ছাত্রদল
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রদল নেতার মামলা
কুষ্টিয়ার আদালতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া আদালতে এই মামলাটি করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান চৌধুরী শিহাব।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে আমির হামজা মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। একইসঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে বিদ্রূপাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
গত ১৬ জানুয়ারি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও দেখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আমির হামজার এমন বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান, খালেদা জিয়া এবং তাদের পরিবারের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে, যা দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবেদনে হামজার বিরুদ্ধে সমন অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রার্থনা জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সোলায়মান চৌধুরী শিহাব বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা নয়। একজন মরহুম ব্যক্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সামাজিক শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অন্যদিকে, মামলার বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু বকর জানান, তারা এখন পর্যন্ত আদালতের কোনো নোটিশ হাতে পাননি। নোটিশ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার পাবেন তারা।
৪ দিন আগে
দ্বিতীয় দিনের মতো ইসির সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতদুষ্টতা বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো এই কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মী অবস্থান নিয়েছেন। ইসির নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রাস্তায় বসে পড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এ সময় তাদের ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্রদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসি কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য আমরা সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী জেতার জন্য এক এলাকার ভোটারকে অন্য এলাকায় পাঠিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ গোষ্ঠীর নাম বলব না। তাদের নাম বলে হাইপ তুলে দিতে চাই না। তারা ইসির কিছু লোককে ব্যবহার করে অনিয়ম করার চেষ্টা করছে।’
ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ‘ডাকসু, রাকসুসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি দল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ভোটে কারসাজি) মাধ্যমে কুক্ষিগত গত করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা একই কায়দায় ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে, একই দাবিতে গতকাল রোববারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পরে বিকেলে সংগঠনটির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসি কার্যালয় প্রবেশ করে।
ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি ইস্যু নিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন সেই বক্তব্য শুনেছে। বিষয়গুলো তারা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো।’
৫ দিন আগে
পক্ষপাতসহ তিন অভিযোগে নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর থেকে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ইসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা পুলিশের বাধার মুখে সেখানে বসে পড়েন।
পূর্বনির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে’ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসিরসহ কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান জানান।
তাদের অভিযোগগুলো হলো— পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। ছাত্রদলের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার। ছাত্রদল মনে করে, এই প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।
নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের এই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা দেখলাম ব্যালট পেপার নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর যারা এখানে (ইসি) বসে আছেন অবশ্যই তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে বলে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। তারপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন এবং হল নির্বাচন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনের মতো আবারও আমাদের এখানে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও তারা (ইসি) ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়টি হলো বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ইচ্ছার প্রতিফলন।
ইসিতে শুনানি চলছে
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল ও ফিরিয়ে দিতে নবম দিনের শুনানি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনারও আছেন।
গত আট দিনে ৪০০ জনের মতো প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৬ দিন আগে
জকসুর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর ছাত্রদলের হামলা চেষ্টার অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের দিকে উঠেছে এই অভিযোগের আঙুল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উল ইসলাম বলেন, ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি দিচ্ছিল। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে আমাদের প্রার্থীরা অবহিত করেন, তখন ছাত্রদল আমাদের প্রার্থীদের ওপর মারার জন্য চড়াও হয়ে এগিয়ে আসে।
তিনি বলেন, দর্শন বিভাগে আমাদের এজেন্টের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের প্রতি পক্ষপাত করছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের ভাইয়েরা প্রথম থেকে প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। আমাদের যে ভাইয়েরা স্লিপ দিচ্ছিলেন, তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের থেকে শিবিরের স্লিপ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি অন্যান্য বিভাগের মতো দর্শন বিভাগে দিতে থাকে। আমাদের এজেন্ট বাধা দিলে কেন্দ্রের ভেতরেই তাকে মারতে আসে।
১৮ দিন আগে
মীরসরাইয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদলকর্মী নিহত
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাটে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গাজী তাহমিদ খান (২৫) নামের এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিন সন্ধ্যায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন তাহমিদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহমিদ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ জোরারগঞ্জ থানার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি নিজ এলাকায় ছাত্রদলে যোগদান করেন।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় বারইয়ারহাট পৌর সদরের ট্রাফিক মোড়ে পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজির অনুসারী দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে তাহমিদ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত একজন হাসপাতালে নেওয়ার পরে মারা গেছে বলে শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। তবে এখনো তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করেনি।
৪৩ দিন আগে
সাইবার যুদ্ধে লড়াই করতে না পারলে পরাজিত হতে হবে: মির্জা ফখরুল
সাইবার যুদ্ধে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিজয়ী হতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেছেন, সাইবার যুদ্ধে লড়াই করতে না পারলে পরাজিত হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে এটি ভেবে দেখতে হবে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ বছর পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সেই পথেও অনেক বাধা আসছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। সাইবারওয়ারে সজাগ থাকতে হবে। একমাত্র বিএনপিই দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে একটা বড় বিভাজনের পথ তৈরির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ধর্মভীরু মানুষ, কিন্তু ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র বিভাজনে বিশ্বাস করি না। তবে একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে দেশে বিভাজনের পথ সৃষ্টি করতে চায়। ধর্মকে দিয়ে রাষ্ট্র আর সমাজে বিভাজন আমরা বিশ্বাস করি না। সবার আগে বাংলাদেশ—এটা মাথায় গেঁথে নিতে হবে। সমস্ত অপপ্রয়াস পেরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে ছাত্রদল।
এই গোষ্ঠীর সব অপপ্রয়াসকে পরাজিত করে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ছাত্রদল ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ একটি যুগসন্ধিক্ষণ বা পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চলছে। সবচেয়ে বড় যে অপপ্রচার চলছে, তার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। সাইবার যুদ্ধে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিজয়ী হতে হবে। সাইবার যুদ্ধে লড়াই করতে না পারলে আমাদের পরাজিত হতে হবে। । তরুণ প্রজন্মকে এটি ভেবে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তারেক রহমান সার্বক্ষণিক তার খোঁজ রাখছেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। আশা করি দেশবাসীর দোয়ায় মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সুস্থ করে তুলবেন।’
৪৮ দিন আগে
ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, রাবির সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
ফেসবুকে ৯১ জন ছাত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান মিলনকে শাহ মাখদুম হলের সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এ ঘটনায় সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রদল। তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল জানিয়েছে, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান মিলন ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এ জন্য তাকে সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬’ হলের প্রভোস্ট কর্তৃক ৯১ জন শিক্ষার্থীকে অযাচিতভাবে তলব করার প্রতিবাদে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা তুহিনার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাহ মখদুম হলের সহ-সভাপতি এ আর মিলন খান কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে এ আর মিলন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনও জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে উক্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তিনিই ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এ আর মিলন খানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ হল সহ-সভাপতির পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ঘোষণা করছে। একইসঙ্গে সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হলো তার সঙ্গে কোনও প্রকার সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানানো হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বহিষ্কারের বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমরা সবসময় নারীদের অধিকার আদায়ে ও তাদের সম্মানে বদ্ধপরিকর। নারীদের বুলিংয়ের বিষয়ে ছাত্রদল জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। আমাদেরই এক নারী নেত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন হল কমিটির এক নেতা। এ নিয়ে তার আমরা তার পদ সাময়িক স্থগিত করি এবং দলের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।’
এর আগে, রাবির ‘জুলাই ৩৬’ হলে নির্ধারিত সময়ের পরে প্রবেশ করায় সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ৯১ জন ছাত্রীকে প্রকাশ্যে নোটিশ দিয়ে তলব করেছিলেন হল প্রাধ্যক্ষ। নোটিশটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) তা প্রত্যাহার করে হল প্রশাসন। এই বিষয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামে এক ফেসবুক গ্রুপে করা এক পোস্টের কমেন্টে ওই ৯১ জন ছাত্রীকে বিনা পারিশ্রমিক ‘যৌনকর্মী’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন রাবির শাহ মাখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।
১৪২ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রদলের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্যানেল। এটি এবারের ডাকসু নির্বাচনে কোনো প্যানেলের প্রথম ইশতেহার।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রদল মনোনিত 'আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ' তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। ইশতেহারে মোট ৬৫টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল মনোনিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমের সঞ্চালনায় সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান লিখিত ইশতেহারটি পাঠ করেন। এ সময় প্যানেলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক, আনন্দময়, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যবিমা, কারিকুলাম ও গবেষণার আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও শাটল সার্ভিস, হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক সেবা, শিক্ষাঋণ ও কর্মসংস্থান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সুবিধা ও সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস এবং কার্যকর ডাকসু প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন: সাইবার নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রার্থীরা, প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
ইশতেহারে আরও রয়েছে— গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দমন–নিপীড়নের মতো চর্চা বন্ধ করে ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বমুক্ত করা, নতুন আবাসিক হল নির্মাণ করে ভর্তির দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য 'একটি সিট ও একটি পড়ার টেবিল' নিশ্চিত করা, ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি বৃদ্ধি ও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ।
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি হলে স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট, মেডিকেল সেন্টারে নারী চিকিৎসকের উপস্থিতি, সান্ধ্য আইন বিলোপ ও পোশাকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে রাখা হয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা, জরুরি ওষুধ বিনা মূল্যে সরবরাহের অঙ্গীকারও করা হয়েছে।
কোর্স কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ডিজিটালাইজেশন, নতুন বাস রুট, মেধাভিত্তিক বৃত্তি ও শিক্ষাঋণ, ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার প্রতিশ্রুতিও তারা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অলিম্পিয়াড, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার ও একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
১৪৮ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচনে লড়বে ৯ প্যানেল, প্রার্থিতায় নতুনত্ব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় শেষ হয়েছে আজ। এরই মধ্যে প্যানেল ঘোষণা করেছে বেশ কয়েকটি ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে— ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ একাধিক স্বতন্ত্র প্যানেল।
এবারের ডাকসু নির্বাচনের প্যানেলগুলোতে এসেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। শিবিরের ‘ইনক্লুসিভ প্যানেল’র বিপরীতে ছাত্রদল স্থান দিয়েছে তরুণ ও পরীক্ষিতদের। আসন্ন ডাকসুতে শীর্ষ তিন পদ সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ নারী শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও, প্যানেলগুলোতে নারী প্রার্থীর সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো।
৯টি প্যানেলের জমজমাট লড়াই
এবাবের ডাকসুতে লড়ছে— গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র ঐক্যজোট’, বামপন্থী শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’, ইসালামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকারের স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’ এবং তিনটি বাম জোটের ‘অপরাজেয় ৭১–অদম্য ২৪’ প্যানেলসহ অন্যান্য স্বতন্ত্র প্যানেল ও প্রার্থীরা।
পড়ুন: এক নজরে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন
নারী নেতৃত্ব
এবারের ডাকসুতে ভিপি পদে লড়ছেন দুইজন নারী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এই স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষিত না হলেও বর্তমানে ডাকসুর অন্যতম আলোচিত প্রার্থী উমামা।
এদিকে আরেক নারী শিক্ষার্থী ভিপি প্রার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি। তিনি বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন। এদিকে, ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে জিএস পদে একমাত্র নারী প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। এ ছাড়াও, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্যানেল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র আশরেফা খাতুন ও স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেহা শারমিন এ্যানি সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্যানেলের সম্পাদক ও সদস্য পদে রয়েছেন একাধিক নারী প্রার্থী।
এদিকে গত বছরের ১৫ জুলাইয়ে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীর সম্মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রার্থী দেয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)।
শিবিরের ইনক্লুসিভ ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাদিক কায়েমকে ভিপি ও এসএম ফরহাদকে জিএস পদে প্রার্থী করে ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এই প্যানেলে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মহিউদ্দিন খান নির্বাচন করবেন।
প্যানেলে দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ৪ জন নারী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী, আপ বাংলাদেশ এবং ইনকিলাব মঞ্চের শিক্ষার্থীদের রাখা হয়েছে।
গত সোমবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল ঘোষণা করে সংগঠনটি।
এই প্যানেলে চমক হিসেবে রয়েছে সর্ব মিত্র চাকমার অন্তর্ভুক্তি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও, শিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন ৪ নারী শিক্ষার্থী। এই প্যানেলে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ফাতেমা তাসনিম জুমা, কমন রুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে উম্মে সালমা এবং সদস্য পদে সাবিকুন নাহার তামান্না ও আফসানা আক্তার মনোনয়ন পেয়েছেন। প্যানেল থেকে জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খান জসিম আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে লড়বেন।
তরুণদের নেত্বত্বে ছাত্রদলের প্যানেল
অবশেষে ডাকসু নির্বাচনের পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে থেকে ছাত্রদলের ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেলটি ঘোষণা করেন দলটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
সংগঠনটি সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবিদুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শেখ তানভীর বারী হামিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, এজিএস পদে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদকে মনোনয়ন দিয়েছে সংগঠনটি।
পড়ুন: জাকসুর তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ ১১ সেপ্টেম্বর
ছাত্রদলের প্যানেলে সদস্য প্রার্থী হিসেবে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে রেখেছে সংগঠনটি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই শিক্ষার্থীর নাম ইবনু আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করছেন। এছাড়া, সংগঠনটির প্যানেলে ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনয়ন পেয়েছেন চিম চিম্যা চাকমা।
প্যানেল ঘোষণার সময়, দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, এবারের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল তুলনামূলক জুনিয়র, নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং ছাত্রসমাজের কাছে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনীত করেছে।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’
বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে।
প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচন করবেন আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. আবু বাকের মজুমদার এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে আশরেফা খাতুন প্রার্থী হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটি ঘোষিত হয়।
উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র ঐক্যজোট’
ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। গত সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। এখনও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষিত না হলেও এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে উমামা ফাতেমা, জিএস পদে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভূইয়া এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে বর্তমান সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহী থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
বামপন্থী শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’
ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ নামে বাম জোটের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ইতি আফরোজ ইমি, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল।
পড়ুন: ঢাবিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন
ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র যুব আন্দোলন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র মঞ্চ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই প্যানেলে রয়েছেন।
ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’
‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ নাম ও ‘ভোট ফর চেঞ্জ’ স্লোগান সামনে রেখে পুর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। এই প্যানেলে ভিপি পদে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, জিএস পদে সাবিনা ইয়াসমিন এবং এজিএস পদে ঢাবি শাখার সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’
ডাকসু নির্বাচনে ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’ নামের প্যানেল ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত নির্বাচনে সহ-সভাপতি বা ভিপি পদে, সাধারণ সম্পাদক বা জিএস পদে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান এবং ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন।
মাহিন সরকারের স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা মাহিন সরকারকে সঙ্গে নিয়ে ‘ডিইউ ফার্স্ট’ প্যানেল ঘোষণা করেছে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ।
এই প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. মাহিন সরকার লড়বেন। এজিএস পদে ফাতেহা শারমিন এ্যানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে এই প্যানেল থেকে জিএস পদে প্রার্থী হওয়ায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারকে নিজের পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় এনসিপি।
‘অপরাজেয় ৭১–অদম্য ২৪’
এদিকে বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন। ছাত্রসংগঠনগুলো হলো— ছাত্র ইউনিয়ন (মাহির–বাহাউদ্দিন), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) ও ছাত্রলীগ–বিসিএল (জাসদ)। প্যানেল ঘোষণা করেন ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা।
‘অপরাজেয় ৭১–অদম্য ২৪’ নামের এই প্যানেলে মো. নাইম হাসানকে (হৃদয়) সহসভাপতি (ভিপি), এনামুল হাসান অনয়কে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও অদিতি ইসলামকে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী করা হয়েছে।
২৮ পদে প্রার্থী ৫০৯ জন
ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। ডাকসুর ২৮ পদে মোট ৫০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আজ (বুধবার) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ডাকসুতে ৬৫৮টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। যার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৫০৯টি এবং ১৪৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।
পড়ুন: সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করব। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে কাজ করছি।’
হল সংসদের বিষয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ১৮টি হলে মোট ১ হাজার ১০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৪২৭টি মনোনয়নপত্র। জমা হয়নি ৩১৮টি।
এর আগে গত ২৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর। ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলবে। একই দিনে ফলাফলও ঘোষণা করা হবে।
আসন্ন ডাকসুর মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭১ জন ও ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন।
২৪’র জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্যাম্পাসগুলোতে সুস্থধারার রাজনৈতিক চর্চার দ্বার উন্মুক্ত হয়। সকল ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনও করেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ছয় বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ছাত্রসংসদ নির্বাচনে জুলাই আন্দোলনে প্রার্থীদের ভূমিকাও নির্বাচনে এক ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হয়। প্যানেলে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বা প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সেই প্রবণতা ইতোমধ্যে দেখা গেছে।
১৫৬ দিন আগে
নারীর পর্দা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, সমালোচনার মুখে জবি ছাত্রদল সদস্য সচিব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে তার এক মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাবি শাখার সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি যুক্ত করে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টের এক মন্তব্যের উত্তরে তিনি অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরেকটি মন্তব্যের উত্তরে তিনি লেখেন, ‘লুঙ্গির তলেও দারুণ পর্দা হয়। আমাদের পর্দায় সমস্যা না, সার্কাসে সমস্যা। বুজিপার পারিচো গেদা।’
আরেফিনের এসব মন্তব্যকে ঘিরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টে তার মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন তারা।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান সাকিব নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘এই হলো রাজনীতি, ছিঃ মুখে থু!’
আরও পড়ুন: জবির আইইআর ইনস্টিটিউটে র্যাগিং, ১০ দিন পেরোলেও গুরুত্বে নেয়নি পরিচালক
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা লিখেছেন, ‘তথাকথিত প্রগতিশীল নারীবাদীরা এখন কই গেছে? এসব নিয়ে তো তাদের কোনো আওয়াজ দেখছি না। নাকি দাড়িওয়ালা পুরুষ আর হিজাব পরিহিত নারীকে নিয়ে যা খুশি বলা বৈধ? এই কমেন্টের মাধ্যমে পুরো নারী জাতিকে অপমান করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জবি ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব নিয়ে এমন কটূক্তিমূলক কথা বলা জাহেলিয়াতের চরমতম বহির্প্রকাশ। পর্দা করা মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো মুসলিম পরিবারের মানুষ এমন মন্তব্য করতে পারে না। নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষের মতো আচরণ একজন গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতার মুখে বেমানান।’
তিনি আরও বলেন, ‘বামদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে যারা নিজেকে নব্য ইসলামবিদ্বেষী প্রমাণ করতে চান, তাদের জানা উচিত, এদেশে ইসলামের শিকড় অনেক গভীরে।’
এদিকে, শামসুল আরেফিন এক মন্তব্যে সমালোচনার জবাব দিয়ে লিখেছেন, ‘পর্দার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। আমার বক্তব্য ভিসি মহোদয়ের হিপোক্রেসির উপর— একদিকে রাজনীতি প্রমোট করেন, অন্যদিকে নিষিদ্ধ। নারী ও তাঁর ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমার আজন্ম শ্রদ্ধা।’
১৬৭ দিন আগে