ছাত্রদল
সাভারে ‘ছাদ থেকে ফেলে’ ছাত্রদল নেতাকে হত্যা: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। গত শনিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা নিখোঁজ ওই কিশোরীকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন।
নিহত মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় সাভারে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার ৯ সদস্যের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে যায়। অভিযানের সময় সেখানে সাভার থানা-পুলিশও ছিল।
পুলিশ জানায় যায়, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। সে সময় তারা মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারুলের ভাই মমদেল হোসেন বলেন, কিশোরীটির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সম্পর্ক ছিল। তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন।
এ ঘটনার পর গেল শনিবার সকালে মনোয়ারুলের স্বজনেরা তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে থাকা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৪ দিন আগে
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের সঙ্গে আ.লীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় উভয় পক্ষের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল গ্রুপের আহত ৮ জনকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সদর হাসপাতাল ও আরেকজনকে অপর এক মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী জানান, বিএনপি ও ছাত্রদল নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার বিষয়টি জানতে চাইলে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে নাজমুল আটকে রাখেন। খবর পেয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি সেখানে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অর্ঘ্য জানান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল, যুবলীগ নেতা খালিদ ও আওয়ামী লীগ নেতা লাল্টুর নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি দাবি করেন।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫ দিন আগে
পুলিশি অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
রংপুরের পীরগাছা থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে সাভার থানা ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পীরগাছা থানার সামনে নিহতের মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত ওই নেতার নাম মনোয়ারুল বকসি (৩০)। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে। পরিবারটির স্থায়ী বসবাস ছিল ঢাকার সাভারে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে মিমি আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হলে তার বাবা পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে পীরগাছা থানা পুলিশ সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৭ আগস্ট ঢাকার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্যমতে, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে গিয়ে দেখা যায়, মনোয়ারুল বকসি নিচে পড়ে আছেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরী মিমির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে পীরগাছা থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি বিচার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্র শিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ছাত্রদলকর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম, রাসেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ, বন্দর থানার সভাপতি আসাদুল ইসলাম।
হামলার ঘটনায় কলেজ রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান ব্যবসায়ীরা। এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের উদ্দেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। পরে পাল্টাপাল্টি এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তারা কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির এ হামলা করেছে। তাদের ৩০ জনের মতো নেতাকর্মী কলেজের ভেতর ছিলেন। আর ডাকবাংলোর মোড়ে ছিলেন ২০০ জনের মতো কর্মী। তারা আগে থেকেই লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। কলেজের ভেতরে তর্কাতর্কি হওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, হামলায় ছাত্রশিবির দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ছাত্র শিবিরের কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ নিজে অস্ত্র হাতে হামলা করেছেন।
এদিকে, ছাত্রশিবির মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দোষারোপ করে বলেন, কলেজে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের বাইরে আমাদের কলেজ শাখা সভাপতি শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ খবর পেয়ে আমি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। কারণ তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু যাওয়ার সময় ডাকবাংলোর মোড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ বা মামলা করেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কারও মারাত্মক জখম হয়নি।
তিনি বলেন, তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে, জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
অফিস আদেশে সদয় অবগতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় বেধে না দেওয়া হলেও খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল।
ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ।
এ সময় আহত হন বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন।
৯ দিন আগে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে র্যালি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক একটি র্যালি বের করলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, র্যালিতে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে লাঠির সঙ্গে পতাকা বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। তারা বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ভিসি গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের ৫ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলা থামেনি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা শুনে আমরা এখানে এসেছি। ঘটনার পরপর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান করেছি।’
৯ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
১০ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলায় ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের জামিন
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলার ১১ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আব্দুল মান্নানের আদালতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে শুনানি শেষ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা বন্ডে মেডিকেল প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলায় কোনো ঘটনার তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল হাই ও সি এস আই আবু তালেব বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য খণ্ডন করার মতো কোনো উপাদান মামলার এজাহারে নেই।
পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন জুয়েলসহ বিএনপিপন্থি অসংখ্য ব্যক্তি শুনানিতে অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও। এরপর গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি করা হয়।
মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। জেলা যুব শক্তির আহ্ববায়ক তন্ময় তাহের মামলাটি করেন।
১২ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা ছাত্রদলের
হবিগঞ্জে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে জেলা ছাত্রদল। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন রোকন।
এর আগে, গত বুধবার জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেকের দায়ের করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
মমলার এজাহারে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা সদরে এক সমাবেশ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন সারজিস আলম ও মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সে সময় হামলায় এনসিপির ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা সদরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনসিপি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
বুধবার ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে ফিরে যান।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
১৪ দিন আগে
শিক্ষার্থীকে মারধর: শাবিপ্রবি ছাত্রদলের ২ নেতা বহিষ্কার, দুই বছর ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে তারা দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১০টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম।
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন— পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের শাখা সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত রবিবার (১৯ জুলাই) তাদের দুজনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম বলেন, ‘তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা দুই বছর পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হলেও আবাসিক হলের শিক্ষার্থী হতে পারবে না।’
এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় গত ১৮ জুলাই শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে উঠে শাখা ছাত্রদলের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। মারধরের পর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
২৩ দিন আগে