আসামি
এএসপি ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর রামপুরা থানার আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুল করিম খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. শফিকুল ইসলাম বাদশা ওরফে গুজা বাদশাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে র্যাব-৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা থানার মাতুয়াইল এলাকার নিউ টাউন আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘ড্রিম হাউজ-১৮’ ভবনের আটতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাদশা রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা এবং তিনি ‘গুজা বাদশা’ নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার বাবা মৃত ওয়াজেদ আলী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডের নিজ বাসার তৃতীয় তলায় সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল করিম খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন গুজা বাদশা।
র্যাব আরও জানায়, হাতিরঝিল ও রামপুরা এলাকায় গুজা বাদশার নাম শুনলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় র্যাব-৩-এর গোয়েন্দা টিম তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৪ দিন আগে
গাজীপুরে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, ৭ পুলিশ আহত
গাজীপুরের শ্রীপুরে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে অপহরণকারীর স্বজনদের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা হাতকড়াসহ দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিলেও পরে অভিযান চালিয়ে তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নিজমাওনা গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আদিল (২২) ও তার বাবা মনির হোসেন (৫০)।
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, টাঙ্গাইল সদর থানার একটি অপহরণ মামলার আসামি ও অপহৃত এক কিশোরীকে উদ্ধারে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ ও শ্রীপুর থানার পুলিশ রবিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় শ্রীপুরের নিজমাওনা গ্রামে অভিযান চালায়। ওই সময় পুলিশ অপহরণকারী আদিল ও তার বাবা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামিদের স্বজনেরা ও আশপাশের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেন। হামলায় ৭জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে হ্যান্ডকাফ ছিনিয়ে নেওয়া দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
৪৮ দিন আগে
ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার আসামি দুই ভাই বেনাপোলে গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জ জেলার হত্যা মামলার আসামি আপন দুই ভাই সাদিকুর রহমান শামিম (৩৬) ও সাজিদুর রহমানকে (৩২) ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাদিকুর রহমান শামিম ও সাজিদুর হালুরগাঁন এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
শামিম হোসেন বলেন, তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পারিবারিক মারামারির একটি মামলা রয়েছে তাদের নামে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রেপ্তার দুই ভাই বেনাপোল ইমিগ্রেশন ডেস্কে তাদের পাসপোর্ট জমা দিলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাদের নামে হত্যা মামলা পাওয়া যায়। এছাড়া কালো তালিকায় তাদের দুই ভাইয়েরই নাম রয়েছে। পরে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জ জেলা থেকে আসা দুই ভাইকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা দুই ভাই হত্যা মামলার আসামি। সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে আসামিদের তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৬০ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারামুক্ত আসামির ঠিকানা ব্যবহার করে পালিয়েছে হত্যা মামলার আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে যাওয়া এক আসামির নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছেন হৃদয় (২৮) নামে হত্যা মামলার আরেক আসামি।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়।
হৃদয় জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্য হলেন চাঁদপুরের জেলার এবং ফেনীর জেল সুপার ।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, কসবা থানার একটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা কারাগারে যান হৃদয়। পরবর্তীতে গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে জামিনে কারামুক্ত নবীনগর থানার একটি মামলার আসামি দিদার হোসেনের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে জামিনপ্রাপ্ত অন্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সময় কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কারাগারের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো.ছগির মিয়া বলেন, অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামের এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
৭৭ দিন আগে
শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসি
শরীয়তপুরের বহুল আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই বছর পর এ রায় দেওয়া হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. কামরুজ্জামান।
২০২৩ সালে সদর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু নিবিড়কে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। পরিবার মুক্তিপণ না দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তারা। পরের দিন নিহত শিশুটির বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে ছিল। স্থানীয় শিশুকানন নামের একটি বিদ্যালয়ের দি্বতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল নিবিড়। ওই দিন স্কুল থেকে ফিরে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার। সন্ধ্যায় নিবিড়ের মায়ের মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করেন। তবে পুলিশকে জানানোয় পরের দিন সকাল ৬টার দিকে ওই বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শিশুটির বাবা মনির খান বলেন, ‘আমার অবুঝ আদরের সন্তান নিবিড়কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ২১ বছরের সাজার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এখন আমার এবং পরিবারের একটাই দাবি, আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’
৯৬ দিন আগে
ভোলায় অটোচালক আবু বকর সিদ্দিক হত্যা মামলায় ৩ জন গ্রেপ্তার
ভোলায় অটোরিকশা ছিনতাই করে চালক আবু বকর সিদ্দিককে (৫১) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ৬ দিন পর প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি চরফ্যাশন পৌরসভা বাস স্ট্যান্ড থেকে লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজারে আসা-যাওয়ার কথা বলে আবু বকরের অটোরিকশা ভাড়া করেন। চালক আবু বকর তাদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহনের পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা আবু বকরের বুকের ডান পাশে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তাকে ফেলে তার গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এ সময় আবু বকর ঘটনাস্থলইে নিহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সুলতান বাদী হয়ে লালমোহন থানায় গত ১ জানুয়ারি মামলা করেন। এরপর পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) মামলার প্রধান আসামি মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ আরও জানায়, ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. রাজা (৩২) ও কাজী তারেককে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামীরা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্য। রাজার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার ও মোহাম্মদপুর থানায় খুন, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
১০২ দিন আগে
শরীয়তপুরে খোকন দাস হত্যার ঘটনায় তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের ফার্মেসির মালিক ও বিকাশের এজেন্ট খোকন দাস (৫০) হত্যার ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ।
র্যাব-৮ ও ইন্ট উইং, জানায়, র্যাব-১৪, সিপিসি-২ ও কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান, পরেশ দাসের ছেলে খোকন দাস একজন ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসায়ী। তিনি গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কেহরভাঙ্গা বাজারস্থ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির নিকটবর্তী তিলই এলাকায় পৌঁছানোমাত্র ৩–৪ জন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
রওনক জাহান জানান, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তী সময়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তাররা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা নানা ধরনের মাদক সেবন করে বলেও জানা যায়। মৃত্যুর আগে খোকন দাস উল্লিখিত আসামিদের নাম বলে গেছেন বলে জানান তিনি।
১০৫ দিন আগে
দীপু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১২ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে (২৮) হত্যার পর মরদেহ আগুন দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ১২ আসামির প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ৭ নম্বর ময়মনসিংহ আমলি আদালতের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আশিকুর রহমান (২৫) কাইয়ুম (২৫), মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮), মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), মো. আজমল হাসান সগীর (২৬), মো. শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুল (২১)।
আদালতের পরিদর্শক শেখ মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, পুলিশ গ্রেপ্তারদের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায়। পরে বিচারক প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০/১৬০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। মামলার পর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব ও পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে তার মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। ওই যুবককে পুলিশের হাতে না দিয়ে জনতার হাতে কেন তুলে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস ও বোন চম্পা দাসের দাবি, কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দীপুকে মিথ্যা অপবাদে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দীপু শিক্ষিত এবং সচেতন ছিলেন। তিনি এমন কাজ (ধর্ম অবমাননা) করতে পারেন না।
১১৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: সাবেক এমপি হাবিবসহ সব আসামি খালাস
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২২ অক্টোবর) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষ ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মজিবুর রহমান।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আলাদা দুটি মামলায় সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল ওই রায় দেন। অপর ৪৫ আসামিকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আসামিরা হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেন।
আজ আপিলের শুনানি শেষে সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। আসামীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।
আডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০০২ সালে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনার ১২ বছর পর ২০১৪ সালে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা পেনাল কোড অনুযায়ী, একটি অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে এবং একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে।
তিনি আরও জানান, পেনাল কোডের মামলায় ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে প্রধান আসামি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনকে ১০ বছর করে এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলার সাজা থেকে হাবিবুল ইসলাম খালাস পেয়েছেন। অন্য আসামিদের বিষয়ে মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা দুটি পৃথক মামলায় সাতক্ষীরার আদালত হাবিবসহ চারজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি আসামিদের ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন। আজ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
১৭৯ দিন আগে
খুমেক হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে পালাল আসামি
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মাদক মামলার ইউসুফ (২৩) নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি নগরীর খালিশপুর থানার আলমনগর মোড়ের শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে আলমনগর মোড় থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে খালিশপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় রাতেই খালিশপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। রাতে বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
খুলনা মেডিকেল কলেজের একটি সূত্র জানা যায়, ৬ আগস্ট খালিশপুর থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় আসামি ইউসুফ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বুকে ব্যাথা উঠলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই সেলে মাকসুদ আলম নামে আরও একজন আসামি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
পড়ুন: পাঁচ দফা দাবিতে খুমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাকসুদ বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন জানায়। এ সময়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশ কনস্টেবল রাব্বি আলী তালা খুলে দেয় এবং তাকে বাথরুমে নিয়ে যায়। তবে পুলিশ কনস্টেবল দরজার তালাটি বন্ধ করতে ভুলে যায়। পরবর্তীতে বাথরুম থেকে মাকসুদকে ফেরত নিয়ে আসার সময় অপর আসামি ইউসুফ সেলে আর নেই। সেখান থেকে সে পালিয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক জানান, প্রিজন সেলের অপর প্রান্তে কারারক্ষীদের অবস্থানের স্থান। সেই গেটে তালা না থাকার সুযোগে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মাদক মামলার আসামি ইউসুফ পালিয়ে যায়। ওই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৫৫ দিন আগে