমকে ১৫ দিনের এবং আসাদ আলীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীন রাজস্ব প্রশাসনের অফিস সহায়ক পদের এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে চার হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের প্রশ্নপত্র ছিল।
১৩০ দিন আগে
টাকা দিলেই মিলত জন্ম সনদ, সুযোগ নিয়েছে রোহিঙ্গারাও
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ছিলেন ছুটিতে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যকে হাত করে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম করার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ সুমন পারভেজের বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে কোনোপ্রকার বাছবিচার ছাড়াই একের পর এক জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করেছেন পারভেজ। এমনকি রোহিঙ্গারাও টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে জন্ম সনদ নিয়েছে।
সম্প্রতি বিষয়টি সবার সামনে এলে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকার কেউ নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করলে মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও তা ইস্যু নিয়ে কোনো তাড়া দেখা যায় না। অথচ টাকা দিয়ে এখান থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই জন্ম সনদ নিয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ।
তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম সনদ নেওয়ার কথা থাকলেও গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোর, রংপুর ও দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অধিবাসীরা বুধল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম সনদ বানিয়েছেন। এসব সনদে তাদের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ২ নম্বর বুধল ইউনিয়ন পরিষদ।
বিদেশ গমন, বিয়ে, নতুন ভোটার হালনাগাদ ও বয়স বাড়ানো-কমানোসহ নানা প্রয়োজনে টাকার বিনিময়ে নানা জায়গার মানুষ সুযোগের ‘সদ্ব্যবহার’ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আরও পড়ুন: ১০ বছর ধরে নেই কোনো মুসলিম শিক্ষক, ইসলাম শিক্ষা পড়াচ্ছেন হিন্দু শিক্ষকরা
জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ও সনদ ইস্যুর পর তা প্রিন্ট করতে হলে প্রসাশনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দিষ্ট সার্ভার অ্যাকাউন্ট ও ওটিপির প্রয়োজন হয়। তাহলে চেয়ারম্যাচের অগোচরে কীভাবে এমন ভয়াবহ দুর্নীতি ঘটল, তা জানতে চাইলে দুধল ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল রহমান (শফিক) বলেন, ‘২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত আমি ছুটিতে ছিলাম। এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. সাদেক মিয়া। আমার অনুপস্থিতিতে তার সঙ্গে আঁতাত করেই ইউপি সচিব পারভেজ এই জালিয়াতি শুরু করেন।’
জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করে ইউনিয়ন পরিষদের নারী উদ্যোক্তা ফারজানা আক্তারকে দিয়ে তারা সেগুলো প্রিন্ট করাতেন বলে জানান শফিক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘ছুটি থেকে ফিরে গত ২২ জানুয়ারি আমি অফিস শুরু করলে এক ব্যক্তি টেলিফোনে বিষয়টি আমাকে জানান। তারপর আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই।’
‘পরে পারভেজকে এ বিষয়ে ধরলে চাপে পড়ে তিনি দায় স্বীকার করেন। এমনকি স্ট্যাম্পে লিখিতও দেন তিনি।’
ইউপি সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে ২০২৩ সালেও সুমন পারভেজের বিরুদ্ধে একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ এনে জেলা প্রসাশকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় আবেদন করা হলেও শুরুতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদেই কর্মরত ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য বিষয়টি জানাজানি হলে সেখান থেকে তাকে কসবা উপজেলা খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদের নারী উদ্যোক্তা ফারজানা আক্তারের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে ইউএনবিকে তিনি বলেন, ‘আমাকে চাপ দিয়ে সুমন পারভেজ স্যার এসব কাজ করাতেন। ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলতে পারি নাই। সব সময় তিনি আমাকে চাপের মধ্যে রাখতেন।’
নারী উদ্যোক্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ হাসিলে সুমন পারভেজের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে সমর্থন দেন শফিক চেয়ারম্যানও। বলেন, ‘তার (পারভেজ) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
আরও পড়ুন: রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে মশার উপদ্রব, নগরজুড়ে উদ্বেগ
কথা হয় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা সাদেক মেম্বারের সঙ্গেও। তার দাবি, তাকে বিষয়টি বুঝতে না দিয়ে পাসওয়ার্ড নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইউএনবিকে মো. সাদেক মিয়া বলেন, ‘২/৩ দিনে প্রায় পৌনে দুইশ মানুষের জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে এখান থেকে। অন্য জায়গা থেকে আবেদন করে সে (পারভেজ) ইউনিয়ন পরিষদে এন্ট্রি করে পিডিএফ আকারে নিয়ে যেত।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘এমন ঘটনা সব জায়গাতেই হচ্ছে, শুধু আমার জেলাতে হয়েছে—এমন নয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুমনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আমি শুনেছি। তদন্তে তিনি যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সুমন পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নেন। তবে নিজের অসুস্থতা এবং মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে অজুহাতে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি।
৪৩৩ দিন আগে
শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: ডিভাইস ব্যবহারে জালিয়াতি, ভাই-বোন আটক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কানের ভেতর ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করায় ভাই ও বোনকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি অস্ত্র-গুলি জব্দ, যুবক আটক
আটরা হলেন- জেলার বিজয়নগর উপজেলার টুকচানপুর এলাকার আব্দুল মালেকের মেয়ে রিনা আক্তার ও ছেলে আব্দুল জলিল।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সকাল ১০টায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে রিনা আক্তার প্রায় আধা ঘণ্টা পেরোলেও না লিখে বসে ছিলেন। তখন কেন্দ্রে পরিদর্শকের সন্দেহ হলে রিনার দেহ তল্লাশি করা হয়। কানের ভেতরে লুকিয়ে রাখা খুব ছোট একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পরে কলেজের অধ্যক্ষ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম শেখকে জানানো হয়। শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্য মতে পরে তার ভাইকেও আটক করা হয়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম শেখ বলেন, ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থী হয়তো পরীক্ষার শেষ সময়ের ১০ মিনিট আগে উত্তর লেখার চেষ্টা করতেন।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি বিশাল চক্র। তিনি তার ভাইয়ের মাধ্যমে এই ডিভাইসটি সংগ্রহ করেন। পরে তার ভাইকেও আটক করা হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আটকের চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন: নাটোরে স্কুলছাত্রকে ডেকে নিয়ে খুন, আটক ৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ কেজি গান পাউডার জব্দ, আটক ১
৭৬৭ দিন আগে
সন্ত্রাস-জালিয়াতি ও দেশবিরোধী অপপ্রচারই বিএনপির রাজনীতির উপাদান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির রাজনীতির ভিত্তি ৩টি। সন্ত্রাস-খুন, জালিয়াতি, বিদেশে অপপ্রচার।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ‘১৯৯৪ সালে লালবাগে ৭ হত্যাকাণ্ড’ স্মরণে রাজধানীর লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্ক মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ড. হাছান বলেন, আসলে বিএনপি-জামায়াত খুনি চক্র। তারা হত্যার রাজনীতিটাই করে। আজ যারা বিএনপির বড় বড় নেতা মির্জা ফখরুল সাহেব, রিজভী সাহেব সবাই বিএনপি ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলানোর আগে অন্য দল করত। জিয়াউর রহমান মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়েই বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিল। সুতরাং সেই হত্যা-খুন সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারে নাই।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে বিএনপি যেভাবে আগুনসন্ত্রাস চালিয়েছে, ২৮ অক্টোবর সমাবেশের নামে একজন পুলিশ সদস্যকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে- এটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অনুকরণে তারা পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালিয়ে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সসহ হাসপাতালের ১৯টি গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে যা দেশের ইতিহাসে ঘটেনি।
আরও পড়ুন: ইউনূসকে নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, বিবৃতি নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জালিয়াতি করতে গিয়ে বিএনপি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভুয়া উপদেষ্টাও বানিয়েছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথমে দেখা গেল সে ইংরেজি ছাড়া কিছুই বলতে পারে না পরে দেখা গেল যে গড়গড়িয়ে বাংলা কয়।
আপনাদের মনে আছে যে, কংগ্রেসম্যানদের সই জাল করেছিল বিএনপি এবং ভারতের মন্ত্রী অমিত শাহ'র সঙ্গে কথা হয়েছে বলে একটা ভুয়া অডিও ছেড়েছিল তারা।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে বিএনপি ভরাডুবি নিশ্চিত বুঝেই অংশ নেয়নি এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু পারে নাই। এই নির্বাচনকে বৈধতা না দেওয়ার জন্য, সরকারকে বৈধতা না দেওয়ার জন্য বিদেশিদের কাছে চিঠি লিখেছে। কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্র নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বহু রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছে। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা শুনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, ভারত, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতসহ ৮০ জন ডিপ্লোম্যাট উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি শহীদ শাহ আলম, হাফিজ উদ্দীন, দেলওয়ার হোসেন, আনসারউল্লা গাজী, আনোয়ার হোসেন আনু, নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইউনুসের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলাম। এটি তারা মেনে নিতে পারে নাই। নির্বাচনের পরের দিন এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এরপরেও দমিত হয়নি বরং এই খুনি চক্রকে রুখে দাঁড়িয়েছিল। সেই বিজয়ের যাত্রাপথ বেয়ে ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বিমসটেক মহাসচিবের সাক্ষাৎ
টিআইবি'র অভ্যন্তরে দুর্নীতি আছে কি না পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার
দুর্নীতি সূচকে দেশের অবস্থান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অভ্যন্তরে কোনো দুর্নীতি আছে কি না সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারকে পুরো পৃথিবী অভিনন্দন জানিয়েছে। পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্র নতুন সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। এটাকে খাটো করার জন্য কিছু একটা বলতে হবে। সেজন্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে না-কি দুই ধাপ নেমে গেছে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, এখন টিআইবির অভ্যন্তরে কোনো দুর্নীতি আছে কি না সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার। এভাবে একপেশে রিপোর্ট দিয়ে সরকারকে খাটো করা যাবে না।
বাংলাদেশে কিছু প্রতিষ্ঠান আছে তারা অন্যদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যেখান থেকে ফান্ড পায়, যেভাবে প্রেসক্রিপশন দেয় সেভাবেই কাজ করে। তবে এ ধরণের সংগঠন থাকুক আমরা চাই।
আমরা মনে করি সিভিল সোসাইটি সংস্থাগুলো সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে পারে, সেজন্য এ ধরণের প্রতিষ্ঠান থাকা ভালো। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান যখন এক চোখা হয়ে যায়, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের মতো কথা বলে, রিজভী আহমেদের কথা আর টিআইবির বক্তব্য যখন মিলে যায় তখন বোঝা যায়, ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক-বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে প্রত্যেক দেশই আগ্রহী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৮২৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক ১৩
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বনের অভিযোগে লালমনিরহাটে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক।
আরও পড়ুন: রংপুরে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষকসহ আটক ১৯
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা চলাকালীন কয়েকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ অসৎ উপায় অবলম্বনের অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ১৩ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: ১২ পরীক্ষার্থী আটক, বহিষ্কার ৩
গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ আটক ৩৫
৮৭৯ দিন আগে
শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতি ও বদলি পরীক্ষা দেওয়ায় আটক ১৮
দিনাজপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতি ও বদলি পরীক্ষা দেওয়ায় ১৮ জনকে বহিষ্কারসহ আটক করা হয়েছে।
এসময় ১৬ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত ১৬টি ডিভাইস। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় নকলে সহায়তার ডিভাইসসহ গ্রেপ্তার ২
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, দিনাজপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ৫৪টি কেন্দ্রে অংশ নিয়েছিল ৩৮ হাজার ৯ জন প্রার্থী।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা চলাকালে ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করার সময় ১৬ জনকে এবং বদলি পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনায় আরও দুইজনকে প্রথমে বহিষ্কার এবং পরে আটক দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধার করা হয়েছে তথ্য আদান-প্রদানে সহায়ক ১৬টি ডিভাইস। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে চালের ট্রাকে আগুন
দিনাজপুরে মধ্যরাতে বাসে আগুন
৮৭৯ দিন আগে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকায় চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ১৫
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে শনিবার (২৫ নভেম্বর) এক চীনা নাগরিকসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ ঘটনায় চক্রটির ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চক্রের প্রধান ঝ্যাং জি ঝাহ্যাং (৬০) নামে এক চীনা নাগরিক।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) রাজধানীর হাতিরঝিল ও কাফরুল থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
চক্রটি বৈধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছাড়াই সহজ ঋণের সুযোগ এবং চাকরির আবেদনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করে প্রতারণামূলক স্কিমগুলোতে জড়িত ছিল।
অভিযানের সময় পুলিশ সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে আলামত জব্দ করে এবং ২৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য উদঘাটন করে।
আরও পড়ুন: রংপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, গত দুই বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এই গ্রুপটি।
তবে এই অর্থের কোনোটিই বাংলাদেশে নেই। সবগুলোই চীনে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুধু গত ছয় মাসে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৫০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এই চক্রটি দেশটিতে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ মানুষকে প্রতারিত করেছে।
ডিবি প্রধান তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, চীনা নাগরিকদের তৈরি একটি অ্যাপের সার্ভার সিঙ্গাপুরে রয়েছে এবং কল সেন্টারগুলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অবস্থিত। চক্রটি ভুক্তভোগীদের অল্প পরিমাণ টাকা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।
তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করার জন্য প্রতারিতদের প্রলুব্ধ করেছিল। যা একবার ইনস্টল হয়ে গেলে প্রতারকদের ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনে ফটো, ভিডিও এবং যোগাযোগের তালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারত।
পরবর্তীকালে, প্রতারকরা ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করতে এবং অর্থ আদায়ের জন্য এই তথ্য ব্যবহার করে, কখনও কখনও মিথ্যা ছবি এবং ভিডিও তৈরি করে।
হারুন আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশে এসব অ্যাপ থেকে ঋণ নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়ে ৬০ জনের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ আত্মহত্যা করেছে কিনা তা জানা যায়নি।
ডিবি প্রধান পরামর্শ দেন, এই চক্রের হাতে কেউ প্রতারিত হলে ভুক্তভোগীর মামলা করা উচিত।
তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তারা আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবির অভিযান চলছে।
আরও পড়ুন: জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে জাপা: চুন্নু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়া, হাসপাতালে স্যালাইন সংকট
৮৯২ দিন আগে
জালিয়াতির মাধ্যমে রপ্তানি: ৭ কনটেইনার পণ্য জব্দ
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে পণ্য রপ্তানির ঘটনা উদঘাটন করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।
এছাড়া জব্দ করা হয়েছে তিন কোটি টাকা মূল্যের সাতটি কনটেইনার ভর্তি রপ্তানির জন্য রাখা পণ্য।
আরও পড়ুন: অক্টোবরে ৯৮ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি
রাজধানী ঢাকার মোল্লারটেক এলাকার প্রতিষ্ঠান সাবিহা সাইকি ফ্যাশন।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এলসি জালিয়াতি করে ইতোমধ্যে ২২ কোটি টাকা মূল্যের ৮৫টি চালান রপ্তানি করেছে মর্মে তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারী) কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাকিল খন্দকার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে ভুয়া এলসির মাধ্যমে বিদেশে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে টাকা পাচার করেছে।
এছাড়া এলসির কাগজপত্রের প্রাথমিক তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির কারসাজির প্রমাণও পেয়েছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম মহানগরীর কাঠগড় এলাকার এসইপিএল ডিপোর মাধ্যমে পণ্যচালানগুলো রপ্তানি হচ্ছিল। সেখানে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে সাত কন্টেইনার আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা।
সাবিহা সাইকি ফ্যাশন নামের প্রতিষ্ঠানটি ম্যানস টিশার্ট ও লেডিস ড্রেস রপ্তানির ঘোষণা দিলেও আটক করা সাতটি কনটেইনার খুলে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানি ম্যানস্ ট্রাউজার, টিশার্ট, পোলো শার্ট ও বেবি সেট রপ্তানি করছিল বলে জানায় শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাকিল খন্দকার বলেন, এলসি জালিয়াতি করে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ২২ কোটি টাকা মূল্যের ৮৫টি চালান রপ্তানি করেছে। বাকি সাত কনটেইনারে থাকা ৯ চালান আমরা আটক করেছি।
সেখানেই আমরা জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি।
তারা কম পণ্য ঘোষণা দিয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করছিল। ওই ৯ চালানে আমরা ১১৮ মেট্রিক টন পণ্য আটক করেছি। যার মূল্য তিন কোটি টাকা। আমরা তাদের সবগুলো রপ্তানি চালান তদন্ত করে দেখবো।
তাই আমাদের যুগ্ম পরিচালক মো. সাইফুর রহমানকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ৫
নভেম্বরে ১৩৪ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি
১১৮০ দিন আগে